শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলার উত্তর পাশে অবস্থিত ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে।

এই হামলায় গুরুতর আহত কোচিং সেন্টারের পরিচালক মইনুল ইসলাম (৩০) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- পুরাতন সাতক্ষীরা (নাথপাড়া) এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) এবং মো. রকি (২২)।

লিখিত এজাহার থেকে জানা যায়, মইনুল ইসলামের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে একজন আসামির ১৬ বছর বয়সী এক বোন পড়াশোনা করত। কোচিংয়ে আসা-যাওয়ার সুবাদে সেন্টারের শিক্ষক আলফাজের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়। বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি কোচিংয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করে দেন।

এঘটনার পর ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের কাছে বিষয়টি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৪ মে রাতে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বেআইনিভাবে কোচিং সেন্টারের নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিচালক মইনুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি ইমরান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে, যার ফলে তার মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে। ২নং আসামি তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে মইনুল ইসলামের বাম গাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানেও ৪টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া ৩ ও ৪নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলার একপর্যায়ে ১নং আসামি ইমরান হোসেন পরিচালকের কাছে থাকা নগদ ৪২ হাজার ৫২০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় ফরহাদ হোসেন ও আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।

 

 

Ads small one

ভোমরায় বিজিবি-বিএসএফ-ব্যবসায়ীদের মিষ্টি ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
ভোমরায় বিজিবি-বিএসএফ-ব্যবসায়ীদের মিষ্টি ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়

পত্রদূত রিপোর্ট: ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগষ্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা একে অপরকে ফুল ও মিষ্টি উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিয়াউল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক রাজু সাহাজি, ভোমরা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী এবং সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলামকে উত্তরীয় ও ব্যাজ পরিয়ে বরণ করে নেন। জবাবে ভোমরা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের পক্ষ থেকেও ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতাদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

একই সময়ে ভোমরা বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার আফজাল হোসেন ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বিএসএফ ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা ও উপহার বিনিময় করেন।

সৌহার্দ্য প্রকাশকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং সীমান্তের উভয় পাড়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ছুটি উপলক্ষে এদিন ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

আন্তঃস্কুল দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বক্তারা: দেশের উন্নতির মূল প্রতিবন্ধকতাই হলো দুর্নীতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
আন্তঃস্কুল দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বক্তারা: দেশের উন্নতির মূল প্রতিবন্ধকতাই হলো দুর্নীতি

‘দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আন্তঃস্কুল দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার কোয়াটার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১-১৭ আগষ্ট সপ্তাহব্যাপী প্রতিযোগিতায় দুর্নীতি দমন কমিশন, খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যায়লের আয়োজনে ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির বাস্তবায়নে শনিবার ৮টি স্কুলের জমজমাট কোয়াটার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।

 

শনিবার (১৫ আগষ্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রতিযোগিতায় তুজলপুর গোবিন্দ চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যায়ল, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এব পিএন বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীগণ বিষয়ভিত্তিক তথ্য, উপাত্ত, যুক্তি উপস্থাপন করেন।

 

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় ৮টি স্কুলের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহেদ মোস্তফা চৌধুরী, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আশরাফ হোসেন, দর্শন বিভাগের প্রভাষক প্রিয়া মন্ডল। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মোঃ নাজমুল হক। সময় নিয়ন্ত্রণ করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম।

 

এ সময় বক্তারা বলেন, আমাদের সমাজে দুর্নীতির সংজ্ঞা অনেক। দেশের উন্নতির মূল প্রতিবন্ধকতাই হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি প্রতিরোধে ও দুর্নীতির বিস্তার রোধে সকলের স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। তাহলে দুর্নীতির মূল উৎপাঠন করা সম্ভব হবে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ওহাব আজাদ, এড. মুনিরউদ্দীন, রেবেকা সুলতানা, মোঃ সাকিবুর রহমান বাবলা, নাজমুল হাসান প্রমুখ। প্রসঙ্গত, রোববার বেলা আড়াউটায় চার স্কুলের অংশগ্রহণে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

 

কালিগঞ্জে ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি জবর দখল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি জবর দখল

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের গ্রামপুলিশ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ছয়টি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের তিনটি কাঠঘর, তিনটি শৌচাগার ও বাঁশবাগানসহ ২৫ শতকের বেশি জমি দখল করে নিয়েছে। বানানো হয়েছে একটি খুপড়ি ঘর। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এ জবরদখল কার্যক্রম চালানো হয়। দরজা খুলে বাহিরে এলে রাম দা দিয়ে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ফতেপুর গ্রামের মৃত অরুন রজকের ছেলে জয়দেব রজক জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর মৌজার এসএ ৩৮৫ দাগের ৬০ শতক জমি তিনিসহ চার সহোদর ও দুই কাকা মিলে মোট সাতটি পরিবার শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ভোগদখলে আছেন। ওই জমির মধ্যে ৫১ শতক জমি তাদের নামে রেকর্ড হলেও বর্তমান মাঠ জরিপে বিআরএস ৮০১ নং খতিয়ানের ২৮৭ দাগে সাত শতক ও ৬১৫ খতিয়ানের ২৮৭ দাগে দুই শতক জমি মোট নয় শতক জমি একই এলাকার গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলামের বাবা সাবেক দফাদার গোলাম রসুল ও তার শরীকদের নামে হয়ে যায়। ভুল রেকর্ডকে কাজে লাগিয়ে সাইফুল ইসলাম ও তার সাতটি ভাইসহ অন্য শরিকগণ সম্প্রতি ওই জমি দখলের চেষ্টা করলে তিনিসহ (জয়দেব) পাঁচ ভাই ও দ্ইু কাকা বাদি হয়ে গোলাম রসুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গত ২১ মে কালিগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে দেঃ ১৫৫/২৬ নং মামলা দায়ের করেন।

 

আদালতের নোটিশ পাওয়ার পরও গত ৪ জুলাই গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলাম স্থানীয় ইউপি সদস্য আল মামুনের কাছে রেকর্ড মূলে জমি দখলের কথা প্রকাশ করে। সেখানে সুবিধা না করতে পেরে গত ৬ জুলাই সাইফুল ইসলাম দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদে বিরোধপূর্ণ জমি দাবি করে তা ফিরে পেতে অভিযোগ করে। পরদিন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে শালিসি বৈঠকে সাইফুল কোন দলিল না দেখাতে না পারলে পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন সাইফুল ১৯৯৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৭৩২৮ নং রেজিষ্ট্রি কোবালা দলিলের একটি ফটোকপি নিজের হাতে রেখে ওই দলিল মূলে জমি দাবি করেন।

 

ফটোকটি দলিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজি চাইলে সাইফুল দিতে অস্বীকার করলে পরবর্তী ১১ আগষ্ট দিন ধার্য করা হয় মূল দলিলের জন্য। ১১ আগষ্ট সাইফুল ১৯৯৬ সালের ১৩ মে ১৯৭৯ নং দলিলের ফটোকপি মূলে সাত শতক জমি দাবি করলে মূল দলিল নিয়ে আসার জন্য আগামি ৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। একইসাথে ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা না করার জন্য সাইফুল ও তার লোকজনদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাইফুলের উল্লেখিত ফটোকপি দলিলের নাম্বার তুলে সেই দলিল তুলে দেখা যায় সেটি জিরেনগাছা মৌজার। মালিকানা জিরেনগাছার এক ব্যক্তির।

জয়দেব রজক আরো জানান, সাইফুল ইসলাম জমি জবরদখল করতে পারে তার এমন আশঙ্কা হওয়ায় গত ১৪ জুলাই তিনি আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান। আদালত সাইফুলসহ সকল বিবাদীকে এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এরপরও সাইফুল ও তার শরীকরা আদালতে কারণ দর্শায়নি।

জয়দেব রজক অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার জমি দখল হতে পারে এমন খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতা, জামায়াত নেতা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যনকে অবহিত করেন। একপর্যায়ে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাম দা, শাবল, লাঠি, লোহার রড হাতে সাইফুল, তার ভাই আজিবর, জামির আলী, আব্দুর রহমান, আশরাফুল, ফারুক, তাদের স্ত্রী ও সন্তানসহ শতাধিক ভাড়াটিয়া লোকজন তাদের বাড়িতে আসে। তাদের উপস্থিতি জানতে পারলে ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করলে তারা জানালা দিয়ে তাদের হাতের অস্ত্র দেখিয়ে দরজা খুলে বাইলে এলে খুন করার হুমকি দেয়।

 

একপর্যায়ে তারা বাসুদেব, শুকদেব, ও প্রদীপের তিনটি বাথরুম, তার (জয়দেব), বাসুদেব ও শুকদেব এর তিনটি কাঠঘর, বাঁশবাগানসহ প্রায় ২৫ শতক জমির পশ্চিম ও উত্তর পার্শে বাঁশ ও কারেণ্ট জাল দিয়ে ঘিরে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই জয়িগায় তারা টিন ও বাঁশ দিয়ে একটি ছোট টোং ঘর বানিয়ে চলে যায়। বিষয়টি পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। উপ-পরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ভোর চারটার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন এবং উভয়পক্ষকে শনিবার বিকেলে কাগজপত্রসহ থানায় যেতে বলে যান।

দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়, সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর, জামায়াত নেতা ওমর ফারুকসহ কয়েকজন জানান, অরুন রজক ও তাদের শরিকদের ওয়ারেশ হিসেবে জয়দেব রজকসহ সাতটি পরিবার বংশপরম্পরায় ওই জমিতে ঘরবাাড়ি বানিয়ে বসবাস করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা থাকলেও গ্রাম পুলিশ সাইফুলের আবেদনের ভিত্তিতে তিন দিন শালিসি বৈঠকে সাইফুল কোন দলিল দেখাতে পারেনি।

 

একপর্যায়ে আগামি ৫ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের আইনজীবী ও একজন নিরপেক্ষ আইনজীবীর উপস্থিতিতে জমির সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন পক্ষকে জমিতে কোন প্রকার নির্মাণ কাজ না করার জন্য বলা হয়। এরপরও শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে ভোর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সাইফুলের নেতৃত্বে তার সশস্ত্র ভাড়াটিয়া লোকজন ভুয়া কাগজপত্রের মূলে দাবিকৃত সাত শতক জমির বিপরীতে ২৫ শতকের মত জমি নেট দিয়ে ও ছোট খুপড়ি ঘর বানিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এমদাদুল হক জানান, নিষাধাজ্ঞা প্রাপ্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের শোকজ নোটিশ পাঠানোর পর ও বিবাদী পক্ষ জমি জবরদখলের চেষ্টা চালানো বেআইনি। বিষয়টি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজি জানান, দেওয়ানী আদালতে চলমান মামলা থাকলেও স্থানীয়ভাবে শান্তি বজায় রাখতে তিনি সুধীজনদের নিয়ে তিনবার পরিষদের বসেছেন। গ্রামপুলিশ সাইফুল তাদের আদেশ অমান্য করে গভীর রাতে লোকজন ভাড়া করে রজকদের জমি জবরদখল করেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলা হয়েছে।

গ্রামপুলিশ সাইফুল ইসলামের কাছে জমি জবরদখলের চেষ্টা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার না করেই কোথায় আছেন তা না বলে সাক্ষাতে ছাড়া কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান গ্রাম পুলিশ সাইফুলের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে রজক পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জবরদখল করার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফতেপুরে পুলিশ পাঠানো হয়। বিরোধ নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।