সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জমি লিজ নিয়ে তোলপাড়, যা বলছে কলেজ প্রশাসন
ইব্রাহিম খলিল : সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের কৃষিযোগ্য ১০ বিঘা জমি লিজ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন করাকে ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কলেজ ক্যাম্পাসের কৃষি চাষের উপযোগী ১০ বিঘা জমি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের (০১ বৈশাখ ১৪৩৩ থেকে ৩০ চৈত্র ১৪৩৩) জন্য লিজ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় কলেজ শিক্ষক পর্ষদ মিলনায়তনে প্রকাশ্যে ডাক অনুষ্ঠিত হবে। লিজ গ্রহণে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তার কথা বলে কয়েক বছর ধরে প্রায় ১০ থেকে ১৩ বিঘা জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে সেখানে ধান চাষ করা হচ্ছে। এতে ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে তাদের দাবি। তাদের মতে, এর কারণে খেলার মাঠের পরিসর কমে গেছে, নিয়মিত খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রুপ স্টাডি, আলোচনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী বখতিয়ার হোসেন বলেন, মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তার নামে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ১২ থেকে ১৩ বিঘা জমি আটকে রাখা হয়েছে। এর কিছু অংশ আমাদের ক্যাম্পাসের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো ধানক্ষেত চাই না। নিরাপত্তার জন্য ফুলের গাছ বা অন্য কোনো সৌন্দর্যবর্ধক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার কলেজ প্রাঙ্গণে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের তোপের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি করে গার্ডেনের সাইনবোর্ড স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এর প্রকৃত আয়তন, ব্যবহারের সীমা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
তাদের প্রশ্ন, ১০ বিঘার বেশি জমির মধ্যে কতটুকু অংশ গার্ডেনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে কি না। পাশাপাশি বাকি ধানক্ষেত ভবিষ্যতে পুনরায় লিজ দেওয়া হবে কি না এ নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম বলেন, কলেজের মোট প্রায় ৯০ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ১০ বিঘা জমি লিজ দেওয়া হয়েছে, যা কলেজের অতিরিক্ত ও অব্যবহৃত জমি।
তিনি বলেন, এ জমি লিজ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে এবং কলেজ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছে। প্রতি বছর এই জমি থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মণ ধান উৎপাদিত হয় এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এছাড়া সরিষাও উৎপাদন হয়।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, কলেজে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ রয়েছে এবং উন্মুক্ত জায়গা নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের কিছু দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে বলেন, অব্যবহৃত জমি উৎপাদন কাজে ব্যবহার করাই বর্তমান সময়ের প্রয়োজন।
জমি লিজ, ধান চাষ এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের ভিন্নমুখী অবস্থান তৈরি হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টির একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।












