রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরা শহরে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, গলিত লাশ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা শহরে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, গলিত লাশ উদ্ধার

পত্রদূত রিপোর্ট: অহিদা সুলতানা শিমু নামের এক বিধবা নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশ পুরাতন সাতক্ষীরার তার নিজ বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
মৃত অহিদা সুলতানা শিমু (৪০) পুরাতন সাতক্ষীরার মিয়ারাজ হোসেনের মেয়ে।

মৃতের বড় বোন রাবেয়া সুলতানা জানান, তারা পাঁচ বোন ও এক ভাই। ২০০৭ সালে শহরের সুলতানপুরের সাংবাদিক আহসানের সঙ্গে ছোট বোন অহিদা সুলতানা শিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর শিমুর স্বামী আহসান গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে সে তার (রাবেয়া) কাছে নিজের ঘরে থাকতো। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়ে সে তার সংসার খরচ নির্বাহ করতো। দুই মাস আগে সেটি হাসান ইলেকট্রিক এর মালিক হাসানের কাছে বিক্রি করে দেয়। বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ডাকতে যেয়ে ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। মৃতের দুই কনুই ও পেটের উপরের চামড়া ওঠানো ছিল।

তবে স্থানীয়রা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর শিমু বড় বোনের কাছে খাওয়া দাওয়া করলেও সে অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করতো। নিয়মিত নেশা জাতীয় ইনজেকশান নিত সে। তার কাছে অনেকেই যাতায়াত করতো। গত বছরের আগষ্ট মাসে তার বাবা মারা যায়। একমাত্র ভাই এক সময়কার তুখোড় ক্রিকেট খেলোয়াড় মনিরুজ্জামান কিরণ বোনদের সঙ্গে বোঝাপড়া না হওয়ায় সদর উপজেলার মাধবকটিতে দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছে। বৃহষ্পতিবার লাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ধারণা করে হচ্ছে দুই থেকে তিন দিন আগে শিমুর মৃত্যু হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (৬৪ নং) হয়েছে। ওই নারীর সামাজিক সম্মান ছিল না। লাশের ময়না তদন্তের জন্য শুক্রবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যাবে না।

Ads small one

বনবিবির সন্তানেরা এবং বাঘের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
বনবিবির সন্তানেরা এবং বাঘের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি

মো. মামুন হাসান

সুন্দরবনের গহীনে যখন ভোরের কুয়াশা কাটতে শুরু করে, তখন ছোট ছোট নৌকায় চড়ে একদল মানুষ রওনা দেয় এমন এক যুদ্ধযাত্রায়, যার প্রতিপক্ষ পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর শিকারিদের একজন। এরা মৌয়াল। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এই মানুষগুলোর সাহসের ওপর, যারা প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন মাসে সুন্দরবনে ঢোকেন কেবল একটি জিনিসের খোঁজে, বন্য মধু।

 

এই পেশাটি শুনতে যতটা রোমান্টিক লাগে, বাস্তবতা ততটাই নির্মম। প্রতিটি মৌসুমে গড়ে কয়েকজন মৌয়াল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণে প্রাণ হারান, আরও অনেকে ফিরে আসেন গুরুতর জখম নিয়ে। সরকারি হিসাবে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, বাস্তব সংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে মনে করেন স্থানীয়রা, কারণ অনেক মৃত্যু কিংবা নিখোঁজের ঘটনা কখনো নথিভুক্তই হয় না। যে বনজীবী পরিবার একবার তার উপার্জনক্ষম সদস্যকে বাঘের পেটে হারায়, তার জন্য অপেক্ষা করে থাকে কেবল দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার এক দীর্ঘ ছায়া।

 

এই ভয়াবহ ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মৌয়ালরা যে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক আশ্রয় গড়ে তুলেছেন, তার কেন্দ্রে আছেন বনবিবি। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মৌয়ালদের কাছেই তিনি সমান শ্রদ্ধার পাত্র, এক অসাম্প্রদায়িক লোকদেবী, যিনি বনের রক্ষাকর্ত্রী বলে বিশ্বাস করা হয়। বনে ঢোকার আগে প্রতিটি নৌকায় বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়, মানত করা হয়, প্রার্থনা করা হয় নিরাপদে ফেরার জন্য। এই আচার কোনো নিছক কুসংস্কার নয়, বরং এক মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি, যা মানুষকে অজানা বিপদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস জোগায়।

 

আরও চমকপ্রদ হলো বাঘের সঙ্গে মৌয়ালদের এক ধরনের অলিখিত সম্পর্কের ধারণা, যাকে স্থানীয় লোকবিশ্বাসে প্রায়ই এক চুক্তির রূপে দেখা হয়। দক্ষিণরায় নামের বাঘ দেবতার কাহিনি এই বিশ্বাসের মূলে। কিংবদন্তি অনুযায়ী বনবিবি ও দক্ষিণরায়ের মধ্যে এক আপসরফা হয়েছিল, যেখানে মানুষ যদি বনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সীমিত পরিমাণে সম্পদ আহরণ করে, তবে বাঘ তাকে আক্রমণ করবে না। মৌয়ালরা তাই মধু সংগ্রহের সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন, যেমন প্রয়োজনের অতিরিক্ত মৌচাক না ভাঙা, নির্দিষ্ট আচার পালন করে বনে প্রবেশ করা, কিংবা মুখোশ পরিধান করে বাঘকে বিভ্রান্ত করার কৌশল অবলম্বন করা। এই বিশ্বাস কার্যকর প্রতিরোধমূলক আইন না হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক গভীর পরিবেশগত প্রজ্ঞা, প্রকৃতি থেকে নিলে সীমা মেনে নেওয়ার শিক্ষা।

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই যে জীবনবাজি রেখে মধু সংগ্রহ করে আনা মৌয়ালরা, তাদের প্রাপ্য মূল্য কি তারা পান। বাজারে যে মধু বিক্রি হয় চড়া দামে, সেই মধুর প্রকৃত উৎপাদনকারীর ভাগে জোটে সামান্যই। মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে মুনাফার সিংহভাগ চলে যায় অন্য কারো পকেটে। যে মানুষটি বাঘের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নেন, তার সন্তানের শিক্ষা কিংবা পরিবারের স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম নিশ্চয়তাও অনেক সময় থাকে না।

 

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মৌয়ালদের জন্য বিমা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহের যে উদ্যোগ নেওয়ার কথা, তা এখনো অনেকাংশে কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। বন বিভাগের অনুমতিপত্র নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল, আর দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ আরও দুর্গম। অথচ এই মানুষগুলোই সুন্দরবনের প্রকৃত রক্ষক, কারণ তারা জানেন বন বাঁচলেই তাদের জীবিকা বাঁচবে।

 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের এই মৌয়াল সম্প্রদায়ের গল্প আসলে বাংলাদেশের এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র, যারা প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এক অনন্য দর্শন ধারণ করেও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় থেকে যান অবহেলিত। বনবিবির প্রতি তাদের বিশ্বাস আর বাঘের সঙ্গে তাদের সেই নীরব সমঝোতা কেবল লোকজ সংস্কৃতির উপাদান নয়, এটি টিকে থাকার এক আশ্চর্য কৌশল, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিমার্জিত হয়ে এসেছে। এই কৌশলকে সম্মান জানিয়ে যদি রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়ায়, তবেই সুন্দরবন এবং তার সন্তানেরা উভয়েই রক্ষা পাবে।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক কৃষকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক কৃষকের মৃত্যু

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুর রাজ্জাক (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ছোটভেটখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত আব্দুর রাজ্জাক ওই গ্রামের বাসিন্দা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে কৃষক আব্দুর রাজ্জাক নিজ বাড়িতে বিদ্যুতের কাজ করার সময় তিনি হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

 

সাঁতারকুলে ফার্নিচার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সাঁতারকুলে ফার্নিচার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাঁতারকুলের ফার্নিচার গোডাউনের অগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সদরদফতর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ওই ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় ফায়ার সার্ভিসের দল এবং সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে তারা পৌঁছায়।

সদরদফতর জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরে পূর্বাচল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট যুক্ত হয়।

তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।