মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সুরের সমুদ্রে এক আজন্ম নাবিক: আবু আফ্ফান রোজবাবু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
সুরের সমুদ্রে এক আজন্ম নাবিক: আবু আফ্ফান রোজবাবু

এসএম শহীদুল ইসলাম

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। রূপসা-কপোতাক্ষ-ইছামতীর হাওয়ায় ভেসে আসা নদী আর ম্যানগ্রোভের যে অনন্য সুর, সেই সুরকে আপন প্রাণের মধ্যে ধারণ করে যিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সঙ্গীতের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন, তিনি আবু আফ্ফান রোজবাবু। একাধারে সুরকার, গীতিকার, অভিনেতা, উপস্থাপক এবং প্রথিতযশা কণ্ঠশিল্পীÑ বহুমুখী গুণী এই মানুষটি সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দীর্ঘ পথচলার পর সম্প্রতি তাঁর বর্ণাঢ্য সঙ্গীত জীবনের মুকুটে যুক্ত হয়েছে আরও এক নতুন পালক। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-র আধুনিক গানের ‘ক’ শ্রেণি থেকে পদোন্নতি পেয়ে তিনি উন্নীত হয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘উচ্চ’ শ্রেণিতে।

১৯৬৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা পৌরসভার মুনজিৎপুরের ১৩৩৮ নম্বর বাসায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন রোজবাবু। তাঁর পিতা মরহুম শেখ হামিদুর রহমান এবং মাতা ছকিনা রহমান (ম্যাজিস্ট্রেট রেকর্ডে মিসেস ছকিনা বেগম)। ১ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনি পরিবারের তৃতীয় সন্তান।

শৈশব থেকেই রূপসী সুরের ভুবন তাঁকে গভীরভাবে আকর্ষণ করত। তবে সুরের পিছে ছুটলেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে তিনি অবহেলা করেননি। ১৯৮৪ সালে সফলতার সঙ্গে বি.এ (স্নাতক) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তবে ডিগ্রি অর্জনের চেয়েও তাঁর মনপ্রাণ মজে ছিল সপ্তসুরের মূর্ছনায়।
সঙ্গীতের প্রতি অদম্য অনুরাগের কারণে ছাত্রজীবন থেকেই সুরের তালিম নেওয়া শুরু করেন রোজবাবু। সঙ্গীতের ব্যাকরণ ও শাস্ত্রীয় দক্ষতার গভীরে প্রবেশের জন্য তিনি প্রখ্যাত ওস্তাদদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।

তিনি প্রথম তালিম নেন ওস্তাদ আমজাদ হোসেনের কাছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ওস্তাদ অপূর্ব রায় এবং রুবিনা আহমেদের কাছে সুরের ভিত্তি শক্ত করেন।

১৯৮৯ সালে তিনি পাড়ি জমান কলকাতায়। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী রাসবিহারী এভিনিউয়ের ‘ইন্ডিয়ান মিউজিক্যাল একাডেমি’-তে বিশিষ্ট সুরসাধক ওস্তাদ কল্যাণ সেন বরাটের কাছে সাধারণ ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে নিবিড় তালিম গ্রহণ করেন।

১৯৯৩ থেকে ২০০০ সালÑ দীর্ঘ সাত বছর তিনি ঢাকার বিখ্যাত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক প্রয়াত ওস্তাদ প্রণব ঘোষের অধীনে আধুনিক ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ওপর কঠোর সাধনা করেন।
২০০২ সালে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমির বিশেষ আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ঢাকার ওস্তাদ রুবিনা আহমেদ ও সাজাহান কবীরের কাছে পুনরায় উচ্চতর সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নেন।

পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী হলেও তাঁর মূল পরিচয় ও জীবনের একমাত্র ব্রত বা সাধনা হয়ে ওঠে সংস্কৃতিচর্চা।

রোজবাবুর সঙ্গীত জীবনের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয় ১৯৮২ সালে খুলনা বেতারে আধুনিক গান পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রথম গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। ১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের নিয়মিত তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ বেতারের ‘স্পেশাল গ্রেড’-এর বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী এবং মিউজিক প্রডিউসার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
শুধু গায়কিতেই থেমে থাকেননি তিনি। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আপনাদের চিঠি পেলাম’ সফলতার সঙ্গে সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন।

অভিনয় জগতেও নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন এই গুণী শিল্পী। ১৯৯৯ সালে এটিএন বাংলায় প্রচারিত জনপ্রিয় প্যাকেজ নাটক ‘বিনিময়ে তুমি’-তে নায়ক চরিত্রে চমৎকার অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হন। উক্ত নাটকে তাঁর বিপরীতে নায়িকা হিসেবে ছিলেন তানিয়া রহমান। এ ছাড়া নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকেও ছিল তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি; ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জোৎস্না রাতে’ ছায়াছবির চলচ্চিত্রে যৌথ কণ্ঠে গান পরিবেশন করেন তিনি।
শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে তিনি উপহার দিয়েছেন একের পর এক মন ছুঁয়ে যাওয়া গান। এ পর্যন্ত একক ও যৌথ মিলিয়ে তাঁর ২১টি আধুনিক গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অডিও ক্যাসেট ও অ্যালবামগুলো হলোÑনীল নয়না, অনেক রাত, দুঃখ, দুঃখ পেওনা বন্ধু।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তালিকাভুক্ত এই সঙ্গীতশিল্পী দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক যুব ১৯৮৫ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সম্মেলনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে গান গেয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। বর্তমানেও তিনি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে সরাসরি লাইভ সঙ্গীতানুষ্ঠানে পারফর্ম করে সঙ্গীতপ্রেমীদের মন জয় করে চলেছেন।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্কৃতি অঙ্গনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অগণিত সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন আবু আফ্ফান রোজবাবু। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন: আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গুণীজন সংবর্ধনা (২০২৬): সম্প্রতি তিনি এই ভূষণে ভূষিত হয়েছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক (২০১৩): সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য অর্জিত বিটিভি ও শিল্পকলার অনন্য সম্মান। জাতীয় গণসঙ্গীত প্রতিযোগিতা (২০১২): সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে গণসঙ্গীতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের গৌরব লাভ করেন। মাদার তেরেসা মঞ্চ পদক (১৯৯৯): সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা ট্রাস্ট ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক সম্মানিত। সত্যজিৎ রায় সম্মাননা (১৯৯৭): কলকাতার বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’-র উদ্যোগে আয়োজিত বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত ও যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন এবং পুরস্কার লাভ করেন। সাতক্ষীরা থিয়েটার-৯৩ সম্মাননা: স্থানীয় নাট্যচর্চায় অনন্য অবদানের জন্য এই সম্মাননা অর্জন।

শুধু নিজে গান গেয়ে বা অভিনয় করেই ক্ষান্ত হননি, নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতির আলোয় আলোকিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন অবিরাম। তিনি সাতক্ষীরার খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘লিনেট ফাইন আর্টস একাডেমি’-র অধ্যক্ষ ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলন জোরদারে তিনি সামাজিক সংগঠন ‘গ্রীন জোট/কোয়ালিশন’-এর সভাপতির দায়িত্ব সফলভাবে সামলাচ্ছেন।

বিটিভির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন ও ‘উচ্চ’ শ্রেণিতে পদোন্নতি: সঙ্গীত জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ টেলিভিশন তাঁর এই দীর্ঘ সাধনাকে আরও একবার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করল।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের গ্রেডেশন/পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালার আওতায় বোর্ডের সুপারিশক্রমে তাঁকে আধুনিক গানের সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে “ক” শ্রেণি হতে মর্যাদাপূর্ণ “উচ্চ” শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে।

বিটিভির কন্ট্রোলার/প্রোগ্রাম ম্যানেজার (সংগীত) ও গ্রেডেশন বোর্ডের সদস্য-সচিব মোহাম্মদ মনিরুল হোসেন স্বাক্ষরিত সরকারি দাপ্তরিক পত্রে (স্মারক নং: বিটিভি/সংগীত-১২ (অংশ-০৩)/অডিশন-গ্রেডেশন/২০২৩/৬৮ (৭০), তারিখ: ২৩-০৬-২০২৬খ্রি.) আবু আফ্ফান রোজবাবুর অব্যাহত সাফল্য কামনা করে বলা হয়, “ভবিষ্যতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠানমালাকে আরও মানসম্পন্ন ও সমৃদ্ধকরণে আপনার সৃজনশীল সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছি।”

সাতক্ষীরার এই কৃতি সন্তান নিজের সাধনা, ত্যাগ এবং সঙ্গীতের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসার মাধ্যমে আজ এক বিশাল বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছেন। ‘উচ্চ’ শ্রেণিতে বিটিভির এই নতুন পদোন্নতি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, এটি সাতক্ষীরা অঞ্চলের সমগ্র সাংস্কৃতিক জগতের জন্য এক বিশাল গৌরব ও আনন্দের বিষয়। সুরের প্রতি আবু আফ্ফান রোজবাবুর এই আজন্ম ভালোবাসা ও আত্মনিবেদন আগামী প্রজন্মের সঙ্গীতসাধকদের জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Ads small one

মিনা শিশুদের জন্য জনপ্রিয় টিভি কার্টুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
মিনা শিশুদের জন্য জনপ্রিয় টিভি কার্টুন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মিনা হলো দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি শিক্ষামূলক অ্যানিমেশন কার্টুন। ইউনিসেফ এর উদ্যোগে শিশুদের অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই কার্টুনটি তৈরি করা হয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এটি বাংলাভাষী শিশুদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

মিনা কার্টুনটি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয়, বরং এর প্রতিটি পর্বের পেছনে একটি গভীর সামাজিক বার্তা থাকে। মিনাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার বাবার সম্মতি আদায়ের গল্প। ডায়রিয়া প্রতিরোধে খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার এবং হাত ধোয়ার গুরুত্ব। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে খাবার বা শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিশু পাচার রোধে সচেতনতা তৈরি করা।

কার্টুনের প্রধান চরিত্র মিনা। সে একজন ৯ বছর বয়সী সাহসী, বুদ্ধিমান ও অনুসন্ধিৎসু মেয়ে, যে তার গ্রামের নানা সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। মিনার ছোট ভাই রাজু। সে মিনার সাথে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেয়। মিনার পোষা তোতাপাখি মিঠু। মিঠু অত্যন্ত চতুর এবং মিনার বিশ্বস্ত সঙ্গী, যে অনেক বিপদে মিনাকে বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করে। মিনার পোষা গরু লালি।
প্রতি বছর ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মীনা দিবস পালন করা হয়। ইউনিসেফের সহায়তায় ১৯৯৮ সাল থেকে এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। যার মূল উদ্দেশ্য হলো; শিশুদের বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং সমঅধিকার রক্ষা করা।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টিভি কার্টুন মীনা। ১৯৯৩ সালে প্রথম বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের একটি অংশ হিসেবে ইউনিসেফের সহায়তায় এই কার্টুন ধারাবাহিকটি নির্মিত হয়। কার্টুন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র বাংলা ভাষায় নির্মিত কার্টুনগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র। মীনা কার্টুন শুধু বাংলায় তৈরি হয়নি। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, নেপালি-সহ ২৯টি ভাষায় মীনা তৈরি হয়েছে। মীনা কার্টুনের মীনা চরিত্রের রূপদানকারী বিখ্যাত ভারতীয় কার্টুনিস্ট রাম মোহন এবং ইউনিসেফের নিল ম্যাককি ছিলেন কার্টুন সিরিজটির স্্রষ্টা।

মীনা দিবস হলো শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করার একটি সচেতনতামূলক উৎসব। বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের জন্য মীনা কার্টুন প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্ট। শিশুদের অধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক নাটক ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়। গল্প বলা বা কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের পুরস্কৃত করে উৎসাহিত করা হয়।

মীনা কার্টুনের প্রধান চরিত্র মীনা শিক্ষার জন্য নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। দক্ষিণ এশিয়ায় ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে যে বৈষম্য করা হতো, তা দূর করতে মীনা একটি প্রতীকী চরিত্র। এই দিনে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের শেখানো হয় যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারী। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং সঠিক পুষ্টি গ্রহণের মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধিগুলো মীনা দিবসে শিশুদের খেলার ছলে ও আনন্দের মাধ্যমে শেখানো হয়। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, শিশুশ্রম বন্ধ এবং শিশুদের যেকোনো ধরনের নির্যাতন থেকে রক্ষা করার সচেতনতা তৈরিতে এই দিবসটি বড় ভূমিকা রাখে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে যে বৈষম্য করা হতো, তা দূর করতে মীনা একটি প্রতীকী চরিত্র। মীনা কার্টুন চরিত্রটি শিশুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়, যার মাধ্যমে শিক্ষণীয় বার্তাগুলো সহজে তাদের মধ্যে পৌঁছে যায়। এই দিনে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের শেখানো হয় যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারী।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর বাজারে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর বাজারে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভালুকঘর বাজারে সোমবার সন্ধ্যার পর ভালুকঘর ক্যাম্প ইনচার্জ দেব কুমার এর সভাপতিত্বে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা বাবু, সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসাইন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাহবুর রহমান।

 

আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সহ সম্পাদক মোঃ আব্দুল জব্বার, ৯ নং ওয়ার্ডের সভাপতি হায়দার আলী সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম আজু, বাজার কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক যুবদল নেতা আবু হাসানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি। বক্তারা মাদক, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সংবাদদাতা: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাড়ি, বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জরুরি। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বিদ্যালয়, পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।