বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান ও রাজীব ঘোষ: সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান ও রাজীব ঘোষ: সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ

সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে কর্মস্থল থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দুই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ। দুজনকে গ্রেফতার করা হবে, নাকি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে সেটা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠানটির ক্রাইম চিফ রাজীব ঘোষকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই সাংবাদিকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ না করে কর্মস্থল থেকে সাংবাদিকদের ডিবি হেফাজতে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সহকর্মীরা। একই সঙ্গে দুই সাংবাদিকের অবস্থান ও তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার দাবি উঠেছে।

এদিকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যদি তিনি আটক হয়ে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. আখতার হোসেন জানিয়েছেন, একটি সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে ডিবিসি কার্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে নিরাপদে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাদের এখনও আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদ রোমিও। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সরকারের কাছে সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে সসম্মানে তার কর্মক্ষেত্রে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাই।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনও সাংবাদিককে ডিবি হেফাজতে নেওয়া আতঙ্কজনক। সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হামলার বহিঃপ্রকাশ। আশা করছি সরকার আমার কথা শুনছেন।’

এদিকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। একই সঙ্গে তার দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে নিজ কার্যালয় থেকে আটক করার ঘটনা দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।’

তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অবিলম্বে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তির দাবি জানান তারা।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) বর্তমান সহসভাপতি ও ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি তানজিম আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব।

বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, কোনো ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা বা আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না করেই রাজীব ঘোষকে অফিস থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন পেশাদার সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাচিত নেতার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নাগরিক অধিকারের জন্য অশনিসংকেত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার থাকলেও তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হতে হবে। কাউকে আটক বা গ্রেফতারের ক্ষেত্রে তার পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আইনগত ভিত্তি ও অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। আইন প্রয়োগের নামে কোনো নাগরিকের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই।

তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। একজন সাংবাদিককে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভীতি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করবে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিবৃতিতে অবিলম্বে রাজীব ঘোষের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তারা।

রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও (ডিআরইউ)। বুধবার (৪ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এ উদ্যোগ জানান।

ডিআরইউ বলছে, একজন সাংবাদিককে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপ অবশ্যই প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হতে হবে।

তারা আরও বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ডিআরইউ নেতারা অবিলম্বে রাজীব ঘোষের অবস্থান তার পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে স্পষ্ট করা এবং আইনগত ভিত্তি না থাকলে তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।

Ads small one

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

কক্সবাজার টেকনাফে মানবকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে প্রশ্নে বাংলাদেশ পাচারের এক সদস্য যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে রঙ্গীখা ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ে এ প্রচারণা।

চতুষ্পদসদস্যের নাম মো. তাতাস শেখ (২৭)। তিনি একপর্যায়ে বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। নিখুঁত রক্তক্ষরণে কার্যকরী তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান (সিএমএইচ), রাতে নেওয়া হলে ধর্মীয় তাকে মর্যাদা দেন।

আন্তঃ বৃহৎ জনসংযোগ পরিদফের (আইএসপিআর) তথ্যের তথ্য অনুযায়ী, গো মানবা খবরে খবর পাওয়া যায়, রাণীখালী গভীর পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ এর একটি সশস্ত্রী দল প্রায় ১২০ জন ও বাংলাকে জিম্মি করে তুলেছে। এ তথ্যের প্রকাশক বাংলাদেশভির ১০ পদাতিক ডিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিটী) ও স্থানীয় পুলিশ সদস্য গঠিত দল আভিযান বিজানা বিক্রেতা বিক্রেতা আকালানুক্রমিক প্রকাশ্য।

এ সময় পাওয়ার সদস্য সস্ত্রীক উপস্থিতি টেরটি মানবপাচারকারী এপাতাড়ি চালায়। ব্যাঙ্গ পার্টির মধ্যে ব্যবহার করা হয়।

যুদ্ধে সেনা বার থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এ ছাড়া পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যের দল এবং জিম্মিকে ৫৭ পরিস্থিতি উদ্ধার করা হয়।

ধর্মরত সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের কথা বলা বাংলাদেশকে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে। একই সাথে তার বিহীর আত্মার মাগফিরাত কামনা গভীর এবং শোকসন্তান সদস্যদের প্রতি সমবেদনা।

ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিশাল পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতে শোচনীয় হারের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা পরোক্ষভাবে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ ও সতর্ক বার্তায় জেডি ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অনুপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প যেখানে টানা কয়েক মাস ধরে ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, সেখানে ভ্যান্সের প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি মার্কিন সামরিক অভিযানের দেশীয় নেতিবাচক প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, তবে এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই জানিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন।

ভ্যান্সের বিশ্লেষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে বলেন, আমি জানি ও কীভাবে দেখে। আমার মনে হয় এটি ঠিকই ছিল। আমরা জানতাম পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ওদের থামানো গেছে এবং তারা আর কখনও তা পারবে না।

এর পরেই তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্স ‘হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হয়তো সে লড়বে না, আমি জানি না কে লড়বে। তবে যুদ্ধের বিষয়ে আমি বলতে পারি, আমি আলাদা কিছু করতাম না।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেকে খানিকটা আলাদা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও প্রশাসন থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছেন না। অপর দিকে ভ্যান্স ২০২৮ সালে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে কেবল শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে নয়, নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর পুরো রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, দল যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন না করে তবে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনি ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এক পডকাস্টে শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা শোনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শুনতে হবে এবং সাড়া দিতে হবে। টেক্সাস এখন নীল হয়ে যাচ্ছে। শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেও ক্রুজ সুর মিলিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি এক্স-এ ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ‘আবেগপ্রবণ’ যুদ্ধ এবং দৃশ্যমান দুর্নীতির সমালোচনা করে লিখেছেন, বাজে নীতি এবং বাজে চরিত্র কখনও ভালো রাজনীতি তৈরি করে না। দেশ এবং আমার দলের সঠিক পথে ফেরার আশায় রইলাম।

সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলেই দল সামনে এগোবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, সেই লড়াই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। অপরিশোধিত তেলের তীব্র দরপতন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটার জোয়ার এবং মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাবের ওপর ভর করে বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান ঘটেছে। লেনদেন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,৩০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৭৮,৬৩০ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ সূচক ২৪,৩৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। এটি ভারতের শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখলো। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ১,৪০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৭৩৫.৭৯ এবং নিফটি ৪৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৩৮৯.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।

লেনদেন শুরুর সময় সেনসেক্স তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৪৯৩.৪৪ লাখ কোটি রুপি, যা এক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০.৯১ লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপির নিট বৃদ্ধি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওভারনাইট লেনদেনে মার্কিন শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর এই প্রভাব দেখা গেলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার বাড়ার প্রধান ৩ কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

তেলের দামে ৮ শতাংশ ধস: ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান সংঘাত কমানোর দিকে হাঁটবে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে আসে। তেল আমদানিনির্ভর ভারতের জন্য তেলের এই মূল্যহ্রাস আমদানি খরচ ও মূল্যস্ফীতি কমাবে এবং রুপিকে শক্তিশালী করবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন: বুধবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে ৭,২৮৪ কোটি রুপির শেয়ার কেনেন, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ৯০,০০০ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রির পর নভেম্বরে এ পর্যন্ত তারা ১৭,০০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাব: রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১.৬ শতাংশ এবং ডাউ জোন্স প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আয়নিক অ্যাসেটের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রধান অঙ্কিতা পাঠক বলেন, নির্বাচনি ফলাফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমবে। তবে জানুয়ারিতে নতুন আইনপ্রণেতারা শপথ নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বন্ডের সুদ ও ডলার দুর্বল হলে উদীয়মান বাজার ও স্বর্ণ উপকৃত হতে পারে। তা সত্ত্বেও তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নতুন কংগ্রেসে নজরদারি বাড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি