বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, ভয়ভীতি ও মামলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, ভয়ভীতি ও মামলার অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের কাথন্দা গ্রামের চৌদালীপাড়ায় জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, দখলচেষ্টা এবং একাধিক মামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কাথন্দা মৌজার ১৫ নং মৌজায় অবস্থিত ৪৪ শতক রেকর্ডভুক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি ওই জমিতে বাঁশের খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

 

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। মামলার বাদী মো. আপ্তাব আলী গাজী (মৃত পঞ্চাই আলী গাজীর পুত্র) এবং মো. জাহান আলী গাজী (মৃত মোহাতাব আলীর পুত্র), উভয়ের বাড়ি কাথন্দা গ্রামে। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে আফসার আলী, সুন্দরী বিবি, রূপচাঁদ গাজী, বারেক গাজী ও ইছো বিবিকে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, উক্ত সম্পত্তি নিয়ে এর আগেও আদালতে মামলা, থানায় অভিযোগ এবং সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে এরপরও বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। জাহান আলী গাজী অভিযোগ করে বলেন, “আমি ১৯৮৯ সালে জমি বিক্রি করেছিলাম। পরে ১৯৯১ সালে ২২ শতক জমি পুনরায় কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করি। কিন্তু বিবাদীরা ১৯৮৯ সালের দলিল দেখিয়ে জমির রেকর্ড করেছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “রূপচাঁদ গাজীর নেতৃত্বে আমাদের ওপর বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁরা কোনো আইন-কানুন মানেন না। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।” ভুক্তভোগী আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “আমার পুকুরে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ ছিল। পুকুরের পাড় কেটে দেওয়ায় বৃষ্টির পানিতে মাছ ভেসে যায়। পরে বাথরুমের ময়লা পুকুরে ফেলে অবশিষ্ট মাছও নষ্ট করা হয়েছে।” জাহান আলী আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় তাঁদের ব্যবহারের জন্য ছয়টি পানির কল থাকলেও বিবাদীপক্ষ তাঁর ব্যবহৃত পানির সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখলে থাকলেও এসএ ৩২০ ও ১৫৭৮ নম্বর দাগের জমি নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যত্র বিক্রয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া বিবাদীরা প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দা, কুড়াল, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, “বিবাদীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, আদালতে মামলা এবং সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তাঁদের ভয়ে আমরা অনেক সময় মুখ খুলতে পারি না। যেকোনো সময় আমাদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে।” তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

 

Ads small one

ময়লার ভাগাড় এখন নান্দনিক ক্যাফে: দুই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
ময়লার ভাগাড় এখন নান্দনিক ক্যাফে: দুই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: একসময় জায়গাটি ছিল ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। কপোতাক্ষ নদের তীরের এই অংশে প্রতিদিন ফেলা হতো বাজারের বর্জ্য। দুর্গন্ধ আর অপরিচ্ছন্নতার কারণে পথচারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিতেন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক পরিকল্পনা যে যেকোনো দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করলেন সাতক্ষীরার তালার দুই তরুণ। নিজেদের শ্রম ও উদ্যোগে সেই পরিত্যক্ত স্থানটিকেই তাঁরা রূপ দিয়েছেন এক নান্দনিক ও পরিবারবান্ধব বিনোদন কেন্দ্রে। কপোতাক্ষ নদের তীরে তাঁদের গড়া ‘জলধারা ক্যাফে’ এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিনোদনপিয়াসীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের কারিগর শেখ সানজিদুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন এই দুই বন্ধু। সানজিদুল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং মামুন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

পড়াশোনা শেষে সানজিদুল হক প্রথমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। পরে চাকরির জমানো টাকা দিয়ে ২০২৩ সালে শুরু করেন ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা। কিন্তু কিস্তি ও বাকিতে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে বেকার হয়ে পড়েন সানজিদুল।

অন্যদিকে, আব্দুল্লাহ আল মামুনও বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছিলেন না। একটি ওষুধ কোম্পানিতে একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদেই দুজনের বন্ধুত্ব এবং নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখা। চাকরির অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যৌথ আত্মকর্মসংস্থানের।

সেই স্বপ্নের হাত ধরেই তাঁরা বেছে নেন পাটকেলঘাটা ইকো পার্ক সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের তীরের এই পরিত্যক্ত অংশটি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শুরু হয় তাঁদের নতুন পথচলা।

উদ্যোক্তারা জানান, ক্যাফেটি গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে পুরো এলাকার স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। এরপর পরিবেশবান্ধব উপাদান যেমন—বাঁশ, কাঠ ও ছন ব্যবহার করে তৈরি করা হয় চমৎকার একটি বসার আবহ। কপোতাক্ষের মৃদু বাতাস আর গ্রামীণ পরিবেশের মেলবন্ধনে ক্যাফেটি দ্রুতই ইকো পার্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হয়ে ওঠে।

ক্যাফে ডায়েরিতে জানানো হয়Ñ প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে পাওয়া যায়Ñ চা, স্পেশাল দুধ চা, কফি, ফুচকা, চটপটি, মোমো, রুটি ও নানা পদের হালকা খাবার।

বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসতেই প্রতিদিন এখানে ভিড় জমান পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের দল। প্রাকৃতিক পরিবেশে একটু স্বস্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন ‘জলধারা’য়।

শুধু নিজেদের ভাগ্যবদলই নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অন্য শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন সানজিদুল ও মামুন। বর্তমানে স্থানীয় দুজন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এই ক্যাফেতে পার্ট-টাইম কাজ করছেন। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের যেমন আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি নিজের খরচের একটা বড় অংশ তাঁরা নিজেরাই চালাতে পারছেন।

উদ্যোক্তা শেখ সানজিদুল হক বলেন, “ব্যবসায় লোকসান হয়েছে, কিন্তু সাহস হারাইনি। চাকরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা না করে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। একজন উদ্যোক্তা শুধু নিজের নয়, অন্য আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা করা নয়; সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। যে জায়গাটি একসময় ডাস্টবিন ছিল, সেটি আজ মানুষের আনন্দের স্থান। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়িয়ে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুই শিক্ষিত যুবকের এই প্রচেষ্টা শুধু একটি ক্যাফে প্রতিষ্ঠার গল্প নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান এবং স্থানীয় পর্যটন বিকাশের এক চমৎকার উদাহরণ। তরুণদের এমন সৃষ্টিশীল উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবেশ বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

 

প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ৩ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ দিবসের লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি করছে। ২০০৮ সালে স্পেনভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘রেজেরো’ প্রথম এ দিবস পালন শুরু করে। পরে ‘ব্যাগ ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ ও ‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’ আন্দোলনের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় অর্ধেকই একবার ব্যবহারযোগ্য। বছরে ৫ ট্রিলিয়নেরও বেশি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্লাস্টিক ব্যাগ সম্পূর্ণভাবে পচতে শত শত বছর সময় লাগে, এ সময়ে তা ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা এখন সমুদ্র, নদী, মাটি, এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও মাতৃদুগ্ধেও পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য নতুন বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার সামুদ্রিক পরিবেশ। প্রতিবছর আনুমানিক ৮ থেকে ১১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে প্রবেশ করে। এর ফলে মাছ, কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি ও সামুদ্রিক পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি এবং এক লক্ষের বেশি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী প্লাস্টিক দূষণের কারণে মারা যায়। ফলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এছাড়া বর্জ্যের একটি বড় অংশ ভূমিতে জমা হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব উদ্বেগজনক। খাদ্য, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষণায় এর সঙ্গে হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন সমস্যা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব আরও স্পষ্ট। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতার অভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ড্রেন, খাল ও নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক নগর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মৎস্যসম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন প্রনয়ন করে পাতলা পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে, আইনে পলিথিন উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদ- বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। এছাড়া, পলিথিন বিক্রি, প্রদর্শন ও বিতরণের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রাখা হয়েছে। তবে আইন থাকা সত্ত্বেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কাপড়, পাট ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা জরুরি।

 

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস আমাদের মনে রাখতে হবে যে পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকেরও কর্তব্য। একটি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তই হতে পারে পরিবেশ রক্ষার বড় পদক্ষেপ। সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।

মুক্তমত: পতন মানেই শেষ নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
মুক্তমত: পতন মানেই শেষ নয়

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎রাজনীতির ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় এখানে উত্থান যেমন স্থায়ী নয়, তেমনি পতনও চিরস্থায়ী নয়। যে রাজনৈতিক শক্তি আজ প্রভাবশালী, কাল সে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে; আবার যে শক্তি আজ সংকটের মুখোমুখি, সময়, নেতৃত্ব ও জনমতের পরিবর্তনে সে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এটাই রাজনীতির স্বাভাবিক বাস্তবতা এবং ইতিহাসের পুনরাবৃত্ত সত্য।

‎গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণই শেষ কথা। জনগণের আস্থা, নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সময়ের চাহিদার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতাই একটি রাজনৈতিক শক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তাই কোনো দলের উত্থানে অতি উল্লাস কিংবা কোনো দলের পতনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় নয়। কারণ রাজনীতিতে সময়ের চাকা কখন কোন দিকে ঘুরবে, তা আগেভাগে নির্ধারণ করা যায় না।

‎ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, অনেক রাজনৈতিক শক্তিকে একসময় অপ্রাসঙ্গিক মনে করা হলেও তারা পরবর্তীতে নতুন নেতৃত্ব, নতুন কৌশল ও নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের সমর্থন অর্জন করেছে। আবার ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অনেক শক্তিও জনবিচ্ছিন্নতা, ভুল সিদ্ধান্ত বা সময়ের পরিবর্তনের কারণে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। সুতরাং রাজনীতিকে কখনোই স্থির বা চূড়ান্ত কোনো অবস্থান থেকে বিচার করা উচিত নয়।

‎প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি হলো পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এখানে চিরস্থায়ী বন্ধু যেমন নেই, তেমনি চিরস্থায়ী প্রতিপক্ষও নেই; চিরস্থায়ী ক্ষমতা নেই, নেই চিরস্থায়ী পতনও। জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের প্রয়োজন এবং সময়ের বাস্তবতাই রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে।

‎তাই আজকের বাস্তবতাকে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে স্থায়ীভাবে বিজয়ী বা স্থায়ীভাবে পরাজিত মনে করা ইতিহাসের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার নামান্তর। রাজনীতির সবচেয়ে বড় সত্য হলো পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের সম্ভাবনাই রাজনীতিকে জীবন্ত, গতিশীল এবং প্রাসঙ্গিক করে রাখে। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা