ফ্লোর ধসে বাঁশের ঠেকায় দাঁড়িয়ে টিউবওয়েল, সুপেয় পানির সংকটে শত শত মানুষ
নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা থানা-সংলগ্ন এলাকার একটি নলকূপের পাকা চাতাল (ফ্লোর) ধসে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নলকূপটি এখন বাঁশের ঠেকা দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এই গভীর নলকূপটি ছিল এলাকার মানুষের নিরাপদ পানির প্রধান উৎস। শুধু তালা উপজেলার বাসিন্দারাই নন, পাশের পাইকগাছা, কপিলমুনি ও কয়রা এলাকার মানুষও এখান থেকে সুস্বাদু ও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতেন। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় নতুন নলকূপ স্থাপন হওয়ায় চাপ কিছুটা কমলেও, এখনো প্রতিদিন শত শত মানুষ এই নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। নলকূপটির চারপাশের পাকা চাতাল সম্পূর্ণ ভেঙে ধসে গেছে। কোনো রকমে সচল রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের ঠেকা। নলকূপের হ্যান্ডেল ভাঙা এবং পাইপলাইনের একাধিক স্থানে লিকেজ (ছিদ্র) তৈরি হয়েছে। আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ রাজিবুল ইসলাম বলেন, “এই টিউবওয়েলটি একসময় পুরো এলাকার পানির অভাব দূর করত। এখন এটি ভেঙে বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে আছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
পানি নিতে আসা রোজিনা বেগম বলেন, “আগে খুব সহজে এখান থেকে পানি নেওয়া যেত। এখন পানি আনতে কষ্টও হয়, আবার ভয়ও লাগে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এখানে আসা এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নলকূপটি এমন নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
নলকূপটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করেছেন তালা উপজেলার উপসহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল হাসনাত কাজল। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তবে সরকারিভাবে বর্তমানে কোনো বরাদ্দ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই গভীর নলকূপটি সংস্কার করা হোক, অথবা এখানে নতুন একটি নলকূপ স্থাপন করে সুপেয় পানির সংকট দূর করা হোক।












