চাকরির প্রলোভনে সাড়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ক্ষোভে মায়ের আ*ত্ম*হ*ত্যা: আদালতে মামলা
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় সোনালী ব্যাংকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর সাড়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। টাকা উদ্ধার করতে না পেরে এবং প্রতারণার ক্ষোভে ভুক্তভোগী নারীর মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সাতক্ষীরা আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা সদরের আগরদাঁড়ী গ্রামের আক্তারুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী সীমা আক্তার ও মা মারিয়ান।
ভুক্তভোগী শাহিদা খাতুন জানান, আক্তারুল ও তাঁর পরিবার তাঁকে সোনালী ব্যাংকের ‘পিয়ন’ পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পিতৃহীন শাহিদা এই চাকরির আশায় জমি বন্ধক, জমি বিক্রি ও আসবাবপত্র বেঁচে তিন দফায় মোট ৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা তাঁদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি না হওয়ায় এবং টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন।
টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে শাহিদা আগরদাঁড়ী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন জানান, শুনানির সময় বিবাদীরা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চেয়ারম্যান ভুক্তভোগীকে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে বৈকারী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদ হাসান বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান এবং লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
টাকা খুইয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া এবং পাওনাদারদের চাপের মুখে শাহিদার মাতা আনোয়ারা খাতুন গত ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। শাহিদা খাতুন জানান, তাঁর মায়ের এই করুণ মৃত্যুর জন্য ওই প্রতারক চক্রটিই দায়ী।
নিরুপায় হয়ে শাহিদা খাতুন সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত-১ এ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সুশান্ত ঘোষ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
মামলা করার পর থেকে আসামিরা শাহিদা খাতুনকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে এবং খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। এলাকাবাসী এই প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।









