বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিবেক ও মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
বিবেক ও মানুষ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
মানুষ নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী মনে করে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সভ্যতার অগ্রগতি তার সেই দাবিকে অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত করেছে। মানুষ মহাকাশে পৌঁছেছে, সমুদ্রের গভীরতা মেপেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছে। কিন্তু এত অর্জনের পরও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়Ñনিজেকে বোঝার ক্ষেত্রে মানুষ কতটা এগিয়েছে?আমরা জানি কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ। জানি সত্য বলা উচিত, অন্যায় করা উচিত নয়। জানি কাউকে অপমান করা ঠিক নয়, দুর্বল মানুষের সুযোগ নেওয়া অন্যায়। তারপরও বাস্তব জীবনে আমরা প্রায়ই জেনেশুনে তার বিপরীত কাজ করি। এখানেই মানুষের সবচেয়ে বড় স্ববিরোধিতা।অন্যের নিন্দা করার সময় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, যার সমালোচনা করছি তিনিও একজন মানুষ। তারও অনুভূতি আছে, সম্মান আছে, দুর্বলতা আছে। অথচ তার অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে কথা বলতে আমাদের অনেকেরই দ্বিধা হয় না। সামনে প্রশংসা, পেছনে সমালোচনাÑএই দ্বৈত আচরণ এখন সামাজিক জীবনের পরিচিত চিত্র।কারও ভালো কাজের প্রশংসা করতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু সেই মানুষটি যখন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন, তখন তার ভালো কাজও চোখে পড়ে না। ব্যক্তিগত স্বার্থ সামনে এলে বিচারবোধ বদলে যায়। যে গুণ অন্যের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়, নিজের পছন্দের মানুষের ক্ষেত্রে সেটিই হয়ে যায় স্বাভাবিক; আবার অপছন্দের মানুষের একই কাজ হয়ে যায় অপরাধ।এভাবে আমরা ন্যায় বোধকেও অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বার্থের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি।মানুষের এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ক্ষমতা ও অর্থের ক্ষেত্রে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি, কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য নিয়ম ভাঙতে অনেক সময় দ্বিধা করি না। অন্যের অনিয়মে ক্ষুব্ধ হই, কিন্তু নিজের অনিয়মকে ‘ছোট ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যাই। অন্যের ঘুষ নেওয়া অপরাধ, অথচ নিজের পরিচিত কেউ কাজ সহজ করতে কিছু দিলে সেটিকে অনেক সময় ‘উপহার’ হিসেবে দেখার চেষ্টা করি।এখানেই বিবেকের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।একজন মানুষ যখন কোনো অন্যায় করে, তখন সে সবসময় জানে না যে সে অন্যায় করছেÑএমন নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রেই সে জানে কাজটি ঠিক নয়। কিন্তু নিজের কাজকে বৈধ প্রমাণ করার জন্য যুক্তি তৈরি করে। ‘সবাই করে’, ‘আমি না করলে অন্য কেউ করবে’, ‘পরিস্থিতির কারণে করতে হয়েছে’Ñএ ধরনের যুক্তি দিয়ে মানুষ নিজের বিবেককে শান্ত করার চেষ্টা করে।কিন্তু অন্যায়কে যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, ন্যায়সঙ্গত করা যায় না।আজকের সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই স্ববিরোধিতাকে আরও দৃশ্যমান করেছে। আমরা সেখানে খুব সহজেই নৈতিকতার কথা বলি। অন্যের ভুল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, মানবিকতার বাণী লিখি। কিন্তু নিজের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা তুলনা মূলকভাবে কম। অন্যের চরিত্র বিশ্লেষণ করা যেন আমাদের সহজ; নিজের চরিত্র বিশ্লেষণ করা কঠিন।অথচ সমাজ পরিবর্তনের প্রথম শর্ত অন্যকে পরিবর্তন করা নয়, নিজেকে পরিবর্তন করা।মানুষের চরিত্রের প্রকৃত পরীক্ষা হয় তখন, যখন তাকে কেউ দেখছে না। সবার সামনে ভালো থাকা খুব কঠিন নয়। প্রশংসা পাওয়ার সময় বিনয়ী হওয়া সহজ। কিন্তু কোনো সুযোগে অন্যের ক্ষতি করা সম্ভব হলেও তা না করা, ক্ষমতা হাতে থাকলেও দুর্বলকে দমন না করা, প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও সংযত থাকাÑএসবই প্রকৃত চরিত্রের পরিচয়।একজন মানুষ কতটা শিক্ষিত, তা তার সনদে বোঝা যায়। কিন্তু সে কতটা মানুষ, তা বোঝা যায় তার আচরণে।আমরা সন্তানদের ভালো ফলাফল করতে শেখাই, বড় চাকরি করতে শেখাই, প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে শেখাই। কিন্তু তাদের কতটা শেখাই যে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি সৎ থাকাও জরুরি? কতটা শেখাই যে অন্যকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া আর অন্যের অধিকার কেড়ে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়? শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু কর্মসংস্থান নয়; মানুষ তৈরি করাও শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।সমাজে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা হলোÑসৎ মানুষকে অনেক সময় বাস্তব জ্ঞানহীন বা বোকা হিসেবে দেখা। যে ব্যক্তি ঘুষ নেয় না, প্রতারণা করে না, অন্যের অধিকার নষ্ট করে না, তাকে অনেকে ‘সুবিধা নিতে জানে না’ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে অসৎ ভাবে দ্রুত অর্থ বা ক্ষমতা অর্জনকারীকে অনেক সময় সফল মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই মূল্যবোধের পরিবর্তন দরকার। সাফল্য যদি শুধু অর্থ, পদ ও ক্ষমতার মাপকাঠিতে বিচার করা হয়, তাহলে সমাজে নৈতিকতার জায়গা সংকুচিত হবেই। প্রকৃত সাফল্য হলো এমনভাবে এগিয়ে যাওয়া, যেখানে নিজের উন্নতির সঙ্গে অন্যের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।মানবিকতা বড় কোনো তত্ত্ব নয়। এটি ছোট ছোট আচরণের মধ্যেই প্রকাশ পায়। রাস্তায় অসহায় মানুষকে সাহায্য করা, কর্মস্থলে অধীনস্থকে সম্মান করা, ভুল করলে ক্ষমা চাওয়া, অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা, নিজের প্রাপ্যের বাইরে কিছু না নেওয়াÑএসব ছোট কাজই একটি বড় মানবিক সমাজ তৈরি করতে পারে।কিন্তু আমরা অনেক সময় বড় বড় কথা বলি, ছোট ছোট দায়িত্ব ভুলে যাই। কারও প্রতি অন্যায় আচরণ করার আগে যদি একবার ভাবিÑআমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হলে কেমন লাগত, তাহলে অনেক অন্যায় থেমে যেতে পারে। কারও সম্মান নষ্ট করার আগে যদি মনে রাখিÑআমারও সম্মান আছে, তাহলে অনেক অপমানের ঘটনা ঘটত না। অন্যের অধিকার হরণ করার আগে যদি বুঝিÑঅধিকার হারানোর কষ্ট কেমন, তাহলে হয়তো নিজের স্বার্থকে একটু সংযত করা সম্ভব হতো।বিবেক আসলে মানুষের ভেতরের সেই নীরব কণ্ঠ, যা ভালো-মন্দের পার্থক্য মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু সেই কণ্ঠকে আমরা যত বেশি উপেক্ষা করি, তা তত দুর্বল হয়ে যায়। একসময় অন্যায়ও স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে।তাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আত্মজিজ্ঞাসার। প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করাÑআমি কি সত্যিই সেই মানুষ, যাকে অন্যের সামনে তুলে ধরতে চাই? আমি অন্যের কাছে যে নৈতিকতা প্রত্যাশা করি, নিজে কি তা পালন করি? যে আচরণ অন্যের কাছ থেকে পেলে আমি কষ্ট পাই, সেই আচরণ কি আমি অন্যের সঙ্গে করি না?এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অন্য কাউকে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের কাছেই সৎভাবে উত্তর দেওয়াই যথেষ্ট।মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রকৃত পরিচয় শুধু নতুন কিছু আবিষ্কার করার ক্ষমতায় নয়; নিজের ভুল স্বীকার করার সাহসেও। নিজের স্বার্থের বাইরে অন্যের কথা ভাবতে পারায়। ক্ষমতা থাকলেও সংযত থাকতে পারায়। সুযোগ থাকলেও অন্যায় না করার শক্তিতে।সমাজে আইন থাকবে, প্রতিষ্ঠান থাকবে, শাস্তির ব্যবস্থা থাকবেÑএসব প্রয়োজনীয়। কিন্তু কোনো আইনই মানুষের বিবেকের বিকল্প হতে পারে না। একজন পুলিশ বা প্রশাসনের কর্মকর্তা সবসময় পাশে থাকতে পারেন না। একজন বিচারক প্রতিটি কাজের সাক্ষী হতে পারেন না। কিন্তু একজন মানুষের বিবেক সবসময় তার সঙ্গে থাকে।সেই বিবেককে জাগ্রত রাখাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমরা যদি সত্যিই নিজেদের বুদ্ধিমান মনে করি, তাহলে সেই বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হওয়া উচিত আমাদের আচরণে। কথায় নয়, কাজে; প্রদর্শনে নয়, চরিত্রে; অন্যকে বিচার করার মধ্যে নয়, নিজেকে বিচার করার সাহসে।শেষ পর্যন্ত মানুষ অন্যের চোখে যতটা ভালো, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সে নিজের চোখে কতটা সৎ। কারণ অন্য সবাইকে কিছু সময়ের জন্য বোঝানো সম্ভব, কিন্তু নিজের বিবেককে দীর্ঘদিন ফাঁকি দেওয়া যায় না।তাই সময় এসেছে অন্যকে প্রশ্ন করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করারÑবিবেক যা বলছে, আমি কি সত্যিই তা শুনছি। লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

ইইউতে বাংলাদেশের পোশাকে বড় ধাক্কা, রফতানি কমলো ১৪%

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
ইইউতে বাংলাদেশের পোশাকে বড় ধাক্কা, রফতানি কমলো ১৪%

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক আমদানির বাজারে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সামগ্রিকভাবে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাইয়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে এই পতনের চেয়েও বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ইইউতে কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

অর্থাৎ ইইউর বাজারে চাহিদা কমার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়লেও বাংলাদেশ শুধু বাজার সংকোচনের কারণে কমেনি; বরং সামগ্রিক বাজারের তুলনায় আরও বেশি হারে বাজার হারিয়েছে।

ইইউর আমদানি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৫৪ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছিল ইইউ। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা নেমে এসেছে ৫১ হাজার ৬১৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ২ হাজার ৭৭৫ মিলিয়ন ইউরো।

শুধু মূল্য নয়, আমদানির পরিমাণও কমেছে। গত বছরের প্রথম সাত মাসে ইইউ ২ হাজার ৬৮৮ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন কেজি পোশাক আমদানি করেছিল। এ বছর তা কমে হয়েছে ২ হাজার ৬০১ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন কেজি—পতন ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।

সুগন্ধি চাল নিয়ে কী ঘটেছিল? দাম চড়তেই অর্ধেক হলো রফতানি কোটা
অর্থাৎ ইইউর পোশাক বাজারে ক্রেতারা এ বছর আগের তুলনায় কম পোশাক কিনছেন। একই সঙ্গে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্যও কমেছে। সব উৎস মিলিয়ে গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ১৯ দশমিক ৮৪ ইউরো হয়েছে।

বাংলাদেশের পতন বাজারের চেয়েও বেশি

এই সামগ্রিক বাজার সংকোচনের মধ্যেই বাংলাদেশের চিত্র আরও চ্যালেঞ্জিং। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি মূল্য কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই সময়ে রফতানির পরিমাণ কমেছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

অর্থাৎ পরিমাণের তুলনায় মূল্যের পতন অনেক বেশি। এর অন্যতম কারণ বাংলাদেশের পোশাকের গড় রফতানি মূল্য কমে যাওয়া।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ১৩ দশমিক ৮০ ইউরো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তুলনায় এটি ইইউর প্রধান পোশাক সরবরাহকারীদের মধ্যে সর্বনিম্ন গড় মূল্য।

ফলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে দুটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—রফতানির পরিমাণ কমছে এবং প্রতি কেজি পোশাকের দামও কমছে। এর ফলে মোট রফতানি আয়ের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

অপরদিকে, ইইউর বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগীদের কয়েকজন ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে।

চীনের পোশাক আমদানি মূল্য ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ যখন ইইউর মোট পোশাক আমদানি মূল্য ৫ শতাংশের বেশি কমেছে, তখন এই দুই দেশ বাজারে তাদের সরবরাহ বাড়াতে পেরেছে।

এখানে ভিয়েতনামের গড় ইউনিট মূল্যও বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। কম্বোডিয়ার গড় মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ এসব দেশের ক্ষেত্রে বাজারের অংশ ধরে রাখার সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক বেশি দামে পোশাক বিক্রির প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটি এর বিপরীত। বাংলাদেশ কম দামে পোশাক সরবরাহ করেও বাজারের অংশ ধরে রাখতে পারেনি। ফলে ইইউর বাজারে প্রতিযোগিতার ধরন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

তবে জুন-জুলাইয়ে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

সামগ্রিক জানুয়ারি-জুলাই হিসাব এখনো বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক। কিন্তু মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি বছরের জুন ও জুলাই—টানা দুই মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়েছে।

জুনে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ২০২৫ সালের ১ হাজার ৩৫৫ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ১ হাজার ৩৬৭ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি আরও কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে রফতানি ছিল ১ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ইউরো। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭২৯ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ইউরো—প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।

জুন থেকে জুলাইয়ের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। এক মাসে বাংলাদেশের রফতানি মূল্য বেড়েছে ৩৬২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ইউরো, যা ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশের মাসিক বৃদ্ধি।

এই দুই মাসের প্রবৃদ্ধির কারণে জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের পোশাক রফতানির যে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ পতন ছিল, জানুয়ারি-জুলাই শেষে তা কমে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ ক্রমপুঞ্জীভূত পতন ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

এখনই পুনরুদ্ধার বলা যাচ্ছে না

তবে এই পরিবর্তনকে এখনই বাজার পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ সাত মাসের হিসাবে বাংলাদেশের রফতানি এখনো দ্বিগুণ অঙ্কে কম। একই সময়ে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে।

বরং জুন ও জুলাইয়ের তথ্যকে আপাতত পতনের গতি কমে আসার প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী দুই মাসে তার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আগামী মাসগুলোতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে কি না। যদি জুন-জুলাইয়ের মতো প্রবৃদ্ধি পরবর্তী মাসগুলোতেও ধরে রাখা যায়, তাহলে বছরের শুরুতে তৈরি হওয়া বড় ঘাটতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আবার প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হলে সাত মাসের এই সাময়িক উন্নতির প্রভাবও দ্রুত ম্লান হয়ে যেতে পারে।

কম দাম কি বাংলাদেশের জন্য সুবিধা, নাকি চাপ?

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পোশাকের ইউনিট মূল্য। ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম কেজিপ্রতি ১৩ দশমিক ৮০ ইউরো, যা তুলনামূলকভাবে সর্বনিম্ন। অথচ এই কম দাম বাংলাদেশের বাজার অংশ ধরে রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।

এতে বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি বড় বাস্তবতা সামনে আসে—শুধু কম দামে পোশাক সরবরাহ করে ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একই সময়ে প্রতিযোগী কিছু দেশ তুলনামূলক বেশি দামে পণ্য বিক্রি করেও বাজার বাড়াতে পারছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, সামগ্রিক বাজার সংকোচনের মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য সাম্প্রতিক মাসগুলোর প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জানুয়ারি-জুলাইয়ের সামগ্রিক চিত্র এখন নেতিবাচক হলেও জুন ও জুলাইয়ে টানা প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর ফলে জানুয়ারি-জুনের ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ পতন সাত মাসে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এটিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার বলা ঠিক হবে না; বরং পতনের গতি কমে আসার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায়।

ইইউ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। তাই এই বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়া, প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের ইউনিট মূল্য কমে যাওয়ার প্রবণতা—তিনটি বিষয়ই বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে

জুন-জুলাইয়ের ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখা গেলে পরিস্থিতির উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে বেশি মূল্য সংযোজনের পোশাক, পণ্যের বৈচিত্র্য, মান, সরবরাহ সক্ষমতা এবং ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কারণ সাত মাসের তথ্য আপাতত একটি দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছে—ইইউর বাজার সংকুচিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই সংকোচনের মধ্যে সব সরবরাহকারী সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাংলাদেশ যেখানে কম দামে পোশাক বিক্রি করেও বাজার হারিয়েছে, সেখানে চীন ও ভিয়েতনাম বাজার বাড়িয়েছে। আবার জুন ও জুলাইয়ের টানা প্রবৃদ্ধি বলছে, বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি একমুখী নেতিবাচকও নয়।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আবারও মালয়েশিয়া যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।

এর আগে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর তিনি দেশে ফিরেছিলেন।

ঘরেই উৎপাদন করা যাবে বিদ্যুৎ, বিক্রি করতে পারবেন সরকারের কাছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
ঘরেই উৎপাদন করা যাবে বিদ্যুৎ, বিক্রি করতে পারবেন সরকারের কাছে

অনলাইন ডেস্ক: ঘরে ঘরে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহী করছে বাংলাদেশ সরকার। নিজের ঘরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অতিরিক্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে টাকাও আয় করা যাবে। জাতীয় গ্রিডে দেওয়া প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য সরকার ১০.৫০ টাকা করে দেবে। এতে শুধু নিজের বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, অর্থ উপার্জনের পথও খুলছে।

এ বিষয়ে সরকারি এক বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সোলার দিয়ে নিজের বিদ্যুৎ নিজেই উৎপাদন করুন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করুন। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য সরকার ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে দেবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ এর মধ্যে সোলার সিস্টেম চালু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে এই পরিমাণ প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

সোলার বাছাইয়ের বিষয়ে সরকারি এই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগে দেখুন আপনার ছাদে কতটা সোলার বসানো যাবে। সোলার ক্যালকুটের ব্যবহার করে সহজেই হিসাব করুন। তালিকাভুক্ত সোলার কোম্পানি বেছে নিন। সোলার ও ব্যাটারি বসানো ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে। সময়ের মধ্যে সোলার চালু করুন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করুন।