বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

লেবাননে ‘গাজা মডেল’ অনুসরণ করছে ইসরায়েল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
লেবাননে ‘গাজা মডেল’ অনুসরণ করছে ইসরায়েল

লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চললেও দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে পরিকল্পিতভাবে ভবন ধ্বংস করছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল খবর জানিয়েছে।

আইডিএফ-এর বেশ কয়েকজন কমান্ডার হারেৎজ-কে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তৈরি করা বাফার জোন বা নিরাপদ বেষ্টনী এলাকার ভেতর থাকা বেসামরিক ঘরবাড়ি, সরকারি ভবন ও স্কুলগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ এসব বেসামরিক অবকাঠামো ‘অস্ত্র মজুত এবং সুড়ঙ্গ তৈরির কাজে ব্যবহার করছে’। তবে হারেৎজ বলছে, হিজবুল্লাহর স্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের বসতির মধ্যে কোনও পার্থক্য করছে না আইডিএফ। ফলে পুরো শহর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য নিয়োগ করা হয়েছে ‘বেতনভুক্ত’ বেসরকারি ঠিকাদার। আইডিএফ কমান্ডারদের ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে কতগুলো ভবন ধ্বংস করা হলো, তার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এসব ঠিকাদারকে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে।

কমান্ডারদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ক্ষেত্রে ইসরায়েল এখন গাজা উপত্যকার নীতি লেবাননেও প্রয়োগ করছে। একজন কমান্ডার হারেৎজকে জানান, এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল লক্ষ্য হলো সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ফিরে আসা অসম্ভব করে তোলা।

গত মাসে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই ধ্বংসযজ্ঞ নীতির বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন, সীমান্তের হুমকি চিরতরে দূর করতে লেবানন সীমান্তের গ্রামগুলোর সব ঘরবাড়ি গাজার রাফাহ এবং বেইত হানুন মডেল অনুযায়ী ধ্বংস করা হবে।

Ads small one

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা তুলা আমদানি কমেছে প্রায় অর্ধেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা তুলা আমদানি কমেছে প্রায় অর্ধেক

অনলাইন ডেস্ক: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কাঁচা তুলা আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

 

মূলত দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলোয় চাহিদা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে আমদানির এ নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।

ভোমরা কাস্টম হাউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ৮১৩ টন কাঁচা তুলা আমদানি হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৪৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অথচ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৫৬ টন, যার মূল্য ছিল ৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ৭৪৩ টন।

বন্দরের তুলা আমদা‌নিকা‌রক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন এজে‌ন্সির স্বত্বা‌ধিকারী প‌রি‌তোষ কুমার জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় মিলগুলোয় চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

 

অন‌্যদি‌কে ভার‌তেও গত অর্থবছরের তুলনায় চল‌তি অর্থবছর তুলার দাম কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। গত বছর ভার‌তে যে কাঁচা তুলা প্রতি পাউন্ড ১১৪ টাকা দ‌রে বি‌ক্রি হয়েছে, তা এ বছর বি‌ক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি পাউন্ডে দাম কমেছে ১৯-২০ টাকা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক-দেড় বছর দেশের পোশাক ও সুতা উৎপাদনকারী খাতগুলো নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণেই কাঁচামাল হিসেবে তুলা আমদানির পরিমাণ কমে গেছে।

হজ পালনে যা জানা জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
হজ পালনে যা জানা জরুরি

হজ একটি ফরজ ইবাদত। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। তাই প্রত্যেক শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা আবশ্যক। এই মহান ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে, যা জানা অত্যন্ত জরুরি।
এই আলোচনায় সংক্ষিপ্তভাবে হজের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে তাওয়াফ, সাঈ, আরাফাতে অবস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি রীতিনীতি ধারাবাহিকভাবে সহজ ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
একই সফরে ভিন্ন ইহরামে হজ ও উমরাহ পালন করাকে হজে তামাত্তু বলে। বাংলাদেশ থেকে যারা হজে যান তারা সাধারণত তামাত্তু হজ পালন করেন। হজ তামাত্তুর নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:

ইহরাম পরিধান: মিকাতে বা মিকাতের পূর্বে ইহরাম পরিধান করা (যাত্রার প্রথমে মক্কায় গেলে বাংলাদেশ বিমানবন্দরে ইহরাম পরিধান করে নেয়া।

কাবায় গমন: মক্কা পৌঁছে হোটেলে লাগেজ রেখে সামান্য বিশ্রাম নেয়া। এরপর অজু করে মুআল্লিমের সঙ্গে কাবায় যাওয়া।

তাওয়াফ: সাতবার কাবার চারপাশ প্রদক্ষিণ করা। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা।

সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে হাতে চুম্বন করা।
রমল ও ইজতিবা করা: তাওয়াফের সময় দ্রুত হাঁটা (রমল করা) এবং ইহরামের চাদর ডান হাতের নিচে এনে বাম কাঁধে রাখা যাতে ডান কাঁধ ও বাহু খোলা থাকে (ইজতিবা করা)। এগুলো তাওয়াফের সুন্নত।

সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার সাঈ করা, সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে শেষ করা।

হলক বা কসর করা: মাথা মুণ্ডানো (হলক) বা চুল কাটা (কসর)।

বি: দ্র: এই রীতিগুলো সম্পন্ন করার পর, হজের পূর্বে সময় থাকলে হাজিরা ইহরাম খুলে মদিনায় যেতে পারেন।

নোট:
হজে কিরান: একই সফরে একই ইহরামে হজ ও উমরাহ পালন করাকে হজে কিরান বলে। হজে কিরানের ক্ষেত্রে উপরের সব রীতি মানতে হয়। কেবল ইহরাম খুলে হালাল হওয়া যায় না।

হজে ইফরাদ: এক সফরে শুধু হজ করা এবং উমরাহ না করা। এমন হজের ক্ষেত্রে উপরের রীতিগুলো প্রযোজ্য নয়।

হজের মূল কাজসমূহ
হজের মূল কাজগুলো ৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পালন করতে হয়। এ সময়ের কাজগুলো হলো-

৮ জিলহজ:
হোটেল বা কাবা শরিফে ইহরাম পরিধান করা এবং মক্কা থেকে মিনায় গমন করা। এখানে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরের দিন ফজর, মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।
৯ জিলহজ:
এদিন সকালে মিনা থেকে আরাফার ময়দানে চলে যাওয়া। সেখানে জোহর ও আসর একত্রে আদায় করে নেয়া। মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত তালবিয়া, তাহমিদ, দোয়া-দরুদ ও ইস্তেগফার পাঠ করা। সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় চলে এসে মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করা। ফজরের পর ফের মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাওয়া।

১০ জিলহজ:
মুজদালিফা থেকে মিনায় চলে যাওয়া এবং বড় শয়তান অর্থাৎ জামরাতে আকাবায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা। পাথর নিক্ষেপের পর কোরবানি সম্পন্ন করে মাথা মুণ্ডন অথবা চুল খাটো করা। মাথা মুণ্ডন শেষ হলে তাওয়াফে জিয়ারত করা।
১১ জিলহজ:
শয়তানের তিনটি স্তম্ভে ৭টি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা।

১২ জিলহজ:
শয়তানের তিনটি স্তম্ভে পুনরায় ৭টি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা। ১২ তারিখের পর থেকে হাজিরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

হরমুজে বাংলাদেশী জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দেবে ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
হরমুজে বাংলাদেশী জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দেবে ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকার ইরান দূতাবাস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, এ বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ইরান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। একইসঙ্গে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতিও ইরান তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

চলতি সপ্তাহে তুরস্কের আন্তালিয়া ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ-এর বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে দূতাবাস জানায়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় দেশের গঠনমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। দূতাবাস জানায়, আজারবাইজান হয়ে ১৮৬ বাংলাদেশিকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছে ইরান।

এছাড়া, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করে ইরান। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে অসন্তোষ জানিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।