সম্পাদকীয়/ অপচয় ও অবহেলার আট বছর: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষা
filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0;
একটি ৫০০ শয্যার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি সেবা নিতে দুই হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করেন, সেখানে সেবার মান নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। কিন্তু সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা দূরে থাক, অবকাঠামোগত ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা রক্ষণাবেক্ষণে যে চরম উদাসীনতা ও অপচয় দেখা যাচ্ছে, তা কেবল হতাশাজনক নয়Ñচরম উদ্বেগজনক। প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) স্থাপনের পর দীর্ঘ আট বছর ধরে স্রেফ বন্ধ পড়ে থাকা এবং ব্যবহৃত ১০টি সাধারণ লিফটের ৩টি নষ্ট হয়ে থাকা আমাদের স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তোলে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই লিফট ও চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। চালুর পরপরই ত্রুটির অজুহাতে যে সুবিধা বন্ধ হয়ে গেল, তা আজ আট বছরেও সচল করা গেল না। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে এই প্রকল্পের যৌক্তিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে। খুলনার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী নিজেই স্বীকার করেছেন, যেখানে ১০টি সাধারণ লিফট রয়েছে, সেখানে প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচে এস্কেলেটর নির্মাণ ছিল অপ্রয়োজনীয়। যদি তাই হয়, তবে কিসের ভিত্তিতে এই টাকা অপচয় করা হলো? এটি কি কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করা জরুরি।
সরকারি সম্পদের এহেন অপচয় ও অবহেলার খেসারত দিতে হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসুস্থ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। চালু থাকা লিফটগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় প্রতিদিন রোগী পরিবহন ও চিকিৎসাসেবা মারাত্মক বিঘিœত হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ঊর্ধ্বতন মহলে চিঠি পাঠালেও ফল মেলেনিÑযা স্বাস্থ্য বিভাগের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার এক সকরুণ ছবি।
একটি সরকারি হাসপাতালে কোটি কোটি টাকা সরকারি অর্থ ঢেলে যদি সুবিধা অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হতে দেওয়া হয়, তবে সেটির দায় কেউ এড়াতে পারেন না। অবিলম্বে এস্কেলেটর চালু করা এবং বন্ধ থাকা লিফটগুলো মেরামতের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে, কেন এই অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও স্থাপনের মাধ্যমে সরকারি তহবিলের অপচয় করা হলো এবং আট বছর ধরে তা কেন পড়ে রইলÑতার একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মেগা উন্নয়ন কিংবা দামি যন্ত্রপাতি কিনে ফেলে রাখাই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নয়; জনবান্ধব ও কার্যকর সেবাই এই মুহূর্তে হাসপাতালের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।






