অপেক্ষার ওপারে
জহুরুল হক জুলু
কেন এত সহজে নিজের দিনগুলোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দাও?
অসমাপ্ত পথকে কেন শেষ বলে ধরে নাও?
সব দরজা প্রথম কড়ায় সাড়া দেয় না।
অনেক প্রবেশপথ খুলে যায় নির্ধারিত মুহূর্তে।
অন্ধকার কখনো আলোর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।
সে কেবল ভোরের আগমনের পূর্বভূমিকা।
মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা বীজও
নিজের ঋতুর জন্য নীরবে স্থির থাকে।
সব আকাক্সক্ষার আলাদা আলাদা ঋতু আছে।
কিছু স্বপ্ন সময়ের দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে ওঠে।
ধৈর্য তাদের ডানায় বাতাস জোগায়।
তারপর তারা নিজেরাই দিগন্ত চিনে নেয়।
যাদের স্পর্শে হৃদয় ক্লান্ত হয়ে পড়ে,
তাদের দিয়েই পৃথিবীর পরিচয় শেষ হয় না।
এখনো অনেক নির্মল মুখ আলো বহন করে।
তাদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বাসের পথ ধরে হাঁটতে হয়।
অবিশ্বাস জমতে জমতে দৃষ্টিও ভারী হয়ে যায়।
তখন প্রস্ফুটিত বাগানও অনুর্বর মনে হয়।
অথচ নিঃশব্দে জন্ম নিচ্ছে নতুন সব অঙ্কুর,
যাদের খবর এখনো চোখ পায়নি।
জীবনের সব উত্তর সংখ্যায় মাপা যায় না।
কিছু প্রাপ্তি আসে অচেনা বাঁকের পর।
যা হারিয়ে গেছে বলে মনে হয়,
সেটিও অনেক সময় নতুন দিশার সূচনা করে।
ঝড় শুধু ভেঙে দেয় না,
ভিতরের দৃচতাকেও চিনিয়ে দেয়।
শূন্যতা শুধু কেড়ে নেয় না,
আগামী পূর্ণতার জন্য স্থানও তৈরি করে।
তাই প্রতিটি দিনকে সম্ভাবনার চোখে দেখো।
প্রতিটি ব্যর্থতাকে অভিজ্ঞতার আলোয় পড়ো।
যে মুহূর্ত আজ অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে,
সেখানেই হয়তো আগামী বিস্ময়ের বীজ রোপিত আছে।
একদিন ফিরে তাকিয়ে বুঝবে
বিলম্ব মানেই বঞ্চনা ছিল না।
যা অপেক্ষা বলে মনে হয়েছিল,
সেটিই তোমার জীবনের সবচেয়ে সঠিক সময় ছিল।
ভুলের মাঝেই পূর্ণতার সন্ধান
অরুণ সান্যাল
ভুলের গহীনেই তো লুকিয়ে থাকে পূর্ণতার মায়া
ব্যর্থতার দহনে পুড়ে তৈরি হয় সাফল্যের ছায়া।
পথ চলতে হোঁচট খাওয়া মানেই তো শেখার শুরু,
অন্ধকার চিরে আসে আলো, কাটে সব দ্বিধা-গুরু।
ভাঙা কলমেই তো লেখা হয় জীবনের শ্রেষ্ঠ কাব্য
অপূর্ণতার খাতায় গড়ি সাফল্যের নতুন গন্তব্য।
ত্রুটিগুলোই শিক্ষা হয়ে দেয় বেঁচে থাকার রসদ,
খুঁতের আড়ালেই তো লুকিয়ে আছে আনন্দের হিল্লোল।
ভুলকে আপন করে নিয়েই গড়ি আগামীর সেতু
অসম্পূর্ণ মানুষই তো খোঁজে পূর্ণতার পরম হেতু।



