বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বচ্ছ সমাজের প্রত্যাশায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
স্বচ্ছ সমাজের প্রত্যাশায়

নাসরিন সুলতানা
রাষ্ট্র আজ সন্তানদের নিয়ে বিব্রত, চিন্তিত ও অসহায়ত্বের কবলে পড়েছে। কিন্তু আমরা কি উপলব্ধি করছি এ সবের জন্য সবার আগে পরিবারই সবকিছুর জন্য দায়ী। বাবা মায়ের ভুমিকা কি সেটা আগে জানতে ও বুঝতে হবে।বাবা মা কে হতে হবে সৎ ও উন্নত চিন্তার অধিকারী। সন্তানদের আমরা এ্যাকাডেমিক বই ছাড়া কোন সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, সংস্কৃতি, বৈজ্ঞানিক, কল্পকাহিনী বা ইতিহাস পড়তে উৎসাহিত করছি কি? বরং অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে ভাবছি সন্তানকে উন্নত জীবন উপহার দিতে পারছি। তাকে বাইক, ফোন ,প্রচুর হাত খরচের টাকা, নিত্য পোশাক, বাহিরের নামীদামী হোটেলের খাবার সরবরাহ করে ভাবছি সমাজে আমাদের ও সন্তানের একটা পরিচিতি ও মর্যাদা গড়ে উঠছে। ফেসবুকে এই আমরা বাবা-মায়েরা এসবের ছবি পোস্ট করে জানান দিচ্ছি আমার টাকা আছে, আমার বড় ব্যবসা আছে,আমি বড় পোষ্টে চাকরি করছি। এসব দেখে সন্তানরাও ঠিক একই মানসিকতা নিয়ে বড় হচ্ছে। সে বাবা মায়ের টাকা নিয়ে বন্ধুদের মাঝে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করে যা অন্য হত দরিদ্র বন্ধুদের মাঝে ঈর্ষার জন্ম দিচ্ছে আর তাদের মাঝে অজান্তেই বৈরিতার সৃষ্টি হচ্ছে।অভিবাবকরাই সন্তানের মাঝে এ বোধ সৃষ্টি করতে পারছে না যে সবাই মানুষ। মানুষ মানেই সহমর্মিতা, মানুষ মানেই মানবিকতা, মানুষ মানেই মানুষ সহ এ পৃথিবীর সকল সৃষ্টিকে ভালোবাসা আর মানুষ মানেই কেবল ভোগ না। নিজের যা কিছু আছে তা দেখানোর নয় বরং তা স্বাভাবিক জীবনের একটা অংশ হিসেবে গ্রহণ করা। সন্তানদের মাঝে আমরা এটা সৃষ্টি করতে পারছি না আমাদের যা কিছু আছে তার একটা অংশের দাবিদার আমাদের আশেপাশের অনেকেই যারা দুর্ভাগ্যক্রমে অসহায়, দুস্থ। বরং তারা সেটাকে উপভোগ করে আর প্রকাশ করতে ব্যস্ত থাকে আমি ধনীর দুলাল বা দুলালী। এতে করে সমাজে হিংসা, লোভ, বিদ্বেষ ইত্যাদি সর্বদা বিস্তার ঘটছে। এরপর আসে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও আইন প্রয়োগের যথার্থ প্রয়োগ। কিন্তু সবার আগে অভিবাবকদের নিজেদের সচেতন হতে হবে যাতে সন্তান একটা সুন্দর মনস্তত্ত্বিক চেতনা নিয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারে পরিবারে, সমাজে সর্বোপরি রাষ্ট্রে। কোন সন্তানের মৃত্যু আর দেখতে চাই না, কোন সন্তান যেন আর ধর্ষিত না হয় বা বলাৎকারের স্বীকার না হয় বা কোন সন্তান যেন আত্মহত্যা আর না করে সেইসাথে মানসিক বিপর্যয় নিয়ে জীবনে বেঁচে না থাকে। কোন মাকে যেন সন্তানের মৃত্যুর কষ্টে বলতে না হয় আমি কি নিয়ে বাঁচবো বা বিচার চাই না, দেশ ধ্বংস হয়ে যাক। এগুলো কারোরই কাম্য নয়। আমরা অভিভাবকেরা দায়িত্বশীল হই, নিজেদের ভুলটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করি আর সন্তান হারানোতে সকল মায়ের দুঃখে দুঃখিত হই।

সমাজে আরেক শ্রেণীর বাবা-মা আছেন যারা সন্তানকে অর্থের লোভে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করেন। কিছু নি¤œবিত্ত অভিবাবক অর্থের লোভে মেয়ে সন্তানকে ধনী পরিবারের বখাটে, নেশাখোর সন্তানের সাথে বিয়ে দেন ,অনেক সময় বয়সে ছয়গুন বড় বয়সী বৃদ্ধের সাথে ঘর বাঁধতে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বা বিপতিœক বৃদ্ধের ঘরে পাঠান সেবা যতেœর জন্য বৈধ বিবাহের মাধ্যমে বা সাময়িক আনন্দের জন্য নিশ্চিতমনে পাঠিয়ে দেন। এতে করে সে মেয়ে সন্তানটি না পায় শারীরিক সুখ, না পায় স্ত্রীর মর্যাদা, না পায় তার কল্পনার স্বর্গের সংসার। বরং প্রতিনিয়ত কপালে জোটে মারধোর, সতীনের গালিগালাজ, আগের পক্ষের সন্তানদের অপমান ও নির্যাতন। একসময় দেখা যায় নেশাখোর স্বামীর ঘর থেকে বা বৃদ্ধ স্বামীর মৃত্যুতে অল্প বয়সে বিধবা হয়ে ছিটকে পড়েছে কল্পনার সংসার থেকে। সন্তানটির জায়গা হয়না সমাজের কোথাও। তখন নিজের ও সন্তানের পেটের ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে বেছে নেয় অনৈতিক পথ যার প্রক্ষিতে সমাজের পরিবেশ হয়ে পড়ছে ভীষণ রকমই দূষিত, পঙ্কিল,অপবিত্র, কলঙ্কিত ও অশুদ্ধ বা কোন পথ না পেয়ে জীবনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে নিচ্ছে কোন এক অভিমানে। আরেক ধরনের লোভ এখন সমাজকে ভয়ংকরভাবে থাবা মেরেছে যেটা সৃষ্টি হয়েছে মূলত ধর্মীয় অজ্ঞানতার কারণে ।ধর্মের সংজ্ঞার সঠিক ব্যাখ্যার অভাব বা উপলব্ধির অভাবে অনেক অভিভাবক সন্তানকে কেবলই ধর্মের শিক্ষাদানরে জন্য মাদ্রাসাতে পাঠিয়ে থাকেন। জীবনের যে এক বিশাল দিগন্ত , বিশালতা ও অসীম পরিধি আছে তা থেকে সন্তানরা অন্ধকারে থাকছে। জীবন হয়ে পড়ৎেছ স্বল্প পরিসরে বদ্ধ ঠিক খাঁচার পাখিটির মতো। তারা বলাৎকারের স্বীকার হচ্ছে, জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে, আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিচ্ছে নতুবা রাষ্ট্রের প্রতি হিংসাত্মক মনোভাবাপন্ন হয়ে পড়ছে। এতে করে সমাজ ও রাষ্ট্র ভাংগনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র এখনই যদি সচেতন না হয় তাহলে হয়তো খুব অচিরেই দেশটি প্রাচীন যুগে ফিরে যাবে। যে যুগে হয়তো পশুর মতো মানুষ একে অপরকে কেবলই হত্যা করবে, হিংসাত্মক আনন্দে মেতে উঠবে আর নিজের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টায় লিপ্ত থাকবে। সেখানে থাকবে না কোন আবেগ, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও জীবনের প্রতি আগ্রহ। এমনকি ধনী ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তানরাও বাবা মায়ের ইচ্ছার স্বীকার হয় পরিবার, সমাজ, ধর্ম ও রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের কারনে। তাই এই অন্ধকারের অবসান ঘটাতে পারে কেবলই বাবা মা যারা একমাত্র ভালোবাসার ও নিরাপদ আশ্রয় কোমলমতি সন্তানদের।

 

Ads small one

রানি মুখার্জি মা হারালেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
রানি মুখার্জি মা হারালেন

বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি মাকে হারালেন। তার মা কৃষ্ণা মুখার্জি মঙ্গলবার দুপুরে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রযোজনা সংস্থা ‘যশ রাজ ফিল্মস’ এক বিবৃতিতে কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। শোকের এই সময়ে মুখার্জি পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি এই কঠিন সময়ে আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য এই পরিবার কৃতজ্ঞ।’ শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণা মুখার্জি। একসময় কয়েকটি সিনেমায় গানও করেছিলেন তিনি। তার স্বামী রাম মুখার্জি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক। ২০১৭ সালে মারা যান তিনি।

মুম্বাইয়ে মুখার্জি পরিবারের বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন কৃষ্ণা। পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজাতেও প্রতিবছর তার সরব উপস্থিতি দেখা যেত। মায়ের সঙ্গে রানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।

রানির প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এ অভিনয়ের সুযোগ আসে তার বাবার বন্ধু ও প্রযোজক সেলিম আখতারের মাধ্যমে। তবে সেই ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জানিয়েছিলেন রানি।অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘মা ভেবেছিলেন, আমি যদি ভালো কাজ করি, তা আমাদের পরিবারের সবার জন্য ভালো হবে।’

‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রেও মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রানি। ছবিতে এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পেতে একজন মা কতটা দূর যেতে পারেন, সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছিল সিনেমাটিতে।

মাকে স্মরণ করে রানি একবার বলেছিলেন, ‘একজন আপাদমস্তক বাঙালি মানুষ। নিজ হাতে আমাদের খাইয়ে দিয়েছেন, কপালে টিপ পরিয়ে দিয়েছেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই শক্তি ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

চলতি বছর ‘মর্দানি ৩’ সিনেমায় দেখা গেছে রানিকে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর। ছবিটিতে শাহরুখ খান, তার মেয়ে সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও অভিষেক বচ্চনসহ বলিউডের একাধিক তারকা অভিনয় করেছেন।

ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

প্রশান্ত মহাসাগরে গত কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছে হারিকেন ‘পোলো’। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে রূপ নিয়েছে। ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে ধীরে এগোচ্ছে এবং আরও কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ‘হারিকেন হান্টার’ বিমান পোলোর ভেতরে প্রবেশ করে ঝড়টির শক্তি পরিমাপ করে। এনএইচসির ২২ সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার এবং কেন্দ্রে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ ৮৯২ মিলিবারে নেমে আসে।

এনএইচসি পোলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হারিকেন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গেরেরো ও মিচোয়াকান রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া ওক্সাকা, কলিমা ও জালিস্কো উপকূলেও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ের কারণে সমুদ্রেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পোলোর প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে বড় ঢেউ ও প্রাণঘাতী রিপ কারেন্টের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এনএইচসির তথ্য বলছে, অত্যন্ত উষ্ণ সমুদ্রের পানি পোলোর দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২১ সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে সংস্থাটি জানায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টির শক্তি অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়েছে এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবামও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে জালিস্কো, কলিমা ও মিচোয়াকানসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের রাজ্যগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউ ইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঢাকায় অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারী ভিত্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিজিটাল হয়রানি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হয়রানি কমাতে মেটা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট টিমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় কবে ও কীভাবে অফিস খুলবে, তা তারা পর্যালোচনা করবে।

বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ছিল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সমর্থন পাচ্ছে এবং এ নিয়ে সরকার ইতিবাচক। জ্বালানি সংকটের বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।