শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনিমেষকে জিম্মি করে জলদস্যু ডন বাহিনী, ৩ জলদস্যু আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
অনিমেষকে জিম্মি করে জলদস্যু ডন বাহিনী, ৩ জলদস্যু আটক

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করা কৃত্রিম প্রজনন কর্মী অনিমেষ পরমান্যকে উদ্ধার করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ। সোমবার সকাল ১০টার দিকে সুন্দরবন বাজার থেকে অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমাননের নেতৃত্বে তাকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মুখে জলদস্যুরা অনিমেষকে সুন্দরবন থেকে মরাগাঙ নদীর পাড়ে রেখে যায়।

শ্যামনগর উপজেলার প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের কৃত্রিম প্রজনন কর্মী অনিমেষ পরমান্য উপজেলার বৈশখালী গ্রামের মৃত নিতাই পরমান্যের ছেলে।

গত শনিবার দুপুরের দিকে গরুর চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয়। পরবর্তীতে ঘুরতে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সুন্দরবনের মধ্যে নিয়ে জলদস্যুদের সহায়তায় তাকে জিম্মি করা হয়।

অনিমেষ পরমান্য জানান, তার প্রতিবেশী আশরাফ হোসেন নিজের ফুফাত ভাইয়ের গরুর চিকিৎসা দেয়ার জন্য শনিবার সকালে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় সুন্দরবন বাজারে। পরবর্তীতে গরু না দেখিয়ে আগে সুন্দরবন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে বনের মধ্যে নিয়ে তাকে জিম্মি করে।

অনিমেষের ভাষ্য ২ দিন ধরে তাকে বনের মধ্যে থাকা নৌকায় আটকে রাখা হয়। খাবার খাওয়ার সময় ছাড়া সারাক্ষণ হাত বেঁধে রাখা হয়। তাকে জিম্মি করে তার মোবাইল থেকে কল করে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে দেরি করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কারনে আটক অবস্থায় গরাণের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ্বাস জানান, অনিমেষ পরমান্য অপহরণের পর তার ইউনিয়ন কর্মীরা আতংকে ভুগছে। এখন জরুরি প্রয়োজনেও রাতে তারা সীমান্ত বা সুন্দরবন এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে যেতে রাজি হচ্ছে না। অনিমেষকে জিম্মি করার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, শনিবার রাতে অভিযোগ পেয়ে তারা অভিযানে নামে। রোববার রাতে তিনটি টিম নিয়ে পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে চাপ সৃষ্টির একপর্যায়ে সকালে সুন্দরবন থেকে তাকে ডাঙায় তুলে দেয়া হয়। অনিমেষকে জিম্মি করার সাথে জড়িত মাহমুদুল হাসান ডন, আব্দুল জব্বার ও শাহিনুর রহমান নামের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম দুজন ২০১৭ ডালে আত্মসমর্পনকৃত জলদস্যু ডন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিল।

Ads small one

আন্তর্জাতিক অসীমতা দিবস: মুক্তচিন্তা, দর্শন ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক অসীমতা দিবস: মুক্তচিন্তা, দর্শন ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধন

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানুষের ইতিহাস মূলত এক অনন্ত অনুসন্ধানের ইতিহাস। আদিম মানুষ যখন প্রথম আকাশের তারাগুলোর দিকে বিস্ময়ে তাকিয়েছিল, তখন থেকেই শুরু হয়েছিল দূরের অজানাকে জানার সেই যাত্রা। সভ্যতার বিকাশ, বিজ্ঞানের আবিষ্কার, দর্শনের প্রশ্ন এবং শিল্প-সাহিত্যের সৃজনশীলতা-সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে একটি চিরন্তন ধারণা, আর সেটি হলো অসীমতা। এই অসীম সম্ভাবনা, জ্ঞান ও মুক্তচিন্তার উদযাপনেই প্রতি বছর ৮ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক অসীমতা দিবস।

১৯৮৭ সালে মার্কিন দার্শনিক, কবি, সাংবাদিক ও কল্পবিজ্ঞান লেখক জঁ-পিয়েরে আদি ফেনিও এই দিবসের সূচনা করেন। তিনি ফ্রি অ্যাডভাইস ম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, মানুষকে কেবল প্রচলিত ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞান, দর্শন ও শিল্পের আলোকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় আন্তর্জাতিক অসীমতা দিবস। দিনটি হিসেবে ৮ আগস্ট নির্বাচনও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ গণিতে ব্যবহৃত অসীমতার প্রতীক (∞) দেখতে অনেকটা আড়াআড়িভাবে শোয়ানো ইংরেজি ‘৮’ সংখ্যার মতো। ফলে ৮ম মাসের ৮ম দিন, অর্থাৎ ৮/৮, অসীমতার ধারণার সঙ্গে এক সুন্দর প্রতীকী সম্পর্ক তৈরি করে।

গণিতের জগতে অসীমতা একটি বিস্ময়কর ধারণা। এটি এমন একটি পরিমাণ যা কখনও শেষ হয় না, কখনও পূর্ণ হয় না। ক্যালকুলাস, জ্যামিতি, বীজগণিত এবং সংখ্যাতত্ত্বের বহু মৌলিক তত্ত্ব অসীমতার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক জেনোর প্যারাডক্স থেকে শুরু করে আধুনিক গণিতের অসীম ধারা ও সীমা নির্ণয়ের ধারণা পর্যন্ত অসীমতা মানুষের চিন্তাকে নতুন নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে। গণিতবিদ জন ওয়ালিস ১৬৫৫ সালে অসীমতার প্রতীক (∞) ব্যবহার করে এই ধারণাকে আরও সুসংহত রূপ দেন, যা আজ বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

তবে অসীমতা শুধু গণিতের বিষয় নয়; এটি মহাবিশ্বকে বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। মহাকাশতত্ত্ব বা কসমোলজিতে বিজ্ঞানীরা আজও অনুসন্ধান করছেন-মহাবিশ্বের কি কোনো শেষ আছে, নাকি এটি সত্যিই অসীম? কোটি কোটি গ্যালাক্সি, অসংখ্য নক্ষত্র এবং রহস্যময় ব্ল্যাক হোলের বিস্তৃতি আমাদের সামনে এমন এক বাস্তবতা তুলে ধরে, যার পরিধি কল্পনারও বাইরে। এই প্রসঙ্গে ৮ সংখ্যাটির সঙ্গে বিজ্ঞানের কিছু চমৎকার মিলও উল্লেখযোগ্য। আমাদের সৌরজগতের প্রধান গ্রহ সংখ্যা ৮টি, সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট এবং জীবনের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যাও ৮। এসব তথ্য দিবসটির প্রতীকী গুরুত্বকে আরও সমৃদ্ধ করে।

দর্শনের জগতে অসীমতা মানুষের অস্তিত্ব, সময়, মহাবিশ্ব এবং চেতনা সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করে। মানুষ কোথা থেকে এসেছে, কোথায় বা যাবে? মহাবিশ্বের শেষ কোথায়? সময় কি অনন্ত? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই দর্শন ও বিজ্ঞান একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক অসীমতা দিবস তাই কেবল একটি গাণিতিক প্রতীকের উদযাপন নয়; এটি প্রশ্ন করার সাহস, নতুন করে ভাবার ক্ষমতা এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চার প্রতীক।

সাহিত্য ও শিল্পকলায়ও অসীমতার উপস্থিতি সুস্পষ্ট। কবিরা অনন্ত প্রেমের কথা বলেন, শিল্পীরা আঁকেন সীমাহীন আকাশ, লেখকেরা সৃষ্টি করেন কল্পনার অসংখ্য জগৎ। মানুষের সৃজনশীলতার কোনো সীমানা নেই-এই সত্যটিই অসীমতার ধারণাকে শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে। ফলে এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে জ্ঞান যেমন অসীম, তেমনি মানুষের কল্পনাশক্তিও সীমাহীন।

মানুষের মস্তিষ্ক সীমিত হলেও তার কল্পনাশক্তি অসীম; আর এই অসীম কল্পনারই বাস্তব রূপ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এই মেলবন্ধন মানবসভ্যতার সামনে উন্মোচন করেছে এক নতুন দিগন্ত। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আজ মহাকাশ গবেষণা, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং জলবায়ু সংকটের মতো জটিল সমস্যা সমাধানে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় মানুষের সৃজনশীলতাই হলো মূল চালিকাশক্তি; আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মও তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণায় উন্মোচন করেছে সম্ভাবনার নতুন সব দ্বার।

বর্তমান বিশ্বে যখন বিভাজন, সংকীর্ণতা ও অসহিষ্ণুতার নানা চ্যালেঞ্জ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, ঠিক তখন আন্তর্জাতিক অসীমতা দিবস নিয়ে আসে এক নতুন বার্তা। সেই বার্তাটি হলো-জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ না রেখে বিস্তৃত করতে হবে, প্রশ্নকে ভয় না পেয়ে সানন্দে গ্রহণ করতে হবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে হবে। মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী মননই একটি মানবিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, দর্শন ও উদ্ভাবনের প্রতি তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রেও এই দিবসটি পালন করছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কারণ, আজকের এই কৌতূহলী শিক্ষার্থীই আগামী দিনের একেকজন কৃতি বিজ্ঞানী, দার্শনিক, গবেষক কিংবা উদ্ভাবক।

আন্তর্জাতিক অসীমতা দিবস আমাদের একটি গভীর সত্যের সামনে দাঁড় করায়-মানুষের শেখার কোনো শেষ নেই, জানার কোনো সীমা নেই এবং সম্ভাবনার কোনো পরিসীমা নেই। পৃথিবীর ক্ষুদ্র একটি কোণে বসেও মানুষ তার চিন্তার ডানায় ভর করে মহাবিশ্বের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। তাই ৮ আগস্ট কেবল একটি দিবস নয়; এটি জ্ঞান, কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং মানব সম্ভাবনার অনন্ত যাত্রাকে সম্মান জানানোর এক অনন্য উপলক্ষ। আমরা সীমাবদ্ধ পৃথিবীতে বাস করলেও মানুষের স্বপ্ন, চিন্তা ও সম্ভাবনা সত্যিই অসীম।

 

পাইকগাছায় শ্মশানের কালী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় শ্মশানের কালী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় শ্মশানের কালী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ানের বাঁকা ঘোষ পাড়া শ্রী শ্রী শ্মশানের কালী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। ৬ আগস্ট রাতের কোনো এক সময়ে এ ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে মুন্দিরের পূজারী দেবলা ঘোষ মন্দিরে এসে দেখে মন্দিরের দুইটি কলাপসিবল গেটের ৪ টি তালা নেই। ভিতরে ঢুকে দেখে সব ছড়ানো ছিটানো। চোরেরা মন্দিরের ৭টি তালা কেটে মন্দিরে ঢুকে কালী মায়ের হাতের সোনায় বাধানো শাখা, পায়ের নুপুর, ১৫টি সোনার কপালের টিপ, কানের দুল, ৬টি শাড়ী কাপড়, পূজার উপকরণ, বাক্স ও দানবাক্স ভেঙ্গে চুরি করে করে নিয়ে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লক্ষ টাকা হবে বলে মন্দির কমিটি জানায়।

এ ঘটনায় বাঁকা ঘোষ পাড়া শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মানিক চন্দ্র ঘোষ পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সকালে ঘটনাস্থাল বাঁকা ঘোষ পাড়া শ্রী শ্রী শ্মশানের কালী মন্দির পরিদর্শন করেছেন, সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মোঃ আমির হামজা ও পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আউয়াল কবির। বাঁকা শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মন্দিরের ভক্তরা এই চুরির ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সুন্দরবনকে ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ ঘোষণার লক্ষ্যে কনসালটেশন সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনকে ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ ঘোষণার লক্ষ্যে কনসালটেশন সভা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: ইউনেস্কোর উদ্যোগে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জকে ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ ঘোষণার লক্ষ্যে কনসালটেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জের আয়োজনে বুড়িগোয়ালীনিস্থ রেঞ্জ কার্যালয়ে গতকাল সকালে গুরুত্বপুর্ণ ঐ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল বনজীবী, নানা শ্রেণী পেশার জনগোষ্ঠীসহ জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সাংবাদিক, সিপিজি ও ভিডিটি সদস্যরা সেখানে অংশ নেয়। সভায় বনজীবীসহ সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর কাছে ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ সংক্রান্ত বিষয়ে নিজস্ব মতামত জানতে চাওয়া হয়।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনসালটেশন সভার আলোচনায় অংশ নেন বন সংরক্ষক (খুলনা অঞ্চল) ইমরান আহমেদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ওয়াইল্ড লাইফ) নির্মল মন্ডল, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান, ইউনেস্কোর প্রতিনিধি খালিদ বিন মাসুদ, মোঃ শরীফুজ্জামান, গবেষক ডাঃ প্রিন্স।

বনবিভাগ সুত্র জানায় ইউনেস্কো’র আগ্রহে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় জোনিং সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে তদসংলগ্ন অংশে বসবাসরত জনগোষ্ঠীসহ সুন্দরবনের জীব ও প্রাণ-বৈচিত্র রক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি এলাকাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটবে। ইউনেস্কোর প্রকল্পের আওতায় উক্ত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বনবিভাগ সুত্র আরও নিশ্চিত করে জানা যায় এই প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনকে কোর, বাফার ও ট্রানজিশন জোনে বিভক্ত করা হবে। তবে সেক্ষেত্রে পুর্বের অভয়ারণ্য আয়াতন বৃদ্ধি পাবে না বলেও নিশ্চিত করা হয়। বরং এই প্রকল্পের আওতায় বনজীবীসহ সুন্দরবনের জীব ও প্রকৃতি রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে ধারনা পেতে বনজীবীসহ স্থানীয় সব গোষ্ঠীর সাথে স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এসময় স্থানীয় মৌয়াল, মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিক, কাঁকড়া শিকারীসহ নানা শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।