শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন ডা. বলরাম বিশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন ডা. বলরাম বিশ্বাস

জি এম আমিনুল হক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্বেতপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া চিকিৎসক ডা. বলরাম বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। নিজের খরচে ওষুধ সরবরাহসহ বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি এলাকায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছেন।

ডা. বলরাম বিশ্বাস জানান, তিনি সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে প্রথমে ৩০০ টাকা এবং পরে ২০০ টাকা ফি নেন। তবে ৭০ বছরের বেশি বয়সী, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে কোনো ফি নেন না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যেসব রোগী চেম্বারে আসতে পারেন না, তাঁদের জন্য প্রতি রোববার বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেন। তাঁর চেম্বারে রোগী দেখার সময় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা।

বিধবা, দরিদ্র, বয়স্ক ও এতিম ব্যক্তিদের পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন তিনি। প্রায় ২০ বছর ধরে দ্বিতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং জন্মগত প্রতিবন্ধী শিশুদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জরুরি রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থাও করেন।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে প্রতিবছর ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আসছেন। এসব আয়োজনে বড় অঙ্কের অর্থও ব্যয় করেন তিনি।

২০০২ সালে ঢাকায় চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ডা. বলরাম বিশ্বাস। ২০০৫ সাল থেকে সাত বছর গণস্বাস্থ্য সেবা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম সপ্তাহে নিজ এলাকায় রোগী দেখতেন। পরে মায়ের অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে অবস্থান শুরু করেন। বর্তমানে প্রতি মাসের শেষ পাঁচ দিন ঢাকায় নিজের চেম্বারে রোগী দেখেন।

চিকিৎসাসেবার বাইরেও সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯৮-৯৯ সালে ঢাকার সিটিং সার্ভিস বাসের পেছনে ‘একটি ভুল সারা জীবনের কান্না’—এই স্লোগানটি প্রায় এক হাজার বাসে নিজ হাতে লিখে দেন। গাবতলী, সায়েদাবাদ, ডেমরা, গুলিস্তান, মতিঝিল ও ফার্মগেটসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে লেখাটি দেখা যেত।

ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ডা. বলরাম বিশ্বাস। তিনি আশাশুনি ও বুধহাটা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।

Ads small one

তালায় শালিখা নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
তালায় শালিখা নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামে শালিখা নদী থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে তালা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধারের জন্য খেশরা ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, খবর পেয়ে তিনি পুলিশসহ ঘটনাস্থলে যান। মরদেহ দেখে তাঁর ধারণা, ওই যুবকের বয়স ৩০ থেকে ৩২ বছর। মরদেহে পচন ধরায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মঙ্গল মণ্ডল জানান, মরদেহটির পরনে জিনসের প্যান্ট ও ইংরেজিতে ‘টাইটানস’ লেখা ফুলহাতা গেঞ্জি ছিল। মরদেহ ফুলে যাওয়ায় মুখ দেখে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

তালার জলাশয়ে কচুরিপানার বেগুনি-সাদা ফুলের সমারোহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
তালার জলাশয়ে কচুরিপানার বেগুনি-সাদা ফুলের সমারোহ

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের আগমনী আবহে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জলাশয়, বিল ও নিচু জমিতে ফুটেছে কচুরিপানার বেগুনি ও সাদা ফুল। একসময় অবহেলিত এই জলজ উদ্ভিদের ফুল এখন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। সবুজের বুকে বেগুনি-সাদা ফুলের সমারোহ মুগ্ধ করছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় ঘুরে দেখা যায়, পানির ওপর ছড়িয়ে থাকা কচুরিপানার ফুলে কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক গালিচার মতো দৃশ্য। নিভৃত জলাশয়ে ফুটে থাকা এসব ফুল দেখতে চলার পথে থমকে দাঁড়াচ্ছেন স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও পথচারীরা। কেউ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউবা মুঠোফোনে ছবি তুলে রাখছেন।

কচুরিপানার ফুল দেখতে আসা স্থানীয় শিক্ষার্থী আহনাফ হক বলেন, “প্রতিদিনের পড়ালেখার ক্লান্তি কাটাতে প্রকৃতির এই রূপ সত্যিই মনকে প্রফুল্ল করে তোলে।”

কাজের ফাঁকে ঘুরতে আসা আবুল হোসেন বলেন, “যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার পর গ্রামবাংলার এমন শান্ত পরিবেশ ও ফুলের সৌন্দর্য দেখতে চমৎকার লাগে। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক রূপ মনে একধরনের প্রশান্তি এনে দেয়।”

গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, “একসময় বিল-ঝিলে এমন কচুরিপানার ফুল অনেক দেখেছি। কিন্তু এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না।” কচুরিপানাকে ঘিরে তাঁর জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিবেশবিদদের মতে, কচুরিপানার ফুল সাময়িকভাবে জলাশয়ের সৌন্দর্য বাড়ালেও অতিরিক্ত কচুরিপানা জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এর নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জেলা সবুজ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি এজাজ আহম্মেদ স্বপন বলেন, ঋতুবদলের এই সময়ে কচুরিপানার বেগুনি ও সাদা ফুল গ্রামীণ পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। সাধারণ এই জলজ উদ্ভিদের ফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, গ্রামবাংলার চিরচেনা সৌন্দর্য আজও লুকিয়ে আছে নিভৃত জলাশয় ও সবুজের মাঝে।

৭ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে তালা উপজেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
৭ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে তালা উপজেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তালা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলী, শরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদুল রাজু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব এবং সরুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

সভায় নেতারা জানান, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের বিকেল ৩টায় পাটকেলঘাটার পাঁচ রাস্তার মোড়ে শহীদ স ম আলাউদ্দীন চত্বরে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।