বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

জ্বালানি ও বালুসংকট: কেবিএস প্রকল্পের কাজ থমকে, দুর্ভোগে তিন জেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
জ্বালানি ও বালুসংকট: কেবিএস প্রকল্পের কাজ থমকে, দুর্ভোগে তিন জেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া ‘কেবিএস’ প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থমকে গেছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং নির্মাণসামগ্রীর তীব্র অভাবের মুখে পড়েছেন ঠিকাদাররা। ফলে তিন জেলার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কাটছেই না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েকটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই দফায় দফায় বাধার মুখে পড়ছে প্রকল্পগুলো। ঠিকাদারদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের কারণে ভারী যন্ত্রপাতি চালানো এবং নির্মাণসামগ্রী পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

 

সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বালুসংকট। বিশেষ করে সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকায় বালুর অভাবে সড়ক ও সেতুর কাজ প্রায় বন্ধ। নদী থেকে বালু উত্তোলনে বিধিনিষেধ থাকায় সময়মতো উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে না। একজন ঠিকাদার আক্ষেপ করে বলেন, “জ্বালানি খরচ আর বালুর সংকটে এখন কাজের চার ভাগের এক ভাগ শেষ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসানের আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।”

 

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ দ্রুত শেষ করার প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে। অনেক জায়গায় রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে, কোথাও সেতুর সংযোগ সড়ক অসম্পূর্ণ। এতে বর্ষার শুরুতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ অনেক সড়ক। কাজ ঝুলে থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

 

চলমান এই সংকট নিরসনে তৎপর হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নতুন কোনো প্রকল্পের চেয়ে অসমাপ্ত কাজগুলো আগে শেষ করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্যরা।

 

সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইজ্জত উল্ল্যাহ এ বিষয়ে বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয় জনগণের সুবিধার জন্য। কিন্তু কাজ ঝুলে থাকলে সেই সুবিধাই দুর্ভোগে রূপ নেয়। তাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করা।”

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তারা বাস্তব সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের মতে, জ্বালানি ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে কিছু প্রকল্পের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে কাজের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলেও তাঁরা জানান।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সমন্বয় না করে কেবল প্রশাসনিক চাপে কাজ শেষ করতে গেলে অবকাঠামোর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। টেকসই উন্নয়নের জন্য উপকরণের সরবরাহ ও সময়Ñউভয়ই নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

সংবাদদাতা: পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, হিজরি ১৪৪৮ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ও সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ও কর্মে রয়েছে মানবতা, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য শিক্ষা।

বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা। বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও চরিত্র তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়ন সাতক্ষীরার তৌফিকুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়ন সাতক্ষীরার তৌফিকুজ্জামান

সংবাদদাতা: ঢাকার পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সাতক্ষীরার কৃতী ক্রীড়াবিদ তৌফিকুজ্জামান। তিনি সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এম এম আব্দুর রউফের ছেলে।
বিশ্বের অন্যতম কঠিন সহনশীলতাভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় এমটিভি ক্যাটাগরিতে সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়—তিনটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে প্রথম স্থান অর্জন করেন তৌফিকুজ্জামান।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন, শারীরিক সক্ষমতা, আত্মনিবেদন ও দৃঢ় মানসিকতার মাধ্যমে তৌফিকুজ্জামান এ সাফল্য অর্জন করেন।
এর আগে একই প্রতিযোগিতায় ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৫ সালে প্রথম রানারআপ হওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর। ধারাবাহিক এই সাফল্যে সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৌফিকুজ্জামানের এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনধারার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তৌফিকুজ্জামান বলেন, এই অর্জন শুধু আমার নয়; এটি আমার পরিবার, কোচ ও সকল শুভাকাঙ্খীর। ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে আমি নিরলস পরিশ্রম করে যাব।

সাতক্ষীরার শিকারি ব্র্যান্ড বিডির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার শিকারি ব্র্যান্ড বিডির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সংবাদদাতা: মফস্বল শহর থেকে যাত্রা শুরু করে আধুনিক ফটোগ্রাফি, সিনেমাটোগ্রাফি ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে ‘শিকারি ব্র্যান্ড বিডি’। দীর্ঘ ১১ বছরের সফল পথচলা শেষে প্রতিষ্ঠানটি ১২ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির পাশে অবস্থিত শিকারি ব্র্যান্ড বিডির প্রধান কার্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশ ও মিলনমেলার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের টিম সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। কেক কাটা, ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়, ফটোসেশন এবং স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।

২০১৫ সালের ২৮ মার্চ সাতক্ষীরা শহর থেকে ছোট পরিসরে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাহফুজ আহমেদ এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইমরুল কায়েস পিয়াস। মফস্বল শহরের গন্ডি পেরিয়ে আধুনিক ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই ১৫-২০ জন তরুণকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল শিকারি ব্র্যান্ডের।

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ের পথচলায় সেই ছোট পরিসরের উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে একটি বড় প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে দেশের ৩০টিরও বেশি জেলায় প্রায় ৩ হাজার ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে শিকারি ব্র্যান্ড বিডি। ঢাকায় শাখা কার্যালয়সহ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন বহু তরুণ।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজের সুনাম অর্জনের পাশাপাশি শিকারি ব্র্যান্ডের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। প্রতিষ্ঠানটির আলোকচিত্রীদের তোলা ছবি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে এবং পুরস্কৃতও হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিকারি ব্র্যান্ড বিডির সিইও মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘আমার কাছে শিকারি ব্র্যান্ড বিডি শুধু কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি ভালোবাসার পরিবার। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরুর সময় ভাবিনি প্রতিষ্ঠানটি একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে। ১১ বছরের এই পথচলায় যারা পাশে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আগামীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

এক নজরে শিকারি ব্র্যান্ড বিডি: প্রতিষ্ঠা-২৮ মার্চ ২০১৫; প্রধান খাত-ফটোগ্রাফি, সিনেমাটোগ্রাফি ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট; প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও-মাহফুজ আহমেদ; সহ-প্রতিষ্ঠাতা-ইমরুল কায়েস পিয়াস; প্রধান কার্যালয়-ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির পাশে, সাতক্ষীরা; শাখা-ঢাকা।