মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরা ২০৩৫: একটি জেলার নতুন অর্থনীতির স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা ২০৩৫: একটি জেলার নতুন অর্থনীতির স্বপ্ন

মো. মামুন হাসান

একটি জেলার ভবিষ্যৎ কি শুধু তার মানচিত্রে লেখা থাকে? নাকি ভবিষ্যৎ তৈরি হয় মানুষের চিন্তা, নদীর গতিপথ, মাটির গন্ধ, সীমান্তের ব্যস্ততা, তরুণদের স্বপ্ন এবং সময়কে বুঝে নেওয়ার সক্ষমতায়? সাতক্ষীরার দিকে তাকালে মনে হয়, এই জেলার সবচেয়ে বড় সম্পদ এখনো পুরোপুরি আবিষ্কৃত হয়নি। সুন্দরবন, সমুদ্র, নদী, চিংড়ি, কাঁকড়া, মধু, কৃষি, সীমান্ত বাণিজ্য, লোকসংস্কৃতি এবং বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে আলাদা আলাদা সম্পদ হিসেবে দেখলে সাতক্ষীরার গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এগুলোকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে ২০৩৫ সালের সাতক্ষীরা আজকের সাতক্ষীরার মতো থাকবে না।

 

আমরা সাধারণত জেলার উন্নয়ন বলতে নতুন সড়ক, সেতু, ভবন কিংবা কোনো বড় প্রকল্পকে বুঝি। কিন্তু আগামী দিনের অর্থনীতি শুধু অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না। ভবিষ্যতের অর্থনীতি দাঁড়াবে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, স্থানীয় সম্পদ, সৃজনশীলতা এবং মানুষের অংশগ্রহণের ওপর। সেই জায়গা থেকে সাতক্ষীরাকে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে একই সঙ্গে রয়েছে সুন্দরবন এবং সমুদ্র উপকূল, নদী ও সীমান্ত, কৃষি ও মৎস্য, গ্রাম ও বন্দর। এমন ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বাংলাদেশের খুব বেশি জেলার নেই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বৈচিত্র্যের মধ্যে এখনো একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক গল্প তৈরি হয়নি।

সাতক্ষীরার অর্থনীতির একটি বড় অংশ চিংড়ি, কাঁকড়া, কৃষি ও মৎস্যনির্ভর। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কাঁচামাল উৎপাদন করে থেমে গেলে একটি জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সীমিত থাকে। একই সম্পদকে যদি প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং, রপ্তানি, খাদ্যসংস্কৃতি, পর্যটন এবং স্থানীয় উদ্যোক্তার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে একই সম্পদ থেকে একাধিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে।ধরা যাক, সাতক্ষীরার চিংড়ি শুধু একটি রপ্তানি পণ্য নয়। এটি হতে পারে একটি গ্যাস্ট্রোনমিক পরিচয়। স্থানীয় চিংড়িকে কেন্দ্র করে খাবারের উৎসব হতে পারে। স্থানীয় রেস্তোরাঁয় সাতক্ষীরার নিজস্ব খাদ্য ব্র্যান্ড তৈরি হতে পারে। কৃষি ও মৎস্য খামারকে ঘিরে শিক্ষামূলক ভ্রমণ হতে পারে। অর্থাৎ উৎপাদন থেকে অভিজ্ঞতা পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খল তৈরি করা সম্ভব।একইভাবে সাতক্ষীরার মধু, কাঁকড়া, খেজুরের গুড়, স্থানীয় কৃষিপণ্য কিংবা সুন্দরবনসংলগ্ন জীবনের গল্পও অর্থনীতির অংশ হতে পারে। পর্যটক শুধু একটি জায়গা দেখতে আসে না। সে একটি গল্প কিনতে আসে, একটি অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যায়। সাতক্ষীরার কাছে সেই গল্পের অভাব নেই। অভাব রয়েছে গল্পগুলোকে অর্থনৈতিক পণ্যে রূপ দেওয়ার উদ্যোগের।

সুন্দরবনকে ঘিরে সাতক্ষীরার সম্ভাবনা আরও বড়। কিন্তু সুন্দরবনকে শুধু বাঘ দেখার জায়গা হিসেবে উপস্থাপন করলে এর বিশাল মানবিক ও সাংস্কৃতিক গল্প আড়ালে থেকে যায়। মৌয়াল, বাওয়ালি, জেলে, বনজীবী মানুষ, বনবিবির সংস্কৃতি, নদী, নৌকা, মধু সংগ্রহ, কাঁকড়া ধরা, স্থানীয় খাবার এবং উপকূলীয় জীবনযাত্রা মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ কমিউনিটি ট্যুরিজম মডেল তৈরি করা সম্ভব।শ্যামনগরের একটি সাধারণ বাড়ি যদি পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার মান বজায় রেখে পর্যটকের থাকার জায়গা হয়, স্থানীয় পরিবারের আয় বাড়তে পারে। পর্যটক স্থানীয় খাবার খাবে, নৌকায় ঘুরবে, স্থানীয় গাইড নেবে, হস্তশিল্প কিনবে, স্থানীয় সংস্কৃতি দেখবে। অর্থাৎ একজন পর্যটকের ব্যয় একাধিক পরিবারের কাছে পৌঁছাবে। এটিই পর্যটনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি।

মান্দারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, জামতলা, দুবলার চর কিংবা আলোরকোলকে বিচ্ছিন্ন গন্তব্য হিসেবে না দেখে একটি বৃহত্তর উপকূলীয় পর্যটন নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ভাবতে হবে। সাতক্ষীরা শহর থেকে সুন্দরবন ও উপকূল পর্যন্ত একটি সুপরিকল্পিত পর্যটন করিডোর তৈরি করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতিশীলতা তৈরি হতে পারে।এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ভোমরা স্থলবন্দর। ভোমরা শুধু বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সাতক্ষীরার যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা। সীমান্ত বাণিজ্য, ব্যবসায়িক ভ্রমণ, খাদ্য, সংস্কৃতি এবং সীমান্তভিত্তিক পর্যটনকে পরিকল্পিতভাবে যুক্ত করা গেলে ভোমরা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোরের ধারণা বাস্তব রূপ পেতে পারে।

তবে সাতক্ষীরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়তো এর তরুণ জনগোষ্ঠী। আগামী দিনের সাতক্ষীরার অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী হবে, তার বড় অংশ নির্ভর করবে তরুণদের আমরা কীভাবে প্রস্তুত করছি তার ওপর। শুধু সরকারি চাকরির প্রস্তুতি দিয়ে একটি জেলার বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পর্যটন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, এভিয়েশন, ক্রুজ, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফুড প্রসেসিং, কৃষি উদ্যোক্তা, গাইডিং, ট্রাভেল ব্যবসা এবং বিদেশের দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে হবে।সাতক্ষীরার একটি তরুণ যদি নিজের গ্রামে একটি হোমস্টে পরিচালনা করতে পারে, অন্য একজন যদি সুন্দরবনের প্রশিক্ষিত গাইড হয়, কেউ যদি স্থানীয় খাবারের ব্র্যান্ড তৈরি করে, কেউ যদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাতক্ষীরার পর্যটন বিক্রি করে এবং আরেকজন যদি আন্তর্জাতিক হোটেলে দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে কাজ করে, তাহলে কর্মসংস্থানের সংজ্ঞাই বদলে যাবে।

এখানেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা শুধু চাকরির প্রস্তুতি দেবে না, উদ্যোক্তা তৈরির সক্ষমতাও তৈরি করবে। বিশেষ করে পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, খাদ্য প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে হবে।সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় জলবায়ুকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও পানির সংকট এই জেলার বাস্তবতা। কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকিকে শুধু সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। জলবায়ু অভিযোজন, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং জলবায়ু গবেষণাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা একটি নতুন ধরনের অর্থনৈতিক পরিচয় তৈরি করতে পারে।

২০৩৫ সালের সাতক্ষীরাকে কল্পনা করলে তাই শুধু নতুন ভবন বা নতুন সড়কের ছবি দেখা উচিত নয়। দেখা উচিত এমন একটি জেলা, যেখানে সুন্দরবনের মধু স্থানীয় ব্র্যান্ডে বিক্রি হচ্ছে, গ্রামের বাড়ি পর্যটকের থাকার জায়গায় পরিণত হয়েছে, তরুণরা স্থানীয় সম্পদকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করছে, ভোমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, নদী ও উপকূল পর্যটনের নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে এবং প্রযুক্তি সাতক্ষীরার প্রতিটি সম্ভাবনাকে দেশের বাইরেও পরিচিত করছে।

 

এই পরিবর্তনের জন্য হয়তো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নতুন কোনো প্রকল্প নয়, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। সাতক্ষীরাকে পিছিয়ে থাকা উপকূলীয় জেলা হিসেবে দেখার অভ্যাস বদলে সম্ভাবনাময় বহুমাত্রিক অর্থনীতির জেলা হিসেবে দেখতে হবে।২০৩৫ এখনো অনেক দূরের কোনো সময় নয়। একটি প্রজন্মের কর্মজীবন শুরু হয়ে শেষ হওয়ার আগেই সেই সময় এসে যাবে। প্রশ্ন হলো, তখন সাতক্ষীরা কী হবে? শুধু সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার? নাকি সুন্দরবন, সমুদ্র, কৃষি, সীমান্ত, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও তরুণ উদ্যোক্তাদের শক্তিতে তৈরি একটি নতুন অর্থনীতির পরীক্ষাগার?

সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ হয়তো কোনো একক শিল্পে লুকিয়ে নেই। ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে তার বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাগুলোকে এক সুতোয় গাঁথার মধ্যে। ২০৩৫ সালের সাতক্ষীরা তাই কেবল একটি উন্নত জেলার স্বপ্ন নয়। এটি হতে পারে এমন একটি জেলার গল্প, যে নিজের সম্পদকে নতুন চোখে দেখে এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই লিখতে শেখে।

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

Ads small one

মিনা শিশুদের জন্য জনপ্রিয় টিভি কার্টুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
মিনা শিশুদের জন্য জনপ্রিয় টিভি কার্টুন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মিনা হলো দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি শিক্ষামূলক অ্যানিমেশন কার্টুন। ইউনিসেফ এর উদ্যোগে শিশুদের অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই কার্টুনটি তৈরি করা হয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এটি বাংলাভাষী শিশুদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

মিনা কার্টুনটি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয়, বরং এর প্রতিটি পর্বের পেছনে একটি গভীর সামাজিক বার্তা থাকে। মিনাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার বাবার সম্মতি আদায়ের গল্প। ডায়রিয়া প্রতিরোধে খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার এবং হাত ধোয়ার গুরুত্ব। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে খাবার বা শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিশু পাচার রোধে সচেতনতা তৈরি করা।

কার্টুনের প্রধান চরিত্র মিনা। সে একজন ৯ বছর বয়সী সাহসী, বুদ্ধিমান ও অনুসন্ধিৎসু মেয়ে, যে তার গ্রামের নানা সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। মিনার ছোট ভাই রাজু। সে মিনার সাথে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেয়। মিনার পোষা তোতাপাখি মিঠু। মিঠু অত্যন্ত চতুর এবং মিনার বিশ্বস্ত সঙ্গী, যে অনেক বিপদে মিনাকে বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করে। মিনার পোষা গরু লালি।
প্রতি বছর ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মীনা দিবস পালন করা হয়। ইউনিসেফের সহায়তায় ১৯৯৮ সাল থেকে এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। যার মূল উদ্দেশ্য হলো; শিশুদের বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং সমঅধিকার রক্ষা করা।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টিভি কার্টুন মীনা। ১৯৯৩ সালে প্রথম বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের একটি অংশ হিসেবে ইউনিসেফের সহায়তায় এই কার্টুন ধারাবাহিকটি নির্মিত হয়। কার্টুন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র বাংলা ভাষায় নির্মিত কার্টুনগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র। মীনা কার্টুন শুধু বাংলায় তৈরি হয়নি। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, নেপালি-সহ ২৯টি ভাষায় মীনা তৈরি হয়েছে। মীনা কার্টুনের মীনা চরিত্রের রূপদানকারী বিখ্যাত ভারতীয় কার্টুনিস্ট রাম মোহন এবং ইউনিসেফের নিল ম্যাককি ছিলেন কার্টুন সিরিজটির স্্রষ্টা।

মীনা দিবস হলো শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করার একটি সচেতনতামূলক উৎসব। বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের জন্য মীনা কার্টুন প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্ট। শিশুদের অধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক নাটক ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়। গল্প বলা বা কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের পুরস্কৃত করে উৎসাহিত করা হয়।

মীনা কার্টুনের প্রধান চরিত্র মীনা শিক্ষার জন্য নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। দক্ষিণ এশিয়ায় ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে যে বৈষম্য করা হতো, তা দূর করতে মীনা একটি প্রতীকী চরিত্র। এই দিনে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের শেখানো হয় যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারী। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং সঠিক পুষ্টি গ্রহণের মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধিগুলো মীনা দিবসে শিশুদের খেলার ছলে ও আনন্দের মাধ্যমে শেখানো হয়। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, শিশুশ্রম বন্ধ এবং শিশুদের যেকোনো ধরনের নির্যাতন থেকে রক্ষা করার সচেতনতা তৈরিতে এই দিবসটি বড় ভূমিকা রাখে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে যে বৈষম্য করা হতো, তা দূর করতে মীনা একটি প্রতীকী চরিত্র। মীনা কার্টুন চরিত্রটি শিশুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়, যার মাধ্যমে শিক্ষণীয় বার্তাগুলো সহজে তাদের মধ্যে পৌঁছে যায়। এই দিনে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের শেখানো হয় যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারী।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর বাজারে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর বাজারে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভালুকঘর বাজারে সোমবার সন্ধ্যার পর ভালুকঘর ক্যাম্প ইনচার্জ দেব কুমার এর সভাপতিত্বে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা বাবু, সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসাইন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাহবুর রহমান।

 

আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সহ সম্পাদক মোঃ আব্দুল জব্বার, ৯ নং ওয়ার্ডের সভাপতি হায়দার আলী সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম আজু, বাজার কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক যুবদল নেতা আবু হাসানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি। বক্তারা মাদক, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সংবাদদাতা: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাড়ি, বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জরুরি। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বিদ্যালয়, পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।