সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হবে কবে?

মোজাফ্ফর রহমান

আইন হয়েছে তিন বছর আগে। গেজেটও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এখনো শুরু হয়নি সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আবারও উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি চালুর বিষয়টি। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি; তবে খুব শিগগিরই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস মোহাম্মদ আব্দুল খালেক সংসদে সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক এই মর্মে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি ভিত্তি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ এর ১৩ নভেম্বর। যা ২০২৩ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় এবং এটি ২০২৩ সালের ৬২ নম্বর আইন। অর্থাৎ নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন করার প্রয়োজন নেই। এখন মূল অপেক্ষা উপাচার্য নিয়োগ এবং প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর।

২২ লাখ মানুষের জেলায় কেন প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলার জনসংখ্যা ২১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮১ জন। মোট পরিবার ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫২টি। এত বড় একটি জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষার নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থীকে জেলার বাইরে যেতে হয়।

সদর আসনের সংসদ সদস্যের প্রত্যাশা, আইন হওয়ার পর আর দীর্ঘসূত্রিতা না রেখে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু করা হবে। তার মতে, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি জেলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি সাতক্ষীরার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। আইন হয়েছে, এখন দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করাই হওয়া সময়ের দাবী। বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এটি জরুরি।

নাগরিক নেতাদের দীর্ঘদিনের দাবি
সাতক্ষীরা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সম্বয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, সাতক্ষীরায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। জেলা নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন সময়ে এ দাবি তুলে এসেছে। ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সরকারি পর্যায়ে গতি পায়। তৎকালীন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনার আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে সরকারি পর্যায়ে অনুশাসন দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছিল উপকূলীয় এই জেলার শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পুরো জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আসতে পারে।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন হয়েছে। এখন আর অপেক্ষা নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। বিশ্ববিদ্যালয় হলে জেলার শিক্ষার পরিবেশ বদলাবে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে সম্ভাবনার দরজা খুলবে।

সাতক্ষীরা শুধু পিছিয়ে থাকা একটি জেলা নয়, উপকূলীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিক্ষা ও গবেষণা দুটোই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আবুল কালাম বলেন, বর্তমানে ভাড়া বাড়িতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে জেলার রাজনৈতিক নেতাদের আরো বলিষ্ট ভুমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।

উপকূলের সংকটই হতে পারে গবেষণার শক্তি
সাতক্ষীরার বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব শুধু উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলা। লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদের ওপর এর প্রভাব এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।

সংসদে শিক্ষামন্ত্রীও সাতক্ষীরার এই উপকূলীয় বাস্তবতার কথা উল্লেখ করেছেন। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্যবিজ্ঞান ও খাদ্যপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষাবিদ আশেক-ই এলাহী বলেন, সাতক্ষীরার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার প্রধান শক্তি হতে পারে স্থানীয় সমস্যা। লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদ নিয়ে গবেষণা হলে তার সুফল সরাসরি স্থানীয় মানুষ পেতে পারেন।

কৃষক নেতা আলিনুল খান বাবলু বলেন, লবণাক্ততার কারণে সাতক্ষীরার কৃষিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যদি কৃষকের মাঠে গিয়ে কাজ করেন, লবণসহিষ্ণু ফসল ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করেন, তাহলে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
শুধু ডিগ্রি নয়, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ

২০২৩ সালে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিলের উদ্দেশ্য ও কারণেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিজনেস ইনকিউবেটরের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছিল।
ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য গবেষণার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কৃষি, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশভিত্তিক নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।

স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুস সামাদ, বিশ্ববিদ্যালয় হলে শুধু চাকরির জন্য শিক্ষার্থী তৈরি না করে উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও দিতে হবে। সাতক্ষীরার কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতিকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়বে প্রভাব
একটি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে এর প্রভাব শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ থাকে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেন্দ্র করে আবাসন, পরিবহন, খাবার, বই-স্টেশনারি, প্রযুক্তিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সাতক্ষীরা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলে সাতক্ষীরার শহর ও আশপাশের এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তৈরি হবে। আবাসন, পরিবহন, খাবার, বই থেকে শুরু করে নানা ধরনের ব্যবসা বাড়বে। সবচেয়ে বড় বিষয়, শিক্ষার্থীদের একটি বড় বাজার তৈরি হবে।

আইন হয়েছে, এখন বাস্তবায়নের পালা
২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৩ উত্থাপন করা হয়। ২ নভেম্বর বিলটি পাস হয়। পরে ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ গেজেট প্রকাশিত হয়। আইনটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি সম্পন্ন হয়।

কিন্ত প্রায় তিন বছর পরও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে এখন সাতক্ষীরাবাসীর প্রশ্ন আইন হওয়ার পর এতটা সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হতে আর কত সময় লাগবে?

সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি আর বিলম্বিত না করে দ্রুত কার্যকর করা হবে।
সাতক্ষীরার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পুরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন হয়েছে। এখন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান হবে না, সাতক্ষীরার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলা প্রশাসনের সমম্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বয় প্রয়োজন হবে। অবকাঠামো, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে জেলার শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমম্বয় ও সহযোগিতার সুযোগ থাকবে।

এখন প্রশ্ন একটাই কবে খুলবে দুয়ার?
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এখন আর নতুন করে আইন প্রণয়নের অপেক্ষা নেই। সংসদে বিল পাস হয়েছে, আইন হয়েছে, গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি আইনি স্বীকৃতিও পেয়েছে। এখন দৃশ্যমান অপেক্ষা উপাচার্য নিয়োগের। শিক্ষামন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে এবং এরপর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে। উপকূলের প্রায় ২২ লাখ মানুষের জেলা সাতক্ষীরায় তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এখন আর শুধু দাবি নয়, আইনের কাগজে তার অস্তিত্ব আছে। নাগরিক নেতা থেকে সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ থেকে শিক্ষার্থী সবার প্রত্যাশা, সেই আইন এবার বাস্তব ক্যাম্পাসে রুপ নিক।

তিন বছর আগে যে আইনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ খুলেছিল, এখন সাতক্ষীরাবাসীর অপেক্ষা সেই পথ ধরে শিক্ষার্থীরা কবে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করবে।

মোজাফ্ফর রহমান: সংবাদকর্মী

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: মামলা নয়, সমঝোতায় সমাধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: মামলা নয়, সমঝোতায় সমাধান

বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, সময় ও অর্থ অপচয় এবং বিচার বিভাগের ওপর ক্রমবর্ধমান মামলাজটের বোঝা লাঘবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থা যে কতটা কার্যকর হতে পারে, তার বাস্তব ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ১,৪৬৫টি বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ভুক্তভোগীদের আদায় করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। লিগ্যাল এইডের এই কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেওয়ানি, ফৌজদারি ও পারিবারিকÑতিন খাতেই আদালতে নতুন মামলা দায়েরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা নিঃসন্দেহে দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার জন্য এক আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করে।

আমাদের দেশের সনাতন বিচারপ্রক্রিয়া প্রায়শই দীর্ঘসূত্রী ও ব্যয়বহুল। ফলে ছোটখাটো বিরোধ বা পারিবারিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে আদালত পর্যন্ত পৌঁছানো মামলাগুলো বিচারপ্রার্থীদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ ডেকে আনে। এই প্রেক্ষাপটে ‘মামলা নয়, সমঝোতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার’Ñএই দর্শনকে মূল চালিকাশক্তি করে জেলা লিগ্যাল এইড যে ভূমিকা রাখছে, তা কেবল আইনি সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক স্থায়িত্ব ও শান্তি বজায় রাখতেও অমূল্য অবদান রাখছে। বিশেষ করে, জমিজমা বা পারিবারিক ঝগড়াঝাঁটির মতো বিষয়ে সরাসরি মামলা না ঢুকে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনের আলোকে আইনি পরামর্শ প্রদান এবং বিকল্প সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া বিচারপ্রার্থীদের অযাচিত হয়রানি থেকে রক্ষা করছে।

তবে মুদ্রার অপর পিঠও উপেক্ষার সুযোগ নেই। সীমিত সম্পদ ও কাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই এ সাফল্য অর্জিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো বেঞ্চ সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ১১টি শূন্য পদ রয়েছে। স্পেশাল মিডিয়েটর বা বিশেষ মধ্যস্থতাকারীর অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি নিজস্ব ভবনের অনুপস্থিতি ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সংকট তাদের সার্বিক কর্মক্ষমতাকে পূর্ণতায় পৌঁছাতে বাঁধা দিচ্ছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনে সাময়িক স্থান বরাদ্দ কিংবা নিজস্ব ভবনের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির এই সাফল্যকে একটি সাময়িক অর্জনে সীমাবদ্ধ না রেখে টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো প্রয়োজন। এর জন্য লিগ্যাল এইড অফিসের বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে দূর করতে হবে। একই সঙ্গে স্পেশাল মিডিয়েটর নিয়োগ এবং প্রযুক্তি সুবিধা জোরদার করা গেলে জেলা পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। সাতক্ষীরার এই সফল মডেলটি যদি দেশজুড়ে যথাযথভাবে বিস্তৃত করা যায়, তবে তা কেবল আদালতগুলোর মামলাজটই কমাবে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও সমঝোতা ও দ্রুত আইনি সুফল পাওয়ার বিশ্বাস তৈরি করবে।

ভ্যানে ফেলে যাওয়া পৌনে ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চালক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ভ্যানে ফেলে যাওয়া পৌনে ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চালক

oplus_2

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় ভ্যানযাত্রীর ফেলে যাওয়া ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মুঠোফোন ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক ভ্যানচালক। রোববার রাতে ভ্যানচালক ওই টাকা ও মুঠোফোন সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশ প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করে তা বুঝিয়ে দেয়।

এই ভ্যানচালকের নাম মো. মিনারুল ইসলাম (৫২)। তিনি আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা গ্রামের মো. আব্দুল লতিফের ছেলে। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের জেয়ালা গ্রামে বসবাস করছেন।

জানা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের বকুলতলা মোড় থেকে মিনারুল ইসলামের ভ্যানে ওঠেন শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা শামসুজ্জামান খান। বেশ কয়েকটি স্থানে ঘোরার পর পলাশপোলে নিজ বাড়ির সামনে নেমে ভাড়া মিটিয়ে চলে যান তিনি। তবে অসাবধানতাবশত ভ্যানের সিটের পেছনের হুকে ঝোলানো একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যান। দ্রুত বাড়ি ফিরে মিনারুল ইসলাম ব্যাগে টাকা ও মুঠোফোন দেখতে পান।

পরদিন সকালে মিনারুল ইসলাম শহরে এসে ওই যাত্রীর নামার স্থানে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও তাঁকে পাননি। পরে শনিবার সকালে তিনি ব্যাগটি ধূলিহর বাজারে এক ব্যবসায়ীর কাছে জমা দেন। সেখানে হিসাব করে দেখা যায় ব্যাগে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে এক স্থানীয় সাংবাদিকের সহযোগিতায় রোববার রাতে ভ্যানচালক মিনারুল ইসলাম সদর থানায় যান। সেখানে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ ও মুঠোফোন প্রকৃত মালিক শামসুজ্জামান খানের হাতে তুলে দেন। ভ্যানচালকের এই দৃষ্টান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।

আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক মতবিনিময়

সংবাদদাতা: উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৃত্তিকা সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান’-এর আয়োজনে প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলা কোলাগ্রামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার বিকেলে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উপকূলীয় এলাকার ২০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। সভায় বক্তব্য দেন মৃত্তিকা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম আব্দুল আহাদ (সবুজ), কর্মী স্বপ্না, পিপাসা, আছমা, রহিমা, শারমিন প্রমুখ।