বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্র-পুনর্গঠনের অভিযাত্রা: তারেক রহমান ও বিএনপির প্রস্তাবিত কর্মসূচীর প্রাসঙ্গিকতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্র-পুনর্গঠনের অভিযাত্রা: তারেক রহমান ও বিএনপির প্রস্তাবিত কর্মসূচীর প্রাসঙ্গিকতা

এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী

যেকোনো স্বাধীন জাতির ইতিহাসে কিছু সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মুহূর্ত তৈরি হয়, যা রাষ্ট্রের বিদ্যমান সার্বভৌম শক্তি এবং রাজনৈতিক সমাজভাবনাকে মৌলিকভাবে পুনর্সংজ্ঞায়িত করে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিবর্তনের ধারায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান তেমনি দুটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুটি ঘটনার সময়কাল, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দৃশ্যমান শত্রু ভিন্ন বলে মনে হলেও, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই দুই অভূতপূর্ব নাগরিক জাগরণ মূলত একই আদর্শিক ও রাজনৈতিক সুতোয় গাঁথা। আর এই দুই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্যবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ এবং রূপান্তরকালীন রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তারেক রহমানের প্রস্তাবিত কর্মসূচি এক অপরিহার্য ও দূরদর্শী অনুঘটক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামের মূল তত্ত্বগত ভিত্তি লুকিয়ে ছিল ‘জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার’ এবং একটি সাম্যভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের আকাক্সক্ষায়। তৎকালীন পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী যেভাবে বাঙালি জাতির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও মৌলিক নাগরিক অধিকার নস্যাৎ করেছিল, তার বিরুদ্ধে এদেশের মানুষ জীবনপণ সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক ‘সামাজিক চুক্তি’ স্বাক্ষরের অঙ্গীকার, যার মূল স্তম্ভ ছিল-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। কিন্তু স্বাধীন্যোত্তর বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়ায় এবং বিশেষ করে গত দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে সেই একাত্তরের মূল চেতনার চরম বিচ্যুতি ঘটে। গণতান্ত্রিক ব্যাকস্লাইডিং, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অতি-রাজনীতিায়ন এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছিল।

এই প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও নাগরিক অধিকার হরণের প্রেক্ষাপটেই সূচনা ঘটে ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের। একাত্তরে যেমন পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে মুক্তিকামী মানুষ গর্জে উঠেছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা রাষ্ট্রযন্ত্রের একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসে। যখন কোনো শাসকগোষ্ঠী তার প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা ((Institutional Legitimacy)  হারিয়ে কেবল ভয় ও নিপীড়নের মাধ্যমে শাসনক্ষমতা টিকিয়ে রাখে, তখন নাগরিক সমাজের চরম প্রতিরোধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। জুলাই অভ্যুত্থান ছিল সেই ঐতিহাসিক প্রতিরোধেরই প্রস্ফুটিত রূপ। সুতরাং, ২৪-এর অভ্যুত্থান হলো একাত্তরের মূল আকাক্সক্ষাকে উদ্ধার করার একটি ‘দ্বিতীয় প্রাতিষ্ঠানিক মুক্তিসংগ্রাম’।

এই দুটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সেতু তৈরি করার ক্ষেত্রে তারেক রহমান এবং বিএনপির নীতিগত প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানÑউভয় আন্দোলনের মূল নির্যাস ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সাম্যভিত্তিক সমাজ নির্মাণ। তারেক রহমান তাঁর উপস্থাপিত ‘৩১ দফা’ রূপরেখার মাধ্যমে একাত্তরের মূল চেতনা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের জনদাবিকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, একটি অভ্যুত্থান তখনই স্থায়ী সুফল বয়ে আনে যখন তা প্রাতিষ্ঠানিক ডেমোক্রেটাইজেশনে রূপ নেয়। তারেক রহমান ও বিএনপির ৩১ দফা-একাত্তরের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা এবং ২৪-এর স্বৈরাচারবিরোধী দাবিরই এক আধুনিক রাষ্ট্রীয় সংশ্লেষণ। একাত্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর মাধ্যমে একটি বিভাজিত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, তারেক রহমান সেই দর্শনকেই আধুনিক ‘সিভিক ন্যাশনালিজম’ বা নাগরিক জাতীয়তাবাদে রূপান্তর করে ২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনাÑ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সামাজিক মনস্তত্ত্বে এক নজিরবিহীন যুগসন্ধিক্ষণের সূচনা করেছে। এই অভ্যুত্থান কেবল একজন ব্যক্তির পতন বা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার অপসারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে গড়ে ওঠা একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন, গণতান্ত্রিক ব্যাকস্লাইডিং এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের অতি-রাজনীতায়নের বিরুদ্ধে জনগণের চরম ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

বাংলাদেশের প্রথাবদ্ধ রাজনীতিতে রাজনৈতিক রূপান্তর বা ‘প্যারাডাইম শিফট’ খুব কমই নীতিগত ও কাঠামোগত বিতর্কের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটায়নি, বরং তা রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ ও সংবিধানের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের মূল ভিত্তিগুলো ভেঙে নতুন করে চিন্তা করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, একে একটি স্পষ্ট সংবিধান পুনর্গঠনের মুহূর্ত বলা চলে, যেখানে পুরোনো ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং নতুন সামাজিক চুক্তির সূচনা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে, আন্দোলন-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত কর্মসূচি ও রাষ্ট্রচিন্তা কীভাবে মেলাচ্ছেÑতা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিপরীতে নাগরিক কেন্দ্রিক এক নতুন জাতীয়তাবাদের উত্থান। দীর্ঘ ১৫ বছরের একনায়কত্বে রাষ্ট্রযন্ত্রকে যে পন্থায় ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন করা হয়েছিল, তাতে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পরে একটি বড় ধরনের ‘পদ্ধতিগত প্রতিশোধ’ বা প্রতিহিংসার রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে আমরা ‘ট্রানজিশনাল জাস্টিস’ বা সংক্রামক ন্যায়বিচার বলি, সেখানে তারেক রহমান এক বিপরীতমুখী ও প্রাজ্ঞ রাজনীতির উদাহারণ স্থাপন করেছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছেন যে, বিএনপির কাছে ‘প্রতিশোধ’ মানে কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা দলীয় প্রতিশোধ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সফল বাস্তবায়নই হবে ফ্যাসিবাদের ওপর প্রকৃত রাজনৈতিক বিজয়। এই রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতির ইতিহাস থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ডেমোক্রেটাইজেশন বা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যে জটিল প্রক্রিয়া শুরু হয়, সেখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়Ñরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার একচ্ছত্র কেন্দ্রীভবন প্রতিরোধ করা। এই ক্রান্তিলগ্নে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অর্ন্তর্বতীকালীন সরকার এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত রূপরেখাÑবিশেষ করে তাঁর উপস্থাপিত ‘৩১ দফা’Ñরাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্বিন্যাসে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অভ্যুত্থান-উত্তর প্রথম পর্বে অর্ন্তর্বতীকালীন সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বেশ কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সফলতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা, অর্থনৈতিক খাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অলিগার্কিক চক্র থেকে মুক্ত করার প্রাথমিক প্রয়াস এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধারÑড. ইউনূসের সরকারের অন্যতম অর্জন হিসেবে গণ্য করা যায়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দেখা যায়, সংস্কার কোনো বিচ্ছিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যায়াম নয়; এর জন্য প্রয়োজন জেনুইন পলিটিক্যাল লেজিটিমেসি বা রাজনৈতিক বৈধতা। একটি অনির্বাচিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কাঠামোগত রূপান্তর বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়, কারণ গণসম্মতি ব্যতিরেকে প্রণীত সংস্কার নীতি প্রায়শই ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের আমলে স্থায়িত্বের সংকটে পড়ে।

ইউনূস সরকারের অন্যতম প্রধান ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা এখানেই দৃশ্যমানÑরাজনৈতিক অংশীজনদের সাথে কৌশলগত বোঝাপড়া এবং একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরিতে তারা কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বের পরিচয় দিয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে বিলম্ব এবং অর্থনৈতিক সামষ্টিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে না পারা তাদের প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর কিছু প্রশ্ন তৈরি করেছিল। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই তারেক রহমানের উদ্ভাবিত ‘৩১ দফা’ রূপরেখার গুরুত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। একটি গণঅভ্যুত্থান তখনই সফল রাষ্ট্রে পরিণত হয়, যখন বিপ্লবোত্তর উচ্ছ্বাসকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে রূপান্তরিত করা যায়।

 

তারেক রহমান প্রস্তাবিত কর্মসূচীতে এই পরিবর্তনের একটি আধুনিক কাঠামোগত বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন এবং বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করার প্রস্তাবনা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে সুশীল সমাজ, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও দলনিরপেক্ষ চিন্তাবিদদের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হবে, যা গণতন্ত্রের গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

 

এছাড়া নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবনের জোর দাবি, মুক্ত গণমাধ্যম এবং মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করে যে, দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক স্থায়িত্ব কেবল নির্বাচনী ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের ওপরই নির্ভরশীল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, একটি কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল রাজনৈতিক শাসনকাঠামোর সংস্কারই যথেষ্ট নয়, বরং এর পাশাপাশি প্রয়োজন ‘সোশ্যাল কনট্রাক্ট’ বা সামাজিক চুক্তির নবায়ন।

তারেক রহমানের কর্মসূচীতে কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের কথাই বলা হয়নি, বরং একটি টেকসই কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনেরও বিশদ পরিকল্পনা রূপায়ন করা হয়েছে। বাজার ব্যবস্থার অনিয়ম, মেগা-প্রজেক্ট নির্ভর দুর্নীতির মডেল এবং অলিগার্কিক নিয়ন্ত্রণের ফলে সাধারণ মানুষ যে চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তা থেকে উত্তরণে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তারেক রহমান প্রস্তাবিত যুব সমাজের জন্য বেকার ভাতা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিশেষ সুরক্ষা কার্ড এবং স্বাস্থ্য খাতের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি জনকল্যাণমূলক ফ্রেমওয়ার্ক নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।

 

এটি রাজনৈতিক গণতন্ত্রের সাথে সামাজিক-অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের একটি সুষম সংমিশ্রণ ঘটাতে চায়। তদুপরি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নির্মাণ। তারেক রহমান যেভাবে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণাকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক জাতীয়তাবাদ বা ‘সিভিক ন্যাশনালিজম’-এ পুনর্বিন্যাস করার প্রয়াস পেয়েছেন, তা জাতি গঠন প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। ধর্মীয়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সকল নাগরিককে সমান রাষ্ট্রীয় অধিকার ও নিরাপত্তা প্রদানের যে অঙ্গীকার বিএনপির নীতিমালায় উঠে এসেছে, তা সমাজে বিদ্যমান মেরুকরণ দূরীকরণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এটি স্পষ্ট যে, জুলাই অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করছে একটি জবাবদিহিতামূলক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর। ইউনূস সরকারের সংস্কারমূলক সূচনার সাথে তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিএনপির প্রস্তাবিত রাষ্ট্র-পুনর্গঠনের কর্মসূচীর সমন্বয় ঘটাতে পারলে বাংলাদেশ একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হবে। তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা কোনো সাময়িক রাজনৈতিক ঘোষণা নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুণগত রূপান্তর এবং একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্লুপ্রিন্ট। এই কর্মসূচিগুলোর সফল ও নিরপেক্ষ বাস্তবায়নই পারে ২৪-এর ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে।

এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাবেক আহবায়ক, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি

 

Ads small one

সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

তারিক ইসলাম

‎‘সুন্দরবন’—নামটির সঙ্গে গভীর রক্তের টান যেন ‘সুন্দরী’ গাছের। যে বৃক্ষের সমৃদ্ধি আর বিশালতায় টিকে আছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের মূল সৌন্দর্য ও পরিচয়, সেই সুন্দরী গাছই আজ আক্রান্ত এক মরণব্যাধিতে। বনজুড়ে চলছে গাছগুলোর নীরব বিদায়ের করুণ সুর। কেবল পাতা আর ডালপালা শুকিয়ে যাওয়া নয়, মড়ক ছড়িয়ে পড়ছে মূল কাণ্ড পর্যন্ত। এর পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে নতুন চারা গজানোর হারও। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র যে বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সুন্দরী গাছের এই অসুস্থতা তারই এক মারাত্মক বার্তা।

‎সম্প্রতি সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে প্রকাশিত একটি সমীক্ষার ফলাফল পুরো দেশকে শঙ্কিত করে তুলেছে। ২০২৪–২৫ সালে পরিচালিত ‘সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থার পরিবীক্ষণ’ শীর্ষক দুই বছর মেয়াদি সমীক্ষা অনুযায়ী, বনের প্রায় ৩৯ শতাংশ সুন্দরী গাছই এখন ‘আগামরা’ বা ‘টপ-ডাইং’ (Top-Dying) রোগে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে আক্রান্ত গাছের আনুমানিক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি ৯৫ লাখ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে দুই কোটিরও বেশি গাছ গুরুতরভাবে মরে যাওয়ার মুখোমুখি।

‎পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ পরিচালনায় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক স্বপন কুমার সরকারসহ বিশেষজ্ঞ দলের গবেষণায় এই ভয়াল চিত্র উঠে এসেছে।

‎সুন্দরবনের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রধান বৃক্ষ যখন একযোগে রোগাক্রান্ত হয়, তখন এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের সমস্যা থাকে না; পুরো বনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে দেয়। গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উজান থেকে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের নোনা পানির অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি—এসব মিলেই সুন্দরী গাছের জীবনীশক্তি শুষে নিচ্ছে। সুন্দরবনের মিষ্টি পানি ও মৃদু লবণাক্ত পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না থাকায় মাটির বায়ুসঞ্চালন কমছে, যা গাছগুলোর গোড়া ও কাণ্ডকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার ওপর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও পলি জমার কারণে বন নিজের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে।

‎

‎সুন্দরবন কেবল নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের থাবা থেকে বছরের পর বছর বুক দিয়ে বাংলাদেশকে আড়াল করে রেখেছে এই ম্যানগ্রোভ বন। আর সেই বনের মূল কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ সুন্দরী গাছ যদি একে একে উজাড় হয়ে যায়, তবে গোটা উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ দুর্লভ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

‎

‎সুন্দরবনের এই নীরব আর্তনাদ আর উপেক্ষা করার সময় নেই। সময় এসেছে সুনির্দিষ্ট ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার:

‎

‎১. মিষ্টি পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার: উজান থেকে সুন্দরবনমুখী নদ-নদীগুলোতে মিষ্টি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে আন্তঅঞ্চলীয় ও জাতীয় পানিসম্পদ নীতিতে বিশেষ জোর দিতে হবে।

‎

‎২.পলি নিরসন ও নদী-খাল খনন: বনের অভ্যন্তরীণ যে নদ-নদী ও খালগুলো পলি ভরাট হয়ে মিষ্টি ও নোনা পানির ভারসাম্য নষ্ট করছে, সেগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে।

‎

‎৩.রোগ প্রতিরোধে জোরালো গবেষণা: আগামরা রোগের সঠিক জীবাণু বা অণুজীব শনাক্ত করে তা থেকে সুন্দরী গাছকে রক্ষায় বন অধিদপ্তর এবং বিজ্ঞানীদের সমন্বিত গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।

‎

‎৪.সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা ও নজরদারি: বনের যেসব এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি, সেগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে নতুন চারা উৎপাদন ও বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

‎

‎সুন্দরবন ছাড়া আমাদের মানচিত্রের এক বিরাট অংশকে কল্পনা করা যায় না, আর সুন্দরী গাছ ছাড়া সুন্দরবনের অস্তিত্ব অসম্পূর্ণ। ১২ কোটি ৯৫ লাখ সুন্দরী গাছের রোগাক্রান্ত হওয়া কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের প্রকৃতির বিপন্নতার স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এখনই যদি কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে হয়তো মানচিত্রে ‘সুন্দরবন’ নামটি থেকে যাবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে তার আসল রূপকার—আমাদের ‘সুন্দরী’।

‎লেখক : তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট
পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় দেশের প্রথম বর্জ্য রিসাইকেল প্ল্যান্টের পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ফলাফল সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে সবঠিক থাকলে ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে চালু হবে।
প্রকল্পটি চালু হলে একইসঙ্গে মিলবে সার, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ। এটি পরিচালনার জন্য দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি এলজিইডি এবং কেসিসির যৌথ সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফাস্ট ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে, এটি চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, এটি চালাবে প্রফেশনাল প্রাইভেট অপারেটর। ইতোমধ্যে কোম্পানি নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি থেকে সার, জ্বালানি তেল ও বায়োগ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ, প্লান্টের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে চালু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টের কম্পোস্ট ও পাইরোলাইসিস প্লান্টের যন্ত্রকৌশল ম্যাটারিয়ালস এ্যান্ড ম্যাটালোজিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে কারিগরি সহায়তার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ পাঁচ প্রকৌশলীকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি টিম। টিমের সদস্যরা প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণে গত ১ অক্টোবর খুলনায় আসেন। ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় পরীক্ষা শেষে তারা ঢাকায় ফিরে যান।
টিমের সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. ইনসানুল করিম, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী একেএম শামসুল হুদা, প্রাক্তন নির্বাহী প্রকৌশলী, সানইয়ার্ড গ্রুপ বর্তমানে ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফাকচারিং কোঃ লিঃ-এর ডিএমডি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল জব্বার, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ উদ্দিন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) প্রাক্তন চিফ সাইন্টিফিক অফিসার ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল গফুর। প্রতিনিধি দলের চারজন বুয়েট এবং বাকি একজন চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। যারা সবাই শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্লান্ট মেশিনারি ডিজাইনার।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে মতামত প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প ম্যানেজার প্রকৌশলী পিন্টু মন্ডল। তিনি বলেন, প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি দল এসেছিলেন। তারা ২/৩ দিন এখানে ছিলেন। তাদের ক্লান্তির কারণে ৩৬ ঘণ্টা পাইরোলাইসিস করা হয়নি।
পাইরোলাইসিসের প্রসেস অনুযায়ী ৬ ঘণ্টা পর তেল আসা শুরুর ২/৩ ঘণ্টা মেশিন চালানোর পর বন্ধ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে পলিথিন এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের মধ্য থেকে ১০ লিটার তেল পরীক্ষার জন্য স্যারেরা ঢাকায় নিয়ে গেছেন। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা করে মিটিং করে মতামত প্রকল্পের পরিচালক স্যারকে জানাবেন। প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ফলাফল সফল হয়েছে বলা যায়।
এর আগে গত ১ অক্টোবর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এরপর মেশিনারিজ সম্পূর্ণ সেট আপের পর শনিবার সকালে পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায়।
বিগত ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শলুয়া বাজার-সংলগ্ন ১৭ একর জমিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে প্রকল্পটির উদ্যোক্তা। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি-২)’র আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এটিতে অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫৩ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন ধরনের বর্জ্য থেকে তিন ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে। গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক রিসাইকেল করে উৎপাদন করা হবে জ্বালানি তেল এবং কাঁচাবাজার থেকে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাস দিয়ে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ। অত্যাধুনিক পাইরোলাইসিস প্রযুক্তি ব্যবহারে বায়ু দূষণের কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং উৎপাদিত বায়োগ্যাস থেকে সাড়ে ৪০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত তেল ও বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করা হবে। প্রতি ব্যাচ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগবে এক সপ্তাহ।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় স্থাপিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট আগামী ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে। একইসঙ্গে বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গায় আরও একটি বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার প্লান্টও শিগগিরই চালু হচ্ছে। এই তিনটি রিসাইক্লিং প্লান্ট চালু হলে মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

কয়রায় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ৬ জনকে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
কয়রায় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ৬ জনকে আটক
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় ভাগবা গ্রামের ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। ১২ অক্টোবর বিশেষ অভিযানে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন ভাগবা গ্রামের  মোঃ আব্বাস গাজীর পুত্র ,মোঃ জিয়ারুল ইসলাম (২২), মোঃ মাসুদ সরদারের পুত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম (২০), মোঃ কেনা গাজীর পুত্র, মোঃ আব্দুল আলিম গাজী (২১), মোঃ শহিদুল গাজীর পুত্র মোঃ আলী হোসেন (২১),মোঃ আয়ুব আলী মোড়লের  পুত্র, মোঃ সিফাত হোসাইন (২৪), মোঃ নজরুল শেখের পুত্র মোঃ জাকারিয়া শেখ।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল আলম জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়া খেলায়  ১২ অক্টোবর ভাগবা গ্রাম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। অনলাইন জুয়া মামলায় আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।