মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দরবনের বাঘ-বিধবা: কেমন আছেন তারা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনের বাঘ-বিধবা: কেমন আছেন তারা?

মো. মামুন হাসান

সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে এই বন বাংলাদেশের অনন্য সম্পদ। তবে সুন্দরবনের আরেকটি বাস্তবতা রয়েছে, যা এর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ালে অনেকটাই অদৃশ্য থেকে যায়। বন ও মানুষের সম্পর্ক এখানে সব সময় সহাবস্থানের নয়। জীবিকার প্রয়োজনে বনে যাওয়া মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কখনো কখনো কেড়ে নেয় একটি পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে। আর সেই মৃত্যুর পর যে নারীরা স্বামীহারা হয়ে সন্তান ও পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে নামেন, স্থানীয় সমাজে তাঁদের পরিচয় হয় বাঘবিধবা হিসেবে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরার মতো সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এমন নারীর সংখ্যা কম নয়। তাঁদের জীবন কেবল স্বামী হারানোর বেদনায় থেমে থাকে না। শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক অবজ্ঞা, কুসংস্কার এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই নারীদের জীবনসংগ্রাম জাতীয় পর্যায়ের নীতি ও গণমাধ্যমের আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

সম্প্রতি নেচার গ্রুপের হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা সুন্দরবনের বাঘবিধবাদের এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা এলাকায় পরিচালিত গবেষণায় বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের সামাজিক অবস্থান, কুসংস্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক যন্ত্রণা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, বাঘবিধবাদের জীবিকা সংগ্রাম কেবল অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কলঙ্ক।

এই কলঙ্কের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের লোকবিশ্বাস। সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বাঘের আক্রমণকে কখনো কখনো অতীতের পাপের শাস্তি কিংবা অলৌকিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এমন বিশ্বাসের কারণে স্বামী হারানো নারীদেরও অনেক সময় দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাঁদের জীবনের স্বাভাবিক আচরণ পর্যন্ত সামাজিক সন্দেহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে একজন নারী স্বামী হারানোর পর যে শোক, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যান, তার সঙ্গে যুক্ত হয় সমাজের তৈরি আরেকটি অদৃশ্য দেয়াল।

এখানেই সংকটটি আরও গভীর। একজন বনজীবী যখন বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান, তখন কেবল একটি জীবনই শেষ হয় না, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও ভেঙে পড়ে। স্বামী হারানো নারীকে একদিকে সন্তানদের দায়িত্ব নিতে হয়, অন্যদিকে জীবিকার নতুন পথ খুঁজে নিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের শিক্ষা, দক্ষতা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকে। ফলে স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁদের সামনে যে জীবন তৈরি হয়, সেটি এক দীর্ঘ অনিশ্চয়তার জীবন।

এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত হয় মানসিক আঘাত। গবেষণায় বাঘবিধবাদের মধ্যে গভীর শোক, বিষণ্নতা এবং পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেসের মতো মানসিক সমস্যার উপসর্গের কথা উঠে এসেছে। প্রিয়জনকে ভয়াবহভাবে হারানোর অভিজ্ঞতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং আর্থিক সংকট একসঙ্গে একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ আমাদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এই বিশেষ ধরনের মানসিক ও সামাজিক সংকটের জন্য আলাদা কোনো কাঠামো খুব একটা দৃশ্যমান নয়।

বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চল নিয়ে প্রকাশিত আরও কিছু গবেষণাতেও বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের সামাজিক বাস্তবতা উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, সামাজিক কুসংস্কার ও পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর কারণে তাঁদের জীবন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তবে একই সঙ্গে গবেষণাগুলো একটি আশাব্যঞ্জক দিকও দেখিয়েছে। যথাযথ সহযোগিতা, সংগঠিত উদ্যোগ এবং জীবিকার সুযোগ পেলে এসব নারী নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারেন। তাঁরা শুধু নিজেদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখেন না, অন্য নারীদেরও স্বনির্ভর হওয়ার পথ দেখান।

এই জায়গাটিই আমাদের নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। বাঘবিধবাদের কেবল অসহায় মানুষ হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। তাঁরা সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পরিবার ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রয়োজন তাঁদের সেই সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করা।

প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র এই নারীদের জন্য কী করছে। সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে জরুরি। রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বাঘ সংরক্ষণের মানবিক মূল্যও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। একটি বন ও তার বন্যপ্রাণী রক্ষার দায়িত্ব যেমন রাষ্ট্রের, তেমনি সেই বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রথম প্রয়োজন বাঘবিধবাদের একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা। তাঁদের প্রকৃত সংখ্যা, অবস্থান, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, সন্তানদের অবস্থা এবং জীবিকার ধরন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকলে কার্যকর নীতি প্রণয়ন কঠিন। বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে এ উদ্যোগ নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কুসংস্কার ও সামাজিক কলঙ্ক দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজকে এই কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। কারণ আইন বা সরকারি সহায়তা একা সামাজিক মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারে না।

তৃতীয়ত, বাঘবিধবাদের পুনর্বাসনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর্থিক সহায়তা তাঁদের জীবিকার সংকট কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু স্বামী হারানোর গভীর মানসিক আঘাত নিরসনে প্রয়োজন কাউন্সেলিং ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সহায়তা। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, বিকল্প জীবিকা ও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

সবচেয়ে বড় কথা, স্থানীয় পর্যায়ে ইতিমধ্যে যেসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বাঘবিধবাদের নিয়ে কাজ করছে, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। তাঁদের কার্যকর উদ্যোগগুলোকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বৃহত্তর পরিসরে নেওয়া গেলে এই নারীদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সুন্দরবন রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। কিন্তু সুন্দরবন রক্ষার অর্থ শুধু বন, নদী ও বাঘকে রক্ষা করা নয়। এই বনের সঙ্গে যাঁদের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে আছে, তাঁদেরও রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের জীবনকে করুণা নয়, অধিকার ও মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। বাঘবিধবা কোনো অভিশপ্ত পরিচয় নয়। এটি একটি ভয়াবহ মানবিক অভিজ্ঞতার ফল। তাঁদের প্রতি সমাজের সন্দেহ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা। অবহেলা নয়, প্রয়োজন সামাজিক নিরাপত্তা। সাময়িক সহায়তা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতার সুযোগ।

সুন্দরবনের বাঘ বাঁচুক, বন বাঁচুক। একই সঙ্গে সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষগুলোর জীবনও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হোক। প্রকৃতি সংরক্ষণ তখনই সত্যিকার অর্থে মানবিক হবে, যখন বন্যপ্রাণী রক্ষার সঙ্গে মানুষের জীবন ও অধিকারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Ads small one

রহস্যে ঘেরা সিডিগুলোতেই কি সাগর-রুনি হত্যার ক্লু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
রহস্যে ঘেরা সিডিগুলোতেই কি সাগর-রুনি হত্যার ক্লু

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রায় ৩০০টি সিডি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিজিটাল আলামতগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে এই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য— এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে।

আলোচিত ওই হত্যা ঘটনার পেছনের কারণ এবং দোষীদের খুঁজতে অধস্তন আদালতে শতাধিকবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে সময় নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যার কারণে মামলাটির তদন্তে গতি আনতে বিচারপ্রার্থীদের হয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলাটি হাইকোর্টে শুনানিতে ওঠে।

মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনিরের মন্তব্যে প্রতীয়মান হয়, সিডিগুলো ঘিরে তদন্তে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও রহস্যের জট এখনো খোলেনি। প্রায় ৩০০টি সিডির মধ্যে ৯০টির মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। বাকি ২১০টির পর্যালোচনা চলছে।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাড়িতে তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া প্রায় ৩০০টি সিডিতে অডিও, ভিডিও, কথোপকথন ও অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন উপাত্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে ৯০টি সিডি মূল্যায়ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট সিডিগুলো পরীক্ষা করে তথ্য যাচাই করতে আরও সময় প্রয়োজন।

অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে থাকা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরদের কাছে লিখিতভাবে তথ্য-প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া গেলেই তদন্ত শেষ হয়ে যায় না। ফৌজদারি তদন্তের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করে সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুনানি শেষে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপক্ষ তদন্তের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে আদালতের কাছে আরও একবছর সময় চেয়েছিল। তবে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার তদন্ত শেষ করতে এত দীর্ঘ সময় দেওয়ার বিরোধিতা করেছে বাদীপক্ষ। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন।

শিশির মনির আরও জানান, রাষ্ট্রপক্ষ যে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে, তার বড় অংশই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে কিছু আলামত, সিডি ও দুজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাই এখনো বাকি। আগামী ২৯ এপ্রিল টাস্কফোর্সের প্রধান, সিডি পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে অগ্রগতি জানাবেন।

হাইকোর্টে উপস্থাপিত তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

হাইকোর্টে টাস্কফোর্সের সচিব ও তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক অগ্রগতি প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তথ্যের স্বাধীন যাচাই-বাছাই এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা নির্ধারণের কাজ এখনো বাকি।

‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সাগরকে বাঁধার জন্য ব্যবহৃত চাদর এবং রুনির টি-শার্ট থেকে পাওয়া নমুনা পরীক্ষায় দুটি অপরিচিত পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। এসব অজ্ঞাত অপরাধীকে শনাক্ত করতে ডিএনএ প্রস্তুতকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ল্যাব সম্ভাব্য প্রচেষ্টা চালিয়েও ছবি প্রস্তুত করতে পারেনি। কারণ হিসেবে ডিএনএর অধিক মিশ্রণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে পাওয়া সন্দেহভাজন সব ব্যক্তি ও আসামির ডিএনএর সঙ্গে ওই অজ্ঞাত ডিএনএ মেলে কি না,তা পরীক্ষা করা হয়।

তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে বলা হয়েছে, মামলাটি তদন্তকালে আগের তদন্তকারী কর্মকর্তারা মোট ১৬৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। টাস্কফোর্স তদন্তকালে ৯০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২৪ জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে। এ ছাড়া ভিসেরা রিপোর্ট পর্যালোচনায় চেতনানাশক পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মামলার আলামত ও ২৫ জন ব্যক্তির সোয়াব সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এবং নেদারল্যান্ডসের একটি ল্যাবে পাঠানো হয়। আলামত থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে পাঠানো ব্যক্তিদের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি। ওই প্রতিবেদনে পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনাস্থলে মোট চারজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। তিনজন পুরুষের মধ্যে একজন ভুক্তভোগী সাগর এবং নারীটি রুনি বলে শনাক্ত হন। বাকি দুই অজ্ঞাত পুরুষের পরিচয় উদ্ঘাটন করা যায়নি। তাদের ডিএনএ থেকে ছবি তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছবি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে নমুনা পাঠানো হয়। কিন্তু ডিএনএতে অধিক মিশ্রণের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ছবি প্রস্তুত করতে পারেনি। দীর্ঘ তদন্তেও ওই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং কারা এতে জড়িত, তা আজ অবধি নির্দিষ্ট করা যায়নি।

প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে, পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের কারণে একজনকে হত্যার পর অপরজন আত্মহত্যা করেছেন— এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। পেশাগত কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন এ দম্পতি দেশের বাইরে জার্মানিতে ছিলেন। মৃত্যুর সাত মাস আগে তারা দেশে আসেন। সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙা টিভির সহকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পেশাগত দিক থেকে তার কোনো শত্রুতা বা বিরোধের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্ট ২০১৫ সালে কার্যক্রম শুরু করে। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। সাগর-রুনির মৃত্যুর পর নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সামিট গ্রুপের সঙ্গে তাদের হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। অর্থ ও জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তদন্তকালে এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন বা ধারকর্জের তথ্যও পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারও সঙ্গে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ ছিল না। দাম্পত্য কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

ভবনের নিরাপত্তারক্ষী সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ মামলার ঘটনাস্থলের ভবনের নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে র‍্যাব সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করে। তিনি এখনো কারাগারে আছেন। আদালতের নির্দেশে কাশিমপুর কারাগারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তার মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায় এবং তিনি ঠিকমতো উত্তর দিতে না পারায় আদালতের অনুমতি নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। একইসঙ্গে একজন আইনজীবী তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে আদালত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে— আসামিকে পরীক্ষা করে আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়েছে, এ মামলায় লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন সেট ও দুটি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাগর-রুনি হত্যা মামলার মিডিয়া মুখপাত্র ও সাবেক ডিএমপি-ডিবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লিখিত ব্যক্তিদের তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে।

নতুন তথ্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এক বক্তব্যে বলেন, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় দুদক অভিযান চালায়। সেখানে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত জব্দ করে দুদক। এসব আলামতের মধ্যে বিভিন্ন জিও-লোকেশন, এসএমএস ও সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন ছিল। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জিয়াউল আহসানের সহকারী এক সেনাসদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই প্রসিকিউটর প্রাথমিক তদন্তে জিয়াউল আহসান এবং একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানান। এ বক্তব্য সমর্থন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন।

পরে টাস্কফোর্সের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর ও প্রসিকিউটরের আলোচনাকালে তারা জানান, প্রাথমিকভাবে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্য পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও তারা জানান। এ অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর তাদের কাছে সংরক্ষিত মামলার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য-উপাত্ত তদন্তের জন্য হস্তান্তর করতে আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মামলাটির মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত তদন্ত করে যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে শুনানি শেষে হাইকোর্ট উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্তের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে টাস্কফোর্সের প্রধানকে তদন্তের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানভীর হাসান জোহাকে আদালতে উপস্থিত হয়ে নতুন তথ্য ও ক্লু সম্পর্কে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় আদালত তাদের বক্তব্য ক্যামেরা ট্রায়ালের (রুদ্ধদ্বার) মাধ্যমে শুনবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এর আগে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রুনির ভাই নওশের আলী রোমান ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং ২০১২ সালের এপ্রিলে র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‍্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন।

এরপর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কিন্তু নির্ধারিত তারিখে উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় সেদিন এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও তিন দফায় ছয় মাস করে সময় দেওয়া হয়।

শিশুদের সুরক্ষায় সংঘাত বন্ধের আহ্বান চীনের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
শিশুদের সুরক্ষায় সংঘাত বন্ধের আহ্বান চীনের

শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে সরাসরি ও কার্যকর উপায় হলো সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ করা। বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন।

সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং।

তিনি বলেন, সংঘাতের সব পক্ষকে জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতি মেনে চলতে হবে, শত্রুতা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব কঠোরভাবে পালন করতে হবে। একই সঙ্গে শিশু ও বিদ্যালয়সহ বেসামরিক মানুষ এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ফু ছোং বলেন, সব পক্ষের উচিত অভিন্ন, সার্বিক, সহযোগিতামূলক ও টেকসই নিরাপত্তার ধারণা অনুসরণ করা। সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোর সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সংঘাতকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং সেখানে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এর মাধ্যমে শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও মানসিক সেবা যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

শিশুদের সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন চীনা প্রতিনিধি।

ফু ছোং উল্লেখ করেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, হাইতি ও অন্যান্য অঞ্চলের শিশুরা সংঘাত ও সহিংসতার সম্মুখসারিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা গুরুতর অধিকার লঙ্ঘন ও নানা হুমকির শিকার হচ্ছে। শিশুদের বিরুদ্ধে নির্বিচার নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগকে সমর্থন করে চীন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ভেনেসা ফ্রেজিয়ারের দায়িত্ব পালনের প্রতিও সমর্থন জানান তিনি। পাশাপাশি এ বিষয়ে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) সশস্ত্র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য প্রথম বিশেষ দূত হিসেবে জাইনাবা জাগনের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। সংঘাতকবলিত দেশগুলোর শিশু সুরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দেশটি।

সূত্র: সিএমজি

শ্রীলঙ্কার কাছে পাকিস্তানের হারে ইংল্যান্ডের বিদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কার কাছে পাকিস্তানের হারে ইংল্যান্ডের বিদায়

সমীকরণ ছিল এমন- পাকিস্তানের কাছে শ্রীলঙ্কার হারই ছিল ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার শেষ ভরসা। কিন্তু লাহোরে মঙ্গলবার স্বাগতিকদের অসহায় আত্মসমর্পণে সেই আশাও শেষ হয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কার কাছে পাকিস্তানের ৮ উইকেটের হারে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছে ইংল্যান্ড।

তিন ম্যাচেই হেরেছে হ্যারি ব্রুকের দল। তাই আজ যদি শ্রীলঙ্কাকে পাকিস্তান হারিয়ে দিতো, তাহলে ইংল্যান্ডের সামনে সুযোগ ছিল বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শনিবারের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার।

কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৫.৩ ওভারে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়ে গেছে পাকিস্তান। জবাবে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৮.১ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি এখন নিয়মরক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে বোলিংয়ে শনিবারের ফাইনালের আগে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাঁহাতি পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা ৩৪ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। তার বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন বাবর আজম। ২৪ রানে দুটি নেন সাহান আরাচ্চিগে।

জবাবে উদ্বোধনী ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিসের অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসে দ্রুত জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। ৬০ বলে ৬২ রান করে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। পাভান রত্নায়েকে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন।