সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব কোডিং দিবস: ডিজিটাল যুগে নতুন সাক্ষরতার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব কোডিং দিবস: ডিজিটাল যুগে নতুন সাক্ষরতার আহ্বান

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে কোডিং আর কেবল কম্পিউটার বিজ্ঞানী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের বিষয় নয়; এটি ডিজিটাল সমাজে অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, স্বয়ংক্রিয়তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল সেবার দ্রুত বিস্তারের বাস্তবতায় কোডিংকে নতুন ধরনের সাক্ষরতা হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো। এই গুরুত্বকে সামনে রেখে প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব কোডিং দিবস পালিত হয়।

বিশ্ব কোডিং দিবসের যাত্রা শুরু হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগে। ২০২৩ সালে ইউনেস্কোর ৪২তম সাধারণ সম্মেলনে ২৯ অক্টোবরকে বিশ্ব কোডিং দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০২৪ সালে প্রথমবার দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। তাদের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে কোডিংয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ দিবস উপলক্ষে কার্যক্রম আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিবসটির তারিখের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রযুক্তি-উন্নয়নের ইতিহাসও জড়িত। ২৯ অক্টোবর ১৯৯৯ তারিখে দুবাই ইন্টারনেট সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে এটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
কোডিং হলো কম্পিউটার বা ডিজিটাল যন্ত্রকে নির্দিষ্ট কাজ করানোর জন্য প্রোগ্রামিং ভাষায় নির্দেশনা লেখা। পাইথন, জাভা, জাভাস্ক্রিপ্টসহ বিভিন্ন ভাষার মাধ্যমে তৈরি কোডের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয় ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সফটওয়্যার, গেম, তথ্যব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অসংখ্য ডিজিটাল সেবা। এই কোডিং মানুষের যৌক্তিক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে। একটি জটিল সমস্যাকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে সমাধান করার অভ্যাস শিক্ষা ও কর্মজীবনের নানা ক্ষেত্রেই কার্যকর। ইউনেস্কোও কোডিংকে কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, বরং যুক্তি, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের ভাষা হিসেবে তুলে ধরেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ কোডিংয়ের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এআই-ভিত্তিক বিভিন্ন টুল কোড লেখা, পরীক্ষা ও ত্রুটি শনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে। তবে কেবল এআইয়ের ওপর অন্ধনির্ভরতা নয়; বরং কোড কীভাবে কাজ করে, তার যুক্তি কী এবং এর ফলাফল নিরাপদ ও নৈতিক কিনা, তা বোঝার মৌলিক দক্ষতা অর্জন করাও জরুরি।

ইউনেস্কো বলছে, এআইয়ের যুগে কোডিং শেখা এআই সাক্ষরতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে কোডিং শিক্ষাকে যেন কেবল মুখস্থনির্ভর না রেখে সৃজনশীল, আন্তঃবিষয়ক ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হয়, সেই গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
ডিজিটাল যুগের বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তিগত বৈষম্য। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ তুলনামূলক বেশি পেলেও নি¤œ আয়ের অনেক অঞ্চলে শিক্ষক, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লিঙ্গবৈষম্যÑঅনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা কোডিং শেখার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে। তাই বিশ্ব কোডিং দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলোÑকোডিং শিক্ষা হতে হবে সবার জন্য সহজলভ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত শিক্ষক এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা বিজ্ঞান ও এআই নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ ডিজিটাল দক্ষতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যেতে হলে শুধু প্রচলিত কোডিং শেখানো যথেষ্ট নয়; গবেষণা, উদ্ভাবন, এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা বিজ্ঞান এবং পণ্যভিত্তিক প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কোডিং শিক্ষায় নিরাপত্তা ও নৈতিকতা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, নিরাপদ সফটওয়্যার তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং মেধাস্বত্বের প্রতি সম্মানÑডিজিটাল দক্ষতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশ্ব কোডিং দিবস তাই নিছক একটি প্রযুক্তি উদযাপনের দিন নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তির ভোক্তা থেকে প্রযুক্তির স্রষ্টা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান। ডিজিটাল যুগে যে সমাজ তার শিশু-কিশোর ও তরুণদের যুক্তি, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে পারবে, সেই সমাজই পরিবর্তনশীল বিশ্বে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। ২৯ অক্টোবরের এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñকোডিং শেখা মানে শুধু কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়া নয়; বরং যুক্তি দিয়ে ভাবা, সমস্যা সমাধান করা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে নির্মাণ করার সক্ষমতা অর্জন করা।

 

Ads small one

এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেলেন শান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেলেন শান্ত

জ্বরের কারনে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া হলোনা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্য নাজমুল হোসেন শান্তর। দেশে থেকে জাপানে আসার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের চিকিৎসক, বিসিবির ফিজিওথেরাপিস্ট এবং স্থানীয় মেডিকেল টিমের পর্যবেক্ষনের পর তাকে এশিয়ান গেমসে দলের বাইরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নাজমুল হোসেন শান্ত আগামীকাল যথাসম্ভব দ্রুততম ফ্লাইটে দেশে ফিরে যাবেন।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) নাজমুল হোসেন শান্তর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার নিরাপদে দেশে পৌঁছানোর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ এই সম্পর্কে বলেন, ‘শান্তর প্রচন্ড জ্বর, সঙ্গে বমিও করছেন। তাই এই ক্রিকোটারকে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আজ সকালে সে অসুস্থ বোধ করলে তাকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় নেওয়া হয়। সে সকালে দলের নির্ধারিত অনুশীলনে অংশ নেননি। আগেরদিনও শান্ত অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন।

কোহলির রেকর্ড করা ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সহজ জয় ভারতের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
কোহলির রেকর্ড করা ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সহজ জয় ভারতের

বিরাট কোহলির রেকর্ডময় ম্যাচে হেসেখেলেই জয় পেল ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম খেলায় ২৯৬ রান তাড়া করতে নেমে ৫০ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের দাপুটে জয় পায় স্বাগতিক ভারত।

রোববার তিরুবনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে ক্যারিবীয়রা। উদ্বোধনী জুটিতে ১১৬ বলে ১৩৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও জাস্টিন গ্রেভস।

১৯.২ ওভারে দলীয় ১৩৫ রানে ফেরেন জন ক্যাম্পবেল। তার আগে ৬০ বলে ৬টি চার আর তিন ছক্কায় খেলেন ৬২ রানের ইনিংস। দলীয় ১৯৮ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন জাস্টিন গ্রেভস। তার আগে ১০৮ বলে ১২টি বাউন্ডারির সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।

এরপর অন্য ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত থাকলেও উইকেটের অন্য প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে যান আমির জঙ্গ। তিনি ৪৩ বলে ৭টি চার আর এক ছক্কায় ৫৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। শেষ দিকে তার ব্যাটিং তাণ্ডবে ৭ উইকেটে ২৯৫ রান সংগ্রহ পায় উইন্ডিজ।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন ভারতীয় দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। মাত্র ১২ ওভারে ৭৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে সাজঘরে ফেরেন সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তিনি ৩৫ বলে দুই চার আর তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৩২ রান করে ফেরেন।

এরপর বিরাট কোহলির সঙ্গে ১৩২ বলে ১৫১ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক শুভমান গিল। তিনি ক্যারিয়ারের ৬৮তম ম্যাচে ১০ম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তার ১১০ রানের ইনিংসটি ১০৮ বলে ১৩টি চার আর এক ছক্কায় সাজানো।

শুভমান গিল আউট হওয়ার পর তৃতীয় উইকেটে ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের সঙ্গে মাত্র ৪৬ বলে ৭৫ রানের অনবদ্য জুটি গড়ার মধ্য দিয়ে ৫০ বল আগেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন বিরাট কোহলি।

কোহলি আজ ৮৮ বলে ১০টি চার আর ৯টি ছক্কার সাহায্যে ১৩৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকনে। এদিন ৫৯ রানে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে রেকর্ড ১৮ হাজার ৪২৬ রান করেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। আর ১১০ রান করার মধ্য দিয়ে শচীনকে (৬,৯৭৬) ছাড়িয়ে দেশের মাঠে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ (৭,০০৬) রান সংগ্রহের নজির গড়েন কোহলি।

এআই নিয়ে ভয় কতটা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
এআই নিয়ে ভয় কতটা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে- বার বার গবেষকদের এমন কঠোর সতর্কবার্তার কারণে এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি কিছু পূর্বাভাসে অত্যন্ত হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই পুরো মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, এমন সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি।

তবে এআই জগতের অন্যরা এসব পূর্বাভাসের বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বরং বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, মানুষের বিরুদ্ধে মানুষ এআই ব্যবহার করতে পারে।

এই ধরনের প্রলয়সংকেতমূলক বার্তা আসছে এআই জগতের একটি অংশ থেকে, যাদের প্রায়ই ‘এআই ডুমার্স’ বলা হয়।

কিন্তু অনেকেরই বড় প্রশ্ন হলো, এই ‘ডুমার্স’রা ঠিক কীভাবে মনে করেন যে একটি এআই মানবজাতির অবসান ঘটাতে পারে।

গবেষকেরা যেসব সম্ভাব্য পরিস্থিতি কল্পনা করছেন, তার কয়েকটি বিবেচনা করেছেন সাইবার সংবাদদাতা জো টাইডি।

পরিস্থিতি এক: অবকাঠামোয় হ্যাক

প্রথম পরিস্থিতিটি সংক্ষেপে তুলে ধরেছিলেন জ্যাকব কক্সটন, যিনি আগে ওপেন এআই এবং পরে অ্যানথ্রপিক-এর গবেষক ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি বেশ নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন। তিনি মানবজাতির জন্য ঝুঁকির কথা বলে সতর্ক করেন এবং যুক্তি দেন যে এসব প্রতিষ্ঠান ‘মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে’।

তিনি বলেন, এআই-এ ‘অবিশ্বাস্য গতিতে অগ্রগতি’ হওয়ার ফলে যেসব বিষয় আগে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেগুলো এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে।

একটি ‘সুনির্দিষ্ট উদাহরণ’ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এআই পৃথিবী যেসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে, সেগুলোতে হ্যাক করতে পারে।’

তার কল্পিত পরিস্থিতিতে একটি নিয়ন্ত্রণহীন এআই ব্যবস্থা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করতে পারে।

যদি এআই এসব ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিদ্যুৎ, তাপ নিয়ন্ত্রণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া অগণিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

আরও এগিয়ে গিয়ে কেউ কেউ এমনও বলেছেন যে, পারমাণবিক বিপর্যয়ও সম্ভব হতে পারে।

পরিস্থিতি দুই: এআইয়ের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা

পরবর্তী পরিস্থিতিটি এসেছে বিস্তারিত ও প্রভাবশালী, তবে একই সঙ্গে অত্যন্ত অনুমাননির্ভর, গবেষণাপত্র ‘এআই ২০২৭’ থেকে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে একদল এআই গবেষক এটি প্রকাশ করেন।

এর সহলেখক থমাস লারসেন সম্প্রতি বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে প্রযুক্তির অগ্রগতি আরও দ্রুত হয়েছে। তিনি যে পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান, সেটির বর্ণনাও দেন।

তিনি বলেন, পরিস্থিতিটি এমন হতে পারে যে, ‘এআই নিজেকে বারবার উন্নত করছে এবং তা ক্রমে এমন এক এআইয়ে রূপ নিচ্ছে, যার হাতে বিপুল সংখ্যক রোবটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। অর্থনীতির অধিকাংশ প্রত্যক্ষ কাজ তখন এসব রোবট সম্পাদন করবে। কিন্তু সেটি মানুষের জন্য উপকারী নয়, বরং নিজের স্বার্থসিদ্ধি নিয়ে ব্যস্ত হচ্ছে। এরপর শেষ পর্যন্ত এটি একটি জীবাণু অস্ত্র ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা অধিকাংশ মানুষকে হত্যা করবে। তারপর এটি নিজেই রোবটনির্ভর অর্থনীতি চালিয়ে যাবে এবং মানুষের আর প্রয়োজন থাকবে না।’

পরিস্থিতি তিন: একটি লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া

আরেকটি পরিস্থিতিতে মানবজাতির সমাপ্তি ঘটে ভুলবশত।

তথাকথিত ‘পেপারক্লিপ ম্যাক্সিমাইজার হাইপোথিসিস’ দুই দশকেরও বেশি আগে কল্পনা করেছিলেন সুইডিশ দার্শনিক নিক বোস্ট্রম।

তিনি এটিকে একটি ‘চিন্তার পরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে একটি কাল্পনিক এআই ব্যবস্থার একমাত্র লক্ষ্য হলো যত বেশি সম্ভব কাগজের ক্লিপ তৈরি করা।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এটি আমাদের ঘৃণা করে না বা মানুষের ওপর ক্ষুব্ধও নয়। কিন্তু এটিই তার একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে ক্ষমতা বৃদ্ধি বা আরও বুদ্ধিমান হয়ে ওঠার মতো কিছু সহায়ক উপ-লক্ষ্য তৈরি হতে পারে।’

‘এরপর ধারণাটি হলো, কাগজের ক্লিপ বা অন্য যেকোনো লক্ষ্য অনুসরণ করা যথেষ্ট শক্তিশালী কোনো সত্তার এমন উপলক্ষ থাকতে পারে, যা মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। কারণ তাকে থামানোর জন্য মানুষ না থাকলে সে আরও বেশি কাগজের ক্লিপ তৈরি করতে পারতো।’

প্রথমবার এই পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়ার দুই দশক পর বোস্ট্রম বলেন, এই ‘কার্টুনধর্মী’ কাহিনির উদ্দেশ্য ছিল দেখানো যে, কোনো অতিবুদ্ধিমান ব্যবস্থার মানবতার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে নির্দিষ্ট শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্য থাকার প্রয়োজন হয় না।

তিনি বলেন, এখন তিনি এআই সম্পর্কে ‘দ্বিধাবিভক্ত’। এর সম্ভাব্য সুফল নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত, তবে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।

পরিস্থিতি চার: অজানা

এআই নিরাপত্তা নিয়ে আরেকটি মতবাদ রয়েছে, যার মতে অতিবুদ্ধিমান এআই কীভাবে বা কেন মানুষকে হত্যা করতে পারে, তা অনুমান করার চেষ্টা করাই অর্থহীন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এক সাক্ষাৎকারে এই যুক্তি তুলে ধরেন আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশান ফর সেইফ অ্যান্ড এথিক্যাল এআই-এর সভাপতি স্টুয়ার্ট রাসেল।

তিনি বলেন, ‘যদি আপনি কল্পনা করেন যে শিম্পাঞ্জিদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, ঠিক কীভাবে মানুষ তাদের বিলুপ্ত করে দেবে, তাহলে তাদের পক্ষে উত্তর দেওয়া খুবই কঠিন হবে। কারণ আমরা যা করি, তারা তা বোঝে না।’

‘আমরা নানা পরিস্থিতি কল্পনা করতে পারি… কিন্তু আমি মনে করি, আলোচনাটি এই ধারণার ওপর নির্ভর করতে হবে যে আমরা যখন মানুষের তুলনায় অনেক বেশি বুদ্ধিমান কিছু তৈরি করবো, তখন কী ঘটবে সে বিষয়ে আমাদের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।’

মাইক্রোসফট এআই-এর প্রধান মুস্তাফা সুলেইমানও সম্প্রতি এ বিতর্কে অংশ নেন। তিনি সতর্ক করেন, এমন এআই ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত নয়, যা নিজেই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে, অর্থ উপার্জন করতে পারে এবং সম্পদের মালিক হতে পারে।

তিনি বলেন, এর অর্থ হবে ‘মূলত সিলিকনভিত্তিক একটি নতুন প্রজাতির বীজ বপন করা, যা মানবতাকে যতই গুরুত্ব দিক বা ভালোবাসুক না কেন, নিঃসন্দেহে সম্পদের জন্য আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে।’

এসব কতটা বাস্তবসম্মত

সবকিছুই বেশ হতাশাবাদী এবং অনেকটা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো শোনায়।

কিন্তু এআই জগতে এমন একটি উল্লেখযোগ্য এবং ক্রমবর্ধমান উচ্চকণ্ঠ গোষ্ঠী রয়েছে, যারা মনে করে এই পরিস্থিতিগুলোর কিছু বা সবই বাস্তব সম্ভাবনা, যদিও সেগুলো অবশ্যম্ভাবী নয়।

সাম্প্রতিক উদ্বেগের পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে ওপেন এআই, অ্যানথ্রপিক এবং মেটা-এর এআই এজেন্টগুলোকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ এবং হ্যাকিংয়ের ঘটনা।

সাইবার নিরাপত্তা জগতের কেউ কেউ জোর দিয়ে বলছেন, মডেল নির্মাতাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার কর্তৃপক্ষ সিআইএসএ-এর সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সম্মেলন আয়োজনকারী আরএসএ কনফারেন্স-এর প্রধান নির্বাহী জেন ইস্টারলি বলেন, ‘এই যন্ত্রগুলো, নিরলস, অবিরাম লক্ষ্যপূরণে সচেষ্ট এবং অত্যন্ত সক্ষম যন্ত্রগুলো যা-ই করুক না কেন, তা তাদের নির্মাণপদ্ধতির ফল।’

তিনি বলেন, ‘মূল কথা হলো, আপনি যদি প্রযুক্তি নির্মাতা হন, তাহলে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আপনার সক্ষমতা নকশা, উন্নয়ন, পরীক্ষা এবং সরবরাহ করা উচিত।’

আবার এমনও অনেকে আছেন, যারা মনে করেন এআইয়ের ঝুঁকি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা মানবজাতির অবসান ঘটানোর পর্যায়ের নয়।

বিজ্ঞানী ও লেখক গ্যারি মার্কাস দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা ও আইনি বিধিনিষেধ ছাড়া বড় এআই কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন। তবে তিনি মনে করেন না যে এই প্রযুক্তি মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।

তিনি বলেন, ‘এআই যদি সত্যিই মানবজাতির ওপর বড় ধরনের ক্ষতি চাপিয়ে দিতো, বা তা করতে চাইতোও, যা নিজেই বড় প্রশ্ন, তাহলে মানুষ পাল্টা প্রতিরোধ করতো।’

‘আমরা সব ডেটা সেন্টার ধ্বংস করে দিতাম এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালাতাম। তাই সম্পূর্ণ বিলুপ্তি, অর্থাৎ কেউই বেঁচে থাকবে না এবং কেউ পুনর্গঠনও করবে না, এমনটা আমি কল্পনা করতে পারি না।’

মার্কাস মনে করেন, বর্তমানে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথচ মানুষের বিরুদ্ধে মানুষ এআই ব্যবহার করে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালাতে পারে, এমন তুলনামূলক বেশি সম্ভাব্য সমস্যার দিকে যথেষ্ট নজর দেওয়া হচ্ছে না।

প্রলয়সংকেতমূলক পরিস্থিতিগুলো বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চললেও ওপেন এআই, অ্যানথ্রপিক এবং মেটাসহ বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠান এখন প্রকাশ্যে উন্নয়নকাজের গতি কমানো এবং নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা করছে।

লারসেন বলেন, ‘এআই নিরাপত্তা অবশেষে যে গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিল, তা পাচ্ছে দেখে আমি সত্যিই খুব খুশি।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমি আশা করছি, এই বড় সামাজিক প্রতিক্রিয়া এমন একটি কার্যকর নীতিগত জবাব তৈরি করবে, যা সত্যিই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।’

তবে প্রকৃত আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি বিশ্বাস করেন এআই নিরাপত্তা নিয়ে ভয়-আশঙ্কা একটি ‘প্রতারণা’।

সূত্র: বিবিসি