জ্বালানি ও বালুসংকট: কেবিএস প্রকল্পের কাজ থমকে, দুর্ভোগে তিন জেলা
নিজস্ব প্রতিনিধি: খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া ‘কেবিএস’ প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থমকে গেছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং নির্মাণসামগ্রীর তীব্র অভাবের মুখে পড়েছেন ঠিকাদাররা। ফলে তিন জেলার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কাটছেই না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েকটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই দফায় দফায় বাধার মুখে পড়ছে প্রকল্পগুলো। ঠিকাদারদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের কারণে ভারী যন্ত্রপাতি চালানো এবং নির্মাণসামগ্রী পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বালুসংকট। বিশেষ করে সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকায় বালুর অভাবে সড়ক ও সেতুর কাজ প্রায় বন্ধ। নদী থেকে বালু উত্তোলনে বিধিনিষেধ থাকায় সময়মতো উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে না। একজন ঠিকাদার আক্ষেপ করে বলেন, “জ্বালানি খরচ আর বালুর সংকটে এখন কাজের চার ভাগের এক ভাগ শেষ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসানের আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।”
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ দ্রুত শেষ করার প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে। অনেক জায়গায় রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে, কোথাও সেতুর সংযোগ সড়ক অসম্পূর্ণ। এতে বর্ষার শুরুতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ অনেক সড়ক। কাজ ঝুলে থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
চলমান এই সংকট নিরসনে তৎপর হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নতুন কোনো প্রকল্পের চেয়ে অসমাপ্ত কাজগুলো আগে শেষ করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্যরা।
সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইজ্জত উল্ল্যাহ এ বিষয়ে বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয় জনগণের সুবিধার জন্য। কিন্তু কাজ ঝুলে থাকলে সেই সুবিধাই দুর্ভোগে রূপ নেয়। তাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করা।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তারা বাস্তব সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের মতে, জ্বালানি ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে কিছু প্রকল্পের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে কাজের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলেও তাঁরা জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সমন্বয় না করে কেবল প্রশাসনিক চাপে কাজ শেষ করতে গেলে অবকাঠামোর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। টেকসই উন্নয়নের জন্য উপকরণের সরবরাহ ও সময়Ñউভয়ই নিশ্চিত করা জরুরি।











