শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সড়ক যেন এক নিরব মৃত্যু ফাঁদ/ এম.এম হায়দার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
সড়ক যেন এক নিরব মৃত্যু ফাঁদ/ এম.এম হায়দার আলী

এম.এম হায়দার আলী

রক্তে রঞ্জিত সড়ক, মূল্যহীন জীবন তবু নেই প্রতিকার। কিন্তু কেন ? সরকারি-বেসরকারি ভাবে এত উদ্যোগ নেয়ার পরও এখনো কেন প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণ। কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে, কেউ স্কুল-কলেজে, কেউবা পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষায় থাকতেই মৃত্যুর নির্মম শিকার হচ্ছেন। সড়ক যেন আজ নিরাপদ যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং এক নীরব মৃত্যু ফাঁদ। রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও নগরীর ব্যস্ত পথঘাট।

 

অথচ প্রাণহানির এই মিছিল থামাতে এখনো কার্যকর ও টেকসই প্রতিকার দৃশ্যমান নয়। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি দীর্ঘদিনের জাতীয় সমস্যা। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এবং আরও বহু মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। দুর্ঘটনার পর একটি পরিবারের শুধু একজন সদস্যের মৃত্যু হয় না; অনেক ক্ষেত্রে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেস বিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল এবং পথচারীদের অসচেতনতা। এছাড়া অনেক সড়কের বেহাল অবস্থা, পর্যাপ্ত সাইনবোর্ডের অভাব এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দেখা যায়, চালকদের মধ্যে সময় বাঁচানোর প্রতিযোগিতা চলে। নির্ধারিত গতিসীমা উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো হয়। অনেক চালক দীর্ঘ সময় বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালানোর ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব। দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও পরে বিষয়টি আবার চাপা পড়ে যায়। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান শাস্তির নজির কম থাকায় অপরাধ প্রবণতা কমছে না বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখন কেবল পরিবহন খাতের সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক ও মানবিক সংকট।

 

প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে থাকে একটি পরিবারের কান্না, সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং স্বজন হারানোর অসীম বেদনা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক এবং সাধারণ জনগণ সবার-ই সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি পরিহার, দক্ষ চালক নিয়োগ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলেই কমে আসতে পারে প্রাণহানির সংখ্যা। রক্তে রঞ্জিত সড়কে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে অমূল্য জীবন। প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ ঝরলে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে? প্রতিটি মৃত্যুই একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ, একটি জাতির ক্ষতি। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের, যাতে সড়ক আর মৃত্যুর মিছিল নয়, নিরাপদ যাত্রার প্রতীক হয়ে ওঠে এমনটি আশা আমার।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

Ads small one

পাইকগাছায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় এক সন্তানের জননী রিংকু সরদার(২৫) গলায় রশিতে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত রিংকু গড়ইখালী ইউনিয়নের উত্তর বাইনবাড়ীয়ার নিবারন সরদারের স্ত্রী।

৩ জুলাই শুক্রবার ভোরে বাড়ীর গরুর গোয়ালের আড়ায় গঁলায় রশিতে ঝুলানো অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিংকুর পিতা আমুরকাটার উপানন্দ সরদার ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জামাই নিবারণ একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। প্রায় সময় মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক ভাবে অত্যাচার চালাতো, যা সবাই জানে।

প্রাথমিক ভাবে জানাগেছে, স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য কলহে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে, এটা আত্মহত্যা না হত্যাকান্ড তা এ মুহুর্তে পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।

পাইকগাছার বাইনবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের আইসি খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহ উদ্ধার করে লাশের সুরোতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছেন,এটা হত্যা না আত্মহত্যার ঘটনা তা নিশ্চিত হতে ময়না তদন্তের রিপোর্ট ছাড়া আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবেনা। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

পাইকগাছায় উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনও’র পরিদর্শনে মিললো সত্যতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনও’র পরিদর্শনে মিললো সত্যতা

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): পাইকগাছা পৌরসভায় সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার এক নজিরবিহীন অভিযোগ সামনে এসেছে। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ আরসিসি ঢালাই রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে প্রাক্কলন (সিডিউল) অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। সিডিউলের তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারের এমন কাজের ধরনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, পৌরসভার টোল আনারের বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ কুমার রায়ের বাড়ি পর্যন্ত আনুমানিক ১০৮ মিটার সিসি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজটি বরাদ্দের চুক্তি পায় ‘আখি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সাব-ঠিকাদার হিসেবে ইউসুফ আলী সরদার নামের এক ব্যক্তি কাজটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন। গত ২৮ জুন সড়কটির ঢালাই কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই মূলত কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী আরসিসি রাস্তায় ৪ ইঞ্চি পুরুত্ব (থিকনেস) ঢালাই দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হয়েছে মাত্র আড়াই থেকে সর্বোচ্চ ৩ ইঞ্চি; এমনকি কোনো কোনো অংশে মাত্র ২ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, ড্রেনের স্লাবের (ঢাকনা) ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে রডের খাঁচা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, তা লঙ্ঘন করে রড ছাড়াই গ্রেফ বালু ও সিমেন্টের প্রলেপে ঢালাই করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা ১০টি অব্যবহৃত রডের খাঁচাও উদ্ধার করেন। এছাড়া নির্মাণকাজে লবণাক্ত বালু এবং নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের পাশাপাশি সিমেন্টের পরিমাণ এতটাই কম ছিল যে, ঢালাইয়ের মাত্র দুই দিন পরেই তা হাত দিয়ে ভেঙে ফেলা যাচ্ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একে অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহাম্মদ জানান, তিনি মূলত সাতক্ষীরা পৌরসভায় কর্মরত এবং পাইকগাছায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, তাই বিস্তারিত উপসহকারী ও কার্যসহকারী বলতে পারবেন। অন্যদিকে, উপসহকারী প্রকৌশলী লিংকন জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ না হয়ে থাকলে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হবে। তবে কার্যসহকারী বিদ্যুৎ কুমার রায় নিজের দায় এড়াতে দাবি করেন, ঠিকাদার তার নির্দেশনা না মেনে জোর করে কাজ সম্পন্ন করেছেন।

বিষয়টি পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। গত ১ জুলাই বিকাল ৪টায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে সংবাদে উল্লি¬খিত অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পান ইউএনও।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জনস্বার্থে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনতিবিলম্বে পুরো ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ও ড্রেন ভেঙে সিডিউল মোতাবেক সম্পূর্ণ নতুন করে এবং মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

 

কলারোয়ার চন্দনপুর ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা থেকে মোটরসাইকেল চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার চন্দনপুর ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা থেকে মোটরসাইকেল চুরি

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ার চন্দনপুর ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে চন্দনপুর ভাটার সামনের মাঠে ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানস্থল থেকে ওই মোটরসাইকেলটি চুরি হয় বলে মোটরসাইকেলের মালিক জানিয়েছেন।

চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি Suzuki Gixxer FI ABS মডেলের, যার রং সিলভার-অরেঞ্জ। মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সাতক্ষীরা ল-১৩-৮২৮৪।

মোটরসাইকেলের মালিক জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।

কেউ মোটরসাইকেলটির অবস্থান বা চুরির ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য জানলে অনুগ্রহ করে ০১৫৭১২৩২৩১৮ নং -এ দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং তার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।