বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রাক্কালে বুলেটে থেমে যায় ক্রিকেটার রিয়ানের স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রাক্কালে বুলেটে থেমে যায় ক্রিকেটার রিয়ানের স্বপ্ন

আরিফ মাহমুদ: নাসিব হাসান রিয়ান। প্রতিভাবান টগবগে যুবক। অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। রাজধানীর বিসিআইসি কলেজের একাদশ শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী। মুহুর্তেই পুলিশের বুলেটের ঝাঁঝরা বুক-মুখ। একটি স্বপ্নের পরিসমাপ্তি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রাক্কালে রাজধানী ঢাকায় শহীদ হন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব গোলাম রাজ্জাকের পুত্র নাসিফ হাসান রিয়ান। তাদের পৈত্রিক নিবাস সাতক্ষীরা শহরে।

 

পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় বোঝা হলো- পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। সেই বোঝার করুণ কাহিনী শুনে যে কেউ মর্মাহত হবে, চোখ ভিজে যাবে। সচিবালয়ের নিজের অফিসে সেই দিনপুঞ্জের ঘটনার কাহিনী শোনালেন এমনি এক হতভাগা অথচ গর্বিত পিতা গোলাম রাজ্জাক। ৩ ছেলের মধ্যে রিয়ান ছিলেন দ্বিতীয়।

জুলাই শহীদ রিয়ানের পিতা গোলাম রাজ্জাক জানান, উদীয়মান ক্রিকেটার হলেও পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিলো নাসিব হাসান রিয়ানের। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর শ্যামলীর রিং রোডে আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

তিঁনি আরো জানান, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও দেশীয় ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ২৭ লাখ টাকা উপার্জন করেছিলেন রিয়ান। সেই টাকা দিয়ে শখের একটি গাড়িও কিনেছিলো রিয়ান। সেই গাড়িতেই তার গুলিবিদ্ধ দেহ নিয়ে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো। হাসপাতালেও ছিলো ভীতিকর অবস্থা।

গোলাম রাজ্জাক বলেন, দেখতে দেখতে দুটি বছর কেটে গেলো, তবু যেনো সে সবসময় আমাদের মাঝেই আছে, আছে আমাদের অস্তিত্বে। মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও সুঠাম দেহ, ফর্সা আর মায়াবী চেহারার কারণে কাজী হায়াতের একটি চলচিত্রে রিয়ানের অভিনয়ের প্রস্তাবও ছিলো। তবে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া রিয়ানের স্বপ্ন ছিলো পাইলট হওয়া। টেলিভিশনে সে আগ্রহ নিয়ে উড্ডয়ন ও অবতরণের দৃশ্য দেখতো। পালন করতো পরিবারের বিভিন্ন দায়িত্বও। ছেলের মৃত্যুর পর পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। দুই বছর পরেও তাঁর পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।

স্বজনদের ভাষ্য, জুলাইয়ের আন্দোলনের পুরো সময়ই রিয়ান ঘটনাপ্রবাহের খোঁজখবর রাখতো। বিশেষ করে ১৮ জুলাই তার বন্ধু ফারহান ফাইয়াজ নিহত হওয়ার খবর তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পরিবারের সদস্যদের সে জানিয়েছিলো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নিজের নৈতিক দায়িত্ব।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর শ্যামলী, মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় মানুষের সমাগম শুরু হয়। তবে হায়েনাদের বিভৎসতা তখনো চলমান। পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করে রিয়ানও একটি বিজয় মিছিলে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হন। রিং রোড এলাকায় সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার বুকে, মুখে ও কাঁধে গুলি লাগে। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রিয়ান মারা যায়। সেদিন রাতেই শ্যামলী জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা কবরস্থানে তার নানার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

রিয়ানের মায়ের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে গোলাম রাজ্জাক বলেন, ছেলেকে হারানোর পর থেকে তার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের নিয়মিত ওষুধ ও ইনজেকশন গ্রহণের বিষয়টি দেখাশোনা করতেন রিয়ান। ছেলের মৃত্যুর পর তিনি স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে পারেননি।

রিয়ানের পিতা গোলাম রাজ্জাকের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরিবারের কোনো আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন নেই; সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার চান রিয়ানের বাবা। একই সাথে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

 

Ads small one

অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

মীর মোস্তফা আলী: প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চিংড়ি ঘেরের আইল ও পতিত জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে অসময়ের বা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ। সবজির পাশাপাশি এখন ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ। চলতি মৌসুমে জেলার ১০৮ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের সফল আবাদ হয়েছে।
উপকূলীয় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতেই এখন ঝুলছে মিষ্টি ও রসালো এই ফল। বিশেষ করে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলালিংক ও হলুদ তরমুজের ফলন বেশি হয়েছে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮ জন কৃষক বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথম এই হলুদ তরমুজের আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৬৫ দিনে ফলন আসায় অল্প খরচে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার কৃষক ইকবাল, শিপন ও হান্নান জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা ও জাল বাবদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এই ফল বিক্রি করে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা। অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় একই জমিতে বছরে দুইবার তরমুজ চাষ করা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেনের মতে, সাতক্ষীরার মাটি অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। চাকরির পেছনে না ঘুরে শিক্ষিত তরুণরা কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হলে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বড় অবদান রাখতে পারবেন।

বইয়ের বিকল্প কেবল বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বইয়ের বিকল্প কেবল বই

 

‎তারিক ইসলাম
‎সভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা এবং উৎকর্ষ সাধনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বাহন হলো বই। প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের অভূতপূর্ব বিপ্লবের যুগে আজ চারদিকে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে—ডিজিটাল স্ক্রিন, ই-বুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়েও কি বইয়ের আবেদন অপরিবর্তিত থাকবে? নাকি এর কোনো বিকল্প চলে এসেছে? গভীর ও সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে একটি সত্যই সামনে ভেসে ওঠে—তা হলো, বইয়ের বিকল্প কেবল আরেকটি বই-ই হতে পারে, অন্য কিছু নয়।
‎আজকের দিনে তথ্য প্রাপ্তির পথ অত্যন্ত সহজলভ্য। ইন্টারনেটের এক ক্লিকেই হাজারো তথ্য, নিবন্ধ ও সারসংক্ষেপ চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু তথ্য আর জ্ঞান এক জিনিস নয়। তথ্য আমাদের সাময়িক কৌতূহল মেটায় বা কাজের সুবিধা করে দেয়, আর জ্ঞান আমাদের ভেতরটাকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং জীবনদর্শনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানলাভের একমাত্র এবং প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের পাতায় পাতার সঙ্গে যখন একজন পাঠকের চোখ ও মনের সংযোগ ঘটে, তখন সেখানে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা শুরু হয়, যা কোনো টুকরো তথ্য বা ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষণস্থায়ী স্ক্রোলিংয়ে পাওয়া অসম্ভব।
‎বই পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর ও ইন্দ্রিয়গ্রাহী। কাগজের ঘ্রাণ, পাতা উল্টানোর শব্দ এবং একটি আস্ত কাহিনীর ভেতরে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি কেবল একটি বস্তুগত বইই দিতে পারে। এর বিপরীতে, ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেশি থাকে। নোটিফিকেশন, পপ-আপ বিজ্ঞাপন বা ইন্টারনেটের নানা প্রলোভন পাঠকের মনোযোগকে বারবার ছিন্ন করে। ফলে লেখকের মূল ভাবনার গভীরে পৌঁছানো বা তার সাথে মানসিক ঐক্য স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বই আমাদের এক ধরনের একাগ্রতা শেখায়, যা আজকের দ্রুতগতির বিক্ষিপ্ত যুগে বড় বেশি দুর্লভ।
‎অনেকে মনে করেন, ই-বুক বা অডিওবুক বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নিঃসন্দেহে এগুলো প্রযুক্তির চমৎকার উপহার এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু এগুলোকে বইয়ের পরিপূরক বলা চলে, বিকল্প নয়। অডিওবুক শোনার সময় আমাদের কল্পনাশক্তির ওপর শ্রোতা হিসেবে একধরনের সীমাবদ্বতা তৈরি হয়, কারণ কথক বা কণ্ঠশিল্পীর উচ্চারণের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। অথচ নিজে বই পড়ার সময় পাঠক নিজেই তার কল্পনার রঙে চরিত্র ও দৃশ্যপটকে জীবন্ত করে তোলেন। বই পড়ার এই সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি একান্তই পাঠকের নিজস্ব।
‎সবশেষে বলা যায়, সমাজ পরিবর্তনশীল, প্রযুক্তির রূপ বদলায়, বিনোদনের মাধ্যমও নতুন থেকে নতুনতর হয়; কিন্তু মানুষের মননশীলতার খোরাক জোগাতে বইয়ের আসন চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে। একটি ভালো বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, সুসময়ের আনন্দ এবং দুর্দিনের সান্ত¡না। তাই যত আধুনিকতাই আসুক না কেন, মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও আবেগের সঠিক বিকাশ ঘটাতে বইয়ের স্থান কেউ দখল করতে পারবে না। বইয়ের বিকল্প কেবল বই-ই। লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য হাজী সম্মেলন উপলক্ষে কলারোয়ায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কলারোয়ার মরহুম ডাক্তার আনিসুর রহমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলারোয়া উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও কলারোয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু নসরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ মো. দ্বীন আলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ গোলাম মোস্তফা। উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইউনুস আলী, শাহীনুর রহমান ও আব্দুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।