সাতক্ষীরায় ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, চড়া দামে নাভিশ্বাস
এম শফিকুল ইসলাম: ভরা মৌসুম শুরু হলেও নদ-নদীতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ধরা পড়ছে না রূপালি ইলিশ। সাতক্ষীরার বাজারে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়েছে অনেকটাই। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা ইলিশের বদলে অন্য মাছের দিকে ঝুঁকছেন।
বুধবার সকালে সাতক্ষীরার হাট-বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ইলিশের আমদানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। শহরের বড় বাজারে দিনে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মন মাছ সরবরাহ হচ্ছে। এই সীমিত সরবরাহের সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা ও পাইকারি দামে।
পাইকারি বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ১ হাজার টাকা এবং ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই দাম আরও বেশি।
মাছের আড়তদারদের দাবি, এই সময়ে বাজারে ইলিশের যে পরিমাণ জোগান থাকার কথা, নদী ও সাগরে মাছ না পাওয়ায় তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জুন থেকে মৌসুম শুরু হলেও প্রকৃতপক্ষে জুলাই থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম ধরা হয়। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আগমন বাড়বে এবং তখন দামও কমবে বলে তিনি আশাবাদী।
সুলতানপুর বড় বাজারে মাছ কিনতে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজিজার রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাঙালির অতি প্রিয় এই মাছ কিনতে এসে দাম শুনেই পিছিয়ে যেতে হলো। ইচ্ছা থাকলেও হিসাব মেলাতে না পেরে ইলিশ না কিনেই ফিরতে হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জাটকা নিধন, ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মানবসৃষ্ট নানা কারণে ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশ দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ যোগান দেয় এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষ সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত। শ্রাবণের শেষে ও ভাদ্রের শুরুতে ইলিশের জোগান বাড়লে দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








