কালিগঞ্জে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
Oplus_16908288
Oplus_16908288
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরকে আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হিসেবে থাকতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি আশপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে এবং পরিকল্পিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাদের উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি বলেন, এই আলীনগর, জঙ্গল সলিমপুর এলাকা আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের এলাকা বা অভয়ারণ্য থাকবে না। এর আশপাশে বেতুয়া ও চা বাগান নামে দুটি পাহাড়ি এলাকা রয়েছে। এসব এলাকাতেও সন্ত্রাসীদের আনাগোনার তথ্য আমরা পেয়েছি। সেখান থেকেও তাদের উচ্ছেদ করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সারা দেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া এবং চাঁদাবাজি- এই চারটি অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে। পরিকল্পিত যৌথ ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে এসব অপরাধ নির্মূলে কাজ করা হবে।
তিনি জানান, বিদ্যমান আইনগুলো যুগোপযোগী না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সমস্যা হচ্ছে।
১৮৬৭ সালের জুয়া আইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন অনলাইন ও অফলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের বেটিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান আইনি কাঠামো দিয়ে সেগুলো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এ বিষয়ে আইন আনার চেষ্টা করা হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান আনা হবে। বর্তমানে হাজার হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হলে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। এভাবেই আমরা দেশকে বাঁচাতে পারব, যুব সমাজকে রক্ষা করতে পারব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিশোর গ্যাং মোকাবিলায় কিছু আইনি সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে কিশোর অপরাধীদের জন্য বিদ্যমান আইনের কিছু সুযোগ-সুবিধা অপব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে অনেকেই গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। তাই এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। রাষ্ট্রের অস্তিত্ব যে কার্যকরভাবে বিদ্যমান এবং আইনি কাঠামো যে শক্তিশালী-তা বাস্তবেই প্রমাণ করা হবে।
সলিমপুর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসলে যা হবে, তা হলো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব এবং আইনের শাসনের বাস্তব প্রয়োগ মানুষ দেখতে পাবে।
এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, র্যাব এবং এলজিইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে ইরান।
দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়া জানিয়েছে, প্রণালিটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
শনিবার বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা বর্তমানে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে সব বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য নৌযানকে নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রণালি দিয়ে যাত্রা শুরুর আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত বিধিনিষেধ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলোকেও সতর্ক করেছে তেহরান।
ইরান জানিয়েছে, সামুদ্রিক চলাচল বা প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক তেল পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্সেনালকে ৪–৩ গোলে হারিয়ে ক্লাব ইতিহাসে সাফল্যের নতুন গল্প লিখেছে পিএসজি।
রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে এই শতাব্দীতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ধরে রাখল পিএসজি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে টানা ৩টি শিরোপা জিতেছিল রিয়াল।
বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় পিএসজি-আর্সেনালের এই স্নায়ু পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পিএসজি।
টাইব্রেকারে শেষ শটে পিএসজির লুকাস বেরালদো জাল খুঁজে পেলেও আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস মেরে দেন বারের ওপর দিয়ে। তাতেই রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কীর্তি গড়ে প্যারিসের ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের। ষষ্ঠ মিনিটে মারকিনিওসের ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পিএসজি গোলকিপার মাতবে সাপোনভ তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে যাওয়া বলটি ধরার সুযোগই পাননি।
পিএসজি এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল গত বছরের ফাইনাল শুরু করা ১০ জন নিয়েই। যে একটি পরিবর্তন, সেটি এই সাপোনভই। এক বছর আগে এই মঞ্চে শিরোপাজয়ের অভিজ্ঞতা আছে বলেই হয়তো পিএসজি শুরুতে গোল হজম করলেও আড়ষ্ট হয়ে যায়নি; বরং গোলের পর আর্সেনাল অনেকটা নিচে নেমে রক্ষণ সামলানোয় বেশি মনোযোগ দিলে আক্রমণের ধার বাড়ান উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস, দিজিয়ের দুয়েরা। যদিও গোলের প্রবল সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি, দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্টই থেকে গেছে।
প্রথমার্ধের বিরতির আগে হাভার্টজ আর্সেনালকে দ্বিতীয় গোলও এনে দিচ্ছিলেন প্রায়, সেটি হয়নি মারকিনিওসের দৃঢ়তায়।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে পিএসজির লক্ষ্য ছিল সময় নষ্ট করার। বিরতি শেষে ইংলিশ ক্লাবটি মাঠে ফেরে পিএসজির দুই মিনিট পর। খেলা শুরু হওয়ার পর সময় নষ্ট করার কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ৬৫ মিনিটে স্প্যানিশ এই রাইটব্যাকই সুযোগ করে দেন পিএসজিকে ম্যাচে ফেরার। বল নিয়ে বক্সে ঢোকা খিচা কাভারাস্কেইয়াকে মস্কেরা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। দেম্বেলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইনে সমতা আনতে ভুল করেননি (১-১)।
এরপর ম্যাচে পিএসজির নিয়ন্ত্রণ শুধু বেড়েছেই। কাভারাস্কেইয়ার একটি শট পোস্টে লাগে, বারকোলা দুটি সহজ সুযোগ নষ্টও করেন। তবে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই আধা ঘণ্টার খেলায় অবশ্য আর্সেনালও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। টিম্বার ও গিওকেরেস সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল গড়ায় টাইব্রেকারে।
আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নিতে যাওয়া এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরপরই পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দেন দাভিড রায়া। ৪ শট শেষে তাই টাইব্রেকার ফলও থাকে সমতায়। তবে শেষ শটে আর সমতা রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক মাগালাইসের বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে উৎসব শুরু হয়ে যায় পিএসজি শিবিরে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল। ২০২৫ সালের আগপর্যন্ত একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষায় থাকা পিএসজি এবার টানা ট্রফি জিতে নাম লেখাল রিয়ালেরই পাশে।