মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ক্লাসরুম ছাড়িয়ে খুদে বিজ্ঞানীদের চোখ এবার ‘স্মার্ট কৃষি’তে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
ক্লাসরুম ছাড়িয়ে খুদে বিজ্ঞানীদের চোখ এবার ‘স্মার্ট কৃষি’তে

স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা শুরু কাল

পত্রদূত রিপোর্ট: সেদ্ধ চালের গন্ধ, মাটির সোঁদা সুবাস আর ল্যাবরেটরির টেস্টটিউবÑসব মিলিয়ে ক্লাসরুমের চেনা গ-ি পেরিয়ে একদল কিশোর এখন বুঁদ হয়ে আছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন টিফিনের আড্ডায় কিংবা ছুটির পরের অলস সময়েও চলছে তুমুল আলোচনা।

 

উদ্দেশ্য একটাইÑকেমন হবে ভবিষ্যতের ‘স্মার্ট কৃষি’? কীভাবে রাসায়নিক ছাড়া দীর্ঘদিন ভালো রাখা যাবে আমাদের ঘরের খাবার? অনেকেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে করা যায়? কীভাবে রোবটের সাহায্যে দ্রুত পণ্য সরবরাহ করা যায়? কীভাবে যুদ্ধ হানাহানি বন্ধ করে শান্তি স্থাপন করা যায়? কীভাবে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট থেকে পৃথিবীকে বাঁচানো যায়-এসব নানা আবিস্কারের নেশায় এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ক্ষদে শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে সাতক্ষীরায় আয়োজন হতে যাচ্ছে “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং” প্রতিযোগিতা। আর এই মেধা অন্বেষণের মঞ্চে নিজেদের সেরা উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হতে দিন-রাত এক করে খাটছে বিভিন্ন স্কুলের একঝাঁক খুদে বিজ্ঞানী।

সাতক্ষীরা শহরের একটি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারে গিয়ে দেখা যায়, টেবিলজুড়ে ছড়ানো নানা রকম প্রজেক্টের নকশা। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তৌসিফ মোস্তফা তাওসিফ, নবম শ্রেণীর আশেকুর রহমান আর অষ্টম শ্রেণীর খুদে সদস্য সাফওয়ান সিদ্দিকী বিনÑতিনজনের চোখেই নতুন কিছু করার দারুণ উত্তেজনা। তাদের এই স্বপ্নের পেছনে বাতিঘর হিসেবে কাজ করছেন বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকÑমোহা. হুমায়ুন কবির এবং ইমরান হোসেন।

সাতক্ষীরার খুদে বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্যÑ”স্মার্ট কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ”। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে কৃষকের শ্রম কমানো যায় এবং উৎপাদিত ফসল নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যায়, তারই একটি দুর্দান্ত মডেল তৈরি করেছে এই তিন শিক্ষার্থী।

দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তৌসিফ মোস্তফা বলে, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি, যা সাধারণ কৃষকদের একদম সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা দেবে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, “পারফরমেন্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশন স্কিম”-এর আওতায় আগামী ১২জুন সকাল ৯টা থেকে স্থানীয় নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এই বিজ্ঞান মেলা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, মেলা প্রাঙ্গণে স্টল পরিদর্শনের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন বিজ্ঞান শিক্ষকের নেতৃত্বে ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রজেক্টের যাবতীয় বিবরণী ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে দ্য পোল-স্টার পৌর হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে স্কুলের দাপ্তরিক নথির চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের মেধার এই উন্মেষ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা কেবল একটি পুরস্কার জেতার লড়াই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভেতরের সুপ্ত মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগিয়ে তোলার মোক্ষম হাতিয়ার। আজকের এই ছোট ছোট আইডিয়াগুলোই হয়তো আগামী দিনের বাংলাদেশের কৃষি খাতের চেহারা বদলে দেবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এই প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবন দিয়ে বিচারকদের মন জয় করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে নিজেরা নতুন কিছু তৈরি করতে পারার যে আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস এই কিশোরদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে, সেটাই এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর দৈনিক পত্রদূতকে বলেনÑ সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় শুক্রবার (১২ জুন) শুরু হচ্ছে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা। সাতক্ষীরা শহরের নবারুণ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সদর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রতিযোগিতার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১৮টি স্টল প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষি বিভাগের ৪জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রজেক্ট পর্যবেক্ষণ করবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

পত্রদূত ডেস্ক: গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, বিদ্যমান আইনি দুর্বলতা ও বাস্তবায়নের অভাবে শিশু গৃহকর্মীরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ঝুঁকি এড়াতে শিশুশ্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা জরুরি। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) এই সংলাপের আয়োজন করে।
এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তফাদার। তিনি জানান, গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠনের কাজ চলছে এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, শ্রম আইন, শিশু আইন কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থাকলেও তা শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর প্রয়োগ হচ্ছে না। তাই এদের সুরক্ষায় আলাদা বিশেষ আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে এএসডির প্রকল্প কর্মকর্তা গুল-ই জান্নাত জেনীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, আইএলও বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম, এডুকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক আফজাল কবির খান এবং লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ।

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়াল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়াল

এম শফিকুল ইসলাম: টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কয়েক গুণ বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে নতুন কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজিতে, আর পুরনো কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ৩২০ টাকায়। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কয়েক দিন আগেও নতুন মরিচের দাম ছিল ২০০ টাকা।
বড়বাজার ও টাউন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, টানা দুই সপ্তাহের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে কাঁচা মরিচগাছের পাতা ও গোড়া পচে গেছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত গরম যুক্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাপক ব্যাহত হয়েছে। কৃষকেরা বাজারজাত করার মতো পর্যাপ্ত মরিচ পাচ্ছেন না।
কৃষক মোহাম্মাদ আলী বলেন, জেলায় কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে মৎস্যঘের বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজি চাষের জমি কমে গেছে। উঁচু জমিতে যেটুকু চাষ হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় খুব কম।
এদিকে আমদানিকারক গণেশ ঘোষ জানান, স্থানীয় উৎপাদনে জেলার চাহিদা মেটে না। কাঁচা মরিচের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে ভারত থেকে আমদানির অনুমতি (আইপি) প্রয়োজন। অনুমতি মিললেই আমদানিকারকেরা ঋণপত্র (এলসি) খুলে মরিচ আমদানি শুরু করবেন।