সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পাইকগাছা জিরোপয়েন্টে ড্রেনেজবিহীন সড়ক নির্মাণ: জনদুর্ভোগ চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা জিরোপয়েন্টে ড্রেনেজবিহীন সড়ক নির্মাণ: জনদুর্ভোগ চরমে

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ১৮ মাইল-বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা সড়কের নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তবে পাইকগাছা জিরোপয়েন্টে উন্নয়ন কাজে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়েছে। সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জিরোপয়েন্ট এলাকা এখন কাদা-পানিতে ডুবে খালে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিরোপয়েন্ট এলাকায় খুলনা অভিমুখে গৌতমের মুদির দোকান থেকে দেবব্রত মন্ডলের মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে মূল সড়কের ওপর বিশাল জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জিরোপয়েন্টে সামাদের চায়ের দোকানের সামনে পৌরসভার পুরনো যে কালভার্টটি ছিল, সেটি হাইওয়ের নতুন ঢালাইয়ের নিচে পড়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শিবসা নদী নিকটবর্তী হওয়ায় শিববাটি স্লুইসগেট দিয়ে সরল ৫নং ওয়ার্ডের পানি এই কালভার্ট দিয়েই বের হতো। কিন্তু নতুন রাস্তাটি উঁচু ও ঢালাইয়ের ফলে পুরনো কালভার্টটি এখন কার্যকারিতা হারিয়েছে। বর্তমানে শিববাটি ব্রিজ অভিমুখী প্রধান সড়কের একাংশের কাজ ড্রেনসহ শেষ হলেও জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় হাঁটু সমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে বাস, ভ্যান ও মোটর শ্রমিকদের দুর্ভোগ এখন চরমে। কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার কোম্পানির সাইড ইঞ্জিনিয়ার সামী’র বললে, এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রয়োজন। তবে তিনি জানান, আমাদের বর্তমান কাজের সিডিউলে ড্রেনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। ড্রেন করতে গেলে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ এবং ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে, যা সময়সাপেক্ষ। তবে স্থানীয়রা যদি ড্রেনের জন্য জায়গা ছাড়তে লিখিত সম্মতি দেন, তবে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি। স্থানীয় ব্যবসায়ী শংকর ঢালী জানান, ড্রেন হওয়াটা এখন সময়ের দাবি। আমি আমার অংশের জায়গা ছাড়তে রাজি আছি, কিন্তু দু-একজন ব্যক্তি জায়গা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় পুরো প্রকল্পটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, একবার ঢালাই সম্পন্ন হয়ে গেলে পরে রাস্তা কেটে ড্রেন করা অসম্ভব হবে। নির্মাণাধীন রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ মাথায় নতুন কালভার্ট এবং ড্রেন নির্মাণ না করলে এই এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেবে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জিরোপয়েন্ট এলাকা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এই জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Ads small one

রুপির বিপরীতে কেন এত শক্তিশালী হলো টাকা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
রুপির বিপরীতে কেন এত শক্তিশালী হলো টাকা?

গত প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। একসময় ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে যেখানে প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১২৭ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ছিল প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সা।

অর্থাৎ, একই পরিমাণ বাংলাদেশি টাকা নিয়ে এখন আগের তুলনায় বেশি ভারতীয় রুপি পাওয়া যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাচ্ছেন ভারতগামী বাংলাদেশিরা; বিশেষ করে রোগী, পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা।

তবে এর পেছনে শুধু বাংলাদেশের টাকার শক্তিশালী হওয়া কাজ করছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও বড় একটি কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ দিকে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশের টাকা ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ফলে দুই দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হারে বাংলাদেশের টাকা সুবিধাজনক অবস্থানে এসেছে।

এক বছরে বড় পরিবর্তন

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ছিল প্রায় ১ টাকা ৩৭ থেকে ১ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা কমে আসে প্রায় ১ টাকা ৩৪–৩৬ পয়সায়। আর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তা আরও নেমে এসেছে প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সায়।

অর্থাৎ, ভারতীয় মুদ্রায় খরচ করা বাংলাদেশিদের জন্য বিনিময় হার এখন আগের তুলনায় বেশ অনুকূল।

একটি সহজ হিসাব করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। কারও ভারতে গিয়ে ১ লাখ রুপি খরচ হলে, প্রতি রুপি ১ টাকা ৪০ পয়সা দরে তার প্রয়োজন হতো প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এখন ১ টাকা ২৭ পয়সা হিসাবে একই ১ লাখ রুপি কিনতে লাগবে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ব্যবধান প্রায় ১৩ হাজার টাকা।

অবশ্য বাস্তবে ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ বা কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় ব্যবধান, কমিশন ও অন্যান্য চার্জ থাকে। তাই বাজারের ঘোষিত হার আর একজন ভ্রমণকারীর প্রকৃত খরচ এক নাও হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি স্বস্তি চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের

ভারতে বাংলাদেশিদের যাতায়াতের বড় একটি কারণ চিকিৎসা। কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, ভেলোর, দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি চিকিৎসা নিতে যান।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু হাসপাতালের বিল নয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, হোটেল, খাবার ও স্থানীয় যাতায়াত; সবকিছুর জন্য ভারতীয় রুপি প্রয়োজন হয়। ফলে রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হলে পুরো ভ্রমণ ব্যয়ের ওপরই তার প্রভাব পড়ে।

ধরা যাক, কোনও রোগী ও তার পরিবার চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে ২ লাখ রুপি খরচ করবেন। ১ রুপি ১ টাকা ৪০ পয়সা হলে শুধু মুদ্রা বিনিময়েই খরচ দাঁড়ায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একই ২ লাখ রুপি এখন ১ টাকা ২৭ পয়সা হিসাবে কিনতে প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ, বিনিময় হারের পার্থক্যেই প্রায় ২৬ হাজার টাকা কম লাগতে পারে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই সাশ্রয় কম নয়।

পর্যটকদের জন্যও সুখবর

চিকিৎসার পাশাপাশি ভারত বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। কলকাতা, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, দিল্লি, আগ্রা, কাশ্মীর, গোয়া কিংবা দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।

রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় হোটেল, খাবার, পরিবহন ও কেনাকাটায় একই পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চার-পাঁচজনের একটি পরিবারের কয়েক দিনের ভ্রমণে বিপুল পরিমাণ রুপি প্রয়োজন হয়। বিনিময় হারে সামান্য পরিবর্তনও তখন মোট ব্যয়ে কয়েক হাজার টাকা পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের ব্যয়ও কমতে পারে

ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের টিউশন ফি, বাসা বা হোস্টেল ভাড়া এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের একটি বড় অংশ রুপিতে পরিশোধ করতে হয়।

রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী থাকলে শিক্ষার্থীদের পরিবারকে একই পরিমাণ রুপি কিনতে তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হবে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার খরচ বহনকারী পরিবারগুলোর ওপর কিছুটা চাপ কমতে পারে।

সুবিধা পেতে পারেন আমদানিকারকরাও

বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার ভারত। দেশটি থেকে শিল্পের কাঁচামাল, তুলা, সুতা, রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, খাদ্যপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য আমদানি হয়।

ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হলে রুপিতে মূল্য নির্ধারিত পণ্যের আমদানি ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব ব্যবসায়ী সরাসরি রুপিতে লেনদেন করেন, তারা এর তাৎক্ষণিক সুবিধা পেতে পারেন।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব আমদানি সরাসরি রুপিতে নিষ্পত্তি হয় না। অনেক লেনদেন ডলারভিত্তিক। ফলে রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী হওয়ার সুফল সব আমদানিতে একইভাবে পড়বে না।

বেনাপোল, ভোমরা, হিলি ও আখাউড়াসহ সীমান্তকেন্দ্রিক বাণিজ্যেও মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতীয় বাজার থেকে পণ্য কেনা বা স্থানীয় পর্যায়ে রুপির লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা অনুকূল বিনিময় হারে সুবিধা পেতে পারেন।

তবে এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, শুল্ক, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের ওপর। অর্থাৎ, রুপির দাম কমেছে বলেই ভারত থেকে আসা সব পণ্যের দাম কমে যাবে; এমন নিশ্চয়তা নেই।

কেন এমন হলো?

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে গত এক বছরে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, রিজার্ভও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগস্টের প্রথম ২৯ দিনেই এসেছে ২৬৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে আগস্ট ২০২৬ শেষে মোট রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে। ফলে দুই দেশের মুদ্রার আপেক্ষিক শক্তির পার্থক্য বাংলাদেশের টাকাকে রুপির বিপরীতে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখেও ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯৫ দশমিক ৮২ রুপিতে লেনদেন শেষ করেছে।

এটাকে কি শুধু ‘টাকার শক্তি’ বলা যাবে?

রুপির বিপরীতে টাকার দাম বাড়ার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের অর্থনীতি সব দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে গেছে। এটি মূলত দুই মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হার। একটি মুদ্রা স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি অন্যটি দুর্বল হলেও আপেক্ষিকভাবে প্রথম মুদ্রা শক্তিশালী দেখাতে পারে।

তাই রুপির বিপরীতে টাকার বর্তমান অবস্থানকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতার সঙ্গে দেখা গেলেও এটিকে অর্থনীতির সামগ্রিক শক্তির একক সূচক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

রফতানিতে বিপরীত প্রভাবের ঝুঁকি

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সহজভাবে বললে, বাংলাদেশি টাকার মান শক্তিশালী হলে এক টাকায় আগের তুলনায় বেশি ভারতীয় রুপি পাওয়া যায়। ফলে ভারতে ১০০ রুপি দামের কোনও পণ্য কিনতে আগে যে পরিমাণ বাংলাদেশি টাকা প্রয়োজন হতো, এখন তার চেয়ে কম টাকা লাগবে। এতে ভারত থেকে পণ্য আমদানির প্রাথমিক খরচ কমার সুযোগ তৈরি হয়।’

তিনি বলেন, তবে আমদানি ব্যয় কমলেই বাজারে পণ্যের দাম একই হারে কমবে; এমন নয়। কারণ পণ্যের দামের সঙ্গে শুল্ক, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ এবং ব্যবসায়ীর মুনাফা যুক্ত থাকে। ফলে বিনিময় হারের সুবিধার পুরোটা ভোক্তা পর্যায়ে নাও পৌঁছাতে পারে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হলে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণের ব্যয়ও তুলনামূলক কমে আসে। তবে এর বিপরীত দিকও রয়েছে। বাংলাদেশি টাকা শক্তিশালী হলে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে যেতে পারে। এতে কিছু পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমার ঝুঁকি তৈরি হয়।”

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় পণ্য তুলনামূলক সস্তা হয়ে গেলে সেসব পণ্যের আমদানি বাড়তে পারে। এতে একদিকে ভোক্তারা কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ পেলেও অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতার চাপে পড়তে পারেন। তাই বিনিময় হার নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি আমদানি-রফতানির ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ভারতগামী বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান বিনিময় হার স্বস্তির। চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা ও কিছু ধরনের ব্যবসায় এর সরাসরি আর্থিক সুবিধা রয়েছে। কিন্তু এই সুবিধা কতদিন থাকবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের মুদ্রার ভবিষ্যৎ গতিপথ, ডলারের আন্তর্জাতিক মূল্য, তেলের দাম, রেমিট্যান্স, রফতানি আয় এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতার ওপর।

বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সেক্ষেত্রে সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাস; উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিআরটিএর বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভাড়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়।

নতুন প্রস্তাবে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এএসএম আহমেদ খোকন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং নগর বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা হবে। আমরা আমাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে দিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিআরটিএ এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

বৈঠকে থাকা কমিটির একজন সদস্যও জানান, সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া আগের মতোই রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিবহন মালিকেরা ভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি অন্তত ৪০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে কমিটির আলোচনায় এর চেয়ে কম হারে, অর্থাৎ ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এখন বিআরটিএর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

রবিবার রাতে সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। প্রতিটি জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। নতুন দর সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

গণপরিবহনের বড় একটি অংশ ডিজেলচালিত। ফলে ডিজেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ায় বাস পরিচালনার খরচও বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি বাস পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। ২৩ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

এরও আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। তখন দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা এবং মহানগরের বাসে ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়। পরে ডিজেলের দাম ৫ টাকা কমানো হলে ওই বছরের ৩১ আগস্ট দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ টাকা কমার পরও ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন দূরপাল্লা ও মহানগরের ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৩ পয়সা কমানোর সুপারিশ করেছিল বিআরটিএ।

বাংলাদেশে এলএনজি খাতে কারা আগ্রহী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে এলএনজি খাতে কারা আগ্রহী

 

বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীনের পর এবার রাশিয়ার একটি কোম্পানির আগ্রহ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি দেশে এলএনজি সরবরাহ করছে। সম্প্রতি চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে বাংলাদেশের চুক্তি হয়েছে। এরপর রাশিয়ার একটি কোম্পানিও বাংলাদেশে এলএনজি নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকট কাটাতে নতুন প্রকল্প নিতেই হবে। তবে প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থও বিবেচনা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে জ্বালানির চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১০ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। প্রতিটি কার্গো আমদানিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে মাসে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন আরও কমে গেলে আমদানির পরিমাণ বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।