শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গাবুরায় মেগা প্রকল্পের টেকসই বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, অবৈধভাবে লবণ পানি তোলার পাইপ স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
গাবুরায় মেগা প্রকল্পের টেকসই বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, অবৈধভাবে লবণ পানি তোলার পাইপ স্থাপন

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): শ্যামনগর গাবুরা ইউনিয়নের পূর্ব চাঁদনীমুখা গ্রামে খোলপেটুয়া নদী সংলগ্ন সরকারি মেগা প্রকল্পের টেকসইস বেড়িবাঁধের ব্লক সরিয়ে ও মাটি ছিদ্র করে অবৈধভাবে লবণ পানি তোলার পাইপ বসানোর অভিযোগ উঠেছে কিছু ঘের ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

সরজমিনে শনিবার (৬ জুন) সকালে যেয়ে দেখা যায় মৎস্য চাষিরা সাজানো ব্লক সরিয়ে সেখানে বসাচ্ছে নায়িন্টি পাইপ। যা এই বেড়িবাঁধের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারের হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোতে এ ধরনের কর্মকান্ডের ফলে সড়ক ও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে বৃহৎ এ উন্নয়ন প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বারবার জলচ্ছাস ও ঘূর্ণীঝড়ে আক্রান্ত দূর্যোগ প্রবন এলাকা হওয়ায় ২০২১ সাল থেকে সরকার ১ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গাবুরাতে। উল্লেখিত রাস্তাটি তারই নতুন অবকাঠামো।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বলেন বিষয়টি সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা সেখানে যেয়ে বিষয় টি ক্ষতিয়ে দেখছি।

এলাকাবাসী অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

Ads small one

পাটকেলঘাটায় গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ​সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় তাছফিয়া খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার বাইগুনি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

​নিহত তাছফিয়া সদর উপজেলার পরানদাহ এলাকার সিদ্দিক আলী সরদারের মেয়ে। প্রায় দেড় বছর আগে বাইগুনি গ্রামের আলামিন দালালের সঙ্গে তাঁর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল।

​নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাছফিয়ার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তাঁর স্বামী, শাশুড়ি ও দেবর রুহুল আলামিন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে।

​তাছফিয়ার বাবা সিদ্দিক আলী সরদার বলেন, “বিয়ের পর থেকেই জামাতা ও শাশুড়ি টাকার জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করত। এর আগে ট্রলি কেনার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেয় আলামিন। কিছুদিন আগে নতুন আরেকটি ট্রলি কেনার জন্য সে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। গত পরশু সেই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় তারা আমার মেয়েকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় পুলিশকে ম্যানেজ করে ঘটনাটিকে ‘অপমৃত্যু’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

​নিহতের ফুফু রোকসানা পারভীন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তাছফিয়ার লাশ বারান্দায় রাখা এবং ঘরে তালা ঝুলছে। আত্মহত্যার বিষয়ে একেক সময় একেক রকম কথা বলছে আলামিন। কখনো বলছে ওড়না দিয়ে, কখনো বলছে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি আমরা। এটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড, যাকে আত্মহত্যার নাটক হিসেবে সাজানো হচ্ছে।”

​একই দাবি করে নিহতের চাচি হাজিরা খাতুন বলেন, শুক্রবার সকালে পারিবারিক কলহের জেরে দেবর ও শাশুড়ি মিলে তাছফিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে দায় এড়াতে লাশ ঘরের ভেতর ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে থাকেন।

​তবে পুলিশ এখনই একে হত্যাকাণ্ড বলতে নারাজ। জানতে চাইলে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে।

​ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশাশুনির বাওচাষে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, স্কুলের অফিস সহকারী সাসপেন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বাওচাষে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, স্কুলের অফিস সহকারী সাসপেন্ড

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে স্কুল ছাত্রী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শোভনালী ইউনিয়নের বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী বিকাশ চন্দ্র সাহাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, বাওচাষে নানার বাড়িতে আসা ২য় শ্রেণির ছাত্রী গত সোমবার সন্ধ্যায় স্কুলের পার্কে ঘুরতে ছিল। এসময় স্কুলের অফিস সহকারী কাম নৈশ প্রহরী বিকাশ চন্দ্র সাহা শিশুকে ফুসলিয়ে বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি চিৎকার, কান্নাকাটি করলে ছেড়ে দেয়। কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে গিয়ে নানাদের জানালে নানা, মামারা জমিদাতা আলাল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ করলে তিনি বিকাশ চন্দ্র সাহাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন।

 

তখন প্রধান শিক্ষক ছাবিনা খাতুনকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ শেষে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ক্লাস্টার অফিসিরকে অবহিত করা হয় এবং তার নিকট থেকে স্কুলের চাবি ফেরৎ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ক্লাস্টার অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান স্কুলে গিয়ে সভায় মিলিত হন এবং শুনানী জানাবোঝা শেষে বিকাশকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উপস্থিত সদস্যবৃন্দ জানান, বিকাশ এর আগেও অনুরূপ কাজ করায় তাকে মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

তবে, অফিস সহকারী বিকাশ চন্দ্র সাহা ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছাবিনা খাতুন জানান, স্কুলে ঈদের ছুটি চলছিল। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ, ভিকটিম ও পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিকাশকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রমানিত হলে স্থায়ী সাসপেন্ড করা হবে। থানায় মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা পরিবারের পক্ষ থেকে করতে হবে।

আশাশুনিতে বিএনপির আহ্বায়ক হেদায়েতুল ইসলামের ওপর হামলা, আটক-২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে বিএনপির আহ্বায়ক হেদায়েতুল ইসলামের ওপর হামলা, আটক-২

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য স ম হেদায়েতুল ইসলাম (৭৬) এর ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৫ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে থানার মেইন ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত বিএনপি নেতাকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় (০৮)০৬/২৬ নং মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে আশাশুনি বাজার জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় শেষে হেদায়েতুল ইসলাম একা বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে থানার প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মোছা. সাইলা খাতুনের নির্দেশে এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ শাওন (৩২), মোঃ শোভন (২৯), মোঃ জহুরুল ইসলাম (৩২), মোঃ হারুন (৪২), মোঃ পিয়াস হোসেন (২৮) ও মোঃ মুর্শেদ (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন তার ওপর হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহতর শিকার হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে তার ডান হাঁটুতে গুরুতর আঘাত লাগে। এছাড়া কোমরে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা তার শার্টের পকেটে থাকা নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং টানাহেঁচড়ায় প্রায় ২ হাজার টাকা মূল্যের পরিধেয় বস্ত্র নষ্ট করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

পালানোর সময় স্থানীয় জনতা ও আহত নেতার সমর্থকেরা ধাওয়া করে মোঃ শোভন ও মোঃ জহুরুল ইসলামকে আটক করে। পরবর্তীতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের দুইজনকে থানা হেফাজতে নেয়।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. হেদায়েতুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।