সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সাড়ে তিয়াত্তর লক্ষাধিক টাকার মালামালসহ ২ জন আটক
পত্রদূত রিপোর্ট: গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ ভোমরা, তলুইগাছা, ঘোনা ও হিজলদী বিওপি এবং ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্প এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ জন বংলাদেশী আসামীসহ বাংলাদেশী ট্রাক ও ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ এবং ঔষধ আটক করে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার চৌরঙ্গীর মোড় হতে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। ঘোনা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার দাঁতভাঙ্গা মোড় হতে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। হিজলদী বিওপি আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালী হতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্প এর আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার মুফতিবাড়ী মোড় হতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করে।
এছাড়াও, গত ১৪ জুলাই সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি এর অধীনস্থ ভোমরা বিওপির দায়িত্বাধীন ভোমরা আইসিপিতে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যগণ বিশেষ তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে ২ জন আসামী এবং ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেসহ ১টি বাংলাদেশী ট্রাক আটক করে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত হতে বাংলাদেশে প্রত্যাগমনকারী খালী ট্রাকে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মোবাইলের ডিসপ্লে বহন করবে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর গত ১৪ জুলাই ৬.১৫ টায় বিজিবি গাড়ী চেকিং পয়েন্টে অবস্থান গ্রহণ করে। এ সময়ে ১টি খালী ট্রাক রপ্তানী মালামাল ভারতের ঘোজাডাংগা স্থলবন্দরে রেখে ভোমরা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাগমনকালে চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থানরত টহল সদস্যরা ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশীকালে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মোবাইলের ১৫৬ পিস ডিসপ্লে জব্দ করে।
এ সময়ে আভিযানিকদল অবৈধভাবে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে চোরাচালানের দায়ে ট্রাকের চালক যশোরের নওয়াপাড়ার মৃত আব্দুল হকের ছেলে মোঃ আব্দুল কুদ্দুস (৪৭), এবং সহকারী চালক সাতক্ষীরা সদরের হাড়দ্দহা গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে মোঃ শামীম হোসেন (২৪), (যশোর-ট-১১-২৪৭০) ট্রাকসহ আটক করে। আটককৃত ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মোবাইলের ডিসপ্লে ১৫৬ পিস এর মূল্য ৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। আটক পন্যের সর্বমোট সিজার মূল্য ৬৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং দুদিনে আটক মালামালের মূল্য ৭৩ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ টাকা।
বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী মাদক/চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।





