প্রথম টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১৮ ওভারে ১৮৩/৪ (শামীম ৩১*, হৃদয় ৫১*; সাইফ ১৭, লিটন ২১, তানজিদ ২০, পারভেজ ২৮)
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: তাওহীদ হৃদয়
নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ১৮২/৬ (স্মিথ ২*, ক্লার্কসন ২৭*; রবিনসন ০, ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, জ্যাকবস ১, ফক্সক্রফট ৩, কেলি ৩৯)
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়ার (১৮৩) কীর্তি গড়েছে। আগের সর্বোচ্চটিও ছিল চট্টগ্রামে। গত নভেম্বরে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল স্বাগতিক দল।
অবশ্য চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৮৩ রানের লক্ষ্যে প্রথম দশ ওভারের খেলায় চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ২ উইকেটে স্কোর ছিল ৭৭। পিছিয়ে পড়েছিল রান রেটে। ১০.১ ওভারে তানজিদ হাসান আউট হয়ে ফিরলে পারভেজ হোসেন নামার পরই পাল্টায় দৃশ্যপট। চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ২৮ বলে ৫৭ রান যোগ করেন পারভেজ। এই ঝড়ো জুটিতেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। পারভেজ ১৪ বলে ২৮ রানের ক্যামিও খেলে ফিরলে তার পর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাকিটা সামাল দেন তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেন। ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছেন তারা। ২৬ বলে ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থেকেছেন। সঙ্গী শামীম হোসেন ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ১৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করে ১৮তম ওভারের শেষ বলে। তাতে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিক দল।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪০ রানে দুটি উইকেট নেন ইশ সোধি। একটি করে নিয়েছেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।
জুটি ভাঙলো পারভেজের বিদায়ে
চাপে পড়া বাংলাদেশকে জয়ের পথে তু্লতে থাকেন হৃদয়-পারভেজ। চতুর্থ উইকেটে ২৮ বলে ৫৭ রান যোগ করেন তারা। ১৪.৫ ওভারে এই জুটি ভেঙেছেন ক্লার্কসন। মেরে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন পারভেজ। ১৪ বলে ২৮ রানে ফেরেন তিনি৷ পারভেজের ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ২টি ছয়।
তানজিদের বিদায়ে পড়লো তৃতীয় উইকেট
যে গতিতে রানের দরকার সেভাবে রান আসছিল না। চাপ বাড়ছিল। ১০ ওভারে ২ উইকেটে স্কোর ছিল ৭৭। তার ওপর ধীর গতিতে খেলছিলেন ওপেনার তানজিদ। রানের গতিতে বাড়াতে গিয়ে ১০.১ ওভারে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন তিনি। ২৫ বলে তানজিদ ২০ রানে সোধির দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন।
আশা জাগিয়েও পারলেন না লিটন
৪১ রানে সাইফের আউটের পর রানের চাকা শ্লথ হয়ে পড়েছিল। তানজিদ প্রান্ত আগলে থাকলেও বাক্সবন্দী ছিলেন। কিন্তু লিটন দাস হাত খুলে গতি ফেরানোর চেষ্টা করতে থাকেন। আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ১৫ বলে ২১ রানে থেমেছে তার ইনিংস। ৮.৫ ওভারে সোধির বলে সরে গিয়ে খেলতে গেলে বোল্ড হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। লিটনের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায় ৬৬ রানে।
সাইফের বিদায়ে ভাঙলো শুরুর জুটি
১৮৩ রানের লক্ষ্যে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান মিলে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন। তাদের ব্যাটে ৫ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৪০। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অবশ্য টিকতে পারেননি সাইফ। মেরে খেলতে গিয়ে স্মিথের তৃতীয় ওভারে ১৭ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন। তার ১৬ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। ভাঙে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি। ফলে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে বাংলাদেশ সংগ্রহ করতে পারে ৪৪ রান।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নিউজিল্যান্ড
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।
দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান রবিনসন। তার পর দ্রুত ম্যাচের গতি বদলে দেন ডেন ক্লিভার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। এরপর ক্লিভারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৮৮ রানের জুটি গড়েন কাটেনে ক্লার্ক। এই জুটি ভেঙে ছন্দ পতন ঘটান রিশাদ। ক্লিভারকে ৫১ রানে এলবিডাব্লিউ করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, দুই সেট ব্যাটারই ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ক্লার্ক-ক্লিভারকে ফিরিয়েছেন রিশাদ।
তাদের বিদায়ে কিছুটা ছন্দ হারায় নিউজিল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে, আর মাঝের ওভারগুলোতে কোনো স্থায়ী জুটিও গড়ে ওঠেনি। অধিনায়ক নিক কেলি ৩৯ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৮তম ওভারে তার বিদায়ের পর ইনিংসের গতি আরও কমে যায়।
বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। নিউজিল্যান্ড যখন ২০০ রানের পথে এগোচ্ছিল, তখনই তারা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। শেষ দিকে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলের (২৭*) ছোট্ট ঝড়ে দলটি ১৮০ পার হতে সক্ষম হয়।
৩২ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। একটি করে নেন শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান ও মেহেদী হাসান।
শরিফুলের প্রথম শিকার কেলি
দ্রুত উইকেট পতন হলেও প্রান্ত আগলে খেলছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি। রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। ১৭.৫ ওভারে মেরে খেলতে গিয়ে শরিফুলের প্রথম শিকার হন তিনি। কেলি ২৭ বলে করেছেন ৩৯ রান। তাতে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়।
আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ
আলোর স্বল্পতায় ১৬.৩ ওভারে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ক্রিকইনফোর খবর অনুযায়ী মেঘলা আবহাওয়ায় ফ্লাডলাইটের কিছু বাতি আকস্মিকভাবে কাজ করছে না। তখনই খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
মেহেদীর ঘূর্ণিতে পড়লো পঞ্চম উইকেট
বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপ বাড়ছিলো। রান বাড়াতে মরিয়া হওয়ার চেষ্টায় পঞ্চম উইকেটও গেছে নিউজিল্যান্ডের। মেহেদী হাসানের বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ৭ বলে ৩ রানে বোল্ড হয়েছেন ফক্সক্রফট। নিউজিল্যান্ড পঞ্চম উইকেট হারিয়েছে ১৩০ রানে।
রিশাদের পর সাকিবের আঘাত
জুটি ভাঙার পর ছন্দ পতন ঘটেছে নিউজিল্যান্ড ইনিংসে। ক্লিভারের পর রিশাদের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন কাটেনে ক্লার্ক। অবশ্য তার আগেই ৩৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি ছুঁয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৫১ রানে হৃদয়কে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। পরের ওভারে নতুন ব্যাটার বেভন জ্যাকবসকেও (১) তালুবন্দি করান তানজিম হাসান। তাতে দ্রুত আরও একটি উইকেটের পতন হয়েছে। নিউজিল্যান্ড চতুর্থ উইকেট হারায়১১৭ রানে।
৮৮ রানের জুটি ভাঙলেন রিশাদ
৯.১ ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। রিশাদের বলে কাটেনে ক্লার্কের ক্যাচ উঠলেও সেটা নিতে পারেননি সাইফ। তার পর টানা দুই চারে ২৭ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূরণ করেন ডেন ক্লিভার। চতুর্থ ডেলিভারিতে শেষ পর্যন্ত রিশাদের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন তিনি। ক্লিভারের ২৮ বলে করা ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। তার আউটে ভেঙেছে ৮৮ রানের জুটি (৫০ বলে)।
পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ডের ৬১
১১ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ঝড়ো গতিতে খেলে রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে স্কোরবোর্ডে যোগ করেছে ৬১ রান। এই সময় ডেন ক্লিভার ও কাটেনে ক্লার্কের জুটি পঞ্চাশ স্পর্শ করেছে।
হৃদয়ের থ্রোতে রানআউট রবিনসন
প্রথম ওভারেই ১১ রান তুলে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারে অবশ্য রানআউটে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়েছেন টিম রবিনসন (০)। নিউজিল্যান্ড ১১ রানে হারায় তাদের প্রথম উইকেট।
টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ
পাঁচ মাস বিরতির পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টি জয়ের মিশন। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরুতে আজ টসভাগ্য হেসেছে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যান
মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের অবস্থা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দুই দলের ২০টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র চারটিতে। নিউজিল্যান্ড জয় পেয়েছে ১৫ ম্যাচে, আর একটি ম্যাচে কোনো ফলাফল আসেনি।
তাছাড়া চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই হবে নিউজিল্যান্ডের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর আগে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাদের ছয়টি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরপুরে। দুই দলের মধ্যে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ হয়েছে ২০২৩ সালে। যা সমতায় শেষ হয়েছিল।
একাদশে কারা
বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার মূল জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন পেসার রিপন মন্ডল। যদিও এশিয়ান গেমসে তিনটি টি-টোয়েন্টিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
নিউজিল্যান্ড অবশ্য দুঃসংবাদ নিয়েই খেলতে নামছে। চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তার বদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিক কেলি। এছাড়া অভিষেক হচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ন্যাথান স্মিথ ও পেসার ম্যাথু ফিশারের।
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), পারভেজ হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও রিপন মণ্ডল।
নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ডেন ক্লিভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ম্যাথু ফিশার ও বেন লিস্টার।