বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরা ২০৩৫: তরুণদের হাতে নতুন অর্থনীতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা ২০৩৫: তরুণদের হাতে নতুন অর্থনীতি

মো. মামুন হাসান
একটি জেলার ভবিষ্যৎ কী দিয়ে তৈরি হয়? সেতু, সড়ক, শিল্পকারখানা আর বড় বড় অবকাঠামো দিয়ে? অবশ্যই এগুলো প্রয়োজন। কিন্তু ২০৩৫ সালের সাতক্ষীরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হয়তো ইট পাথরের হবে না। হবে দক্ষ, সৃজনশীল ও উদ্যোক্তা তরুণদের একটি প্রজন্ম।
বাংলাদেশের সামনে এখন বড় প্রশ্ন কর্মসংস্থান। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশে কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করেছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ, কিন্তু নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ। অর্থাৎ শ্রমবাজারে প্রবেশ করা বিপুলসংখ্যক তরুণ পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়নি।এই বাস্তবতায় সাতক্ষীরার উন্নয়ন পরিকল্পনাকে শুধু চাকরির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রয়োজন এমন একটি স্থানীয় অর্থনীতি, যেখানে তরুণরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেরাই কাজ তৈরি করবে।সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তার বৈচিত্র্য। সুন্দরবন, উপকূল, নদী, চিংড়ি, কৃষি, সীমান্ত বাণিজ্য, গ্রামীণ জীবন, লোকসংস্কৃতি এবং ভোমরা স্থলবন্দর এক জেলার ভেতরেই রয়েছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এসবকে বিচ্ছিন্ন সম্পদ হিসেবে দেখব, নাকি একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত করব?
সাত উপজেলা, সাত অর্থনৈতিক পরিচয়
২০৩৫ সালের পরিকল্পনায় সাতক্ষীরার সাত উপজেলাকে একইভাবে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিটি উপজেলার নিজস্ব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি পরস্পর সংযুক্ত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যেতে পারে।
শ্যামনগর হতে পারে প্রকৃতি ও জলবায়ু পর্যটনের কেন্দ্র: সুন্দরবন, উপকূল, নদী ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে হোমস্টে, স্থানীয় খাবার, নৌভ্রমণ, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও প্রশিক্ষিত পর্যটন গাইডের বাজার তৈরি করা যায়। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন পর্যটন, যেখানে পর্যটকের ব্যয়ের একটি বড় অংশ স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছায়। সুন্দরবন সংরক্ষণ ও স্থানীয় জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য রাখাও এই মডেলের শর্ত।

আশাশুনি হতে পারে জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতির পরীক্ষাগার: লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতাকে শুধু দুর্যোগ হিসেবে না দেখে লবণসহিষ্ণু কৃষি, নিরাপদ পানি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সৌরশক্তি, বিকল্প জীবিকা ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কেন্দ্র করা যেতে পারে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জীবিকা তৈরিতে দক্ষতা, উদ্যোক্তা সহায়তা ও অর্থায়ন একসঙ্গে দেওয়ার মডেল এখন বাংলাদেশে উন্নয়ন কার্যক্রমেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
কালীগঞ্জ হতে পারে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কেন্দ্র: কৃষিপণ্য কাঁচা অবস্থায় বিক্রি না করে সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে মূল্য বাড়াতে হবে। স্থানীয় তরুণদের খাদ্য নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল বিপণন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে কৃষির সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হবে।
তালা হতে পারে কৃষি ও গ্রামীণ পর্যটনের পরীক্ষাক্ষেত্র:- একটি কৃষিখামার শুধু উৎপাদনের স্থান নয়, পর্যটকের অভিজ্ঞতার জায়গাও হতে পারে। স্থানীয় খাবার, মাছ, কৃষিকাজ, জলাভূমি ও গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করে ছোট পরিসরে কৃষি পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব। এর সঙ্গে স্থানীয় নারী ও তরুণদের যুক্ত করা গেলে আয় ছড়িয়ে পড়বে পরিবার পর্যন্ত।
কলারোয়া হতে পারে সীমান্তভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্র:- সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সেবা যেমন পরিবহন, প্যাকেজিং, গুদাম ব্যবস্থাপনা, হিসাবরক্ষণ, খাদ্যসেবা ও ডিজিটাল বাণিজ্যে স্থানীয় তরুণদের দক্ষ করে তোলা দরকার। এতে সীমান্তের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের একটি অংশ স্থানীয় দক্ষ জনবলের হাতে থাকবে।
দেবহাটা হতে পারে নদী, সীমান্ত ও প্রকৃতি পর্যটনের সংযোগস্থল:- স্থানীয় নদী ও গ্রামীণ পরিবেশকে কেন্দ্র করে ছোট পর্যটন করিডর, হোমস্টে, স্থানীয় খাবার ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা যেতে পারে। দেবহাটা ও সদরকে সংযুক্ত করে একটি পরীক্ষামূলক পর্যটন রুটও তৈরি করা সম্ভব।
সাতক্ষীরা সদর হতে পারে জ্ঞান ও ডিজিটাল অর্থনীতির কেন্দ্র:- জেলার তরুণদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বিপণন, ইংরেজি যোগাযোগ, ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিকস, ভিডিও নির্মাণ, পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও অনলাইন ব্যবসার প্রশিক্ষণ এখানে কেন্দ্রীভূত করা যেতে পারে। ফলে তরুণকে কাজের জন্য ঢাকায় যাওয়ার পাশাপাশি সাতক্ষীরায় বসেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

কাগজে পরিকল্পনা নয়, ১০ বছরের কর্মসূচি
সাতক্ষীরা ২০৩৫ বাস্তবায়নের জন্য নতুন কোনো বিশাল প্রকল্পের আগে একটি জেলা তরুণ অর্থনীতি কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে।২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় অর্থনৈতিক সম্পদের একটি ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করতে হবে। কোথায় কী কৃষিপণ্য, কোথায় কী পর্যটন সম্পদ, কোথায় কী দক্ষতা, কোথায় কী ক্ষুদ্র শিল্প, কোথায় কী বাজার, তার তথ্য একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডারে রাখতে হবে।২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ চালু করা যেতে পারে। প্রশিক্ষণ হবে চাকরির পরীক্ষার জন্য নয়, স্থানীয় বাজারের জন্য। পর্যটন এলাকায় পর্যটন দক্ষতা, কৃষি এলাকায় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সীমান্ত এলাকায় লজিস্টিকস এবং শহরকেন্দ্রিক এলাকায় ডিজিটাল দক্ষতা।
২০২৯ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা, ব্যবসায়িক পরামর্শ এবং বাজার সংযোগ একসঙ্গে দিতে হবে। শুধু ঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরি হয় না। প্রশিক্ষণ, মূলধন, পরামর্শ এবং বাজার চারটিকেই একসঙ্গে দিতে হয়। বাংলাদেশের রেইজ প্রকল্পে প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও অর্থায়ন একত্রে দেওয়ার ফলে অংশগ্রহণকারীদের কর্মসংস্থানের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
২০৩২ থেকে ২০৩৫ হবে সম্প্রসারণের সময়। স্থানীয় সফল উদ্যোগগুলোকে জাতীয় বাজারে নেওয়া, পর্যটন ব্র্যান্ড তৈরি, রপ্তানিযোগ্য পণ্য তৈরি এবং ডিজিটাল সেবা বিদেশে বিক্রির দিকে যেতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হবে নতুন হাতিয়ার
২০৩৫ সালের অর্থনীতির পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে লাভ নেই। সাতক্ষীরার বাস্তব সমস্যায় প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাতে হবে। কৃষক বাজার ও আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন। পর্যটন উদ্যোক্তা বিদেশি পর্যটকের জন্য বহুভাষিক প্রচারণা তৈরি করবেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসাব ও বাজার বিশ্লেষণ করবেন। শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত শিক্ষার সহায়ক হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে।অর্থাৎ প্রযুক্তি হবে স্থানীয় অর্থনীতির উৎপাদনশীলতার হাতিয়ার।

সবচেয়ে জরুরি বিনিয়োগ তরুণদের মধ্যে
বাংলাদেশে তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দক্ষতার ঘাটতি ও দক্ষতা এবং চাকরির চাহিদার অমিল একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় প্রতি বছর ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। সাতক্ষীরার জন্য তাই প্রশ্নটি শুধু কতজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো, তা নয়। প্রশিক্ষণের ছয় মাস পর কতজন কাজ পেল, এক বছর পর কতজন আয় করছে, কতজন উদ্যোক্তা হয়েছে, কতজন অন্যকে কাজ দিয়েছে, সেটিই হতে হবে সাফল্যের মাপকাঠি। এখানেই আমাদের প্রচলিত প্রকল্প চিন্তার পরিবর্তন দরকার। একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাফল্য হবে না কতজন সনদ পেল। সাফল্য হবে কতজনের আয় বাড়ল।একটি পর্যটন প্রকল্পের সাফল্য হবে না কতজন পর্যটক এলো। সাফল্য হবে স্থানীয় মানুষের আয় কত বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল।একটি উদ্যোক্তা প্রকল্পের সাফল্য হবে না কতজন ঋণ পেল। সাফল্য হবে কতটি ব্যবসা টিকে থাকল।

২০৩৫ সালের সাতক্ষীরা
কল্পনা করা যাক, ২০৩৫ সালের একটি সকাল। শ্যামনগরের একজন তরুণ সুন্দরবন ভ্রমণ পরিচালনা করছেন। সদর উপজেলার একজন তরুণ অনলাইনে তার ব্যবসার বিপণন করছেন। তালার একটি পরিবার কৃষি পর্যটন থেকে আয় করছে। কালীগঞ্জের একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বাজারে বিক্রি করছে। কলারোয়ার একজন তরুণ সীমান্ত বাণিজ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। আশাশুনির একজন উদ্যোক্তা জলবায়ু সহনশীল কৃষি নিয়ে ব্যবসা করছেন। দেবহাটার তরুণেরা নদী ও প্রকৃতি পর্যটন পরিচালনা করছেন।এটি কোনো কল্পবিলাস নয়। তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, স্থানীয় নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং তরুণদের উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া।
সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ শুধু কতটি নতুন রাস্তা হলো, তা দিয়ে মাপা যাবে না। মাপতে হবে কতজন তরুণ দক্ষ হলো, কতটি নতুন ব্যবসা তৈরি হলো, কত পরিবার পর্যটন অর্থনীতিতে যুক্ত হলো, কত স্থানীয় পণ্য ব্র্যান্ড হলো এবং কত তরুণ সাতক্ষীরায় বসে বৈশ্বিক বাজারে কাজ করল।একটি জেলার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার মাটির নিচে নয়, মানুষের দক্ষতার মধ্যে থাকে।
তাই সাতক্ষীরা ২০৩৫ কোনো কল্পিত ভবিষ্যতের নাম নয়। এটি হতে পারে আজ থেকেই শুরু করা একটি বাস্তব কর্মসূচির নাম।যেখানে সুন্দরবন হবে সংরক্ষণ ও জীবিকার সেতু, উপকূল হবে জলবায়ু উদ্ভাবনের পরীক্ষাগার, ভোমরা হবে বাণিজ্যের দরজা, উপজেলা হবে অর্থনৈতিক বিশেষায়নের কেন্দ্র এবং তরুণেরা হবে সেই অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।সাতক্ষীরা ২০৩৫ এর সবচেয়ে বড় অবকাঠামো হবে দক্ষ তরুণ। আর সেই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে এখনই। লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা

Ads small one

রানি মুখার্জি মা হারালেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
রানি মুখার্জি মা হারালেন

বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি মাকে হারালেন। তার মা কৃষ্ণা মুখার্জি মঙ্গলবার দুপুরে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রযোজনা সংস্থা ‘যশ রাজ ফিল্মস’ এক বিবৃতিতে কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। শোকের এই সময়ে মুখার্জি পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি এই কঠিন সময়ে আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য এই পরিবার কৃতজ্ঞ।’ শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণা মুখার্জি। একসময় কয়েকটি সিনেমায় গানও করেছিলেন তিনি। তার স্বামী রাম মুখার্জি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক। ২০১৭ সালে মারা যান তিনি।

মুম্বাইয়ে মুখার্জি পরিবারের বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন কৃষ্ণা। পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজাতেও প্রতিবছর তার সরব উপস্থিতি দেখা যেত। মায়ের সঙ্গে রানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।

রানির প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এ অভিনয়ের সুযোগ আসে তার বাবার বন্ধু ও প্রযোজক সেলিম আখতারের মাধ্যমে। তবে সেই ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জানিয়েছিলেন রানি।অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘মা ভেবেছিলেন, আমি যদি ভালো কাজ করি, তা আমাদের পরিবারের সবার জন্য ভালো হবে।’

‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রেও মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রানি। ছবিতে এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পেতে একজন মা কতটা দূর যেতে পারেন, সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছিল সিনেমাটিতে।

মাকে স্মরণ করে রানি একবার বলেছিলেন, ‘একজন আপাদমস্তক বাঙালি মানুষ। নিজ হাতে আমাদের খাইয়ে দিয়েছেন, কপালে টিপ পরিয়ে দিয়েছেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই শক্তি ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

চলতি বছর ‘মর্দানি ৩’ সিনেমায় দেখা গেছে রানিকে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর। ছবিটিতে শাহরুখ খান, তার মেয়ে সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও অভিষেক বচ্চনসহ বলিউডের একাধিক তারকা অভিনয় করেছেন।

ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

প্রশান্ত মহাসাগরে গত কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছে হারিকেন ‘পোলো’। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে রূপ নিয়েছে। ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে ধীরে এগোচ্ছে এবং আরও কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ‘হারিকেন হান্টার’ বিমান পোলোর ভেতরে প্রবেশ করে ঝড়টির শক্তি পরিমাপ করে। এনএইচসির ২২ সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার এবং কেন্দ্রে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ ৮৯২ মিলিবারে নেমে আসে।

এনএইচসি পোলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হারিকেন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গেরেরো ও মিচোয়াকান রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া ওক্সাকা, কলিমা ও জালিস্কো উপকূলেও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ের কারণে সমুদ্রেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পোলোর প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে বড় ঢেউ ও প্রাণঘাতী রিপ কারেন্টের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এনএইচসির তথ্য বলছে, অত্যন্ত উষ্ণ সমুদ্রের পানি পোলোর দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২১ সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে সংস্থাটি জানায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টির শক্তি অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়েছে এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবামও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে জালিস্কো, কলিমা ও মিচোয়াকানসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের রাজ্যগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউ ইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঢাকায় অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারী ভিত্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিজিটাল হয়রানি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হয়রানি কমাতে মেটা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট টিমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় কবে ও কীভাবে অফিস খুলবে, তা তারা পর্যালোচনা করবে।

বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ছিল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সমর্থন পাচ্ছে এবং এ নিয়ে সরকার ইতিবাচক। জ্বালানি সংকটের বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।