রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ কলাগাছিতে সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ কলাগাছিতে সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ জরুরি

ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বাস্তবতায় উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কলাগাছি, বিশ্বাসের চক ও কুলপোতা গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে বাস করছেন। চারপাশে নদী, বিল ও খাল পরিবেষ্টিত এই তিন গ্রামে প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যেকোনো ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে এই এলাকা মারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুর্যোগপ্রবণ ও জনবহুল এই জনপদে আজ পর্যন্ত কোনো সাইক্লোন সেন্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। জীবনের নিরাপত্তা ও গবাদিপশুর সুরক্ষার স্বার্থে এই অঞ্চলে একটি আধুনিক সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই গ্রামের সিংহভাগ মানুষই দরিদ্র এবং তারা প্রধানত বেড়িবাঁধ, বিল ও নদীর কোলঘেঁষে বসবাস করেন। দুর্যোগ দেখা দিলে নিরাপদ কোনো স্থান না থাকায় মানুষ ও গবাদিপশুর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। অথচ অবাক করার বিষয় হলো, স্থানীয় মানুষের চাহিদা উপেক্ষা করে অধিক দুর্যোগপ্রবণ ও জনবহুল কলাগাছি গ্রামকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ ও মাত্র ৮৫টি পরিবার অধ্যুষিত দর মুড়াগাছা গ্রামে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।

পরিকল্পনাকারীদের এমন দূরদর্শিতাহীন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যে স্থানে সুবিধাবোগী মানুষের সংখ্যা বেশি এবং ঝুঁকির মাত্রা সর্বাধিক, সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল সেটিই। অথচ দর মুড়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা সত্ত্বেও সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র বানানোর উদ্যোগ মাঠ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করবে, যার অদূরেই শালিখা ডিগ্রি কলেজে একটি আশ্রয়কেন্দ্র বিদ্যমান। অন্যদিকে, কলাগাছি হাইস্কুল চত্বরে সাইক্লোন সেন্টারটি নির্মিত হলে তা সংলগ্ন তিন গ্রামের বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের প্রকৃত কাজে আসত।
এ ক্ষেত্রে এলজিইডি বা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। উন্নয়ন কেবল প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তা যেন গণমানুষের প্রকৃত নিরাপত্তায় কাজে আসেÑসে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

তালা উপজেলা প্রকৌশলীর ইতিবাচক আশ্বাস অনুযায়ী, যথাযথ আবেদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব। আমরা আশা করি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন জরুরিভিত্তিতে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং অবকাঠামোটির সঠিক স্থান নির্বাচন করে কলাগাছি হাইস্কুল চত্বরেই সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। উপকূলীয় অসহায় সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Ads small one

সুন্দরবনের বড় অংশ কয়রায়, তবুও মিলেনি পর্যটনের স্বীকৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনের বড় অংশ কয়রায়, তবুও মিলেনি পর্যটনের স্বীকৃতি

জিএম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): তিন পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কয়রা নদী, ওপারে ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। নদীর তীরে দাঁড়ালেই ভেসে আসে পাখির কলতান, বন্য প্রাণীর ডাক কিংবা নদীর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনঘেঁষা মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলার চর গ্রামটি যেন প্রকৃতিপ্রদত্ত এক পর্যটনকেন্দ্র। শুধু এই গ্রামই নয়, পুরো কয়রা জেড়েই রয়েছে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা। অথচ দেশের পর্যটন মানচিত্রে এখনও অলক্ষিত রয়ে গেছে এই জনপদ।

কয়রা উপজেলায় সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় অংশ যুক্ত থাকলেও এখানে গড়ে ওঠেনি পর্যটনকেন্দ্রিক মৌলিক অবকাঠামো। মানসম্মত আবাসন, কটেজ বা পর্যাপ্ত রেস্তোরাঁ না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের দিনশেষে ফিরে যেতে হয় খুলনা শহর বা অন্যান্য এলাকায়।

অথচ সুন্দরবনের পাশাপাশি কয়রায় ছড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সুলতানি আমলের বিখ্যাত ‘মসজিদকুঁড় মসজিদ’, রাজা প্রতাপাদিত্যের স্মৃতিচিহ্ন, প্রাচীন দিঘি ও নানা ঐতিহাসিক স্থান এ অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। প্রতিবেশী পাইকগাছার রাড়ুলিতে অবস্থিত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন যুক্ত করে এখানে একটি আকর্ষণীয় ‘ট্যুরিজম সার্কিট’ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অধিকারকর্মীদের মতে, পরিকল্পিত ইকোট্যুরিজম চালু করা গেলে সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য আয়ের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ২০২১ সালে দক্ষিণ বেদকাশীর গোলখালী এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু বনাঞ্চলের আইনি জটিলতায় পরবর্তীতে কয়রা সদর ইউনিয়নের কেওড়াকাটা এলাকায় স্থান পরিবর্তন করা হয়। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ থমকে আছে।

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন জানান, স্থান পরিবর্তনের জটিলতা কাটিয়ে পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। তবে ঠিকাদারের বকেয়া বিল না পাওয়ায় বর্তমানে নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

 

সাংবাদিক শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলুর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলুর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী পালন

সহকর্মীদের ভালোবাসায় সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাংবাদিক শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলুর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে কেক কাটা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।

শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু ১৯৭১ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শেখ আবদুল বারীর মেজ ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক খবর বাংলাদেশ’-এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অন্যতম সদস্য। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম খান মামুনসহ সহ-সভাপতি, সংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সহকর্মীরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত জীবনের সাফল্য কামনা করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

কালিগঞ্জে সাংবাদিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে সাংবাদিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ধারাবাহিক হামলা ও হুমকির অভিযোগের মধ্যে সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী শেখ ফিরোজ আহমেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে নেট, পলিথিন ও জিও শিটসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে উপজেলার রতনপুর বাজারে অবস্থিত ‘এস কে এন্টারপ্রাইজ’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে এই অগ্নিসংযোগ ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শেখ ফিরোজ আহমেদ স্থানীয় দৈনিক সাতনদী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার।
ফিরোজ আহমেদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা রাতের কোনো একসময় দোকানের পেছনের অংশ দিয়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিপুল মালামাল পুড়ে যায়। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিছুদিন ধরে হুমকি-ধামকির শিকার হয়ে আসছেন। এর আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।

এর আগে গত আগস্টে একই উপজেলায় সংবাদকর্মী ফেরদৌস আহমেদ ও শেখ ফিরোজ আহমেদের ওপর পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। ফিরোজ আহমেদ জানান, এসব ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রতা করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদের ওপর আগের হামলার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।