সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সুন্দরবনের বাঘ-বিধবা: কেমন আছেন তারা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনের বাঘ-বিধবা: কেমন আছেন তারা?

মো. মামুন হাসান

সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে এই বন বাংলাদেশের অনন্য সম্পদ। তবে সুন্দরবনের আরেকটি বাস্তবতা রয়েছে, যা এর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ালে অনেকটাই অদৃশ্য থেকে যায়। বন ও মানুষের সম্পর্ক এখানে সব সময় সহাবস্থানের নয়। জীবিকার প্রয়োজনে বনে যাওয়া মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কখনো কখনো কেড়ে নেয় একটি পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে। আর সেই মৃত্যুর পর যে নারীরা স্বামীহারা হয়ে সন্তান ও পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে নামেন, স্থানীয় সমাজে তাঁদের পরিচয় হয় বাঘবিধবা হিসেবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরার মতো সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এমন নারীর সংখ্যা কম নয়। তাঁদের জীবন কেবল স্বামী হারানোর বেদনায় থেমে থাকে না। শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক অবজ্ঞা, কুসংস্কার এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই নারীদের জীবনসংগ্রাম জাতীয় পর্যায়ের নীতি ও গণমাধ্যমের আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

সম্প্রতি নেচার গ্রুপের হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা সুন্দরবনের বাঘবিধবাদের এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা এলাকায় পরিচালিত গবেষণায় বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের সামাজিক অবস্থান, কুসংস্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক যন্ত্রণা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, বাঘবিধবাদের জীবিকা সংগ্রাম কেবল অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কলঙ্ক।

এই কলঙ্কের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের লোকবিশ্বাস। সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বাঘের আক্রমণকে কখনো কখনো অতীতের পাপের শাস্তি কিংবা অলৌকিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এমন বিশ্বাসের কারণে স্বামী হারানো নারীদেরও অনেক সময় দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাঁদের জীবনের স্বাভাবিক আচরণ পর্যন্ত সামাজিক সন্দেহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে একজন নারী স্বামী হারানোর পর যে শোক, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যান, তার সঙ্গে যুক্ত হয় সমাজের তৈরি আরেকটি অদৃশ্য দেয়াল।

এখানেই সংকটটি আরও গভীর। একজন বনজীবী যখন বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান, তখন কেবল একটি জীবনই শেষ হয় না, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও ভেঙে পড়ে। স্বামী হারানো নারীকে একদিকে সন্তানদের দায়িত্ব নিতে হয়, অন্যদিকে জীবিকার নতুন পথ খুঁজে নিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের শিক্ষা, দক্ষতা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকে। ফলে স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁদের সামনে যে জীবন তৈরি হয়, সেটি এক দীর্ঘ অনিশ্চয়তার জীবন।

এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত হয় মানসিক আঘাত। গবেষণায় বাঘবিধবাদের মধ্যে গভীর শোক, বিষণ্নতা এবং পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেসের মতো মানসিক সমস্যার উপসর্গের কথা উঠে এসেছে। প্রিয়জনকে ভয়াবহভাবে হারানোর অভিজ্ঞতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং আর্থিক সংকট একসঙ্গে একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ আমাদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এই বিশেষ ধরনের মানসিক ও সামাজিক সংকটের জন্য আলাদা কোনো কাঠামো খুব একটা দৃশ্যমান নয়।

বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চল নিয়ে প্রকাশিত আরও কিছু গবেষণাতেও বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের সামাজিক বাস্তবতা উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, সামাজিক কুসংস্কার ও পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর কারণে তাঁদের জীবন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তবে একই সঙ্গে গবেষণাগুলো একটি আশাব্যঞ্জক দিকও দেখিয়েছে। যথাযথ সহযোগিতা, সংগঠিত উদ্যোগ এবং জীবিকার সুযোগ পেলে এসব নারী নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারেন। তাঁরা শুধু নিজেদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখেন না, অন্য নারীদেরও স্বনির্ভর হওয়ার পথ দেখান।

এই জায়গাটিই আমাদের নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। বাঘবিধবাদের কেবল অসহায় মানুষ হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। তাঁরা সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পরিবার ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রয়োজন তাঁদের সেই সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করা।

প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র এই নারীদের জন্য কী করছে। সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে জরুরি। রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বাঘ সংরক্ষণের মানবিক মূল্যও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। একটি বন ও তার বন্যপ্রাণী রক্ষার দায়িত্ব যেমন রাষ্ট্রের, তেমনি সেই বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রথম প্রয়োজন বাঘবিধবাদের একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা। তাঁদের প্রকৃত সংখ্যা, অবস্থান, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, সন্তানদের অবস্থা এবং জীবিকার ধরন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকলে কার্যকর নীতি প্রণয়ন কঠিন। বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে এ উদ্যোগ নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কুসংস্কার ও সামাজিক কলঙ্ক দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজকে এই কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। কারণ আইন বা সরকারি সহায়তা একা সামাজিক মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারে না।

তৃতীয়ত, বাঘবিধবাদের পুনর্বাসনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর্থিক সহায়তা তাঁদের জীবিকার সংকট কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু স্বামী হারানোর গভীর মানসিক আঘাত নিরসনে প্রয়োজন কাউন্সেলিং ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সহায়তা। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, বিকল্প জীবিকা ও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

সবচেয়ে বড় কথা, স্থানীয় পর্যায়ে ইতিমধ্যে যেসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বাঘবিধবাদের নিয়ে কাজ করছে, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। তাঁদের কার্যকর উদ্যোগগুলোকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বৃহত্তর পরিসরে নেওয়া গেলে এই নারীদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সুন্দরবন রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। কিন্তু সুন্দরবন রক্ষার অর্থ শুধু বন, নদী ও বাঘকে রক্ষা করা নয়। এই বনের সঙ্গে যাঁদের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে আছে, তাঁদেরও রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের জীবনকে করুণা নয়, অধিকার ও মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। বাঘবিধবা কোনো অভিশপ্ত পরিচয় নয়। এটি একটি ভয়াবহ মানবিক অভিজ্ঞতার ফল। তাঁদের প্রতি সমাজের সন্দেহ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা। অবহেলা নয়, প্রয়োজন সামাজিক নিরাপত্তা। সাময়িক সহায়তা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতার সুযোগ।

সুন্দরবনের বাঘ বাঁচুক, বন বাঁচুক। একই সঙ্গে সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষগুলোর জীবনও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হোক। প্রকৃতি সংরক্ষণ তখনই সত্যিকার অর্থে মানবিক হবে, যখন বন্যপ্রাণী রক্ষার সঙ্গে মানুষের জীবন ও অধিকারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Ads small one

পথের বিরোধে যুবককে মারধরের অভিযোগ থানায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
পথের বিরোধে যুবককে মারধরের অভিযোগ থানায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তা দখল ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক যুবককে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফিংড়ী ইউনিয়নের একটি চায়ের দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ ফিংড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জাহানারা খাতুনের (৬০) সঙ্গে তার দেওর মো. গোলাম রসুল গাজী (৫০) ও ভাতিজা মো. আসাদুল গাজীর (২৫) ভিটাবাড়ির জমি ও পারিবারিক চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর আগে রাস্তা সংস্কার করতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারকে একাধিকবার বাধা ও হুমকি দেওয়া হয়।
​রোববার আনুমানিক সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জাহানারা খাতুনের মেজো ছেলে মো. জাহাঙ্গীর গাজী (৩০) স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ১ নম্বর অভিযুক্ত আসাদুল গাজী হাতে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে তার শরীরে গুরুতর নীলাফোলা জখম হয়। জাহাঙ্গীর ডাক-চিৎকার শুরু করলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয় এবং ধারালো দা দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জুলফিকার কারিগরসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
​ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সালিস-বৈঠকের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে জমি দখল ও পুনরায় ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।
​আহত জাহাঙ্গীরকে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জাহানেরা খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বর্তমানে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষে আহত ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষে আহত ১

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর ভোরে জমিতে পাট শুকানোকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি রুহুল আমিনের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরায় শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিপজ্জনক আসক্তিতে পথ হারাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে উঠে এসেছে কিভাবে এই ভয়াল নেটওয়ার্ক জেলাজুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং অবৈধ মাদকের অবাধ প্রবাহের সুযোগে কেবল প্রাপ্তবয়স্করাই নন, কিশোরেরা পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়া ও মাদকের নীল চক্রে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনজীবনে; আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ।

মাদক ও অনলাইন জুয়া কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে না, তা একটি পুরো পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া করে সামাজিক কাঠামো ভেঙে দিচ্ছে। এসব অনৈতিক অভ্যাসের টাকা জোগাড় করতেই অপরাধের পথে নামছে আসক্ত যুবকেরা, যার ফলে সাধারণ মানুষকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। জেলাজুড়ে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া অপরাধপ্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এখনই কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।

এই সংকট নিরসনে সামাজিক ও প্রশাসনিক উভয় স্তরেই জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাদক সরবরাহকারী ও অনলাইন জুয়ার চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি এলাকায় শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গড়ে তোলা যেতে পারে, যা স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করবে।

তবে কেবল আইন প্রয়োগ করেই এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তরুণদের মেধা ও শক্তিকে সুস্থ ধারার শিক্ষা, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকা-ে যুক্ত করতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে বা ডিজিটাল মাধ্যমে কী করছেÑসে বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার হাত থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।