সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

১২ কারাগারে জায়গা নেই, ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
১২ কারাগারে জায়গা নেই, ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি

চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি থাকায় চরম চাপের মধ্যে রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এসব কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা সাত হাজার ৮৫০ জন হলেও বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ১৯ হাজার ৯৬৬ জন। অতিরিক্ত বন্দির চাপে কারাবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বন্দিকে পৃথক রাখার ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন অপরাধ ও মামলায় আটক বন্দিদের অনেক ক্ষেত্রেই একই সঙ্গে রাখতে হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ১২টি কারাগারে পুরুষ বন্দির ধারণক্ষমতা সাত হাজার ৪৭৯ জন এবং নারী বন্দির ধারণক্ষমতা ৪১৩ জন। এর বিপরীতে বর্তমানে পুরুষ বন্দি রয়েছেন ১৯ হাজার ২২২ জন এবং নারী বন্দি ৭৪৪ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় পুরুষ বন্দি প্রায় আড়াই গুণ এবং নারী বন্দিও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি।

এসব কারাগারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন এক হাজার ১৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৬৮ জন ও নারী ৬৩ জন। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ২৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪০ জন ও নারী ১৭ জন। অন্যদিকে মাদক মামলায় আটক বন্দির সংখ্যা চার হাজার ২৬৮ জন।

কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারাগারে বিভিন্ন শ্রেণি ও অপরাধের বন্দিদের পৃথক রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকায় বাস্তবে সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একই স্থানে বিভিন্ন মামলার ও অপরাধে আটক বন্দিদের রাখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামাল দিতে গিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার

দুই হাজার ২৪৯ জনের ধারণক্ষমতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দির সংখ্যা ছয় হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে মাদক মামলার আসামি ৯০৯ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ২২৬ জন, এর মধ্যে নারী ১৬ জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ৪৯৫ জন ও নারী ২২ জন। এ কারাগারে পুরুষ হাজতি পাঁচ হাজার ৪৯১ জন এবং নারী হাজতি ১৬৯ জন। পুরুষ কয়েদি ৪৯৫ জন ও নারী কয়েদি ২৩ জন। বিদেশি বন্দি আছেন ৭৬ জন।

কুমিল্লা কারাগার

এক হাজার ৭৪২ জনের ধারণক্ষমতার কুমিল্লা কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন তিন হাজার ১৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি দুই হাজার ১২৭ জন ও নারী ১০৬ জন। পুরুষ কয়েদি ৭১৩ জন এবং নারী ১৬ জন।

এ কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন তিনজন পুরুষ। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ১৯৮ জন ও নারী ১৫ জন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৮৩৩ জন।

কক্সবাজার কারাগার

৮৩০ জনের ধারণক্ষমতার কক্সবাজার কারাগারে বন্দি আছেন দুই হাজার ৮৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি দুই হাজার ৭৪১ জন ও নারী ১৪৪ জন। পুরুষ কয়েদি ২৮৪ জন এবং নারী কয়েদি সাত জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন চার জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ১৬২ জন ও নারী চার জন। বন্দিদের মধ্যে ৮৮৪ জন মাদক মামলার আসামি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার

৭৮০ জনের ধারণক্ষমতার ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে বন্দি আছেন দুই হাজার ১৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি এক হাজার ৫১৫ জন ও নারী ৩১ জন। পুরুষ কয়েদি ৫৩১ জন এবং নারী ৫৬ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন দুই জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ৩৮ জন ও নারী পাঁচ জন। মাদক মামলার আসামি আছেন ৬৮০ জন। বিদেশি বন্দি রয়েছেন একজন।

নোয়াখালী কারাগার

৫০০ জনের ধারণক্ষমতার নোয়াখালী কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন এক হাজার ৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৮৬৪ জন ও নারী ২৯ জন। পুরুষ কয়েদি ১২৯ জন এবং নারী পাঁচ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ছয় জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ৫৫ জন ও নারী দুই জন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ২০১ জন।

চাঁদপুর কারাগার

৪৭৫ জনের ধারণক্ষমতার চাঁদপুর কারাগারে বর্তমানে বন্দি এক হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৮০১ জন ও নারী ২৮ জন। পুরুষ কয়েদি ২০৭ জন এবং নারী চার জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন একজন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ৪০ জন ও নারী চার জন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৪৪৬ জন।

ফেনী-১ কারাগার

৫৬৪ জনের ধারণক্ষমতার ফেনী-১ কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ৫২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৩৯৫ জন ও নারী ১৮ জন। পুরুষ কয়েদি ৫৯ জন এবং নারী চার জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ১২ জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ২৮ জন ও নারী তিন জন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ১৩ জন। বিদেশি বন্দি রয়েছেন তিন জন।

ফেনী-২ কারাগার

৭২ জনের ধারণক্ষমতার ফেনী-২ কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ৪৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ১৭০ জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ২৮১ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ১২ জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ১৩ জন পুরুষ।

লক্ষ্মীপুর কারাগার

২৯৫ জনের ধারণক্ষমতার লক্ষ্মীপুর কারাগারে বন্দি আছেন ৬৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৪৪৯ জন ও নারী নয় জন। পুরুষ কয়েদি ১৫৩ জন এবং নারী চার জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন দুই জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ৪৬ জন পুরুষ। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৬৩ জন।

রাঙামাটি কারাগার

১৪৮ জনের ধারণক্ষমতার রাঙামাটি কারাগারে বন্দি আছেন ২৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ২১১ জন ও নারী পাঁচ জন। পুরুষ কয়েদি ৪৬ জন এবং নারী দুই জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পাঁচ জন পুরুষ। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ১০৮ জন। বিদেশি বন্দি রয়েছেন দুই জন।

বান্দরবান কারাগার

১১৪ জনের ধারণক্ষমতার বান্দরবান কারাগারে বন্দি আছেন ৪৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৩৪৬ জন ও নারী আট জন। পুরুষ কয়েদি ৬২ জন এবং নারী তিন জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ১৮ জন ও নারী একজন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৮৪ জন। বিদেশি বন্দি রয়েছেন ৪৫ জন।

খাগড়াছড়ি কারাগার

৮১ জনের ধারণক্ষমতার খাগড়াছড়ি কারাগারে বন্দি আছেন ২৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ২১৮ জন ও নারী দুই জন। পুরুষ কয়েদি ৪৪ জন এবং নারী একজন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ২১ জন।

৩৬ বর্গফুটের জায়গায় দুই-তিন জন

কারাগার সূত্র জানিয়েছে, জেল কোড অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দিকে ৩৬ বর্গফুটের জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার কথা। অথচ চট্টগ্রামের ১১টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় এই সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না। একজনের জায়গায় দুই থেকে তিন জন করে রাখতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, ‘কারাগারের মূল স্লোগান হচ্ছে—“রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ”। তাই কারাগার শুধু শাস্তি দেওয়ার স্থান নয়, এটি একটি সংশোধনাগারও। বন্দিদের মানবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কারাবিধি অনুযায়ী একজন বন্দি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, তা তাকে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি অপরাধী—এমনটি মনে করার সুযোগ নেই। অনেকেই মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এমন মামলায় আটক ব্যক্তিদের আদালত থেকে খালাস পাওয়ার ঘটনাও আমরা দেখেছি। তাই বিচারাধীন বন্দিদেরও মানবিক মর্যাদা ও কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক সমাজে কারাগারগুলো সংশোধনাগার হওয়ার পরিবর্তে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। শুনছি, অনেক মামলার আসামির জামিননামা কারাগারে পৌঁছানোর পরও তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। নতুন মামলা দেওয়ার কথা বলে কিংবা থানা-পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দেওয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। বিষয়টি অমানবিক, অগ্রহণযোগ্য।’

যা বলছেন কারা কর্তৃপক্ষ

অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. ছগির মিয়া। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা ২০ হাজার। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি কারাগারে বন্দির সংখ্যা কিছুটা বেশি। চট্টগ্রামে নতুন একটি কারাগারের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বন্দিদের যত্নে কোনও প্রকার সমস্যা হচ্ছে না। তবে বেশি বন্দির কারণে কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই।’

Ads small one

কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান হাফিজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান হাফিজ

সংবাদদাতা: যশোরের কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চৌকস ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হাফিজ।

এর আগে তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানা, শ্যামনগর থানা ও কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি পরিচিত।

তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন : উঠে এলো বৈষম্য ও সম্ভাবনার চিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন : উঠে এলো বৈষম্য ও সম্ভাবনার চিত্র

তালা প্রতিনিধি: প্রান্তিক দলিত নারীদের উন্নয়নের মূল স্্েরাতে সম্পৃক্ত করতে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার তালায় এক ব্যতিক্রমী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃণমূল সংগঠনের সদস্যদের মুখোমুখি হয়েছেন সরকারের ১১টি দপ্তরের কর্মকর্তারা। শুনেছেন তাদের দুঃখ-দুর্দশা, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে এ সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ভূমিজ ফাউন্ডেশন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং ‘সমতার জন্য লড়ি (সজল)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নারী নেত্রী সরস্বতী দাস। সঞ্চালনা করেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অচিন্ত্য সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মাসুম বিল্লাহ, কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাব্বির হোসেন, সিনিয়র মৎস্য অফিসার তারিক ইমাম, সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার, আইসিটি অফিসার মোতাহার হোসেন, যুব উন্নয়ন অফিসার আশুতোষ কুমার বিশ্বাস এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাস। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহীদুল ইসলাম।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম, উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল নাহার আশা, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দার, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল দলিত নারীদের কণ্ঠস্বর। সোমা সরকার, ঋতু সরকার, টুম্পা বিশ্বাসের মতো নেত্রীরা জানান, এখনও সমাজে তাদের জাতপাতের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। সরকারি ভাতা, ভিজিডি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা কৃষি প্রণোদনা পেতে গিয়ে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। অনেক সময় তথ্য না জানার কারণে তারা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

তবে হতাশার পাশাপাশি সম্ভাবনার গল্পও উঠে আসে। সজল প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার পর তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। নিজেরা সঞ্চয় করছেন, হাঁস-মুরগি পালন ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

প্রধান অতিথি ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশ্বাস করে। কোনো নাগরিক যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রশাসন কাজ করছে। তিনি উপস্থিত সকল কর্মকর্তাকে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে একদিনে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

 

সোমবার বিকালে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।

 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ আদেশ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ আসামিদের আদালতে নিয়ে আসে। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

 

পাঁচ কারণ দেখিয়ে তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—

 

> মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় আসামিরা বাসায় ছিল। আত্মহত্যায় তাদের প্ররোচনা আছে কি না;

> তারা ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ, ভয়-ভীতিপ্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় ধাবিত করেছেন কি না;

 

> পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

> অচেনা আসামি জড়িত আছে কি না তা শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

>মামলার মূল রহস্য উদঘাটন।

 

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

 

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে।

 

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

 

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়।

 

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

 

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।