বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়লার ভাগাড় এখন নান্দনিক ক্যাফে: দুই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
ময়লার ভাগাড় এখন নান্দনিক ক্যাফে: দুই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: একসময় জায়গাটি ছিল ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। কপোতাক্ষ নদের তীরের এই অংশে প্রতিদিন ফেলা হতো বাজারের বর্জ্য। দুর্গন্ধ আর অপরিচ্ছন্নতার কারণে পথচারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিতেন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক পরিকল্পনা যে যেকোনো দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করলেন সাতক্ষীরার তালার দুই তরুণ। নিজেদের শ্রম ও উদ্যোগে সেই পরিত্যক্ত স্থানটিকেই তাঁরা রূপ দিয়েছেন এক নান্দনিক ও পরিবারবান্ধব বিনোদন কেন্দ্রে। কপোতাক্ষ নদের তীরে তাঁদের গড়া ‘জলধারা ক্যাফে’ এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিনোদনপিয়াসীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের কারিগর শেখ সানজিদুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন এই দুই বন্ধু। সানজিদুল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং মামুন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

পড়াশোনা শেষে সানজিদুল হক প্রথমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। পরে চাকরির জমানো টাকা দিয়ে ২০২৩ সালে শুরু করেন ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা। কিন্তু কিস্তি ও বাকিতে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে বেকার হয়ে পড়েন সানজিদুল।

অন্যদিকে, আব্দুল্লাহ আল মামুনও বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছিলেন না। একটি ওষুধ কোম্পানিতে একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদেই দুজনের বন্ধুত্ব এবং নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখা। চাকরির অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যৌথ আত্মকর্মসংস্থানের।

সেই স্বপ্নের হাত ধরেই তাঁরা বেছে নেন পাটকেলঘাটা ইকো পার্ক সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের তীরের এই পরিত্যক্ত অংশটি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শুরু হয় তাঁদের নতুন পথচলা।

উদ্যোক্তারা জানান, ক্যাফেটি গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে পুরো এলাকার স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। এরপর পরিবেশবান্ধব উপাদান যেমন—বাঁশ, কাঠ ও ছন ব্যবহার করে তৈরি করা হয় চমৎকার একটি বসার আবহ। কপোতাক্ষের মৃদু বাতাস আর গ্রামীণ পরিবেশের মেলবন্ধনে ক্যাফেটি দ্রুতই ইকো পার্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হয়ে ওঠে।

ক্যাফে ডায়েরিতে জানানো হয়Ñ প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে পাওয়া যায়Ñ চা, স্পেশাল দুধ চা, কফি, ফুচকা, চটপটি, মোমো, রুটি ও নানা পদের হালকা খাবার।

বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসতেই প্রতিদিন এখানে ভিড় জমান পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের দল। প্রাকৃতিক পরিবেশে একটু স্বস্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন ‘জলধারা’য়।

শুধু নিজেদের ভাগ্যবদলই নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অন্য শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন সানজিদুল ও মামুন। বর্তমানে স্থানীয় দুজন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এই ক্যাফেতে পার্ট-টাইম কাজ করছেন। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের যেমন আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি নিজের খরচের একটা বড় অংশ তাঁরা নিজেরাই চালাতে পারছেন।

উদ্যোক্তা শেখ সানজিদুল হক বলেন, “ব্যবসায় লোকসান হয়েছে, কিন্তু সাহস হারাইনি। চাকরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা না করে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। একজন উদ্যোক্তা শুধু নিজের নয়, অন্য আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা করা নয়; সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। যে জায়গাটি একসময় ডাস্টবিন ছিল, সেটি আজ মানুষের আনন্দের স্থান। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়িয়ে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুই শিক্ষিত যুবকের এই প্রচেষ্টা শুধু একটি ক্যাফে প্রতিষ্ঠার গল্প নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান এবং স্থানীয় পর্যটন বিকাশের এক চমৎকার উদাহরণ। তরুণদের এমন সৃষ্টিশীল উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবেশ বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

 

Ads small one

শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লাভলুসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও তীব্র জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ‘জলবায়ু শিক্ষা বিনিময় পরিদর্শন সিরিজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হেড’-এর উদ্যোগে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’।
ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ফেরদৌসী আরা ময়না। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলী নূর খান বাবুল। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের কারণে ইটাগাছাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আজ জলমগ্ন। এ সময় তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করা। জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নি¤œাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শরীফা ও রওশন আরা বলেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়িতে পানি উঠে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সকালে শহরের কাটিয়া এলাকায় হেডের প্রধান কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় টেকসই অভিযোজন কৌশল তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার দায়ে তিনটি বেকারিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একটি বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্যামনগর সদর ও নূরনগর বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান কনক।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযানকালে শ্যামনগর বাজারের নিউ সুন্দরবন বেকারিকে ১০ হাজার টাকা, রয়্যাল ফুডস বেকারিকে ১০ হাজার টাকা এবং নূরনগর বাজারের সোনার বাংলা বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় রয়্যাল ফুডস ও সোনার বাংলা বেকারিতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।