শ্যামনগরে আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত
রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে প্রকাশ, উপজেলার বারটি ইউনিয়নে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৮৮০ হেক্টর। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৯৫ হেক্টর। গত কয়েক বছরের চিত্রে দেখা যায় প্রতিবছর উপজেলায় আমন ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর আমন আবাদ হয়েছিল ১৭ হাজার ৮৮০ হেক্টর, ২০২৪ সালে আমন আবাদ হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৩৫ হেক্টর।
আবাদকৃত আমন ধানের মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড ও উফসি জাত। স্থানীয় জাতের ধান চাষ নাই বলে জানান। হাইব্রিড ধান আবাদ হয়েছে ৫১০ হেক্টর এবং উফসি ধানের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর।
আবাদকৃত হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে বায়ার-৭০০৬, ধানী গোল্ড ও উফসি জাতের রয়েছে বিআর-১০. বিআর-১১, ব্রিধান-৫১,ব্রি-৪৯,ব্রি-৮৭, ব্রি-১০৩। বেশি চাষ হয়েছে ব্রিধান-৫১।
উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, কাশিমাড়ী, শ্যামনগর, নুরনগর, ভূরুলিয়া, কৈখালী, বুড়িগোয়ালিনী, ঈশ^রীপুর, রমজাননগর ইউনিয়ন সহ অন্যান্য ইউপিতে আমন আবাদ হয়েছে।
লবনাক্ত শ্যামনগরে আমন আবাদ বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে খোসালখালী গ্রামের আমন চাষি মিজানুর রহমান বলেন চিংড়ী ঘেরে বর্তমানে বেশী লাভবান না হওয়া ও আমন ধানের ফসল ভাল পাওয়ায় কৃষকরা আমন আবাদে ঝুঁকছে।
মুন্সিগঞ্জ জেলেখালী গ্রামের আমন চাষি অশোক মৃধা বলেন তিনি আমন ও বোরো ধানের আবাদ দুটোই করেন। কারণ হিসাবে বলেন তিনি লাভের আশায় ঘের করে সাদা মাছ চাষ শুরু করেছিলেন কিন্তু লাভবান না হওয়ায় সেসকল জমিতে আমন ও বোরো আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মন্ডল বলেন শ্যামনগর উপজেলা আবাদযোগ্য জমি রয়েছে ৩৪ হাজার ৫২৪ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদী জমি ২০ হাজার ১৫৮ হেক্টর। বাঁকী জমি চিংড়ী চাষের মধে রয়েছে।
চলতি বছরে আমন ফসল আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন আবহাওয়া অনুকূল থাকার কারণে। এছাড়া চিংড়ী ঘেরের জমি কৃষি ফসলের আওতায় আসাসহ ঘেরের মধ্যে ধান চাষ করা।









