মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই

ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এবং কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স মারা গেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বার্বাডোজে নিজের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

অনেকের মতেই ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয় সোবার্সকে। টেস্ট ব্যাটার হিসেবে অনন্য সোবার্স বাঁহাতি পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি অর্থোডক্স এবং রিস্ট স্পিন উভয় ধরনের বোলিংয়েই পারদর্শী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন এক অসাধারণ ফিল্ডার এবং ক্লোজ ইন ক্যাচার। তার এই বহুমুখী গুণের কারণেই সর্বকালের আরেক সেরা ক্রিকেটার স্যার ডোনাল্ড ব্রাডম্যান তাকে ফাইভ-ইন-ওয়ান ক্রিকেটার হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন সোবার্স। ৫৭.৭৮ গড়ে তিনি রান করেছেন ৮,০৩২ এবং ৩৪.০৩ গড়ে নিয়েছেন ২৩৫টি উইকেট। বিশ্ব ক্রিকেটে তার এই অনন্য অবদানকে সম্মান জানিয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব সংস্করণে বছরের সেরা পারফরমারকে আইসিসির যে প্রধান বার্ষিক পুরস্কার দেওয়া হয়, তার নামকরণ করা হয়েছে ‘র গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি।

সোবার্সের প্রয়াণে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছে, একটি মহান ইনিংসের সমাপ্তি ঘটলো। আমাদের হৃদয়ে এখন এবং চিরকাল থাকবেন স্যার গারফিল্ড সোবার্স। তবে বিবৃতিতে তার মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

ষোলো বছর বয়সে শুরু, অতঃপর বিশ্ব রেকর্ড

১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে সফরকারী ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি দলের প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করতে বাধ্য করেছিলেন। এর এক বছর পর জ্যামাইকাতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার টেস্ট অভিষেক হয়। ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি ১৪ ও ২৬ রান করেন এবং ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানে ৪ উইকেট নেন।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের টেস্টগুলো তিনি মূলত বোলার হিসেবে খেলেছিলেন। তবে ২৩ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পান এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাবিনা পার্কে ১৯৫৮ সালে ৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে লেন হাটনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট স্কোরের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দেন। এই রেকর্ডটি ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ ছিল, যা পরবর্তীতে ব্রায়ান লারা ভেঙে দেন। সোবার্স নিজে মাঠে উপস্থিত থেকে লারার সেই কীর্তি প্রত্যক্ষ ও উদযাপন করেছিলেন।

সেই রেকর্ড গড়া ইনিংসের এক দশক পর, নটিংহামশায়ারের হয়ে খেলার সময় গ্ল্যামারগনের ম্যালকম ন্যাশের এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মেরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম এই কীর্তি গড়েন সোবার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বার্বাডোজ, নটিংহামশায়ার এবং সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার প্রথম শ্রেণির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৩৮৩টি ম্যাচ খেলে ৫৪.৮৭ গড়ে ২৮,৩১৪ রান করেছেন এবং ২৭.৭৪ গড়ে ১,০৪৩টি উইকেট নিয়েছেন।

সোবার্স ৯৫টি লিস্ট এ ম্যাচ খেললেও ওডিআই বা ওয়ানডে ক্রিকেটের সূচনালগ্নে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে চলে এসেছিল। ফলে তিনি মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন, ১৯৭৩ সালে হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ক্রিকেটে অনন্য সেবার জন্য ১৯৭৫ সালে তাকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর ২০০০ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালম্যানাক তাকে ব্রাডম্যান, স্যার জ্যাক হবস, স্যার ভিভ রিচার্ডস এবং শেন ওয়ার্নের পাশাপাশি ‘শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের’ একজন হিসেবে নির্বাচিত করে।

ছয় আঙুল নিয়ে জন্ম ও ক্যারিবীয়দের স্বপ্নসারথি

১৯৩৬ সালে বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া সোবার্স ছিলেন মা-বাবার ছয় সন্তানের মধ্যে পঞ্চম। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার বণিক-নাবিক বাবা মারা যাওয়ার পর মূলত তার মায়ের কাছেই তিনি বড় হন। জন্মের সময় দুই হাতেই তার ছয়টি করে আঙুল ছিল, তবে শৈশবেই অতিরিক্ত আঙুল দুটি অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা হয়। তিনি বাস্কেটবল, ফুটবল এবং গলফসহ সব ধরনের খেলাধুলাতেই পারদর্শী ছিলেন।

ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ড. কিশোর শ্যালো সোবার্সকে ‘পৃথিবীর দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সোবার্সের পরিবার, বার্বাডোজ সরকার ও জনগণ এবং বিশ্বজুড়ে তার মৃত্যুতে শোকাহত সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

কিশোর শ্যালো আরও বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন একজন ব্যক্তির জীবন প্রজন্মের পর প্রজন্মের আশা, স্বপ্ন এবং পরিচয়ের সঙ্গে মিশে যায়। আজ ক্যারিবীয় অঞ্চল তেমনই একজন মানুষের প্রয়াণে শোকাহত… ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে তার দক্ষতা ছিল অতুলনীয়। তবে তার আসল তাৎপর্য বাউন্ডারি লাইনের সীমানা ছাড়িয়ে আরও উঁচুতে পৌঁছেছিল।’

তিনি আরও বলেন, তিনি এমন এক সময়ে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে উঠে এসেছিলেন যখন আমাদের অঞ্চলটি বিশ্বমঞ্চে নিজের কণ্ঠস্বর ও অবস্থান জানান দিচ্ছিলো। তার এই শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে তিনি আমাদের দ্বীপপুঞ্জের এবং প্রবাসী লাখ লাখ মানুষের মনে নতুন করে বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিলেন যে যেকোনও কিছুই সম্ভব। তিনি দেখিয়েছেন যে শ্রেষ্ঠত্ব কোনও দেশের আকার, দ্বীপের ভূগোল বা আমাদের শুরুর পরিস্থিতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্যার গারফিল্ড সোবার্স কেবল একজন ক্রীড়া আইকন ছিলেন না, তিনি ক্যারিবীয় শ্রেষ্ঠত্ব, স্থিতিস্থাপকতা এবং সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার অর্জন বার্বাডোজের জন্য গর্ব, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অনুপ্রেরণা এবং ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে প্রশংসা কুড়িয়ে এনেছিলো।

সূত্র: ক্রিকইনফো

Ads small one

আব্দুর রউফকে ভোমরা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ও পরিবহন ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
আব্দুর রউফকে ভোমরা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ও পরিবহন ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির শুভেচ্ছা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় আব্দুর রউফকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ভোমরা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ভোমরা স্থলবন্দর ট্রান্সপোর্ট মালিক সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে আলহাজ্ব আব্দুর রউফের নিজস্ব বাসভবনে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সংগঠন দুটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা আলহাজ্ব আব্দুর রউফকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তাঁর নতুন দায়িত্বে সফলতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোমরা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং-১৭২২/০৩-এর সভাপতি আব্দুস সাত্তার জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। এছাড়া ভোমরা বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং-১৯৬৪/০৯-এর সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোমরা স্থলবন্দর ট্রান্সপোর্ট মালিক সমবায় সমিতি লিঃ ৮৬/৭-এর সভাপতি মো. লুৎফার রহমান মন্টু, সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রসূল, দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ হোসেন খোকন, কার্যকরী সদস্য কামরুজ্জামানসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

 

 

 

দেবহাটায় স্থানীয় পর্যায়ে যুব ও শিশু ফোরামের বার্ষিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় স্থানীয় পর্যায়ে যুব ও শিশু ফোরামের বার্ষিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: “মাদক নয়, তোমার মেধা হোক তোমার পরিচয়”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটায় স্থানীয় পর্যায়ে যুব ও শিশু ফোরামের বার্ষিক সমাবেশ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় উপজেলার খেজুরবাড়িয়া পলিটেকনিক ইছামতি বিএম কলেজের মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দেবহাটা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আহমেদ তাহমির সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু। ন্যাশনাল চাইল্ড ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট অনামিকা পাড়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, সুশীলনের উপপরিচালক জিএম মনিরুজ্জামান, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এরিয়া ম্যানেজার মিল্টন সিংহ, সুশীলনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মামুন হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাজান আলী, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কাজল এবং সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার আসাদুজ্জামান রিপন।
এসময় সুশীলনের অন্যান্য কর্মকর্তা, দেবহাটা উপজেলার চারটি ইউনিয়ন থেকে আগত শিশু ফোরামের ১০০ সদস্য ও যুব ফোরামের ১০০ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব ও শিশুদের দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের কুফল সম্পর্কে শিশু-কিশোর ও তরুণদের সচেতন করে তুলতে সামাজিকভাবে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তারা একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া ও মোবাইল ফোনের অপব্যবহার থেকে শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার যেমন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে, তেমনি এর অপব্যবহার তাদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

সমাবেশে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। নিজেদের বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি অন্যদেরও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতন ও উৎসাহিত করতে হবে। শিশু ও যুবকদের নেতৃত্বে সমাজ থেকে মাদক, বাল্যবিবাহ, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

 

কেশবপুরে জমি দখলে নিতে প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি দখলে নিতে প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মাটিতে কেশবপুরে বিরোধপূর্ণ জমি দখলে নিতে প্রতিপক্ষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফতেপুর গ্রামের ফজর আলী শেখের ছেলে গোলাম রসুলের পৈতৃক সুত্রে পাওয়া ২০ শতক জমির হিস্যা অনুযায়ী ১০.৫০ শতক জমি ভোগ দখল করে আসছিলেন। বাকি অংশ একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান ও আক্তারুল ইসলাম ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি মনিরুল ইসলাম গং সম্পূর্ণ জমির মালিকানা দাবি করে আসছে। এনিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

 

প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার গোলাম রসুল তার জমিতে রোপনকৃত ফসলের পরিচর্যা করতে আসলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা মনিরুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান ও আক্তারুল ইসলামসহ একদল সন্ত্রাসী হাতে চাইনিজ কুড়াল, হাতুড়ি, লোহার রড, বেকিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গোলাম রসুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে রক্তাত্ত জখম করে।

 

খবর পেয়ে ঠেকাতে আসলে গোলাম রসুলের পিতা ফজর আলী শেখ, চাচাতো ভাই আবুল কাশেম ও হাসান শেখ এবং চাচাতো ভাবি রেহেনা বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এলাকাবাসী গুরুতর আহত ফজর আলী, আবুল কাশেম, রেহেনা ও নাছিমা খাতুনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।