বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারি বরাদ্দে কি আসলেই বৈষম্য হচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সরকারি বরাদ্দে কি আসলেই বৈষম্য হচ্ছে

নির্বাচনি এলাকায় বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে, সংসদে এমন অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এ নিয়ে দুপক্ষই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। আর রাজনৈতিক মহলেও চলছে নানা আলোচনা।

সর্বশেষ গত ৮ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ নিয়ে প্রথম বিতর্কের সূচনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন চাল-গমের বরাদ্দ ‘শুধু সরকারি দলের’ সংসদ সদস্যদের আসনে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে।’’

তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘‘যখন যেখানে দুর্যোগ সংঘটিত হয়, জেলা প্রশাসকদের কাছে জিআর ক্যাশ এবং জিআর রাইসের বরাদ্দ দেওয়া থাকে। টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অচিরেই বিরোধী দলের সদস্যরাও বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’’

বিরোধীদলীয় সদস্যদের অভিযোগের বিপরীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর এমন সরল ব্যাখ্যার পরও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আসলেই কি বৈষম্য হচ্ছে? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে বিরোধী দল এমন প্রশ্ন কেন করছে? আর বৈষম্য যদি নাই হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি দলের সদস্যরা আগে পাবেন কেন? এ নিয়েও নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অতীতেও বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। এটি অবশ্যই বৈষম্য। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী এখন এ ধরনের আচরণের সুযোগ নেই। তাই নিয়ে একটি নীতিমালা করতে হবে। কারণ একটি এলাকার সংসদ সদস্য যে দলেরই হোক, সেখানের বরাদ্দ তো হবে সাধারণ জনগণের কল্যাণে। তাই সামাজিক নিরাপত্তা বা থোক বরাদ্দসহ এ ধরনের সুবিধা বরাদ্দে বিরোধী দলের সদস্যদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে অভাবী ও দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।’’

বিরোধী এমপিদের অভিযোগ, মন্ত্রীর ব্যাখ্যা

বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেন, ‘‘দুর্যোগ যখন আসে তখন কিন্তু সরকারি দল, বিরোধী দল দেখে আসে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা দেখলাম, ৩০ এপ্রিলের বরাদ্দ শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতে দেওয়া হয়েছে।’’ বিরোধী দলের আসনগুলোর জন্য সমতাভিত্তিক বরাদ্দ নিশ্চিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা জানতে চান তিনি।

একই ধরনের অভিযোগ আনেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। এর বাইরেও সরকারি দলের কয়েকজন সদস্যও নিজেদের এলাকায় বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।

এ সময় ত্রাণমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হয়েছে। অচিরেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বরাদ্দ পৌঁছে যাবে।’’

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিটি সংসদীয় আসনে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) ২৫ লাখ টাকা এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) ৩০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’’

এছাড়া কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় ২০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অতিরিক্ত বিভিন্ন সংসদীয় আসনে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সংসদ সদস্যদের ডিও এবং স্থানীয় চাহিদার আলোকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়। আশা করি শিগগিরই বিরোধী দলের সদস্যরাও বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’’

সরকারি দল আগে, বিরোধী দল পরে কেন?

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ও ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের পরে বরাদ্দ নিয়েও অনেক কথা হয়েছে। বিগত দিনে বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এ অভিযোগ এনেছেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার পর তাদেরও দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘‘সরকারের অগণতান্ত্রিক অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একমত পোষণ করেন না। তাই তাদের প্রতি এক ধরনের বৈষম্য করা হচ্ছে। বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সব সময় ক্ষমতাসীনদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলকে দেওয়া হচ্ছে সবার পরে। অনেক সময় দেওয়া হচ্ছে না, আবার কম দেওয়া হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘এখন আবার শোনা যাচ্ছে বিরোধী দলের এমপিদের আসনে ক্ষমতাসীন দলের সংরক্ষিত নারী এমপিদের বরাদ্দ দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠা করা। যাতে বিরোধী এমপিরা এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে না পারেন। আমরা বলবো, এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে সবার জন্য সমান বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।’’

একই অভিযোগ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের। তিনি বলেন, ‘‘সরকার মুখে গণতন্ত্র ও উদারতার কথা বললেও বাস্তবে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। যেকোনও বরাদ্দ নিজেদের দলের এমপিদের আগে দেওয়া হচ্ছে। যখন গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা হয়, তখন বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকেও অবজ্ঞা করা হচ্ছে। আশা করি সরকারপ্রধান এ বিষয়টিকে বিশেষভাবে দেখবেন।’’

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘‘উন্নয়ন বরাদ্দসহ যেকোনও অনুদান বরাদ্দে সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সঠিক নয়। হয়তো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সে অনুযায়ী হয়তো কিছু আসন একটু পরে বরাদ্দ পাচ্ছে। এটা ইচ্ছে করে করা হয় বলে মনে করি না। আশা করি আগামী দিনে এ ধরনের অভিযোগ আসবে না।’

Ads small one

ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কারওয়ান বাজার এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁর রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা।
এর আগে সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ রূপ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে মঙ্গলবার তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কারওয়ান বাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপ। বিকেলবেলা মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে আসামিদের ছোড়া গুলি তাঁর ডান চোখে লাগে। আন্দোলনকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কাঁঠালবাগানের একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রূপের বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ তেজগাঁও থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। বনে ‘বাঘের কেল্লা’ নির্মাণ ও ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকেরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এখনো উদ্বেগজনক।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং খালের নাব্য হ্রাসের ফলে মিঠাপানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে হরিণসহ তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা কমায় বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বনজীবী নুর ইসলাম ও হরিনগর এলাকার জেলে আকবর আলী জানান, আগের মতো বনে হরিণ বা বাঘের বিচরণ এখন আর দেখা যায় না। তা ছাড়া বনদস্যু ও চোরাশিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা ঘটছে। শিকারের কারণে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বাঘ মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা মানুষ-বাঘ সংঘাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাতক্ষীরা উপকূলে বাঘের আক্রমণে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কাঠুরে, জেলে ও মৌয়াল।

জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ বলেন, বাঘকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখলে হবে না। বাঘ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি। লবণাক্ততা বাড়া ও মিঠাপানির অভাবের পাশাপাশি মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বাঘের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই পরিবেশ ও স্থানীয়দের জীবিকাÑ সব মিলিয়েই সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনে ৬২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সুলজ কুমার দ্বীপ বলেন, “মিঠাপানির সংকট দূর করতে বনের ভেতরে কৃত্রিম পুকুর খনন করা হয়েছে। চোরাশিকার প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে বাঘের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১২৫টিতে পৌঁছেছে।”

 

 

 

 

 

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।