রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যন্ত্রের চোখে দেখা পথ, মানুষের চোখে খোঁজা গন্তব্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
যন্ত্রের চোখে দেখা পথ, মানুষের চোখে খোঁজা গন্তব্য

মো. মামুন হাসান

ক্লাসরুমে ঢোকার আগে প্রতিদিন একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়। আমি যাদের শেখাচ্ছি, তারা যখন কর্মক্ষেত্রে যাবে, তখন পর্যটন শিল্পটা আজকের চেহারায় থাকবে তো? উত্তরটা প্রতিবারই এক, না, থাকবে না। এই না থাকার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের সবচেয়ে জরুরি বার্তা। জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা এবার যে প্রতিপাদ্য বেছে নিয়েছে, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন, তা কোনো ভবিষ্যৎ কল্পনা নয়। এটা এমন একটা বাস্তবতা, যা এই মুহূর্তে আমাদের শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই ঢুকে পড়েছে।

সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বসে আমি দেখি, আমার শিক্ষার্থীরা একটা হোটেলের বুকিং সিস্টেম শেখার আগেই মোবাইল ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত অ্যাপ দিয়ে ভ্রমণসূচি বানিয়ে ফেলছে। তারা প্রশ্ন করছে না গাইডবুক থেকে, তারা কথা বলছে একটা চ্যাটবটের সঙ্গে, যে মুহূর্তেই বলে দিচ্ছে কোন হোটেলে থাকা ভালো, কোন রেস্তোরাঁয় খাবার সস্তা আর ভালো, কোন রাস্তায় ভিড় কম। এই পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে পাঠ্যক্রম লেখার কালি শুকানোর আগেই সেই পাঠ পুরোনো হয়ে যায়। একজন শিক্ষক হিসেবে এটা আমার কাছে শঙ্কার বিষয় যতটা, তার চেয়ে বেশি সুযোগের বিষয়।

সুযোগ বলছি এই কারণে যে, আমাদের সাতক্ষীরার মতো জেলা শহরে বসেও একটা শিক্ষার্থী এখন বিশ্বমানের তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করতে পারে বিনা খরচে, বিনা ভ্রমণে। সুন্দরবনের কোলে বেড়ে ওঠা একটা ছেলে বা মেয়ে তার নিজের এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারে, যেখানে আগে এই কাজের জন্য দরকার হতো বহুজাতিক প্রচার সংস্থার পুঁজি। প্রযুক্তি এখানে সমতার হাতিয়ার হতে পারে, যদি আমরা তাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখাই।

কিন্তু এই সমতার প্রতিশ্রুতির পাশেই একটা কঠিন প্রশ্ন দাঁড়িয়ে থাকে। যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিদিন লাখো মানুষকে বলে দিচ্ছে কোথায় যেতে হবে, তার সিদ্ধান্তের পেছনে কার স্বার্থ কাজ করছে? বড় বড় ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম যদি তাদের নিজের পছন্দের গন্তব্যকে বেশি দৃশ্যমান করে তোলে, আর ছোট, কম পরিচিত অথচ সমান সুন্দর জায়গাগুলো যন্ত্রের চোখের আড়ালে থেকে যায়, তাহলে প্রযুক্তি সমতা আনার বদলে বৈষম্য আরও গভীর করবে। শ্যামনগরের কোনো ইকো ট্যুরিজম উদ্যোগ, কিংবা মুন্সিগঞ্জের কোনো নদীপাড়ের হোমস্টে, এসব যদি অ্যালগরিদমের র‌্যাংকিংয়ে জায়গা না পায়, তাহলে সেই জায়গাগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে থেকে যাবে। এই জায়গাটাতেই শিক্ষকের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রযুক্তিকে কেবল ব্যবহার করা শেখানো যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তির পেছনের যুক্তি বোঝানোও দরকার।

আমি প্রায়ই আমার শিক্ষার্থীদের একটা কথা বলি, যন্ত্র পথ দেখাতে পারে, কিন্তু আতিথেয়তা শেখাতে পারে না। একটা চ্যাটবট বলে দিতে পারবে কোন হোটেলে রুম খালি আছে, কিন্তু সেই হোটেলের রিসেপশনে দাঁড়িয়ে একজন ক্লান্ত পর্যটককে যে হাসিমুখে স্বাগত জানাবে, সেই মানবিক স্পর্শটা তৈরি করা সম্ভব নয় কোনো কোডে। আমাদের বিভাগে আমরা তাই একটা ভারসাম্যের পাঠ দিতে চাই। একদিকে ডেটা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন রিজার্ভেশন সিস্টেম শেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে অতিথি সেবার সেই পুরোনো শিল্পটাও যেন হারিয়ে না যায়, তার চর্চা চলছে সমান গুরুত্বে।

এবারের প্রতিপাদ্যের একটা গভীর দিক আছে, যা অনেকেই খেয়াল করছেন না। এই বছরই প্রথমবার এমন এক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে দিবস উদযাপিত হচ্ছে, যে প্রযুক্তি ইতিমধ্যে নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মানুষ কোথায় যাবে। এর আগে প্রতিটা প্রতিপাদ্যে বলা হয়েছিল একটা শক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে। এবার সেই শক্তি নিজেই চালকের আসনে বসে গেছে। এই বাস্তবতা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটা সতর্কবার্তা। আমরা যদি শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী তৈরি করি, নির্মাতা নয়, তাহলে আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের পর্যটন অর্থনীতিতে কেবল উপভোক্তা থেকে যাবে, নির্ধারক হবে না।

সাতক্ষীরার মতো এলাকায় সুন্দরবন ঘিরে যে বিপুল সম্ভাবনা আছে, তা এখনো অনেকটাই অব্যবহৃত। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার স্বপ্ন, আমার শিক্ষার্থীরা একদিন এমন একটা স্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে সুন্দরবনের প্রতিটা ছোট গ্রাম, প্রতিটা মধু সংগ্রাহকের গল্প, প্রতিটা নদীর বাঁক নিজের ভাষায়, নিজের সত্যতায় বিশ্বের সামনে হাজির হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তখন হবে আমাদের গল্প বলার হাতিয়ার, কারও গল্প চাপা দেওয়ার যন্ত্র নয়।

বিশ্ব পর্যটন দিবস তাই এই বছর আমার কাছে একটা আয়নার মতো। এই আয়নায় দেখা যায়, প্রযুক্তি যত এগিয়ে যাক, মানুষ কোথায় যেতে চায় তার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত মানুষের হাতেই থাকা উচিত। যন্ত্র সাহায্য করবে, পথ দেখাবে, তথ্য দেবে, কিন্তু গন্তব্যের গল্প লিখবে মানুষই। শিক্ষক হিসেবে আমার কাজ তাই কেবল কোড শেখানো নয়, বরং এই বোধটা তৈরি করা, যাতে আমার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের পর্যটন গড়ার সময় প্রযুক্তির কাছে নিজেদের বিচারবুদ্ধি হারিয়ে না ফেলে।

আগামীর পর্যটন যেমন ডিজিটাল হবে, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সমৃদ্ধ হবে, তেমনই তা যেন থেকে যায় মানবিক, স্থানীয় বাস্তবতার প্রতি সৎ, আর সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই তিনটে শর্ত পূরণ হলেই এই দিনটার উদযাপন সত্যিকারের অর্থবহ হবে। নইলে এটা কেবল আরেকটা প্রযুক্তি বিষয়ক সম্মেলনের নামান্তর হয়ে থাকবে।

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

Ads small one

জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে শতভাগ প্রাণঘাতী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে শতভাগ প্রাণঘাতী

প্রকাশ ঘোষ বিধান

জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে তা প্রায় শতভাগ (৯৯.৯%) প্রাণঘাতী হয়ে থাকে। রেবিস ভাইরাসের আক্রমণে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর চিকিৎসকদের আর বিশেষ কিছু করার থাকে না এবং কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে।
জলাতঙ্কের ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর স্নায়ুর মাধ্যমে সরাসরি মস্তিষ্কে চলে যায়। সেখানে এটি তীব্র প্রদাহ তৈরি করে এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে লক্ষণ প্রকাশের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই রোগী মারা যান।

জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিস রোগের লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে এটি প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী এবং এর কোনো সুনির্দিষ্ট বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। জলাতঙ্ক সৃষ্টিকারী রেবিজ ভাইরাস সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের কোষগুলো দ্রুত ধ্বংস করে দেয়। একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে এই স্নায়বিক ক্ষতি আর ঠিক করা সম্ভব হয় না এবং একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট বা অঙ্গহানি ঘটে রোগীর মৃত্যু হয়। তবে প্রাণী কামড়ানোর পরপরই টিকা নিলে এই রোগ শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হয়। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর প্রথম জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন। তাঁর মৃত্যুর দিনটিকে স্মরণ করে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর র্যাবিস কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর উদ্যোগে এই দিবসটি পালন শুরু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য জলাতঙ্ক রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং গৃহপালিত প্রাণীকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই রোগ নির্মূল করা।

কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেই মানুষের শরীরে রেবিস বা জলাতঙ্ক ভাইরাস ছড়ায়। এটি রেবিস নামক একটি নিউরোট্রপিক ভাইরাসের কারণে ঘটে থাকে। শুধু কুকুর নয়, বিড়াল, শিয়াল, বেজি বা বানরের মতো অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত প্রাণীর লালায় এই ভাইরাসটি থাকে। যখন তারা কামড়ায় বা আঁচড় দেয়, তখন লালাটি মানুষের রক্ত বা ক্ষতের সংস্পর্শে এসে শরীরে প্রবেশ করে।

কুকুর, বিড়াল বা বন্য প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের সাধারণত ১ থেকে ৩ মাস পর (ইনকিউবেশন পিরিয়ড) লক্ষণ দেখা দেয়। জ্বর, মাথাব্যথা, চরম ক্লান্তি, কামড়ের স্থানে অবশ ভাব, চুলকানি বা সুঁই ফোটার মতো অনুভূতি হওয়া। অতিরিক্ত লালা ক্ষরণ, তীব্র মানসিক উত্তেজনা বা উগ্রতা, হ্যালুসিনেশন, পানি দেখলেই আতঙ্ক তৈরি হওয়া (হাইড্রোফোবিয়া বা জলাতঙ্ক) এবং বাতাসের ঝাপটায় আতঙ্ক লাগা (অ্যারোফোবিয়া)। শেষ পর্যায়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউএস সিডিসি এর তথ্য অনুযায়ী, লক্ষণ প্রকাশের পর এই রোগ থেকে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল।

কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী কামড়ানোর সাথে সাথে ক্ষতস্থানটি অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ক্ষারযুক্ত সাবান এবং চলমান পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ক্ষতস্থানে থাকা ভাইরাসের একটি বড় অংশ দূর হয়ে যায়। ধোয়ার পর ক্ষতস্থানে আয়োডিন বা টিংচার বেনজোইন-এর মতো অ্যান্টিসেপটিক লোশন বা ক্রিম লাগাতে হবে। কামড়ের স্থানটি সাধারণত ব্যান্ডেজ দিয়ে শক্ত করে বাঁধা উচিত নয়। ক্ষত উন্মুক্ত রাখা ভালো।

প্রাথমিক চিকিৎসার পরই যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে। অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন লক্ষণ প্রকাশের আগে পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস বা জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা নেওয়া শুরু করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকার সম্পূর্ণ ডোজ শেষ করা বাধ্যতামূলক। কুকুরের কামড়ে ব্যাকটেরিয়া বা টিটেনাসের ঝুঁকি থাকে, তাই প্রয়োজন হলে ডাক্তার টিটেনাস শট বা অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়।

জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ একবার প্রকাশ পেয়ে গেলে এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই এবং এটি শতভাগ প্রাণঘাতী। তাই কামড় বা আঁচড় লাগার পর অবহেলা না করে দ্রুত টিকা নেওয়াই একমাত্র জীবন রক্ষাকারী উপায়। লক্ষণ শুরু হওয়ার পর এই ভাইরাস ধ্বংস করার মতো কোনো কার্যকর চিকিৎসা বা ওষুধ চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখনও আবিষ্কার হয়নি। লক্ষণ প্রকাশের আগেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন ও ইমিউনোগ্লোবিন নিতে হবে। একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে টিকা বা চিকিৎসায় আর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

কালিগঞ্জের নলতায় জুয়েলারি দোকানে চুরি, নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জের নলতায় জুয়েলারি দোকানে চুরি, নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নলতা বাজারের তৃষ্ণা জুয়েলার্স নামে একটি দোকান থেকে নগদ টাকা, রুপা স্বর্ণালংকারসহ ২০-২৫ লক্ষ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বাজারে কর্তব্যরত নৈশ প্রহরী থাকতেও দোকানের শাটার, তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ২০-২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চোরেরা নিয়ে যায়।

তৃষ্ণা জুয়েলার্সের মালিক নলতা গ্রামের কালিদাস সাংবাদিকদের জানান, রাতে বেচাকেনা শেষে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়িতে চলে যান। সকালে বাজারে এসে দোকানের শাটার ও তালা ভাঙ্গা দেখতে পান। ওই সময় দোকানে প্রবেশ করে দেখেন ভিতরে রক্ষিত নিজস্ব নগদ টাকাসহ লকার ভেঙে ২০-২৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে গেছে।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তাকে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানানো হয়নি।

 

জাপানে আন্তর্জাতিক অর্থোপেডিক কংগ্রেসে অংশ নিচ্ছেন ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
জাপানে আন্তর্জাতিক অর্থোপেডিক কংগ্রেসে অংশ নিচ্ছেন ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ

সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ অর্থোপেডিক চিকিৎসাবিষয়ক সম্মেলন অর্থোপেডিক বিশ্ব কংগ্রেসে অংশ নিতে জাপানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন ও অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুল হাসান পলাশ।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জাপানের ঐতিহাসিক শহর কিয়োটোতে ৪৬তম এই কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংগঠন সিকোট -এর আয়োজনে এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও চিকিৎসকরা যোগ দিচ্ছেন।

পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, ডা.মোঃ মাহমুদুল হাসান পলাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন ও অর্থোপেডিক বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর চিকিৎসা শিক্ষায় রয়েছে এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (স্পাইন ও অর্থোপেডিক), এফএসিএস এবং দেশ-বিদেশে স্পাইন সার্জারির বিভিন্ন ফেলোশিপ ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ।

পেশাগত জীবনে তিনি সিঙ্গাপুরে এও স্পাইন, দক্ষিণ কোরিয়ায় এন্ডোস্কোপিক মেরুদন্ড এবং সুইজারল্যান্ডে এও স্পাইন -সহ অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে স্পাইন চিকিৎসার ওপর বিশেষ উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর আগে এন্ডোস্কোপিক স্পাইন সার্জারির ওপর ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ শেষ করে দেশে ফিরে তিনি মেরুদন্ডের চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ ঘটিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

সিকোট -এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এবারের কংগ্রেসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-“ভবিষ্যতের পথে এক সেতু”। সম্মেলনে আধুনিক অর্থোপেডিক চিকিৎসা, রোবোটিকস, রিজেনারেটিভ মেডিসিন, এআই-ভিত্তিক ডায়াগনস্টিকস এবং সার্জারির নানা আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক সেশন, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, জাপানের এই আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ডা. মোঃ মাহমুদুল হাসান পলাশের পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি, সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে তিনি অর্জিত এই আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি দেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবায় আরও সফলভাবে কাজে লাগাতে পারবেন।