বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

সাইফের বিদায়ে ভাঙলো শুরুর জুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
সাইফের বিদায়ে ভাঙলো শুরুর জুটি

স্পোর্টস ডেস্ক:

প্রথম টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৬ ওভারে ৪৪/১ (তানজিদ ১৬*, লিটন ২*; সাইফ ১৭)

নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ১৮২/৬ (স্মিথ ২*, ক্লার্কসন ২৭*; রবিনসন ০, ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, জ্যাকবস ১, ফক্সক্রফট ৩, কেলি ৩৯)

১৮৩ রানের লক্ষ্যে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান মিলে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন। তাদের ব্যাটে ৫ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৪০। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অবশ্য টিকতে পারেননি সাইফ। মেরে খেলতে গিয়ে স্মিথের তৃতীয় ওভারে ১৭ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন। তার ১৬ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। ভাঙে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি। ফলে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে বাংলাদেশ সংগ্রহ করতে পারে ৪৪ রান।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নিউজিল্যান্ড

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান রবিনসন। তার পর দ্রুত ম্যাচের গতি বদলে দেন ডেন ক্লিভার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। এরপর ক্লিভারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৮৮ রানের জুটি গড়েন কাটেনে ক্লার্ক। এই জুটি ভেঙে ছন্দ পতন ঘটান রিশাদ। ক্লিভারকে ৫১ রানে এলবিডাব্লিউ করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, দুই সেট ব্যাটারই ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ক্লার্ক-ক্লিভারকে ফিরিয়েছেন রিশাদ।

তাদের বিদায়ে কিছুটা ছন্দ হারায় নিউজিল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে, আর মাঝের ওভারগুলোতে কোনো স্থায়ী জুটিও গড়ে ওঠেনি। অধিনায়ক নিক কেলি ৩৯ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৮তম ওভারে তার বিদায়ের পর ইনিংসের গতি আরও কমে যায়।

বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। নিউজিল্যান্ড যখন ২০০ রানের পথে এগোচ্ছিল, তখনই তারা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। শেষ দিকে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলের (২৭*) ছোট্ট ঝড়ে দলটি ১৮০ পার হতে সক্ষম হয়।

৩২ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। একটি করে নেন শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান ও মেহেদী হাসান।

শরিফুলের প্রথম শিকার কেলি

দ্রুত উইকেট পতন হলেও প্রান্ত আগলে খেলছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি। রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। ১৭.৫ ওভারে মেরে খেলতে গিয়ে শরিফুলের প্রথম শিকার হন তিনি। কেলি ২৭ বলে করেছেন ৩৯ রান। তাতে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়।

আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ

আলোর স্বল্পতায় ১৬.৩ ওভারে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ক্রিকইনফোর খবর অনুযায়ী মেঘলা আবহাওয়ায় ফ্লাডলাইটের কিছু বাতি আকস্মিকভাবে কাজ করছে না। তখনই খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

মেহেদীর ঘূর্ণিতে পড়লো পঞ্চম উইকেট

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপ বাড়ছিলো। রান বাড়াতে মরিয়া হওয়ার চেষ্টায় পঞ্চম উইকেটও গেছে নিউজিল্যান্ডের। মেহেদী হাসানের বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ৭ বলে ৩ রানে বোল্ড হয়েছেন ফক্সক্রফট। নিউজিল্যান্ড পঞ্চম উইকেট হারিয়েছে ১৩০ রানে।

রিশাদের পর সাকিবের আঘাত

জুটি ভাঙার পর ছন্দ পতন ঘটেছে নিউজিল্যান্ড ইনিংসে। ক্লিভারের পর রিশাদের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন কাটেনে ক্লার্ক। অবশ্য তার আগেই ৩৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি ছুঁয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৫১ রানে হৃদয়কে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। পরের ওভারে নতুন ব্যাটার বেভন জ্যাকবসকেও (১) তালুবন্দি করান তানজিম হাসান। তাতে দ্রুত আরও একটি উইকেটের পতন হয়েছে। নিউজিল্যান্ড চতুর্থ উইকেট হারায়১১৭ রানে।

৮৮ রানের জুটি ভাঙলেন রিশাদ

৯.১ ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। রিশাদের বলে কাটেনে ক্লার্কের ক্যাচ উঠলেও সেটা নিতে পারেননি সাইফ। তার পর টানা দুই চারে ২৭ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূরণ করেন ডেন ক্লিভার। চতুর্থ ডেলিভারিতে শেষ পর্যন্ত রিশাদের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন তিনি। ক্লিভারের ২৮ বলে করা ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। তার আউটে ভেঙেছে ৮৮ রানের জুটি (৫০ বলে)।

পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ডের ৬১

১১ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ঝড়ো গতিতে খেলে রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে স্কোরবোর্ডে যোগ করেছে ৬১ রান। এই সময় ডেন ক্লিভার ও কাটেনে ক্লার্কের জুটি পঞ্চাশ স্পর্শ করেছে।

হৃদয়ের থ্রোতে রানআউট রবিনসন

প্রথম ওভারেই ১১ রান তুলে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারে অবশ্য রানআউটে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়েছেন টিম রবিনসন (০)। নিউজিল্যান্ড ১১ রানে হারায় তাদের প্রথম উইকেট।

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

পাঁচ মাস বিরতির পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টি জয়ের মিশন। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরুতে আজ টসভাগ্য হেসেছে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যান

মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের অবস্থা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দুই দলের ২০টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র চারটিতে। নিউজিল্যান্ড জয় পেয়েছে ১৫ ম্যাচে, আর একটি ম্যাচে কোনো ফলাফল আসেনি।

তাছাড়া চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই হবে নিউজিল্যান্ডের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর আগে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাদের ছয়টি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরপুরে। দুই দলের মধ্যে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ হয়েছে ২০২৩ সালে। যা সমতায় শেষ হয়েছিল।

একাদশে কারা

বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার মূল জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন পেসার রিপন মন্ডল। যদিও এশিয়ান গেমসে তিনটি টি-টোয়েন্টিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

নিউজিল্যান্ড অবশ্য দুঃসংবাদ নিয়েই খেলতে নামছে। চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তার বদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিক কেলি। এছাড়া অভিষেক হচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ন‍্যাথান স্মিথ ও পেসার ম‍্যাথু ফিশারের।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), পারভেজ হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও রিপন মণ্ডল।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ডেন ক্লিভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ম্যাথু ফিশার ও বেন লিস্টার।

Ads small one

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুযোগ, নাকি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুযোগ, নাকি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইতিপূর্বে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই জোটকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকার পক্ষ থেকে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশের বিষয়টি নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের যে স্বাধীন ও সুষম পররাষ্ট্রনীতি, তার আলোকেই এই জোটে অংশগ্রহণের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত লাভ-ক্ষতি গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভ হলো “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়। একটি বহুজাতিক সামরিক বা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এই নীতিনির্ধারণী ভিত্তিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

‎এ ধরনের চুক্তিতে সরাসরি যোগ দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে ধারণা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, যেখানে মক্কা চুক্তিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো ‘একজনের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ’ নীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংঘাতের জটিলতায় জড়িয়ে বাংলাদেশের সৈন্যদের অন্য দেশের যুদ্ধে নিয়োজিত করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সাথে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স এবং বিভিন্ন প্রধান শক্তির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক। কোনো সামরিক ব্লকে জড়ানোর ফলে যদি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে, তবে তার দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

আঞ্চলিক পরাশক্তি, সামরিক বাজার ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ
‎দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেও এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান এবং শক্তিশালী সামরিক প্রবিধিসম্পন্ন তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের যেকোনো সামরিক সম্পৃক্ততা প্রতিবেশীদের দৃষ্টিতে একটি নতুন কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের সীমানা সংলগ্ন অঞ্চলে কৌশলগত চাপ বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে ঢাকার পথ জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের উদীয়মান প্রসার ও বাণিজ্যিক স্বার্থও এখানে স্পষ্ট। তুরস্কের সামরিক আধুনিকায়ন প্রকল্প ‘ঋড়ৎপবং এড়ধষ ২০৩০’-এর আওতায় তাদের আধুনিক ড্রোন, প্রযুক্তিসম্পন্ন নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বড় বাজার হতে পারে।

‎বৈশ্বিক মঞ্চে ইতিবাচক কূটনীতি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঢাকার কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবকেই পুনর্ব্যক্ত করে। বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই বর্ধিত দরকষাকষির ক্ষমতাকে সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও সুষম কূটনীতির কাজে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশ ইতিপূর্বে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন ১৪টি দেশের ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’-এ যুক্ত হয়েছে। কিন্তু ওই জোটের উদ্দেশ্য ছিল সরাসরি বাণিজ্যিক নিরাপত্তা দেওয়া, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। পক্ষান্তরে, সরাসরি কোনো বহুজাতিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাওয়া ভিন্ন হিসাব-নিকাশের বিষয়।

‎বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রভাব, ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কূটনৈতিক সম্ভাবনা
‎১. অর্থনৈতিক রূপরেখা: মক্কা চুক্তির মতো জোটে যোগ দিলে স্বল্পমেয়াদে সৌদি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মিললেও, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে জ্বালানি আমদানির খরচ ও শিপিং বীমা ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুণœ রাখা।

‎২. ত্রিমুখী কৌশলগত ভারসাম্য (ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্র): বাংলাদেশ বর্তমানে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সফলভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। মক্কা চুক্তিতে পাকিস্তানের উপস্থিতি এবং তুরস্কের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঢাকার এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যমূলক অবস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
‎৩. জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে ভূমিকা: সরাসরি কোনো সামরিক বলয়ে না গিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের মধ্যস্থতাকারী ও শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী ভাবমূর্তিকে জোরদার করা প্রয়োজন। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা।

 

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় প্রশাসক নিয়োগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় প্রশাসক নিয়োগ

সংবাদদাতা: চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে থাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামের পক্ষে ফেসবুকে সরব হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে তাকে সরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গত ২৪ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে শ্যামনগর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ আগস্ট সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট দেন। চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে তিনি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে শ্যামনগরবাসীকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

গাজী নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ‘দুবারের সফল চেয়ারম্যান’ হাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো এবং তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মুখরোচক অপপ্রচার’ প্রতিপক্ষের ‘কঠিন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ফল’। তিনি ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।

তবে যে মামলায় হাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন, সেই মামলার এজাহারে চাঁদা দাবি, প্রকল্পের কাজে বাধা, হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ রয়েছে। হাজী নজরুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর এবং তাঁকে রক্ষা করতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ আনা হয়। প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডল ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে গত ১০ আগস্ট তাঁরা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই হাজী নজরুলের পক্ষে ফেসবুকে সরব হন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তার বক্তব্যে চেয়ারম্যানের কারাগারে যাওয়ার ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এদিকে জেলা প্রশাসনের চিঠিতে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফলে চাঁদাবাজির মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে যাওয়ার পর এবার তার দায়িত্বে প্রশাসক বসানোর মধ্য দিয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার নতুন ব্যবস্থা করা হলো।

 

 

শ্যামনগরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার জসনে জুলুস এর আয়োজনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে শ্যামনগরে উপজেলা জসনে জুলুস এর র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতি ছিলেন মাস্টার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (হেলাল)। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা বেলাল হোসেন। পবিত্র কুরআন তেলওয়াত এর মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভাপতি বক্তব্য শুরুতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নবী প্রেমিক মুসল্লীদেরকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জসনে জুলুস এর উপর গুরুত্বারোব করে এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি বলেন, অত্র সংগঠনটি একটি অ-রাজনৈতিক সংগঠন।

 

হুজুর পাক (সাঃ) এর আবির্ভাবের মূহুর্তে সমগ্র সৃষ্টিকুলের মধ্যে যে জাগরণ, শিহরণ ও উচ্ছাস সৃষ্টি হয়েছিল সেই দিনের অনুসরণে নবী প্রেমিকদের নিয়ে র‌্যালি, যাহা জসনে জুলুস র‌্যালী নামে আখ্যায়িত।

 

এই র‌্যালী অনন্তকাল ব্যাপী জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ। সভায় হায়বাতপুর শেখ পাড়া জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা ও খায়রিয়া আজিজিয়া ফাউন্ডেশনের সুজগ্য সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মোস্তাক আহম্মাদ জসনে জুুলুস উদযাপন সুশৃঙ্খল ও সুন্দর করার জন্য উপস্থিত সকলকে পরামর্শ পদান করেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলা ব্যাপী বিভিন্ন মসজিদ ও সংগঠন থেকে র‌্যালী সহকারে উপজেলা ঈদগাহ ময়দানে আলোচন সভায় মিলিত হয়।