ভোমরা বন্দর সড়কে ছিনতাইচক্রের দাপট, শঙ্কায় পথচারীরা
এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে চুরি ও ছিনতাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আলিপুর বিজিবি চেকপোস্ট থেকে শুরু করে পুরো বন্দর সড়কে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইকারী চক্র। এতে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি চরম রূপ নিয়েছে।
সড়কের বাঁকে বাঁকে উৎপেতে থাকা এসব চক্র শুধু রাতেই নয়, দিনদুপুরেও ছিনতাই চালাচ্ছে। রাতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল কমে গেলে ফাঁকা স্থানগুলোকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে সুযোগ হাতড়ায় দুষ্কৃতকারীরা।
গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় টাওয়ার মোড় এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মাহমুদপুর বাদামতলা থেকে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে নিজ গ্রাম লক্ষীদাঁড়ীতে ফিরছিলেন সুজয় নামে এক ব্যক্তি। এ সময় পেছন দিক থেকে মোটরসাইকেলে এসে তাঁর হাত থেকে মূল্যবান মোবাইল ফোনটি টেনে নিয়ে পালিয়ে যায় দুই ছিনতাইকারী। স্থানীয় যুবকেরা ধাওয়া করেও তাদের ধরতে সক্ষম হননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে পুরো বন্দর ও সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানি বেড়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সূত্রে জানা যায়, থানায় জমা পড়া জিডির একটি বড় অংশই মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক। চক্রটি ছিনতাইয়ের পর দ্রুত আইএমইআই (ওগঊও) নম্বর পরিবর্তন বা ফ্ল্যাশ দিয়ে মোবাইল বিক্রি করে দেয়। শহর বা বাসাবাড়িমুখী যাত্রীদের লক্ষ্য করে বাস বা লঞ্চ টার্মিনালসহ জনবহুল স্থানগুলোতেও তৎপরতা বাড়িয়েছে চক্রটি।
তবে হয়রানির আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগীই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা করতে চান না। সাতক্ষীরা সদর থানার কর্মকর্তা জানান, মোবাইল ফোন চুরি বা ছিনতাই সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পেলেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সচল রয়েছে।






