মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মক্কা-মদিনার রক্ষক, ফিলিস্তিনের ব্যর্থ অভিভাবক? সৌদি রাজনীতির নির্মম দ্বিচারিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
মক্কা-মদিনার রক্ষক, ফিলিস্তিনের ব্যর্থ অভিভাবক? সৌদি রাজনীতির নির্মম দ্বিচারিতা

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র দুই ভূমি মক্কা এবং মদিনা। সারা বিশ্বের শতকোটি মুসলমানের আবেগ, বিশ্বাস এবং অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু। অতি সম্প্রতি এই পবিত্র নগরীদ্বয়কে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের উপর্যুপরি হামলা বা হামলার অপচেষ্টা কেবল একটি ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত নয়; বরং এটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে সরাসরি কুঠারাঘাত। ইসলামের অবমাননা এবং পবিত্র ভূমির নিরাপত্তা বিঘিœত করার এই হীন হুতি অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কোনো অজুহাত বা রাজনৈতিক সমীকরণ চলতে পারে না। এর তীব্রতম ও কঠোরতম নিন্দা জানানো আজ প্রতিটি বিবেকবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

‎কিন্তু এই নিন্দার সমান্তরালে আজ এক চরম ও নির্মম সত্যকে আমাদের এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। হুতিদের এই ধৃষ্টতার পেছনে যেমন একটি উগ্র ও দায়িত্বজ্ঞানহীন গোষ্ঠী দায়ী, ঠিক তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ও আপোসমুখী পররাষ্ট্রনীতি। ইসলামের তথাকথিত ‘রক্ষক’ দাবিদার সৌদি শাসকগোষ্ঠী আজ কার পক্ষে দাঁড়িয়েছে? যে ফিলিস্তিনি ভাই-বোনেরা দশকের পর দশক ধরে ইসরাইলি জায়নবাদীদের আগ্রাসনে নিজেদের রক্ত দিচ্ছে, আল-আকসার পবিত্রতা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ন্যূনতম নৈতিক সাহস কি রিয়াদ দেখাতে পেরেছে?

‎উত্তরটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং পরিষ্কার না।
‎সৌদি আরব আজ ফিলিস্তিনি মজলুমদের পক্ষ ত্যাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পর্দার আড়ালের মিত্র ইসরাইলের অক্ষের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত ছাড়া রিয়াদের নীতিনির্ধারকদের পা ফেলার উপায় নেই। যে আমেরিকা ও ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মুসলমানদের রক্তগঙ্গা বইয়ে দিচ্ছে, তাদের সাথে কৌশলগত বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে সৌদি আরব আজ এতটাই অন্ধ যে, তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী ভাইদের প্রতিরোধ যুদ্ধকে অবমূল্যায়ন করছে। জায়নবাদী ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের যে নোংরা খেলা রিয়াদ শুরু করেছিল, তা ফিলিস্তিনিদের পিঠে সরাসরি ছুড়িকাঘাতের শামিল।

‎একদিকে হুতিদের মতো উগ্রপন্থীরা মক্কা-মদিনার পবিত্রতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, অন্যদিকে সৌদি প্রশাসন নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ইসলাম ও মুসলমানদের চিরশত্রু আমেরিকা-ইসরাইলের তোষামোদি করছে। এই দ্বিচারিতা উম্মাহকে আজ এক গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে শক্ত অবস্থান না নিয়ে, জায়নবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব না দিয়ে, সৌদি আরব আজ সাম্রাজ্যবাদীদের সেবাদাসে রূপান্তরিত হয়েছে।

‎ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা নিজেদের স্বার্থে পবিত্র ভূমির মর্যাদা এবং মজলুমের অধিকার নিয়ে জুয়া খেলে, তাদের পতন অনিবার্য। হুতিদের এই হঠকারী ও জঘন্য হামলার যেমন কঠোরতম বিচার হওয়া প্রয়োজন, তেমনি সৌদি আরবের এই লজ্জাজনক ও আজ্ঞাবহ নীতিরও তীব্র সমালোচনা হওয়া দরকার। রিয়াদকে বুঝতে হবে, আমেরিকা বা ইসরাইল কখনো তাদের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। যদি তারা সত্যিই মক্কা-মদিনার পবিত্রতা রক্ষা করতে চায়, তবে আগে তাদের ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে হবে এবং ফিলিস্তিনের মজলুম জনগণের পক্ষে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায়, ইতিহাসের পাতায় তারা কেবল ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও সমাজকর্মী

Ads small one

কপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
কপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-কে সামনে রেখে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম এই পদযাত্রার আয়োজন করে।

সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে পদযাত্রাটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ ও পক্ষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, দিন দিন বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করছেন। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি, জীবিকা ও সুপেয় পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার দুর্যোগে নিঃস্ব হয়ে অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। জীবিকার তাগিদে তাদের কেউ কেউ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

তারা বলেন, কপ৩১-কে সামনে রেখে জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে জোরালো দাবি তুলে ধরতে হবে।

এসময় গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, গ্রীন কোয়ালিশনের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, জেলা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সদস্যসচিব ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মো. মফিজুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য জ্যোতি সরকার প্রমুখ। #

সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত: প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত: প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ

সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ও প্রাণহানির হার প্রতিদিন বাড়ছে। সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরাতেও প্রতিদিন নতুন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ২৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ কাজের বা পড়াশোনার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলা খুলনায় অবস্থান করছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরে সাতক্ষীরায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। সারাদেশে মৃত্যু প্রায় তিন শতাধিক এবং আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁইÑযা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিগত বছরগুলোর চরম ব্যর্থতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সংকটের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রার তারতম্য, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এডিস মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমানে এডিস মশার বিস্তার কেবল রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে সীমাবদ্ধ নেই; গ্রাম ও মফস্বলেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে শয্যা, প্রয়োজনীয় কিট ও ওষুধের সংকট এই মুহূর্তে না থাকলেও মূল সমস্যা রয়ে গেছে প্রতিরোধের জায়গায়। কেবল আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেই এ মহামারির মতো সংকট নিরসন সম্ভব নয়; প্রয়োজন এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র নির্মূল করা।

প্রতি বছর ডেঙ্গুর মওসুমে রুটিনমাফিক কিছু স্প্রে ও মৌখিক প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশলের ঘাটতি সুস্পষ্ট। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমত স্থানীয় প্রশাসন ও কৌরসভাগুলোকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে কার্যকর মশক নিধন অভিযান চালাতে হবে। ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, কার্যকারিতা ও সঠিক মাত্রা নিয়মিত মনিটর করা জরুরি, যাতে নি¤œমানের কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ ও শ্রমের অপচয় না ঘটে।

দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশা স্বচ্ছ জমাটবদ্ধ পানিতে বংশবৃদ্ধি করে এবং মূলত দিনের বেলায় কামড়ায়। ফলে নিজ নিজ ঘরবাড়ি, আঙিনা, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি মওসুমি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি একটি স্থায়ী জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। সময় এসেছে প্রথাগত মশক নিধন কার্যক্রমের বাইরে এসে বছরব্যাপী গবেষণা, মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যকর প্রযুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারণাকে সমন্বিত করার। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশকে এডিস মুক্ত রাখতে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; নতুবা ডেঙ্গুর এই রূপ আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বাঁশদহায় কাওনডাঙ্গা বাজারে রমজান আলীর মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
বাঁশদহায় কাওনডাঙ্গা বাজারে রমজান আলীর মতবিনিময়

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১নম্বর বাঁশদহা ইউনিয়নের কাওনডাঙ্গা বাজারে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রমজান আলী। সোমবার কাওনডাঙ্গা বাজারে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।