সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

খোলা কলাম/ শেষ চিরকুটে স্তব্ধ মরিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
খোলা কলাম/ শেষ চিরকুটে স্তব্ধ মরিয়ম

মোহাম্মদ মুজাহিদ

কিছু মৃত্যু মানুষকে কাঁদায়, কিছু মৃত্যু মানুষকে ভাবায়। আবার কিছু মৃত্যু এমন কিছু প্রশ্ন রেখে যায়, যার উত্তর খুঁজতে গিয়ে সমাজের আয়নায় নিজেদেরও একবার দেখে নিতে হয়। রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ১৯ বছরের মরিয়ম খাতুনের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনা তেমনই এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত এই তরুণীর মৃত্যু এরই মধ্যে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মরিয়মের কক্ষ থেকে একাধিক হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব লেখায় ভালোবাসা, বিশ্বাসভঙ্গ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানসিক যন্ত্রণার কথা উঠে আসার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো একজন ১৯ বছরের তরুণী কী এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন, যার শেষ প্রান্তে গিয়ে তাঁর জীবন থেমে গেল? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনো একটি চিরকুটে নেই। হয়তো আছে বহু দিনের জমে থাকা অভিমান, না-বলা কথা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, একাকিত্ব কিংবা এমন কোনো বাস্তবতায় যা এখনো পুরোপুরি আমাদের সামনে আসেনি। মৃত্যুর আগে মানুষ কী লিখে যায়, সেটি কখনো কখনো তাঁর ভেতরের অদৃশ্য পৃথিবীর দরজা খুলে দেয়। কিন্তু একটি চিরকুটকে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত সত্য ধরে নেওয়াও বিপজ্জনক। কারণ একটি লেখা হয়তো কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তের আবেগ। তার পেছনে থাকতে পারে দীর্ঘদিনের ঘটনা। থাকতে পারে এমন কিছু সম্পর্ক, কথোপকথন কিংবা পরিস্থিতি, যার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

 

মরিয়মের চিরকুট নিয়ে মানুষের আগ্রহ স্বাভাবিক। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো চিরকুটের প্রতিটি শব্দের সত্যতা যাচাই করা, হাতের লেখা ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করা, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করা।কারণ মরিয়ম এখন কথা বলতে পারবেন না। তাঁর হয়ে কথা বলবে তাঁর লেখা, তদন্তের আলামত এবং সত্য উদঘাটনের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো। মরিয়মের লেখা বলে যেসব কথা গণমাধ্যমে এসেছে, সেখানে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের পাশাপাশি অভিমান ও কষ্টের কথাও আলোচনায় এসেছে। ভালোবাসার সম্পর্ক যখন একজন মানুষের কাছে আশ্রয় হয়ে ওঠে, তখন সেই সম্পর্কেই যদি কোনো কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তার অভিঘাতও গভীর হতে পারে। কিন্তু এখানে আবেগের চেয়েও বড় প্রশ্ন কী ঘটেছিল?সম্পর্কের ভেতরে কি কোনো বিরোধ ছিল?

 

মরিয়ম কি কোনো ধরনের চাপের মধ্যে ছিলেন? তিনি কি কারও কাছে নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন? মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিলেন? ঘটনার আগে তাঁর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছিলেন কি কেউ? চিরকুটগুলো কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে লেখা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া একটি তরুণীর মৃত্যুকে শুধু ব্যক্তিগত ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। গাজী নজরুল ইসলাম একজন সংসদ সদস্য। ফলে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই জনআলোচনায় আসবে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় যেন তদন্তের পথে প্রভাব না ফেলে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করা যেমন অনুচিত, তেমনি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অভিযোগকে উপেক্ষা করাও সমানভাবে অনুচিত। আইনের চোখে প্রত্যেকেই জবাবদিহির আওতায়। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা সেটি নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা সংবাদ শিরোনাম নয়। ইতোমধ্যে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা ও গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে মামলায় ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াতেই তার সত্যতা নির্ধারিত হবে। মরিয়মের বয়স মাত্র ১৯ এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি ভাবায়। মাত্র ১৯ বছর বয়স। এই বয়সে একজন তরুণীর সামনে থাকার কথা ভবিষ্যতের স্বপ্ন। পড়াশোনা, পরিবার, ভালোবাসা, নিজের পরিচয় তৈরি করা, জীবনের কত কিছুই তো তখনো বাকি থাকে। কিন্তু মরিয়মের জীবনের সেই সম্ভাবনাগুলো আজ থেমে গেছে।

 

তাঁর মৃত্যু নিয়ে আমরা হয়তো কয়েক দিন আলোচনা করব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হবে। নানা মত, নানা মন্তব্য, নানা ব্যাখ্যা আসবে। তারপর হয়তো নতুন কোনো ঘটনা এসে এই ঘটনাটিকে আড়াল করে দেবে। কিন্তু একটি পরিবারে শোক থেকে যাবে। একজন মায়ের বুক খালি থাকবে। একজন বাবার চোখে প্রশ্ন থাকবে। স্বজনদের মনে থেকে যাবে কেন? এই কেন এর উত্তরই সবচেয়ে জরুরি। শেষ চিরকুট কি সত্যিই শেষ কথা? মরিয়মের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও ভালোবাসার কথা, কোথাও অভিমান, কোথাও বিশ্বাসভঙ্গের বেদনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে গেলে চলবে না।

 

চিরকুটের বক্তব্যের ব্যাখ্যা আর মৃত্যুর আইনি কারণ এক বিষয় নয়। চিরকুটে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্তের সূত্র হতে পারে। নিজে থেকেই অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। আবার চিরকুটে কোনো ব্যক্তির নাম না থাকলেও সেটি তদন্তের বাইরে রাখা যায় না। তাই চিরকুটকে কেন্দ্র করে আবেগ নয় প্রমাণের ভিত্তিতে এগোতে হবে। মরিয়মের মৃত্যু আমাদের সমাজের জন্যও একটি আয়না। আমরা কি আমাদের প্রিয় মানুষটির নীরব কষ্ট বুঝতে পারি? একজন মানুষ যখন বারবার বলে আমি ভালো নেই, তখন আমরা কি সত্যিই শুনি? কেউ যখন অভিমান করে দূরে সরে যায়, তখন আমরা কি তাকে সময় দিই? কেউ যখন সম্পর্কের ভেতরে নিজেকে একা মনে করে, তখন তার পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ কি থাকে? নাকি আমরা তখনও ভাবি এগুলো পারিবারিক ব্যাপার, সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে?

 

অনেক সময় মানুষ মৃত্যুর আগে সরাসরি সাহায্য চায় না। তার আচরণ, কথাবার্তা, লেখা কিংবা নীরবতার মধ্যেই হয়তো সংকেত থাকে। সেই সংকেতগুলো বুঝতে না পারার দায় শুধু একটি পরিবারের নয় সমাজেরও। মরিয়মের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য, অভিযোগ ও ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কাউকে দায়ী করছেন, কেউ আবার পুরো ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কিন্তু আমরা যদি সত্যিই মরিয়মের প্রতি ন্যায়বিচার চাই, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত তথ্য ও অনুমানকে আলাদা করা। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তে আসুক। আলামত থাকলে তা পরীক্ষা করা হোক। চিরকুট থাকলে তার ফরেনসিক পরীক্ষা হোক।

 

সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা দেখা হোক। কললিস্ট ও যোগাযোগের তথ্য প্রয়োজন হলে যাচাই করা হোক। ঘটনার আগে ও পরে কারা কোথায় ছিলেন তা তদন্তে স্পষ্ট হোক। পরিবার, স্বজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হোক এবং সবশেষে যে সত্য বেরিয়ে আসে, সেটিই সামনে আসুক। আমাদের দেশে অনেক মৃত্যু সময়ের সঙ্গে সংবাদপত্রের পুরোনো পাতায় হারিয়ে যায়। কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে একটি গল্প থাকে। মরিয়মের গল্পও হয়তো কোনো একটি পরিবারের গল্প নয়। এটি হতে পারে সম্পর্কের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য, ভালোবাসার নামে প্রত্যাশা, মানসিক চাপ, সামাজিক অবস্থান, পারিবারিক জটিলতা এবং তরুণ প্রজন্মের একাকিত্ব নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার সুযোগ।

 

তবে এসব বিশ্লেষণের আগে একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি মরিয়মের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল? শেষ কথা মরিয়ম আজ নেই। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া চিরকুটগুলো যেন নীরবে প্রশ্ন করছে আমার সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর কোনো রাজনৈতিক স্লোগানে নেই। কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও নেই। কারও ব্যক্তিগত ধারণাতেও নেই। উত্তর আছে তদন্তে। উত্তর আছে প্রমাণে। উত্তর আছে সত্য উদঘাটনে।

 

মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে কারও বিরুদ্ধে আগেভাগে রায় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার কোনো প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে সত্য চাপা পড়ুক সেটিও কাম্য নয়। একজন ১৯ বছরের তরুণীর মৃত্যুর সত্য জানতে চাওয়া কোনো পক্ষ নেওয়া নয় এটি ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক দাবি। শেষ চিরকুটে যদি মরিয়মের কোনো আর্তনাদ থেকে থাকে, সেই আর্তনাদ যেন তদন্তের টেবিলে হারিয়ে না যায়। মরিয়ম আর কথা বলতে পারবেন না এখন তাঁর হয়ে কথা বলুক সত্য।

(এটা সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব মত)।

 

Ads small one

মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমার। ছবিটিতে দেখা যাবে দীপিকা পাড়ুকোনকেও। তবে মুক্তির এক বছর আগেই রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি।

‘রাকা’র নাম উঠেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। সর্বভারতীয় এই সিনেমার শুটিংয়ে একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীর মোশন-ক্যাপচার করা হয়েছে। আর এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সিনেমাটি জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

ছবির প্রযোজক সংস্থা সান পিকচার্স সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক্সে এই আপডেটটি শেয়ার করেছে।

ছবিতে পরিচালকের পাশে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সনদ হাতে দেখা যায় আল্লু অর্জুনকে। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইতিহাস তৈরি হলো। এক বিশ্বব্যাপী বিজয় যা ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গেল!’

অন্যদিকে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিসিয়াল সাইটে ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘বাস্তব সময়ে সর্বাধিক ৩৭ জন মানুষের গতিবিধি ধারণ করার রেকর্ডটি অর্জন করেছে সান টিভি নেটওয়ার্ক লিমিটেড এবং ভি. অরুণকুমার (ওরফে) অ্যাটলি (উভয়েই ভারত), আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমা।’

বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

বাংলাদেশে সোনার গহনা পরে চলাফেরা নিরাপদ মনে করেন না জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিশা।

তার কথায়, ‘সত্যি কথা বলতে, বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে।’

তিশা বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অনেক ঝামেলায় পড়ি, যেগুলো আমরা ডিজার্ভ করি না। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অন্যায় মনে হয়, ন্যায়বিচারও পাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যে কোনও পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার।’

টিভি নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে সিনেমাতেও নাম লেখালেন তিনি। শাকিব খানের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। ‘সোলজার’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন তারা।

বিয়ে না করা কি দেবের ভুল সিদ্ধান্ত? যা বললেন অভিনেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বিয়ে না করা কি দেবের ভুল সিদ্ধান্ত? যা বললেন অভিনেতা

বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই সাধারণত ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে খুব বেশি মুখ খুলতে দেখা যায় না টলিউড অভিনেতা দেবকে। তবে ‘দাদাগিরি’র বিশেষ পর্বে অভিনেতাকে কিছুটা অন্যরকম মেজাজে দেখা গেলো। পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং এখনও কেন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি; এসব কিছু নিয়েই সরাসরি কথা বলেছেন তিনি।

দেবকে প্রশ্ন করেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। উত্তরে দেব যেমন নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান, তেমনই অতীতের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপের কথাও স্বীকার করেন।

‘দাদাগিরি’র নতুন প্রোমোতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ এই পর্বে উপস্থিত রয়েছেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, শ্রীময়ী চট্টরাজ, অম্বরিশ ভট্টাচার্য-সহ আরও অনেকে। সেখানেই দেবকে প্রশ্ন করেন সুদীপা। তার বক্তব্য, ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হওয়ার পরেও এখনও বিয়ের পথে হাঁটেননি কেন? বিয়ে না করেই কি তিনি সত্যিই খুশি?

সুদীপার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন দেব। অভিনেতা বলেন, ‘আমি এমন কিছু বলতে চাই না, যেখানে আমার পার্টনারের অপমান হয়। বিয়ে করিনি বলে আমি খুশি নই, সেটাও তো নয়। বিয়ে করলেই মানুষ খুশি থাকবে, আর বিয়ে না করলে খুশি থাকবে না; এটা ঠিক নয়। সন্তান হলে তবেই মানুষ খুশি থাকবে, নিজের সন্তান না থাকলে খুশি থাকবে না; এটাও ভুল ধারণা। আমি এখনও খুশি।’

তবে এখানেই থামেননি দেব। নিজের জীবনের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তার মনে আক্ষেপ রয়েছে বলেও জানান অভিনেতা।

দেবের কথায়, ‘কিছু সিদ্ধান্ত আমার নেওয়া ঠিক হয়নি। কিছু সিদ্ধান্ত হয়তো আরও আগে নিতে পারতাম। কিছু সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো ভালো হতো। সেটা নিইনি বলে আক্ষেপ রয়েছে।’