দেবহাটায় নিহত ওয়াহেদুজ্জামানের লাশ পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন, চলছে মামলার প্রস্তুতি
পত্রদূত ডেস্ক: অবশেষে পুলিশের উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গণপিটুনিতে নিহত ওয়াহেদুজ্জামান এর লাশ তার পারিবারিক কবরস্থান সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড়শান্তা গ্রামে দাফন করা হয়েছে। এরপর থেকে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বড়শান্তা গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন সানার ছেলে তাহসিভ রহমান সাগর জানান, বুধবার বিকেলে পুলিশের আপত্তির কারণে তারা ভাই ওয়াহেদুজ্জামান এর লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে বাড়িতে আনতে পারেননি। মব সৃষ্টিকারিরা কবর খোঁড়া, জানাজা পড়তে ও লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে অবস্থান নিয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। রাতে তাদেরকে লাশ নিতে বলা হয়। একপর্যায়ে রাত সোয়া আটটার দিকে দেবহাটা থানা থেকে লাশ বুঝে পান তারা।
পরে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম শাহীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বৃহৎ টিম ও ডিবি পুলিশের একটি টিমের উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাড়ির উঠানে বুধবার রাত ৯টায় ভাইয়ের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পারবিারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। ওয়াহেদুজ্জামানের সাত মাসের শিশু আরহাম ও স্বপ্নীল কেজি স্কুলে পড়াশুনারত আট বছরের মেয়ে আইয়ামিকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের বাবার হত্যার ন্যয় বিচারের কথা ভেবে তারা অবশ্যই মামলা করবেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম শাহীন জানান, ওয়াহেদুজ্জামানের লাশ দাফনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, মহানবীকে কটুক্তি সংক্রান্ত ওয়াহেদুজ্জামেনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একদল তৌহিদী জনতার নামে ওয়াহেদুজ্জামানের বাড়ি ভাংচুর করে তাকে মারতে মারতে সুবর্ণাবাদ বাজারে জামায়াত অফিসের সামনে নিয়ে আসে। সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যেয়ে ঘরে ঢুকে সে বিষপান করে। রাতে তাকে কুলিয়ার ডাঃ এমএ সবুরের চেম্বারে নিয়ে যেয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরদিন মঙ্গলবার সে সুস্থ হলে সন্ধ্যায় ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে ডাঃ সবুরের ক্লিনিক থেকে বের করে বাজারে গণপিটুনি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশষ তাকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। রাত ১০টার দিকে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে তিন শতাধিক লোক তৌহিদী জনতার ব্যানারে হাসপাতালের পিছনের দরজা ভেঙে ঢুকে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানকে আছাড় মেরে ও এলোপাতাড়ি নির্যাতন করে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দীপঙ্কর ম-ল মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরর তার লাশ দাফনের জন্য কবর খোঁড়া, জানাজা না পড়ার জন্য ওই মহলটি হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। ওয়াহেদুজ্জামান একজন মানসিক রোগী ছিল বলে পরিবারের দাবি।







