সম্পাদকীয়
দেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল এবং শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ করার মহৎ লক্ষ্য নিয়ে আজ ২৮ জুন দেশজুড়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হতে যাচ্ছে। আধুনিক ও সুস্থ জাতি গঠনে প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজÑউভয়েরই অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই প্রেক্ষাপটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কেবল একটি রুটিন সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রোগমুক্ত ও সচল রাখার এক জাতীয় উদ্যোগ।
ভিটামিন ‘এ’ শুধু চোখের জ্যোতিই ধরে রাখে না, এটি শিশুদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এবারের ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। একই সঙ্গে শিশুদের বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর মতো জরুরি পুষ্টি বার্তাও প্রচার করা হবে, যা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর।
সাতক্ষীরা জেলা পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং পরিসংখ্যান অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রশাসনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি প্রশংসার দাবিদার। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দেওয়া কিছু নির্দেশনা, যেমনÑশিশুকে ভরা পেটে কেন্দ্রে আনা এবং গত চার মাসের মধ্যে এই ক্যাপসুল খাওয়া শিশুদের পুনরায় তা না খাওয়ানোর বিষয়টি অভিভাবকদের কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, সরকারের এই বিশাল আয়োজন তখনই শতভাগ সফল হবে, যখন দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি উপযুক্ত শিশু এই সেবার আওতায় আসবে। অনেক সময় অসচেতনতা, অন্ধবিশ্বাস বা প্রচারণার অভাবে দুর্গম এলাকার কিছু শিশু এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই এই ক্যাম্পেইন সফল করতে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ বা স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সব স্তরের সচেতন নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণায় অংশ নিতে হবে।
আজকের শিশু আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের অন্ধত্ব ও অপুষ্টির অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে প্রতিটি অভিভাবক সচেতন হবেন এবং দায়িত্বসহকারে শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে যাবেনÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা। জাতীয় এই উদ্যোগ সফল হোক।