মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
তালায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

Oplus_131072

তালা সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার তালায় উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’ এবং এসইডিপি-এর যৌথ আয়োজনে তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে অনুষ্ঠিত মেলায় ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাদের উদ্ভাবনী স্টার্টআপ আইডিয়া ও বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শন করে।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ্। সহকারী অধ্যাপক গাজী আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিয়ার রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডাঃ মাহমুদুল হক, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গাজী সুজয়েত আলী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম, তালা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সেখ শফিকুল ইসলাম, তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মাছুম বিল্লাহ, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোঃ ইমান আলী, তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান খান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাস কুমার দাস প্রমুখ।

Ads small one

জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। বনে ‘বাঘের কেল্লা’ নির্মাণ ও ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকেরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এখনো উদ্বেগজনক।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং খালের নাব্য হ্রাসের ফলে মিঠাপানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে হরিণসহ তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা কমায় বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বনজীবী নুর ইসলাম ও হরিনগর এলাকার জেলে আকবর আলী জানান, আগের মতো বনে হরিণ বা বাঘের বিচরণ এখন আর দেখা যায় না। তা ছাড়া বনদস্যু ও চোরাশিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা ঘটছে। শিকারের কারণে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বাঘ মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা মানুষ-বাঘ সংঘাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাতক্ষীরা উপকূলে বাঘের আক্রমণে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কাঠুরে, জেলে ও মৌয়াল।

জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ বলেন, বাঘকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখলে হবে না। বাঘ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি। লবণাক্ততা বাড়া ও মিঠাপানির অভাবের পাশাপাশি মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বাঘের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই পরিবেশ ও স্থানীয়দের জীবিকাÑ সব মিলিয়েই সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনে ৬২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সুলজ কুমার দ্বীপ বলেন, “মিঠাপানির সংকট দূর করতে বনের ভেতরে কৃত্রিম পুকুর খনন করা হয়েছে। চোরাশিকার প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে বাঘের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১২৫টিতে পৌঁছেছে।”

 

 

 

 

 

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়াল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়াল

এম শফিকুল ইসলাম: টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাতক্ষীরার বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কয়েক গুণ বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে নতুন কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজিতে, আর পুরনো কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ৩২০ টাকায়। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কয়েক দিন আগেও নতুন মরিচের দাম ছিল ২০০ টাকা।
বড়বাজার ও টাউন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, টানা দুই সপ্তাহের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে কাঁচা মরিচগাছের পাতা ও গোড়া পচে গেছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত গরম যুক্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাপক ব্যাহত হয়েছে। কৃষকেরা বাজারজাত করার মতো পর্যাপ্ত মরিচ পাচ্ছেন না।
কৃষক মোহাম্মাদ আলী বলেন, জেলায় কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে মৎস্যঘের বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজি চাষের জমি কমে গেছে। উঁচু জমিতে যেটুকু চাষ হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় খুব কম।
এদিকে আমদানিকারক গণেশ ঘোষ জানান, স্থানীয় উৎপাদনে জেলার চাহিদা মেটে না। কাঁচা মরিচের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে ভারত থেকে আমদানির অনুমতি (আইপি) প্রয়োজন। অনুমতি মিললেই আমদানিকারকেরা ঋণপত্র (এলসি) খুলে মরিচ আমদানি শুরু করবেন।