বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

মিঠাপানির সংকটে উপকূলের ভবিষ্যৎ: সমাধানের খোঁজে সাতক্ষীরায় কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
মিঠাপানির সংকটে উপকূলের ভবিষ্যৎ: সমাধানের খোঁজে সাতক্ষীরায় কর্মশালা

পত্রদূত রিপোর্ট: জলবায়ু পরিবর্তন, নদী-খাল ভরাট এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার চাপে উপকূলের মানুষের জন্য নিরাপদ মিঠাপানি এখন বড় এক চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে করণীয় নির্ধারণ এবং সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিঠা পানির যোগান নিশ্চিতকরণ ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অংশীজনের করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা।

সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি রিসোর্টের অভিজাত সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পরিবেশকর্মী, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মিঠাপানি শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই সম্পদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।

অপরদিকে কর্মসূচির সমন্বয়কারী বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান মুকুল জানান, উপকূল অঞ্চলে নিরাপদ মিঠাপানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে নাগরিক অংশগ্রহণ ও সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। তারই নিয়মিত কাজেরই ধারাবাহিকতা এটি। তবে এটি সবুজ দিন সৃষ্টির পরিকল্পনা প্রণয়নের মিলনমেলাও এটি।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রাণসায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সদস্য সচিব সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, উপকূলের মানুষের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে এখনই মিঠাপানির উৎস সংরক্ষণ, জলাধার পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে হবে।

বেলা’র অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড ক্যাম্পেইন অফিসার মুজাফফর ফয়সাল সমগ্র কর্মশালা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে প্রণীত সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের পরিচালক আবজাল হোসেন, উন্নয়নকর্মী নাজিম মাহমুদ, সিডিওর পরিচালক গাজী আল ইমরান, পরিবেশকর্মী পিযুষ বাউলিয়া পিন্টু, ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ, নিপা চক্রবর্তী, রুবিনা রুনাসহ অন্যান্যরা।

 

কর্মশালায় মিঠাপানির যোগান নিশ্চিতকরণ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়।

কর্মশালায় মিঠাপানির যোগান নিশ্চিতকরণ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়।

বৃহস্পতিবারে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী রুবিনা রুনা বলেন, উপকূল অঞ্চলে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

একইসঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, খাল-পুকুর পুনরুদ্ধার এবং প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় কর্মশালা থেকে।

Ads small one

প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন: বিচারক ১০ গুণ বাড়ালেও জট নিরসন সম্ভব নয়: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন: বিচারক ১০ গুণ বাড়ালেও জট নিরসন সম্ভব নয়: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিদ্যমান বিচারকের সংখ্যার চেয়ে দশ গুণ বেশি বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও শুধু প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাঙ্খিত সময়ে এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না। তাই আদালতের মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আপসযোগ্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিষ্পত্তি করা গেলে শুধু একটি মামলারই অবসান ঘটে না, বরং দুই পরিবারের মধ্যে বিরাজমান বিরোধ ও তিক্ততারও অবসান ঘটে। এতে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আদালতের ওপর মামলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে। এ লক্ষ্যে আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বেশ কিছু ধরনের মামলা আদালতে দায়েরের আগে বাধ্যতামূলকভাবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আপসের উদ্যোগ গ্রহণের বিধান রয়েছে। এই উদ্যোগকে সফল করতে বিচারক, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু। এছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ জাহারুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মুনিরউদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন লিমা, অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার ঝুমুর, অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান, অ্যাডভোকেট আকরাম আলীসহ অন্যান্যরা। সভায় সাতক্ষীরা বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারক, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সভায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে লিগ্যাল এইড আইন সংশোধন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন আইনে আপসযোগ্য মামলার পরিধি, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামো এবং আপসের কার্যকর পদ্ধতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নয়ন বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, আদালতের মামলা জট নিরসন, বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে হবে। এ জন্য বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি পুনর্গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি পুনর্গঠন

চার কর্মকর্তার পদত্যাগের পর সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কার্যকরী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। এর আগে গত ২৬ জুলাই রাতে আলিপুর ট্রাক টার্মিনালে সমিতির কার্যালয়ে সভাপতি তাহমিদ শাহেদ চয়নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় শেখ সাঈদ আহমেদ, বিপুল মমিন খান চৌধুরী, তহিদুজ্জামান ও আবু হাসানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। পরবর্তীতে সর্বসম্মতিক্রমে কুতুব উদ্দিনকে কার্যকরী সভাপতি, আকবর আলীকে সহসভাপতি, রজত হাজরাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ মহিবুল ইসলাম দুলালকে প্রচার সম্পাদক মনোনীত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাকিমের সন্ধানের দাবিতে পরিবারের জিডি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাকিমের সন্ধানের দাবিতে পরিবারের জিডি

পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের গড়কান্দা গ্রামের চা পরিবেশক ও ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম (শাহজাহান ম-লের ছেলে)। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই কালীগঞ্জে পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আবদুল হাকিম। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে কয়েকটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে পরিবারের কাছে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বাবা শাহজাহান ম-ল আজ ২৯ জুলাই সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি (নং-১৮৮২) দায়ের করেছেন। নিখোঁজ ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম দীর্ঘদিন ধরে চায়ের ডিলারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্বজনেরা গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি