সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস: জীববৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস: জীববৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক

সাকিবুর রহমান বাবলা
বিশ্বে বর্তমানে বন্য পরিবেশে প্রায় ৫,৫০০ বাঘ রয়েছে এবং বাংলাদেশে ১২৫টি বাঘের উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার সংরক্ষণ সাফল্যের একটি আশাব্যঞ্জক উদাহরণ। তবুও বাঘ আজও বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন বৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণি। প্রকৃতির বিস্ময়কর সৃষ্টিগুলোর মধ্যে বাঘ এমন এক প্রাণি, যার উপস্থিতি শক্তি, সৌন্দর্য, সাহস এবং বন্যতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে মানবসভ্যতাকে যুগ যুগ ধরে মুগ্ধ করে এসেছে। পৃথিবীর বৃহত্তম বিড়ালজাতীয় প্রাণি হিসেবে বাঘ শুধু একটি শিকারি প্রাণি নয়; এটি একটি সুস্থ বন, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম নির্দেশক। তাই বাঘ রক্ষা মানে শুধু একটি প্রাণিকে বাঁচিয়ে রাখা নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ পরিবেশব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করা।
এই উপলব্ধি থেকেই প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস। ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র সম্মেলনে বিশ্বনেতারা বাঘ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তখন পৃথিবীতে বন্য পরিবেশে বাঘের সংখ্যা নেমে এসেছিল আশঙ্কাজনক পর্যায়ে। সেই সংকট মোকাবিলায় বাঘের আবাসস্থল রক্ষা, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবসের সূচনা হয়।
একসময় এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বাঘের বিচরণ ছিল। কিন্তু বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণি পাচারের কারণে বাঘের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে। অতীতে পৃথিবীতে বাঘের মোট ৯টি উপপ্রজাতি ছিল, যার মধ্যে বালিনিজ, জাভানিজ ও কাস্পিয়ান বাঘ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রকৃতিতে টিকে আছে ৬টি উপপ্রজাতি। এর মধ্যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানে; সাইবেরিয়ান বাঘ রাশিয়ায়; সুমাত্রান বাঘ ইন্দোনেশিয়ায়; ইন্দো-চায়নিজ বাঘ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এবং মালয়ান বাঘ মালয় উপদ্বীপে বাস করে। অন্যদিকে সাউথ চায়না টাইগার বন্য পরিবেশ থেকে কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বর্তমানে কেবল বন্দিদশায় সীমিত সংখ্যায় টিকে রয়েছে।
পরিবেশবিজ্ঞানের ভাষায় বাঘ একটি শীর্ষ শিকারি। খাদ্যশৃঙ্খলের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করে এটি হরিণ, বুনো শুকরসহ বিভিন্ন তৃণভোজী প্রাণির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে বনাঞ্চলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় থাকে। যদি বাঘ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য ভেঙে পড়তে পারে। তৃণভোজী প্রাণির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে বনভূমির ক্ষতি করবে, যা শেষ পর্যন্ত জলবায়ু, মাটি, পানি এবং অন্যান্য জীবের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণেই বাঘকে অনেক বিজ্ঞানী “ছাতা প্রজাতি” বলে অভিহিত করেন; কারণ বাঘের আবাস রক্ষা করলে একই সঙ্গে অসংখ্য প্রাণি ও উদ্ভিদও সুরক্ষা পায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাঘের গুরুত্ব আরও গভীর। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়; এটি উপকূলীয় পরিবেশের প্রাকৃতিক ঢাল, জীববৈচিত্র্যের ভা-ার এবং লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। এই বনভূমির প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের বাঘ পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের বাঘের তুলনায় কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। নদী, খাল ও জোয়ার-ভাটার পরিবেশে অভিযোজিত হয়ে তারা অসাধারণ সাঁতারুতে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনে তারা দীর্ঘ দূরত্ব সাঁতরে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যেতে পারে।
আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সুন্দরবনে এখন পর্যন্ত তিনবার পূর্ণাঙ্গ বাঘশুমারি পরিচালিত হয়েছে। প্রথম বৈজ্ঞানিক জরিপে ২০১৫ সালে সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ২০১৮ সালের জরিপে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে এবং সর্বশেষ শুমারির ফলাফল অনুযায়ী ২০২৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫টিতে পৌঁছেছে। এর আগে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা আনুমানিক ৩০০-৪০০টি বলে ধারণা করা হতো এবং ১৯৯৬-৯৭ ও ২০০৪ সালের জরিপে যথাক্রমে ৩৫০-৪০০ ও ৪৪০টি বাঘের কথা উল্লেখ করা হলেও সেসব হিসাব মূলত পায়ের ছাপ ও অনুমাননির্ভর ছিল। ফলে আধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপগুলোই বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।
তবে চ্যালেঞ্জ এখনও কম নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি, বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানব-বাঘ সংঘাত সংরক্ষণ প্রচেষ্টার জন্য বড় হুমকি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণি পাচার চক্র এখনও উদ্বেগের কারণ। তাই বাঘ সংরক্ষণকে শুধু বন বিভাগের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি হতে হবে রাষ্ট্র, গবেষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকের সম্মিলিত উদ্যোগ। বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি সংরক্ষণের আধুনিক দর্শন বলছে, মানুষ প্রকৃতির বাইরে নয়; বরং প্রকৃতিরই অংশ। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বাঘ সংরক্ষণ মানে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করা। কারণ সুস্থ বন জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে, কার্বন শোষণ করে, দুর্যোগের ঝুঁকি কমায় এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। বাঘ সেই সুস্থ বনের প্রতীক ও রক্ষক।
আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñপ্রকৃতির প্রতিটি প্রাণির অস্তিত্বের পেছনে রয়েছে একটি বৃহত্তর পরিবেশগত তাৎপর্য। বাঘকে হারানো মানে শুধু একটি প্রাণিকে হারানো নয়; বরং একটি বন, একটি বাস্তুতন্ত্র, একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে হারানো। তাই আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক—বাঘের জন্য বন, বনের জন্য বাঘ এবং প্রকৃতির জন্য মানুষের দায়িত্বশীল সহাবস্থান নিশ্চিত করা। কারণ সুন্দরবনের প্রহরী রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে থাকলে বেঁচে থাকবে বন, বেঁচে থাকবে জীববৈচিত্র্য, আর নিরাপদ থাকবে আমাদের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ।

Ads small one

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, বাদীপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার আদালতে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী ও এড. আবু বক্কর।

 

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম (৪৮)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার সেহারা গ্রামের মৃত সামত আলীর ছেলে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে থানায় কর্মরত এসআই সোহাগ মিয়া ও এসআই সাহিদুর রহমান মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলেন।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টার দিকে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নওয়াপাড়া ঢালাই রাস্তার মোড় থেকে ওয়াপদার দিকে যাওয়ার পথে জনৈক আব্দুল মান্নানের বাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ রেজাউল ইসলাম (৪৮) কে আটক করে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ১০ আগস্ট সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের মৃত নূর আহম্মদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল মোমিন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলেন- তার নিলাম খরিদা ভূমি ছোট ভাই আব্দুল মালেক ও তার সহযোগী বড় ভগ্নিপতি মোঃ আমজাদ হোসেন ও সেজো ভাইয়ের স্ত্রী শাকিলা বেগম এর বক্তব্য দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমার বৃদ্ধা মাকে ভুল বুঝিয়া এক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কিছু না শুনে- না জেনে তার ও তার স্ত্রীর সম্মান হেয় করায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

একই দিন দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দিলিপ কুমার রায়। তিনি শ্যামনগর উপজেলা মিঠাচন্ডিপুর গ্রামের মৃত কাত্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে। দিলিপ কুমার তার লিখিত বক্তব্যে দাবী করেন, হরিনগর এলাকার দিলিপ মল্লিকের কন্যা চম্পা রানী তার স্ত্রী ছিলেন।

 

উক্ত চম্পা রানীর বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, জনৈক আব্দুল মান্নানকে দিয়ে তার ভিটা বাড়ি লিখে নেওয়ার জন্য হুমকি ও মারপিট করেন। এই ঘনটায় তিনি শ্যামনগর থানায় ১৫৮২ নং জিডি করেন।

 

এই ঘটনায় চম্পা রানী নিজেকে আহত দেখিয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদলতে মামলা করেন। দিলীপ দাবী করেন বর্তমান তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।