শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

যন্ত্রের চোখে দেখা পথ, মানুষের চোখে খোঁজা গন্তব্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
যন্ত্রের চোখে দেখা পথ, মানুষের চোখে খোঁজা গন্তব্য

মো. মামুন হাসান

ক্লাসরুমে ঢোকার আগে প্রতিদিন একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়। আমি যাদের শেখাচ্ছি, তারা যখন কর্মক্ষেত্রে যাবে, তখন পর্যটন শিল্পটা আজকের চেহারায় থাকবে তো? উত্তরটা প্রতিবারই এক, না, থাকবে না। এই না থাকার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের সবচেয়ে জরুরি বার্তা। জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা এবার যে প্রতিপাদ্য বেছে নিয়েছে, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন, তা কোনো ভবিষ্যৎ কল্পনা নয়। এটা এমন একটা বাস্তবতা, যা এই মুহূর্তে আমাদের শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই ঢুকে পড়েছে।

সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বসে আমি দেখি, আমার শিক্ষার্থীরা একটা হোটেলের বুকিং সিস্টেম শেখার আগেই মোবাইল ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত অ্যাপ দিয়ে ভ্রমণসূচি বানিয়ে ফেলছে। তারা প্রশ্ন করছে না গাইডবুক থেকে, তারা কথা বলছে একটা চ্যাটবটের সঙ্গে, যে মুহূর্তেই বলে দিচ্ছে কোন হোটেলে থাকা ভালো, কোন রেস্তোরাঁয় খাবার সস্তা আর ভালো, কোন রাস্তায় ভিড় কম। এই পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে পাঠ্যক্রম লেখার কালি শুকানোর আগেই সেই পাঠ পুরোনো হয়ে যায়। একজন শিক্ষক হিসেবে এটা আমার কাছে শঙ্কার বিষয় যতটা, তার চেয়ে বেশি সুযোগের বিষয়।

সুযোগ বলছি এই কারণে যে, আমাদের সাতক্ষীরার মতো জেলা শহরে বসেও একটা শিক্ষার্থী এখন বিশ্বমানের তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করতে পারে বিনা খরচে, বিনা ভ্রমণে। সুন্দরবনের কোলে বেড়ে ওঠা একটা ছেলে বা মেয়ে তার নিজের এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারে, যেখানে আগে এই কাজের জন্য দরকার হতো বহুজাতিক প্রচার সংস্থার পুঁজি। প্রযুক্তি এখানে সমতার হাতিয়ার হতে পারে, যদি আমরা তাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখাই।

কিন্তু এই সমতার প্রতিশ্রুতির পাশেই একটা কঠিন প্রশ্ন দাঁড়িয়ে থাকে। যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিদিন লাখো মানুষকে বলে দিচ্ছে কোথায় যেতে হবে, তার সিদ্ধান্তের পেছনে কার স্বার্থ কাজ করছে? বড় বড় ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম যদি তাদের নিজের পছন্দের গন্তব্যকে বেশি দৃশ্যমান করে তোলে, আর ছোট, কম পরিচিত অথচ সমান সুন্দর জায়গাগুলো যন্ত্রের চোখের আড়ালে থেকে যায়, তাহলে প্রযুক্তি সমতা আনার বদলে বৈষম্য আরও গভীর করবে। শ্যামনগরের কোনো ইকো ট্যুরিজম উদ্যোগ, কিংবা মুন্সিগঞ্জের কোনো নদীপাড়ের হোমস্টে, এসব যদি অ্যালগরিদমের র‌্যাংকিংয়ে জায়গা না পায়, তাহলে সেই জায়গাগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে থেকে যাবে। এই জায়গাটাতেই শিক্ষকের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রযুক্তিকে কেবল ব্যবহার করা শেখানো যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তির পেছনের যুক্তি বোঝানোও দরকার।

আমি প্রায়ই আমার শিক্ষার্থীদের একটা কথা বলি, যন্ত্র পথ দেখাতে পারে, কিন্তু আতিথেয়তা শেখাতে পারে না। একটা চ্যাটবট বলে দিতে পারবে কোন হোটেলে রুম খালি আছে, কিন্তু সেই হোটেলের রিসেপশনে দাঁড়িয়ে একজন ক্লান্ত পর্যটককে যে হাসিমুখে স্বাগত জানাবে, সেই মানবিক স্পর্শটা তৈরি করা সম্ভব নয় কোনো কোডে। আমাদের বিভাগে আমরা তাই একটা ভারসাম্যের পাঠ দিতে চাই। একদিকে ডেটা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন রিজার্ভেশন সিস্টেম শেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে অতিথি সেবার সেই পুরোনো শিল্পটাও যেন হারিয়ে না যায়, তার চর্চা চলছে সমান গুরুত্বে।

এবারের প্রতিপাদ্যের একটা গভীর দিক আছে, যা অনেকেই খেয়াল করছেন না। এই বছরই প্রথমবার এমন এক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে দিবস উদযাপিত হচ্ছে, যে প্রযুক্তি ইতিমধ্যে নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মানুষ কোথায় যাবে। এর আগে প্রতিটা প্রতিপাদ্যে বলা হয়েছিল একটা শক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে। এবার সেই শক্তি নিজেই চালকের আসনে বসে গেছে। এই বাস্তবতা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটা সতর্কবার্তা। আমরা যদি শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী তৈরি করি, নির্মাতা নয়, তাহলে আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের পর্যটন অর্থনীতিতে কেবল উপভোক্তা থেকে যাবে, নির্ধারক হবে না।

সাতক্ষীরার মতো এলাকায় সুন্দরবন ঘিরে যে বিপুল সম্ভাবনা আছে, তা এখনো অনেকটাই অব্যবহৃত। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার স্বপ্ন, আমার শিক্ষার্থীরা একদিন এমন একটা স্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে সুন্দরবনের প্রতিটা ছোট গ্রাম, প্রতিটা মধু সংগ্রাহকের গল্প, প্রতিটা নদীর বাঁক নিজের ভাষায়, নিজের সত্যতায় বিশ্বের সামনে হাজির হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তখন হবে আমাদের গল্প বলার হাতিয়ার, কারও গল্প চাপা দেওয়ার যন্ত্র নয়।

বিশ্ব পর্যটন দিবস তাই এই বছর আমার কাছে একটা আয়নার মতো। এই আয়নায় দেখা যায়, প্রযুক্তি যত এগিয়ে যাক, মানুষ কোথায় যেতে চায় তার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত মানুষের হাতেই থাকা উচিত। যন্ত্র সাহায্য করবে, পথ দেখাবে, তথ্য দেবে, কিন্তু গন্তব্যের গল্প লিখবে মানুষই। শিক্ষক হিসেবে আমার কাজ তাই কেবল কোড শেখানো নয়, বরং এই বোধটা তৈরি করা, যাতে আমার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের পর্যটন গড়ার সময় প্রযুক্তির কাছে নিজেদের বিচারবুদ্ধি হারিয়ে না ফেলে।

আগামীর পর্যটন যেমন ডিজিটাল হবে, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সমৃদ্ধ হবে, তেমনই তা যেন থেকে যায় মানবিক, স্থানীয় বাস্তবতার প্রতি সৎ, আর সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই তিনটে শর্ত পূরণ হলেই এই দিনটার উদযাপন সত্যিকারের অর্থবহ হবে। নইলে এটা কেবল আরেকটা প্রযুক্তি বিষয়ক সম্মেলনের নামান্তর হয়ে থাকবে।

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে “ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬” কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা, র‌্যালি ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।
র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ নিজেই উপস্থিত থেকে পৌরসভার সহযোগিতায় রেড ক্রিসেন্ট, বিডি ক্লিন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের সাথে নিয়ে শহরের বিভিন্ন ড্রেন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। একই সাথে পথচারী, সাধারণ নাগরিক ও যানবাহন চালকদের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সংবলিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে আমাদের নিজ নিজ আঙিনা ও চারপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে সাতক্ষীরা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে।”

অনুষ্ঠানে পৌরসভার কার্যক্রম ও নাগরিক সচেতনতা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “সাতক্ষীরা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে পৌরসভা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছেন। তবে কেবল পৌরসভার প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে আমরা ডেঙ্গুমুক্ত সুন্দর একটি বাংলাদেশ ও পরিচ্ছন্ন সাতক্ষীরা উপহার দিতে পারব।”

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী ডেঙ্গুর লক্ষণ ও প্রতিকার তুলে ধরে বলেন বাসাবাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, এসি বা ফ্রিজের জমা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দিনে-রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের জন্য সাধারণ নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

উক্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হায়দার, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন তালুকদার, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেবনাথ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রবিউল আলম ও কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী। এছাড়াও সাতক্ষীরা পৌরসভার কর্মকর্তা, রেড ক্রিসেন্ট, বিডি ক্লিনের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর কতটা জোরালো?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর কতটা জোরালো?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা বৈশ্বিক শান্তি, যুদ্ধ-সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, প্রযুক্তি ও মানবিক সংকট নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য-‘আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’।

 

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে একজন নাগরিক ও সচেতন পর্যবেক্ষক হিসেবে এখানেই প্রশ্ন শেষ হয়ে যায় না, বরং শুরু হয়।

 

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ কী বলছে তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সেই বক্তব্যের পেছনে আমাদের জাতীয় স্বার্থের কতটা সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব? জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান মঞ্চ। কিন্তু যুদ্ধ, দখল, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের ভেটোব্যবস্থা এবং বড় শক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাত অনেক সময় আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে জটিল করে তোলে। ফলে প্রশ্ন থেকে যায়, বিশ্বের অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়? ফিলিস্তিনের প্রশ্নটি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকা। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর কাঠামোতে এই অবস্থানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং সব নিপীড়িত মানুষের ন্যায্য অধিকারের প্রশ্নেও ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন। কোনো একটি সংকট নয়, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান যেন নীতিনির্ভর ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, এটাই প্রত্যাশা। এরপর আসে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত। তাই এই সম্পর্ককে শুধু আবেগ দিয়ে দেখা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি বন্ধুত্বের নামে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নগুলোকে উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।

 

সীমান্তে প্রাণহানি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, বাণিজ্যিক ভারসাম্য এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা রয়েছে, সেগুলোকে কূটনৈতিক আলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে প্রাণ হারালে ঘটনার তদন্ত, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ভাষা ও বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক কৌশল বজায় রাখাও জরুরি।

 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের বাংলাভাষী মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক যোগাযোগ। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে শিক্ষা, গবেষণা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বৈধ বাণিজ্যিক যোগাযোগের মাধ্যমে। তবে সাংস্কৃতিক নৈকট্যকে কোনোভাবেই অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা ভূখন্ডগত অখন্ডতার প্রশ্নের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। বরং আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সম্মানকে ভিত্তি করে সীমান্তের দুই পাশের মানুষের বৈধ যোগাযোগ বাড়ানোই হতে পারে অধিক টেকসই পথ। এতে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক যেমন গভীর হবে, তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পর্কও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

 

সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি রোহিঙ্গা সংকট। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে স্পষ্ট করে বলেছেন, সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানেই নিহিত। এই অবস্থান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপও তৈরি হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে শুধু ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা নয়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রত্যাশিত।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রশ্নেও বাংলাদেশের দাবি স্পষ্ট হওয়া দরকার। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এখানে বাংলাদেশের কূটনীতির সামনে একটি বড় সুযোগ রয়েছে।

 

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ যদি ক্ষতিপূরণ, জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অভিযোজন সহায়তার বিষয়ে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে পারে, তাহলে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি অর্থনীতি ও সমাজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।‎

 

বাংলাদেশের জন্য তাই প্রযুক্তিকে শুধু উন্নত দেশের সম্পদ হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রযুক্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকার, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, গবেষণা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া প্রয়োজন। একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি শুধু বক্তৃতার ভাষায় পরিমাপ করা যায় না। তার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় জাতীয় স্বার্থ কতটা রক্ষা হলো, নাগরিকের অধিকার কতটা প্রতিষ্ঠিত হলো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান কতটা কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া গেল তার ভিত্তিতে।

 

জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর তাই শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকুক এমনটা নয়। চাই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে কথা বলুক, একই সঙ্গে নিজের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নেও থাকুক স্পষ্ট, বাস্তববাদী ও ধারাবাহিক।

 

প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক হোক পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ পাক আন্তর্জাতিক সমর্থন। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় পাওয়া যাক ন্যায্য সহায়তা। প্রযুক্তির নতুন বিশ্বে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য খুলে যাক সুযোগের দরজা। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের বক্তব্য তখনই অর্থবহ হয়ে উঠবে, যখন সেই বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যাবে বাস্তব কূটনীতি ও জাতীয় জীবনে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর গুরুত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর গুরুত্ব

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম। নদী কেবল ভূখন্ডের ওপর দিয়ে বয়ে চলা পানির ধারা নয়, বরং এটি লাখ লাখ জলজ ও স্থলজ জীবের জীবনধারণের মূল ভিত্তি। প্রকৃতির এক জটিল ভারসাম্য রক্ষাকারী ব্যবস্থা। নদী ও এর অববাহিকা হাজারো প্রজাতির মাছ, উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী এবং অগণিত জলজ উদ্ভিদের প্রধান বাসস্থান। অনেক বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির জীব কেবলমাত্র নদীর নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রেই বেঁচে থাকতে পারে।

বিশ্ব নদী দিবস প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ রবিবার বিশ্বব্যাপী পালিত একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস। নদীগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরা, পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

প্রখ্যাত কানাডীয় নদী সংরক্ষণবাদী ও পরিবেশবিদ মার্ক অ্যাঞ্জেলো এই দিবসটি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে লাইফ ফর ওয়াটার বা জীবনের জন্য পানি দশক ঘোষণা করে। সেই বছর থেকেই মার্ক অ্যাঞ্জেলোর প্রস্তাবনায় প্রথম বিশ্ব নদী দিবস পালন শুরু হয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানে দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত নদী রক্ষা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম ও অনন্য। নদী হলো পৃথিবীর রক্তনালীর মতো, যা সমগ্র স্থলভাগের প্রাণশক্তিকে টিকিয়ে রাখে। নদী বিভিন্ন অঞ্চলের বনাঞ্চল, জলাভূমি ও মহাসমুদ্রের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সংযোগ সেতু বা করিডোর হিসেবে কাজ করে। নদী উজান থেকে পুষ্টি উপাদান ও পলি বহন করে ভাটির প্লাবনভূমি ও মোহনায় নিয়ে যায়, যা মাটিকে উর্বর করে এবং জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অনেক মাছ ডিম ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে নদীতে বা নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মাইগ্রেশন বা পরিযায়ন করে। নদী সচল না থাকলে এই বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

নদীর বাস্তুতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশাল খাদ্যকৃঙ্খল গড়ে ওঠে। নদীর ফাইটোপ্লাংকটন ও জুপ্লাংকটনকে খেয়ে ছোট মাছ বাঁচে, ছোট মাছ খেয়ে বড় মাছ এবং বড় মাছ খেয়ে পাখি, ডলফিন বা মানুষ জীবনধারণ করে। নদী দূষিত বা শুকিয়ে গেলে এই পুরো কৃঙ্খলটি ভেঙে পড়ে। প্রাকৃতিক ফিল্টার এবং ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জনদী ও এর চারপাশের জলাভূমি প্রাকৃতিকভাবে পানিকে ফিল্টার বা পরিশোধন করে। এছাড়া নদীর পানি চুইয়ে মাটির নিচে জমা হয়, যা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে আশেপাশের অঞ্চলের স্থলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীরাও পানির সংকট থেকে রক্ষা পায়।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও তাপমাত্রা হ্রাসনদী আশেপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় জলবায়ু স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এটি চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমায়, যা ওই অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

নদীর স্্েরাত প্রতিনিয়ত উর্বর পলি এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে নিয়ে যায়। এটি জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে এবং মাছের খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। বহু পরিযায়ী পাখি এবং বন্য প্রাণী নদীর ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। নদী বিভিন্ন বনাঞ্চল ও জলাভূমিকে বাঁচিয়ে রেখে সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। নদী ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখতে এবং স্থানীয় জলবায়ু শীতল ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

বর্তমানে মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে নদীর বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক হুমকির মুখে। শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করার ফলে জলজ প্রাণীদের যাতায়াত এবং বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

নদীর স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে মিঠা পানির পুরো বাস্তুতন্ত্র ধসে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রকৃতির ভারসাম্যের ওপর। তাই নদী রক্ষা করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত।

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নদী মাছ, উভচর প্রাণী, জলজ উদ্ভিদ এবং অণুজীবের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে নদীর ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম।
নদী দূষণ বা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পুরো মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে পড়ে। নদী যদি তার স্বাভাবিক গতি ও পরিচ্ছন্নতা হারায়, তবে পুরো মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে এবং বিলুপ্ত হবে বহু অমূল্য জীববৈচিত্র্য।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট