বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে সাতক্ষীরায় বাঁশ ও গোবর সারে অনিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে সাতক্ষীরায় বাঁশ ও গোবর সারে অনিয়ম

কাগজে-কলমে ১৫০ কেজি সার, মিলছে ৪০ কেজি, ৫০ টাকার খুঁটির দাম ১০ টাকা!

মো: হোসেন আলী: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। কিন্তু সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পটিতেই ভর করেছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির ছায়া। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে গাছের চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার বিতরণের নামে চলছে প্রকাশ্য হরিলুট। সরকারি পত্রে বরাদ্দের যে হিসাব দেখানো হয়েছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। সাধারণ কৃষকদের মুখ বন্ধ রেখে কাগজে-কলমে সই নিয়ে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ জন কৃষককে এই প্রণোদনা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিজন কৃষক পাঁচটি গাছের চারা, ৫টি বাঁশের খুঁটি এবং ১৫০ কেজি জৈব সার (গোবর) পাওয়ার কথা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রতি পিস গাছের চারা ১৬০ টাকা, প্রতি পিস বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি জৈব সার (গোবর) ৪ টাকা। এছাড়া পরিবহন ও আনুষঙ্গিক অপ্রত্যাশিত ব্যয়ও ধরা হয়েছে পৃথকভাবে।

কিন্তু গত সোমবার (২৯ জুন) সদর উপজেলায় চারা ও উপকরণ বিতরণকালে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। কৃষকদের ১৫০ কেজি গোবর সার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ কেজি। অথচ চতুর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি সার বুঝে পেয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর বা টিপসই করিয়ে নিচ্ছেন।

মাঠে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় মন্ডলের কাছে এই গড়মিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ধোঁয়াশাপূর্ণ কণ্ঠে তিনি কেবল বলেন, একটু সমস্যা আছে। স্যারদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রকল্পের বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে গাছের চারা সোজা রাখার জন্য দেওয়া বাঁশের খুঁটিতে। সরকারি খাতায় প্রতি পিস খুঁটির মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। কিন্তু কৃষকদের সরবরাহ করা হয়েছে অত্যন্ত নি¤œমানের বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি, যার বাজারমূল্য কোনোভাবেই ১০ থেকে ২০ টাকার বেশি নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ী আশারুল ইসলামের দ্বারস্থ হলে তিনি খুঁটি পরীক্ষা করে জানান, এই খুঁটির মান খুবই খারাপ, স্থানীয় বাজারে এর মূল্য ১০ টাকার বেশি হতে পারে না।
এমনকি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জামালউদ্দীনও খুঁটির নমুনা দেখে স্বীকার করেছেন, যে এগুলোর মান অত্যন্ত নি¤œ এবং এর প্রকৃত মূল্য ১০ টাকার বেশি নয়।

সার বিতরণের এই হরিলুট নিয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র’র দাবি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। ১৫০ কেজি গোবরের পরিবর্তে তাদের ৬০০ টাকা মূল্যের ৪০ কেজির ‘কোম্পানির সার’ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জামালউদ্দীনের দাবি, ওই এক বস্তা সারের মূল্য ৪৮০ টাকা। সরকারি পত্রে যেখানে ৪ টাকা কেজি দরে ১৫০ কেজি গোবরের দাম ৬০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেখানে কর্মকর্তারা একেক সময় একেক দামের বস্তা সারের অজুহাত দিয়ে কৃষকদের ঠকাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকারি পত্রে যেখানে স্পষ্ট ‘গোবর সার’ ও সুনির্দিষ্ট ওজনের কথা উল্লেখ আছে, সেখানে কর্মকর্তারা কার অনুমতিতে কোম্পানির বস্তা সার দিলেন এবং ওজনে ১১০ কেজি কম দিলেন?
ভুক্তভোগী কৃষকেরা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগকে মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের পকেট ভারী করার হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।

হিসাব কষে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ কৃষকের বরাদ্দের কেবল বাঁশের খুঁটি এবং জৈব সারের অংশটি থেকেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা লুটপাট করেছেন। সমগ্র সাতক্ষীরা জেলায় এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৬০০ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। সদর উপজেলার এই চিত্র যদি পুরো জেলার প্রতিফলক হয়, তবে সামগ্রিক লুটপাটের অঙ্ক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের এ ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সংগঠনটির সভাপতি মো. তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান বলেন, সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগ ওঠা এসব বিষয় যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।

কৃষি বিভাগের এই প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই বেহাল দশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই বেহাল দশা

oplus_0

একটি জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রের সড়ক কতটা জরাজীর্ণ ও কদর্য হতে পারে, তার এক চরম ও দুঃখজনক নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে সাতক্ষীরা শহরের তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কটি। সামান্য বৃষ্টিতেই এই ব্যস্ততম জনপদটি যেভাবে কাদা, পানি আর ছোট-বড় গর্তে একাকার হয়ে ডোবার রূপ নেয়, তা কেবল নাগরিকদের চরম দুর্ভোগেরই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতারও এক স্পষ্ট দলিল।
গত বুধবার সকালের সামান্য গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতেই সড়কটির যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা এককথায় অবর্ণনীয়। মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটারের এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কর্মজীবীরা যাতায়াত করেন। খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় যানবাহনের চাকা পড়ে নোংরা পানি ছিটকে পথচারীদের পোশাক নষ্ট হওয়া কিংবা রিকশা-ইজিবাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটা এখন এখানকার নিত্যদিনের স্বাভাবিক চিত্র। বৃষ্টি হলে এই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ারও কোনো জো থাকে না। শুধু পথচারীই নন, সড়কের দুই ধারের ব্যবসায়ীরাও কাদা আর নোংরা পানির ছিটায় অতিষ্ঠ, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাঁদের জীবিকায়।
একটি শহরের অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই কঙ্কালসার দশা দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে অপরিবর্তিত থাকে, সেই প্রশ্ন এড়ানো যাবে না। সড়কটি সংস্কারে দীর্ঘদিন ধরে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। নাগরিকেরা নিয়মিত কর পরিশোধ করেও যদি ন্যূনতম যাতায়াত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন এবং প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন, তবে সেই ব্যর্থতার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়।
আমরা মনে করি, পৌরবাসীর এই সীমাহীন ভোগান্তি আর দীর্ঘায়িত হতে দেওয়া যায় না। জনস্বার্থ ও নাগরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়কটির সংস্কার কাজে হাত দেওয়া জরুরি। জোড়াতালির কোনো সাময়িক মেরামত নয়, বরং স্থায়ী ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাসহ সড়কটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হোকÑএটাই ভুক্তভোগী পৌরবাসীর প্রত্যাশা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই দশা থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, এটাই আমরা আশা করি।

সাতক্ষীরায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের সূচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের সূচনা

পত্রদূত ডেস্ক: “হে অশান্ত মুক্ত-কেতু! তোমার চরণে নমস্কার।/তুমি এসেছ আলো ছড়াতে, শৃঙ্খল ভাঙার গান গাইতে।” জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, দ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মননে বুনে দেওয়ার প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ’। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওস্থ কার্যালয় থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে দেশের ৬৪টি জেলায় এই বিশেষ বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নজরুল বর্ষের এই শুভ সূচনা উপলক্ষে সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কবি নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টি, জীবনদর্শন এবং মানবতার বাণী নিয়ে মুখরিত হয়ে ওঠে আয়োজনটি।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউছার আজিজের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা-বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক (সদর সার্কেল) শাহিনুর চৌধুরী। আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নজরুল কেবল কোনো নির্দিষ্ট কাল বা গোষ্ঠীর কবি নন; তিনি বাঙালির চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতের যে মূল সুরÑঅসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধ, তা আজ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া বড্ড বেশি প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মকে নজরুলের জীবন ও সৃষ্টির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন তাঁরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। কবির এই জন্মজয়ন্তী উদ্যাপনে বছরজুড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে সাহিত্য আসর, সাংস্কৃতিক উৎসব এবং শিক্ষামূলক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ কেন্দ্রে চরম গাফিলতি: ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ কেন্দ্রে চরম গাফিলতি: ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে (কেন্দ্র কোড: সাতক্ষীরা- ২৬২) এক নজিরবিহীন ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই ২০২৬ সালের নিয়মিত এক পরীক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে বাংলা প্রথম পত্র (বিষয় কোড: ১০১) পরীক্ষা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, যশোর বোর্ডের অধীনে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের নিয়মিত বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো: এজাজ আহমেদ (রোল নং: ৫২০০৮০, রেজিস্ট্রেশন নং: ২১১৩৩১৫২৬৬, সেশন: ২০২৪-২০২৫) সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে বসেন। পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি একজন সম্পূর্ণ নিয়মিত পরীক্ষার্থী। অথচ পরীক্ষার হলে তাকে ২০২৬ সালের নিয়মিত সিলেবাসের পরিবর্তে [২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী] মুদ্রিত ‘ঘ’ সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।
এদিকে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনাবলী সম্বলিত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল যে নিয়মিত (সেশন: ২০২৪-২০২০) পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। অনিয়মিত/মানোন্নয়ন (সেশন: ২০২৩-২০২৪ ও পূর্বের) পরীক্ষার্থীরাই কেবল ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
কিন্তু কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর হাতে অনিয়মিতদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অভিভাবক আবুল কালাম বলেন, বোর্ডের এত কড়া নির্দেশনার পরও কেন্দ্র সচিব আর হল পরিদর্শকরা কীভাবে এত বড় ভুল করলেন, তা আমাদের মাথায় আসছে না। আমার ছেলের পুরো বছরের কষ্ট, পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ এখন এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা এখন তীব্র উদ্বেগের মধ্যে আছি। আমরা যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমার ছেলের খাতা যেন বিশেষ বিবেচনায় সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীর পরীক্ষা হয়তো পুরোটা বাতিল হবে না, তবে ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হবে। যেহেতু সে নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাই নিয়মানুযায়ী বোর্ডের কম্পিউটারে তার উত্তরপত্র ২০২৬ সালের নিয়মিত সিলেবাসের সেট কোড অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু তার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নে। দুই সিলেবাসের মধ্যে বেশ কিছু অধ্যায়ের পার্থক্য রয়েছে, যার কারণে ২০২৬ সালের উত্তরপত্রের সমাধানের সাথে তার দেওয়া উত্তর মিলবে না। ফলে ফলাফল বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা শতভাগ।
তিনি আরও বলেন, এখানে সরাসরি কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত বোর্ডে যোগাযোগ করতে হবে। সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ এবং সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজের কেন্দ্র সচিবের মাধ্যমে দ্রুত যশোর শিক্ষা বোর্ডে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে হবে। পরীক্ষার্থীর রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং খাতার নম্বর উল্লেখ করে কলেজের অফিসিয়াল প্যাডে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে যে, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে এই শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে। বোর্ডকে আগে থেকে লিখিতভাবে না জানালে রেজাল্ট প্রকাশের সময় এটি আর সংশোধন করা সম্ভব হবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজের অধ্যক্ষ একেএম সফিকুজ্জামান বলেন, পরীক্ষার হলে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়টি আমাকে আগে জানানো হয়নি। এ ধরনের ক্ষেত্রে যদি কোনো কক্ষ পরিদর্শক ভুলক্রমে ভুল সিলেবাসের প্রশ্ন দিয়েও থাকেন, তবে পরীক্ষার্থীর নিজেরই তো সবার আগে বোঝার কথা। কারণ, পরীক্ষার শুরুতে কক্ষ পরিদর্শকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানতে চাওয়া হয় যে, কারা কোন সিলেবাসের পরীক্ষার্থী এবং সেই অনুযায়ীই প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। একই বেঞ্চে দুই সিলেবাসের শিক্ষার্থী পাশাপাশি বসে পরীক্ষা দেওয়ার সময় কোনো শিক্ষার্থী ভুল প্রশ্ন পেলে তাৎক্ষণিকভাবেই তার পরিদর্শককে জানানো উচিত ছিল যে সে এই সিলেবাসের শিক্ষার্থী নয়।
পরীক্ষা শেষে এখন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের আর কিছু করার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর ২-১০ মিনিটের মধ্যেই ভুলটি বুঝে ওঠার কথা ছিল। এখন পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমাদের আসলে কিছু করার নেই। এটি পরীক্ষার্থীর অসচেতনতা ও ত্রুটি হিসেবেই গণ্য হবে। পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষে এখন এই ভুল সংশোধন বা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তবে আগামী দিনের পরীক্ষাগুলোতে যাতে এ ধরনের ভুল আর না ঘটে, সে ব্যাপারে আমরা কক্ষ পরিদর্শক ও শিক্ষকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেব।