মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কিশোর গ্যাং: দায় এড়াবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
কিশোর গ্যাং: দায় এড়াবে কে?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

কিশোর বয়স স্বপ্ন দেখার, নিজেকে গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার সময়। অথচ এই বয়সেই যখন কেউ মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা সহিংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তখন উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় থাকে না। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশÑকিশোরদের দলবদ্ধ অপরাধ প্রবণতা এখন সমাজের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন।

 

প্রশ্ন হলো, যে বয়সে কিশোরদের হাতে থাকার কথা বই, খেলাধুলার সরঞ্জাম আর নতুন কিছু করার স্বপ্ন, সেই বয়সে তাদের কেউ কেউ অপরাধের পথে যাচ্ছে কেন? তাদের এই বিচ্যুতির দায় কি শুধু তাদের নিজেদের, নাকি এর পেছনে রয়েছে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা? কিশোর গ্যাংয়ের যাত্রা অনেক সময় শুরু হয় সাধারণ বন্ধুত্ব ও আড্ডা থেকে। কয়েকজন কিশোর একসঙ্গে চলাফেরা করে, নিজেদের একটি দল তৈরি করে। একপর্যায়ে সেই দলের মধ্যে তৈরি হয় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। কে বেশি প্রভাবশালী, কে কাকে ভয় দেখাতে পারে, কার কথায় এলাকায় অন্যরা চলবেÑএমন মানসিকতা থেকে সংঘাতের জন্ম হয়। পরে সেই সংঘাত মাদক, মারামারি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা গুরুতর অপরাধে রূপ নিতে পারে।

তবে সব কিশোরের দলই অপরাধী দল নয়। বন্ধুত্ব, খেলাধুলা কিংবা সামাজিক কর্মকা-ের জন্য কিশোরদের দলবদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক। সমস্যা তখনই, যখন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অন্যকে ভয় দেখানো, আইন অমান্য করা এবং অপরাধকে শক্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনেক কিশোরের কাছে গ্যাং হয়ে ওঠে পরিচিতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম। পরিবারে গুরুত্ব না পাওয়া, সামাজিকভাবে অবহেলিত বোধ করা কিংবা বন্ধুদের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা তাদের ভুল পথে নিতে পারে।

 

অপরাধী দলের সদস্যরা তাদের এমন একটি ধারণা দেয় যে, ভয় দেখাতে পারলেই সম্মান পাওয়া যায়। অথচ ভয় আর সম্মান এক জিনিস নয়। এই পার্থক্যটি বুঝতে না পারার সুযোগই নেয় অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠী। একটি শিশুর বেড়ে ওঠায় পরিবারের ভূমিকার বিকল্প নেই। কিন্তু সন্তানকে খাবার, পোশাক ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয় না। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী নিয়ে ভাবছে এবং কোনো মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হয়।

 

বর্তমানে অনেক পরিবারে অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি দেখা যায়। কেউ কর্মব্যস্ততায় সন্তানকে সময় দিতে পারেন না, কেউ আবার সন্তানের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে শুধু পড়াশোনা ও ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেন। ফলে কিশোরের অভিমান, হতাশা কিংবা সমস্যার কথা শোনার মানুষটি পরিবারে না থাকলে সে বাইরের মানুষের কাছে আশ্রয় খোঁজে। সেই আশ্রয় যদি ভুল সঙ্গের মধ্যে হয়, তাহলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। অবশ্য কিশোর অপরাধের সব দায় পরিবারকে দেওয়া যাবে না।

 

অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য, মাদকের সহজলভ্যতা, অপরাধীদের প্রভাব এবং নিরাপদ বিনোদনের অভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি এলাকায় খেলার মাঠ নেই, পাঠাগার নেই, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সুযোগ নেই; অথচ কিশোরদের অবসর সময় কাটানোর বিকল্পও তৈরি করা হয়নিÑএমন পরিস্থিতিতে তাদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত রাখার দায়িত্ব কে নেবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই পড়ানো ও পরীক্ষায় ভালো ফল করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।

 

একজন শিক্ষার্থীর আচরণ, মানসিক অবস্থা, বন্ধুত্বের ধরন এবং সামাজিক বিকাশের প্রতিও শিক্ষকদের নজর দেওয়া প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিলে, সহপাঠীদের ভয় দেখালে, মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তাকে সঙ্গে সঙ্গে খারাপ ছেলে হিসেবে চিহ্নিত না করে তার আচরণের কারণ খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা, কাউন্সেলিং এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা, বিতর্ক, সংগীত, নাটক, পাঠচক্র ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকা-ের সুযোগ বাড়ানো দরকার।

 

এসব কার্যক্রম কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি দলগত দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণ শেখায়। যে কিশোর নিজের যোগ্যতা প্রকাশের সুযোগ পায়, তাকে অপরাধী দলের কৃত্রিম পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে তারা জ্ঞান অর্জন ও যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু সহিংসতার ভিডিও, অস্ত্র প্রদর্শন, অপরাধকে বীরত্ব হিসেবে উপস্থাপন এবং অনলাইনে ভয় দেখানোর প্রবণতা তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

 

প্রয়োজন ডিজিটাল সচেতনতা, দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং অভিভাবকের যথাযথ তদারকি। এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করছে কারা? কোনো কিশোর মাদক বহন করছে, চাঁদাবাজি করছে কিংবা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেÑএতেই তদন্ত শেষ হয়ে যেতে পারে না। তার পেছনে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি। যারা কিশোরদের অপরাধে প্ররোচিত করে, অর্থ বা অস্ত্র সরবরাহ করে কিংবা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার শিকড় অক্ষত থেকে যাবে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার দিতে হবে। কিন্তু কিশোরদের ক্ষেত্রে বয়স, অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশোধন এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। একজন কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে মানেই তার ভবিষ্যৎ শেষÑএমন ধারণা বিপজ্জনক। ভুল থেকে ফিরে আসার সুযোগ না দিলে সে আরও গভীরভাবে অপরাধের জগতে ঢুকে পড়তে পারে। তাই সংশোধনমূলক কার্যক্রম, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং পরিবারে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের রক্ষা করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

 

 

পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের ঝুঁকি চিহ্নিত করা, খেলাধুলার সুযোগ তৈরি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কোনো কিশোর বিপথে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই তাকে সঠিক পথে রাখার উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর। কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার আমাদের সামনে আয়না ধরেছে। সেখানে শুধু বিপথগামী কিশোরদের দেখা যায় না; দেখা যায় পরিবারে সময়ের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক উদাসীনতা এবং অপরাধীদের দাপটের চিত্রও। তাই কিশোরদের দোষারোপ করে কিংবা কয়েকটি অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং কিশোরদের সুস্থ বিকাশের জন্য বাস্তব উদ্যোগ।

 

আজকের কিশোর আগামী দিনের নাগরিক। তাকে অপরাধের পথে ঠেলে দিয়ে পরে তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করা যায় না। পরিবারকে সন্তানকে সময় দিতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে, সমাজকে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কিশোরদের হাতে অস্ত্র উঠলে শুধু একজন কিশোরের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয় না, সমাজের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই দায় চাপানোর প্রতিযোগিতা নয়, এখন দরকার দায়িত্ব পালনের সাহস। যারা কিশোরদের অপরাধে ঠেলে দেয়, তাদের থামাতে হবে; যারা ইতিমধ্যে বিপথে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করতে হবে। কারণ আজ আমরা কিশোরদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে, আগামীকাল সেই ব্যর্থতার মূল্য দিতে হবে পুরো সমাজকে।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

রিয়াদ-দাম্মাম রুটে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানের সব ফ্লাইট বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
রিয়াদ-দাম্মাম রুটে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানের সব ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবে বিমানবন্দরে চলমান হামলার ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা থেকে দাম্মামগামী এবং ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী) স্থগিত করা হয়েছে।

এসব ফ্লাইটের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যথাসময়ে জানানো হবে।

জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীনা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত এবং বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

 

প্রতিমাশিল্পের নানা চমমে সেজেছে সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামন্ডপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
প্রতিমাশিল্পের নানা চমমে সেজেছে সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামন্ডপ

মিলন বিশ্বাস: শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠে-ঘাটে কাশফুলের দোলা প্রকৃতিতে বেজে উঠেছে দেবী দুর্গার আগমনী সুর। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। আর কয়েক দিন পরই ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার পূজামন্ডপগুলো। এবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিমা নির্মাণে ব্যতিক্রমী উপকরণ, পৌরাণিক কাহিনির দৃশ্যায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মন্ডপসজ্জায় থাকছে নানা চমক। কোথাও মুগ ডাল, কোথাও মুক্তা ও দেশলাই কাঠির কারুকাজ, কোথাও ঝরনার পানির মধ্যেও অক্ষত থাকছে ফাইবারের প্রতিমা। আবার কোথাও কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি পথ দিয়ে দেবী দর্শনের আয়োজন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ৬১২টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ১১১টি, তালায় ২০২টি, কলারোয়ায় ৪৬টি, দেবহাটায় ২১টি, আশাশুনিতে ১০৬টি, কালীগঞ্জে ৫৫টি এবং শ্যামনগরে ৭১টি মন্ডপ রয়েছে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে শেষ হবে। মহালয়া পালিত হয়েছে ১০ অক্টোবর।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী কারুকাজ। প্রতিমার সাজসজ্জায় দেশলাই কাঠি ও সুতার সূক্ষ্ম ব্যবহারে এসেছে ভিন্নমাত্রা। গত বছর চিন্নিগুঁড়া চাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর এবার নতুন উপকরণে শিল্পকর্ম গড়েছেন আয়োজকেরা। তাঁদের এ উদ্যোগ দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা কাছারিপাড়া পূজামন্ডপে প্রায় ৪০-৪৫ কেজি মুগ ডাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। প্রতিটি মুগ ডাল যতœসহকারে বসিয়ে দেবদেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে শিল্পীদের প্রায় ১৫ দিন সময় লেগেছে। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে খাদ্যশস্য দিয়ে প্রতিমা তৈরির এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।

আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তার কারুকাজে সাজানো হয়েছে ১৩টি প্রতিমা। শিল্পী প্রকাশ মন্ডল ও তাঁর সহযোগীদের কয়েক মাসের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই নান্দনিক সাজ। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকার বেশি। মুক্তার ব্যবহার প্রতিমাগুলোকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

এদিকে সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির ‘মায়ের বাড়ি’তে শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পৌরাণিক যুগের বিভিন্ন দেব-দেবীর লীলা ও কাহিনি। দেবদেবীর নানা রূপ ও পৌরাণিক ঘটনাবলির শৈল্পিক উপস্থাপনায় মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী আবহ। ধর্মীয় আখ্যান ও প্রতিমাশিল্পের সমন্বয়ে এই আয়োজন দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা পূজা মন্ডপে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাটের আঁশ দিয়ে মন্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বাংলার সোনালি আঁশের ঐতিহ্য। পাশাপাশি প্রতিমার সাজে ব্যবহার করা হচ্ছে রেশমি সুতা ও অন্যান্য উপকরণ।

কলারোয়ার মুরারীকাটি পালপাড়ার মন্ডপে ১৬টি প্রতিমা সাদা তিল দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রায় ২৫ কেজি তিল ব্যবহার করে চার শিল্পী ১৫ দিনে এ কাজ সম্পন্ন করেছেন। একই এলাকায় অন্য একটি মন্ডপে চুমকি দিয়ে প্রতিমার পোশাক ও অলংকারে আনা হয়েছে ঝলমলে নকশা। সেখানে প্রায় ১২ কেজি চুমকি ব্যবহার করা হয়েছে বলে আয়োজকদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলার অমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপে ককশিট বা সৌর ফোমশিট দিয়ে তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি থাকছে ভাসমান সেতু ও বিশেষ আলোকসজ্জা। অষ্টমী, নবমী ও দশমীর রাতে ডিজিটাল আলোক প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো আয়োজনের বাজেট প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আরপাঙ্গাশিয়া রাসমন্দির প্রাঙ্গণে কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি পথ। সেই পথ দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন। প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে এমন অভিজ্ঞতা দিতে আয়োজকেরা বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

অন্যদিকে, আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি শুরেরাবাদ সার্বজনীন মন্দিরে ফাইবার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা। প্রতিমাগুলোর গায়ের ওপর দিয়ে ঝরনার পানি পড়ছে, অথচ সেগুলো অক্ষত থাকছে। পানি ও প্রতিমার এই ব্যতিক্রমী সমন্বয় মন্ডপের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক উপকরণ ও শৈল্পিক পরিকল্পনায় তৈরি এ আয়োজন দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ বড়কুপট নদীরপাড় দুর্গামন্দিরে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার বিশাল দুর্গাপ্রতিমা। মাটি ও ফাইবারের সমন্বয়ে তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর দৃশ্যপটে তুলে ধরা হচ্ছে দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগ, সতীর নিথর দেহ কাঁধে নিয়ে শিবের তান্ডব, বীরভদ্রের আবির্ভাব এবং দক্ষযজ্ঞ ধ্বংসের ঘটনা। গত বছর এই মন্দিরে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার শ্রীবিষ্ণুর বিশ্বরূপ তৈরি করে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল কর্তৃপক্ষ। এবারও ভিন্নধর্মী আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

সাতক্ষীরা সদরের মাগুরা কর্মকারপাড়ার কালীমন্দিরে ‘কৈলাস অনাদি মহাদেব’ ভাবনায় সাজানো হচ্ছে মন্ডপ। সেখানে কৈলাস পর্বতের আবহ, প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গ এবং পঞ্চনাগের প্রতিকৃতি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও দৃশ্যপট তৈরিতে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবার বিশেষভাবে চোখে পড়ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরায় ৬১২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি সব মন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে যথাযথ নিয়মে পূজা আয়োজনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে জেলাবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েক দিনব্যাপী এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে ৬০৯টি মন্ডপের তথ্য রয়েছে; যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা বাড়তে পারে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে। মন্ডপগুলোতে টহল, সিসিটিভি নজরদারি, সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে। উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রতিমাশিল্পের বৈচিত্র্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন সব মিলিয়ে সাতক্ষীরায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর হবে।

 

সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজিতে কথা বলার প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজিতে কথা বলার প্রতিযোগিতা

পত্রদূত ডেস্ক: মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাসের বিকাশ এবং ইংরেজি ভাষা চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ইংরেজি ভাষা ক্লাব উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইংরেজিতে কথা বলার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্লাবের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকারসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।